Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ জুন, ২০২৬ ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ

গাফেল হৃদয়ের পরিণতি (সূরা আল-আ'রাফ ১৭৯-এর আলোকে একটি দীর্ঘ কাব্য) মোঃ মুজিবুর রহমান

গাফেল হৃদয়ের পরিণতি

(সূরা আল-'রাফ ১৭৯-এর আলোকে একটি দীর্ঘ কাব্য)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি,

প্রভুর নামে গান,

সত্যের আলো ছড়িয়ে দিতে

জাগুক মানবপ্রাণ।

মানুষ তুমি কে ভেবেছ কি,

কোথা হতে আগমন?

কেনই বা পৃথিবীতে

ক্ষণিক অবস্থান?

আকাশ জুড়ে সূর্য ওঠে,

চাঁদে ঝরে জ্যোৎস্নাধারা,

নক্ষত্রমালা বলে নীরব

"একই রবের সৃষ্টিধারা।"

পর্বত দাঁড়ায় মাথা তুলে,

সাগর গর্জে দিনরাত,

বনানীতে পাখির কূজন,

বয়ে চলে নদীর স্রোত।

ফুলের মাঝে রঙের মেলা,

ফলের মাঝে মধুর স্বাদ,

এসব দেখে জাগে না কেন

স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসা?

আল্লাহ দিলেন হৃদয় তোমায়,

চিনবে বলে সত্যপথ,

দিলেন বিবেক, দিলেন জ্ঞান,

করবে ন্যায়ের অনুগত।

দিলেন দুটি চক্ষু তোমায়,

দেখবে বলে নিদর্শন,

দিলেন দুটি শ্রবণদ্বার,

শুনবে হকের আহ্বান।

কিন্তু কত মানুষ আছে,

দেখেও কিছু দেখে না,

শুনেও যেন শোনে না তারা,

বুঝেও কিছু বোঝে না।

হৃদয় আছে, তবু তাদের

হৃদয়ে নেই উপলব্ধি,

সত্যের আলো সামনে জ্বলে,

তবু থাকে অন্ধগতি।

চোখ রয়েছে, তবু তারা

দেখে শুধু দুনিয়ার রূপ,

ধন-সম্পদ, মান-সম্মান,

সেখানে তাদের মনের ডুব।

কান রয়েছে, তবু শোনে

প্রশংসা আর মিথ্যার গান,

রবের বাণী কানে এলেও

জাগে না তাদের প্রাণ।

সকালবেলা সূর্য দেখে,

বলে না কেউ "সুবহানাল্লাহ",

রাত্রিবেলা তারা দেখে,

জাগে না অন্তর "মাশাআল্লাহ"

মেঘের ভেলায় বৃষ্টি নামে,

শস্য ফলে মাঠে ঘাটে,

তবু কত মন বুঝে না তা

রহমতেরই মহা প্রভাতে।

একটি শিশু জন্ম নিলে

আনন্দ ভরে ঘর,

কিন্তু ভাবে না কেউ গভীরে

কী মহান সেই সৃষ্টিকর্তা!

মানুষ যখন ভুলে যায়

নিজের আসল পরিচয়,

তখন তার জীবনের পথ

অন্ধকারে হারিয়ে যায়।

খাদ্য-পানীয়, ঘর-বাড়ি,

ভোগ-বিলাস, সুখের খোঁজ,

এসব নিয়েই ব্যস্ত থাকে,

এতেই যেন জীবনের রোজ।

পদ-পদবি, ক্ষমতার মোহ,

খ্যাতির নেশা, অর্থলোভ,

এইসব নিয়ে ছুটতে ছুটতে

হারায় সে অন্তরের রব।

চতুষ্পদ পশুও কিন্তু

নিজের মালিক চেনে,

যতটুকু তার দায়িত্ব আছে

ততটুকুই পালন করে।

গরু সকালে মাঠে যায়,

পাখি গেয়ে ওঠে গান,

মৌমাছিরাও নিয়ম মেনে

তৈরি করে মধুর ভাণ্ডার।

 

