Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ মে, ২০২৬ ১০:২৫ অপরাহ্ণ

টিন সার্টিফিকেট ছাড়া মিলবে না যেসব প্রধান সেবা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪০ ধরনের নাগরিক, বাণিজ্যিক ও আর্থিক সুবিধা পেতে ১২ ডিজিটের কর শনাক্তকরণ নম্বর (TIN) বা টিন সার্টিফিকেট জমা দেওয়া আইনিভাবে বাধ্যতামূলক.নিচে টিন সার্টিফিকেট ছাড়া মিলবে না এমন প্রধান প্রধান সেবাগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
১. ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি: সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা জেলা শহরের অধীনে নতুন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু কিংবা পুরাতন লাইসেন্স নবায়নে টিন আবশ্যিক.
আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা: আমদানি নিবন্ধন সনদ (IRC) এবং রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (ERC) পাওয়ার জন্য কিংবা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এলসি (Letter of Credit) বা ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক.
কোম্পানির অংশীদারিত্ব: যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (RJSC)-এ কোনো লিমিটেড কোম্পানির পরিচালক বা স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার হতে গেলে টিন সার্টিফিকেট প্রদর্শন করতে হয়.
২. ব্যাংকিং ও ঋণ সুবিধাব্যাংক ঋণ গ্রহণ: ব্যাংক বা যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ লাখ টাকার বেশি যেকোনো বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগত লোন অনুমোদনের জন্য টিন জমা দিতে হবে.
ক্রেডিট কার্ড: যেকোনো ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের (Credit Card) আবেদন ও কার্ড সচল রাখার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো বৈধ টিন নম্বর.
৩. সম্পত্তি ও গাড়ি নিবন্ধনজমি বা ফ্ল্যাট কেনাবেচা: সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা কিংবা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার আওতাভুক্ত যেকোনো জমি, ফ্ল্যাট বা স্থাবর সম্পত্তি রেজিস্ট্রি ও নামজারির (Mutation) ক্ষেত্রে টিন ছাড়া নিবন্ধন সম্ভব নয়.মোটরযান সেবা: ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক যেকোনো মোটরগাড়ির নতুন রেজিস্ট্রেশন, ডিজিটাল নম্বর প্লেট গ্রহণ, এবং প্রতি বছর গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন ও মালিকানা বদল করতে টিন বাধ্যতামূলক.
৪. পেশাজীবী ও চাকরিজীবীসরকারি চাকরি: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যাদের মূল বেতন ১৬,০০০ টাকা বা তার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে টিন থাকা বাধ্যতামূলক.
বেসরকারি পদস্থ কর্মী: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যেকোনো ব্যবস্থাপক (Managerial), প্রশাসনিক (Administrative) বা তদারকি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য এটি প্রযোজ্য.
পেশাগত সনদ: ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী (বার কাউন্সিল সদস্য), চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং আর্কিটেক্টদের পেশাগত লাইসেন্স বা কাউন্সিল মেম্বারশিপ ধরে রাখতে টিন জমা দিতে হয়.
৫. অন্যান্য বিশেষ ক্ষেত্রসরকারি দরপত্র (Tender): সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানের যেকোনো ই-জিপি (e-GP) বা সাধারণ দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের টিন থাকতে হবে.
নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা কিংবা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়া প্রার্থীদের জন্য টিন সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক.
কাজি ও অভিজাত ক্লাব: মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রার (কাজি) হিসেবে লাইসেন্স পেতে এবং ঢাকা ক্লাব বা গুলশান ক্লাবের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় অভিজাত ক্লাবের মেম্বারশিপ নিতে টিন লাগে.
ইংরেজি মাধ্যম স্কুল: সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সন্তানদের ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করানোর সময় অভিভাবকের টিন নম্বর যাচাই করা হয়.
 গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:শুধু টিন সার্টিফিকেট নিলেই হবে না, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক. রিটার্ন জমা না দিলে অনেক ক্ষেত্রে সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারে.

মন্তব্য করুন

ব্লগ