প্রভাষক
০১ জুন, ২০২৬ ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের চামড়া শিল্প
বাংলাদেশের চামড়া শিল্প পোশাক খাতের পর দেশের অন্যতম একটি সম্ভাবনাময় ও উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রপ্তানিমুখী শিল্প খাত। দেশের বিশাল গবাদিপশুর সম্পদ, সস্তা শ্রম এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই শিল্প গড়ে উঠেছে। তবে বর্তমানে এই খাতটি বিশাল সম্ভাবনার পাশাপাশি তীব্র পরিবেশগত ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা ও প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
বর্তমান অবস্থা ও বাজারবাজারের আকার: বর্তমানে বাংলাদেশে চামড়াজাত পণ্যের দেশীয় বাজার ও রপ্তানির সম্মিলিত পরিমাণ প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা।কাঁচামাল সরবরাহ: বাংলাদেশ বিশ্ব গবাদিপশুর জনসংখ্যার প্রায় ২.৪% ধারণ করে এবং বছরে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন বর্গফুট চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে। এর একটি বড় অংশই আসে পবিত্র ঈদুল আজহার কুরবানির পশু থেকে।প্রধান রপ্তানি বাজার: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) বাংলাদেশের চামড়াজাত জুতা ও পণ্যের অন্যতম প্রধান শীর্ষ গন্তব্য।
প্রধান সম্ভাবনা ও শক্তিউচ্চমানের কাঁচামাল: বাংলাদেশের গরুর চামড়া (Bovine) এবং ছাগলের চামড়া (Ovine) আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত মানসম্পন্ন ও প্রশংসিত।রপ্তানি বহুমুখীকরণ: পোশাক শিল্পের ওপর একক নির্ভরতা কমাতে চামড়া খাতকে রপ্তানি আয়ের একটি বড় বিকল্প হিসেবে দেখা হয়।কর্মসংস্থান সৃষ্টি: ট্যানারি ও চামড়াজাত পণ্য (যেমন: জুতা, ব্যাগ, বেল্ট) তৈরির কারখানায় বিপুল সংখ্যক দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
জুতা শিল্পের প্রবৃদ্ধি: চামড়াজাত এবং নন-লেদার জুতা উৎপাদন ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।⚠️ প্রধান চ্যালেঞ্জ ও সংকটএলডব্লিউজি (LWG) সনদের অভাব: এটি বর্তমানের সবচেয়ে বড় সংকট। সাভার চামড়া শিল্প নগরীতে স্থানান্তরিত ট্যানারিগুলো এখনও লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (LWG) পরিবেশগত আন্তর্জাতিক সনদ অর্জন করতে পারেনি।
সিইটিপির (CETP) সীমাবদ্ধতা: সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারের (CETP) দৈনিক ধারণক্ষমতা ২৫ হাজার কিউবিক মিটার হলেও এটি বর্তমানে মাত্র ১৪-১৮ হাজার কিউবিক মিটার বর্জ্য শোধন করতে পারছে এবং এর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি রয়েছে।
বিদেশ থেকে চামড়া আমদানি: পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স বা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড না থাকার কারণে দেশের নামী জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দেশীয় চামড়া ব্যবহার করতে পারছে না। এর ফলে বিপুল সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও তারা বিদেশ থেকে চামড়া আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছে।কাঁচা চামড়ার মূল্য পতন: উপযুক্ত সংরক্ষণ ও সিন্ডিকেটের কারণে মাঠপর্যায়ে কুরবানির কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরকারি উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য১২ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য: সরকার চামড়া খাতকে পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি বৃহৎ রপ্তানি খাতে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।আধুনিকায়ন: চামড়ার গুণগত মান ঠিক রাখতে পশুর শরীর থেকে চামড়া ছাড়ানোর (স্কিনিং) প্রক্রিয়াকে আধুনিক ও মেকানাইজড করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন শিল্প অঞ্চল: সাভারের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও (যেমন রাজশাহী ও চট্টগ্রাম) ইএসজি (ESG) কমপ্লায়েন্ট বা পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার কাজ চলছে।
৫৩
৯২ মন্তব্য