সিংহ, হরিণ, ক্ষুদ্র পিঁপড়া,

সবাই চলে নিয়মে,

স্রষ্টা যেই পথ দেখিয়েছেন,

সেই পথেই নির্ভয়ে।

কিন্তু মানুষ জ্ঞান পেয়েও

ভুলে যায় সে রবকে,

অহংকারের মুকুট পরে

দাঁড়ায় সত্যের বিপক্ষে।

তাই তো বলা হয়েছে তাদের

পশুর মতো জীবন,

বরং পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট,

যখন হারায় বিবেক-মন।

কারণ পশুর নেই তো কোনো

হিসাব-নিকাশ পরকালে,

মানুষ কিন্তু জবাব দেবে

রবের মহান আদালতে।

যে হৃদয় শুধু নিজের কথা,

নিজ স্বার্থের চিন্তা করে,

অন্যের দুঃখ, অন্যের হক

পদদলিত করে চলে,

যে চোখ শুধু ত্রুটি খোঁজে,

অন্যের দোষ দেখে যায়,

নিজের ভেতর অন্ধকারকে

কখনো দেখে না হায়!

যে কান শুধু গীবত শোনে,

অপবাদে মাতে সদা,

সত্যের বাণী শুনতে গেলে

অজুহাতে থাকে বাধা,

সে মানুষ ধীরে ধীরে হয়

গাফেলতার বন্দী,

আত্মার আকাশ ঢেকে ফেলে

পাপের ঘন অন্ধি।

গাফেলতা বড় ভয়ংকর,

নীরব এক অসুখ,

যা হৃদয়ের আলো নিভিয়ে

আনে জীবনে দুঃখ।

গাফেল মানুষ ভাবে সদা

"সময় আছে অনেক,"

মৃত্যু যখন দ্বারে আসে,

শেষ হয়ে যায় সবকিছু এক।

যৌবনের শক্তি থাকে না,

রূপের গৌরব মুছে যায়,

ধন-সম্পদের পাহাড় গড়েও

কেউ তো সাথে নিতে না পায়।

কবরের ঘরে একাই যেতে

হবে সবাইকে শেষে,

সঙ্গে যাবে আমল শুধু,

বাকি সবই রবে দেশে।

তাই হে মানুষ, জাগো এবার,

খুলো হৃদয়ের দ্বার,

সত্যের আলো গ্রহণ করে

ফিরে চলো রবের পার।

চোখকে দাও সত্যের দৃষ্টি,

কানকে দাও হকের শ্রবণ,

হৃদয় ভরো ঈমান দিয়ে,

জাগুক পবিত্র স্পন্দন।

আকাশ দেখে বলো অন্তর

"আমার রব কত মহান!"

পৃথিবী দেখে বলো আবার

"তাঁরই দয়া অফুরান।"

কুরআনের বাণী শোনো,

নবীর পথে চল,

মানবসেবায় জীবন গড়ো,

অন্যায়ের সাথে নয় দল।

পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন,

প্রতিবেশী, দীন-দরিদ্র,

সবার হক আদায় করে

করো জীবন সমৃদ্ধ।

অহংকারের মুকুট খুলে

বিনয় ধারণ কর,

মানুষ হয়ে মানুষের তরে

ভালোবাসার ঘর গড়।

তবে হৃদয় বুঝবে সত্য,

চোখে ফুটবে নূরের আলো,

কানে ধ্বনিত হবে সদা

হকের বাণী ভালো।

আর যখন রবের ডাকে

শেষ যাত্রা হবে শুরু,

তখন তুমি পাবে আশ্রয়

রহমতেরই নূর।

হে আল্লাহ!

আমাদের অন্তরকে দিন

সত্য উপলব্ধির জ্ঞান,

চোখকে দিন নিদর্শন দেখার

নূরময় দৃষ্টি দান।

কানকে দিন হক শোনার

সদা প্রস্তুত মন,

গাফেলতার ঘোর অন্ধকার থেকে

করুন মুক্ত জীবন।

পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট নয়,

হই যেন শ্রেষ্ঠ মানব,

আপনার পথে চলতে চলতে

পাই জান্নাতের সুমহান সব।

***

গাফেল হৃদয়ের পরিণতি

বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি,

প্রভুর নামে গান,

সত্যের আলো ছড়িয়ে দিতে

জাগুক মানবপ্রাণ।

মানুষ তুমি কে ভেবেছ কি,

কোথা হতে আগমন?

কেনই বা পৃথিবীতে

ক্ষণিক অবস্থান?

আকাশ জুড়ে সূর্য ওঠে,

চাঁদে ঝরে জ্যোৎস্নাধারা,

নক্ষত্রমালা বলে নীরব

"একই রবের সৃষ্টিধারা।"

পর্বত দাঁড়ায় মাথা তুলে,

সাগর গর্জে দিনরাত,

বনানীতে পাখির কূজন,

বয়ে চলে নদীর স্রোত।

ফুলের মাঝে রঙের মেলা,

ফলের মাঝে মধুর স্বাদ,

এসব দেখে জাগে না কেন

স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসা?

আল্লাহ দিলেন হৃদয় তোমায়,

চিনবে বলে সত্যপথ,

দিলেন বিবেক, দিলেন জ্ঞান,

করবে ন্যায়ের অনুগত।

দিলেন দুটি চক্ষু তোমায়,

দেখবে বলে নিদর্শন,

দিলেন দুটি শ্রবণদ্বার,

শুনবে হকের আহ্বান।

কিন্তু কত মানুষ আছে,

দেখেও কিছু দেখে না,

শুনেও যেন শোনে না তারা,

বুঝেও কিছু বোঝে না।

হৃদয় আছে, তবু তাদের

হৃদয়ে নেই উপলব্ধি,

সত্যের আলো সামনে জ্বলে,

তবু থাকে অন্ধগতি।

চোখ রয়েছে, তবু তারা

দেখে শুধু দুনিয়ার রূপ,

ধন-সম্পদ, মান-সম্মান,

সেখানে তাদের মনের ডুব।

কান রয়েছে, তবু শোনে

প্রশংসা আর মিথ্যার গান,

রবের বাণী কানে এলেও

জাগে না তাদের প্রাণ।

সকালবেলা সূর্য দেখে,

বলে না কেউ "সুবহানাল্লাহ",

রাত্রিবেলা তারা দেখে,

জাগে না অন্তর "মাশাআল্লাহ"

মেঘের ভেলায় বৃষ্টি নামে,

শস্য ফলে মাঠে ঘাটে,

তবু কত মন বুঝে না তা

রহমতেরই মহা প্রভাতে।

একটি শিশু জন্ম নিলে

আনন্দ ভরে ঘর,

কিন্তু ভাবে না কেউ গভীরে

কী মহান সেই সৃষ্টিকর্তা!

মানুষ যখন ভুলে যায়

নিজের আসল পরিচয়,

তখন তার জীবনের পথ

অন্ধকারে হারিয়ে যায়।

খাদ্য-পানীয়, ঘর-বাড়ি,

ভোগ-বিলাস, সুখের খোঁজ,

এসব নিয়েই ব্যস্ত থাকে,

এতেই যেন জীবনের রোজ।

পদ-পদবি, ক্ষমতার মোহ,

খ্যাতির নেশা, অর্থলোভ,

এইসব নিয়ে ছুটতে ছুটতে

হারায় সে অন্তরের রব।

চতুষ্পদ পশুও কিন্তু

নিজের মালিক চেনে,

যতটুকু তার দায়িত্ব আছে

ততটুকুই পালন করে।

গরু সকালে মাঠে যায়,

পাখি গেয়ে ওঠে গান,

মৌমাছিরাও নিয়ম মেনে

তৈরি করে মধুর ভাণ্ডার।

সিংহ, হরিণ, ক্ষুদ্র পিঁপড়া,

সবাই চলে নিয়মে,

স্রষ্টা যেই পথ দেখিয়েছেন,

সেই পথেই নির্ভয়ে।

কিন্তু মানুষ জ্ঞান পেয়েও

ভুলে যায় সে রবকে,

অহংকারের মুকুট পরে

দাঁড়ায় সত্যের বিপক্ষে।

তাই তো বলা হয়েছে তাদের

পশুর মতো জীবন,

বরং পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট,

যখন হারায় বিবেক-মন।

কারণ পশুর নেই তো কোনো

হিসাব-নিকাশ পরকালে,

মানুষ কিন্তু জবাব দেবে

রবের মহান আদালতে।

যে হৃদয় শুধু নিজের কথা,

নিজ স্বার্থের চিন্তা করে,

অন্যের দুঃখ, অন্যের হক

পদদলিত করে চলে,

যে চোখ শুধু ত্রুটি খোঁজে,

অন্যের দোষ দেখে যায়,

নিজের ভেতর অন্ধকারকে

কখনো দেখে না হায়!

যে কান শুধু গীবত শোনে,

অপবাদে মাতে সদা,

সত্যের বাণী শুনতে গেলে

অজুহাতে থাকে বাধা,

সে মানুষ ধীরে ধীরে হয়

গাফেলতার বন্দী,

আত্মার আকাশ ঢেকে ফেলে

পাপের ঘন অন্ধি।

গাফেলতা বড় ভয়ংকর,

নীরব এক অসুখ,

যা হৃদয়ের আলো নিভিয়ে

আনে জীবনে দুঃখ।

গাফেল মানুষ ভাবে সদা

"সময় আছে অনেক,"

মৃত্যু যখন দ্বারে আসে,

শেষ হয়ে যায় সবকিছু এক।

যৌবনের শক্তি থাকে না,

রূপের গৌরব মুছে যায়,

ধন-সম্পদের পাহাড় গড়েও

কেউ তো সাথে নিতে না পায়।

কবরের ঘরে একাই যেতে

হবে সবাইকে শেষে,

সঙ্গে যাবে আমল শুধু,

বাকি সবই রবে দেশে।

তাই হে মানুষ, জাগো এবার,

খুলো হৃদয়ের দ্বার,

সত্যের আলো গ্রহণ করে

ফিরে চলো রবের পার।

চোখকে দাও সত্যের দৃষ্টি,

কানকে দাও হকের শ্রবণ,

হৃদয় ভরো ঈমান দিয়ে,

জাগুক পবিত্র স্পন্দন।

আকাশ দেখে বলো অন্তর

"আমার রব কত মহান!"

পৃথিবী দেখে বলো আবার

"তাঁরই দয়া অফুরান।"

কুরআনের বাণী শোনো,

নবীর পথে চল,

মানবসেবায় জীবন গড়ো,

অন্যায়ের সাথে নয় দল।

পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন,

প্রতিবেশী, দীন-দরিদ্র,

সবার হক আদায় করে

করো জীবন সমৃদ্ধ।

অহংকারের মুকুট খুলে

বিনয় ধারণ কর,

মানুষ হয়ে মানুষের তরে

ভালোবাসার ঘর গড়।

তবে হৃদয় বুঝবে সত্য,

চোখে ফুটবে নূরের আলো,

কানে ধ্বনিত হবে সদা

হকের বাণী ভালো।

আর যখন রবের ডাকে

শেষ যাত্রা হবে শুরু,

তখন তুমি পাবে আশ্রয়

রহমতেরই নূর।

হে আল্লাহ!

আমাদের অন্তরকে দিন

সত্য উপলব্ধির জ্ঞান,

চোখকে দিন নিদর্শন দেখার

নূরময় দৃষ্টি দান।

কানকে দিন হক শোনার

সদা প্রস্তুত মন,

গাফেলতার ঘোর অন্ধকার থেকে

করুন মুক্ত জীবন।

পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট নয়,

হই যেন শ্রেষ্ঠ মানব,

আপনার পথে চলতে চলতে

পাই জান্নাতের সুমহান সব।

আমীন।

***

গাফেল হৃদয়ের পরিণতি

বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি,

প্রভুর নামে গান,

সত্যের আলো ছড়িয়ে দিতে

জাগুক মানবপ্রাণ।

মানুষ তুমি কে ভেবেছ কি,

কোথা হতে আগমন?

কেনই বা পৃথিবীতে

ক্ষণিক অবস্থান?

আকাশ জুড়ে সূর্য ওঠে,

চাঁদে ঝরে জ্যোৎস্নাধারা,

নক্ষত্রমালা বলে নীরব

"একই রবের সৃষ্টিধারা।"

পর্বত দাঁড়ায় মাথা তুলে,

সাগর গর্জে দিনরাত,

বনানীতে পাখির কূজন,

বয়ে চলে নদীর স্রোত।

ফুলের মাঝে রঙের মেলা,

ফলের মাঝে মধুর স্বাদ,

এসব দেখে জাগে না কেন

স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসা?

আল্লাহ দিলেন হৃদয় তোমায়,

চিনবে বলে সত্যপথ,

দিলেন বিবেক, দিলেন জ্ঞান,

করবে ন্যায়ের অনুগত।

দিলেন দুটি চক্ষু তোমায়,

দেখবে বলে নিদর্শন,

দিলেন দুটি শ্রবণদ্বার,

শুনবে হকের আহ্বান।

কিন্তু কত মানুষ আছে,

দেখেও কিছু দেখে না,

শুনেও যেন শোনে না তারা,

বুঝেও কিছু বোঝে না।

হৃদয় আছে, তবু তাদের

হৃদয়ে নেই উপলব্ধি,

সত্যের আলো সামনে জ্বলে,

তবু থাকে অন্ধগতি।

চোখ রয়েছে, তবু তারা

দেখে শুধু দুনিয়ার রূপ,

ধন-সম্পদ, মান-সম্মান,

সেখানে তাদের মনের ডুব।

কান রয়েছে, তবু শোনে

প্রশংসা আর মিথ্যার গান,

রবের বাণী কানে এলেও

জাগে না তাদের প্রাণ।

সকালবেলা সূর্য দেখে,

বলে না কেউ "সুবহানাল্লাহ",

রাত্রিবেলা তারা দেখে,

জাগে না অন্তর "মাশাআল্লাহ"

মেঘের ভেলায় বৃষ্টি নামে,

শস্য ফলে মাঠে ঘাটে,

তবু কত মন বুঝে না তা

রহমতেরই মহা প্রভাতে।

একটি শিশু জন্ম নিলে

আনন্দ ভরে ঘর,

কিন্তু ভাবে না কেউ গভীরে

কী মহান সেই সৃষ্টিকর্তা!

মানুষ যখন ভুলে যায়

নিজের আসল পরিচয়,

তখন তার জীবনের পথ

অন্ধকারে হারিয়ে যায়।

খাদ্য-পানীয়, ঘর-বাড়ি,

ভোগ-বিলাস, সুখের খোঁজ,

এসব নিয়েই ব্যস্ত থাকে,

এতেই যেন জীবনের রোজ।

পদ-পদবি, ক্ষমতার মোহ,

খ্যাতির নেশা, অর্থলোভ,

এইসব নিয়ে ছুটতে ছুটতে

হারায় সে অন্তরের রব।

চতুষ্পদ পশুও কিন্তু

নিজের মালিক চেনে,

যতটুকু তার দায়িত্ব আছে

ততটুকুই পালন করে।

গরু সকালে মাঠে যায়,

পাখি গেয়ে ওঠে গান,

মৌমাছিরাও নিয়ম মেনে

তৈরি করে মধুর ভাণ্ডার।

সিংহ, হরিণ, ক্ষুদ্র পিঁপড়া,

সবাই চলে নিয়মে,

স্রষ্টা যেই পথ দেখিয়েছেন,

সেই পথেই নির্ভয়ে।

কিন্তু মানুষ জ্ঞান পেয়েও

ভুলে যায় সে রবকে,

অহংকারের মুকুট পরে

দাঁড়ায় সত্যের বিপক্ষে।

তাই তো বলা হয়েছে তাদের

পশুর মতো জীবন,

বরং পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট,

যখন হারায় বিবেক-মন।

কারণ পশুর নেই তো কোনো

হিসাব-নিকাশ পরকালে,

মানুষ কিন্তু জবাব দেবে

রবের মহান আদালতে।

যে হৃদয় শুধু নিজের কথা,

নিজ স্বার্থের চিন্তা করে,

অন্যের দুঃখ, অন্যের হক

পদদলিত করে চলে,

যে চোখ শুধু ত্রুটি খোঁজে,

অন্যের দোষ দেখে যায়,

নিজের ভেতর অন্ধকারকে

কখনো দেখে না হায়!

যে কান শুধু গীবত শোনে,

অপবাদে মাতে সদা,

সত্যের বাণী শুনতে গেলে

অজুহাতে থাকে বাধা,

সে মানুষ ধীরে ধীরে হয়

গাফেলতার বন্দী,

আত্মার আকাশ ঢেকে ফেলে

পাপের ঘন অন্ধি।

গাফেলতা বড় ভয়ংকর,

নীরব এক অসুখ,

যা হৃদয়ের আলো নিভিয়ে

আনে জীবনে দুঃখ।

গাফেল মানুষ ভাবে সদা

"সময় আছে অনেক,"

মৃত্যু যখন দ্বারে আসে,

শেষ হয়ে যায় সবকিছু এক।

যৌবনের শক্তি থাকে না,

রূপের গৌরব মুছে যায়,

ধন-সম্পদের পাহাড় গড়েও

কেউ তো সাথে নিতে না পায়।

কবরের ঘরে একাই যেতে

হবে সবাইকে শেষে,

সঙ্গে যাবে আমল শুধু,

বাকি সবই রবে দেশে।

তাই হে মানুষ, জাগো এবার,

খুলো হৃদয়ের দ্বার,

সত্যের আলো গ্রহণ করে

ফিরে চলো রবের পার।

চোখকে দাও সত্যের দৃষ্টি,

কানকে দাও হকের শ্রবণ,

হৃদয় ভরো ঈমান দিয়ে,

জাগুক পবিত্র স্পন্দন।

আকাশ দেখে বলো অন্তর

"আমার রব কত মহান!"

পৃথিবী দেখে বলো আবার

"তাঁরই দয়া অফুরান।"

কুরআনের বাণী শোনো,

নবীর পথে চল,

মানবসেবায় জীবন গড়ো,

অন্যায়ের সাথে নয় দল।

পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন,

প্রতিবেশী, দীন-দরিদ্র,

সবার হক আদায় করে

করো জীবন সমৃদ্ধ।

অহংকারের মুকুট খুলে

বিনয় ধারণ কর,

মানুষ হয়ে মানুষের তরে

ভালোবাসার ঘর গড়।

তবে হৃদয় বুঝবে সত্য,

চোখে ফুটবে নূরের আলো,

কানে ধ্বনিত হবে সদা

হকের বাণী ভালো।

আর যখন রবের ডাকে

শেষ যাত্রা হবে শুরু,

তখন তুমি পাবে আশ্রয়

রহমতেরই নূর।

হে আল্লাহ!

আমাদের অন্তরকে দিন

সত্য উপলব্ধির জ্ঞান,

চোখকে দিন নিদর্শন দেখার

নূরময় দৃষ্টি দান।

কানকে দিন হক শোনার

সদা প্রস্তুত মন,

গাফেলতার ঘোর অন্ধকার থেকে

করুন মুক্ত জীবন।

পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট নয়,

হই যেন শ্রেষ্ঠ মানব,

আপনার পথে চলতে চলতে

পাই জান্নাতের সুমহান সব।

আমীন।

***

গাফেল হৃদয়ের পরিণতি

মানুষ পেলে জ্ঞানের আলো,

হয় সে সবার সেরা,

সত্যের পথে চললে তবে

জীবন হয় যে ঘেরা।

আদম হতে শুরু যাত্রা,

নবীদের সেই ডাক,

এক আল্লাহর ইবাদতে

রয়েছে মুক্তির ফাঁক।

কত নবী এলেন ধরণীতে,

কত কিতাব নাযিল,

তবু কত মন রয়ে গেল

অজ্ঞতারই কাবিল।

নূহের কওম দেখল নিদর্শন,

শুনল সতর্ক বাণী,

অহংকারে ফিরল না তারা,

ডুবল মহাপ্লাবনী।

আদের শক্তি, সামূদের গৌরব,

ফিরআউনের রাজ্য,

ক্ষমতার নেশায় ডুবে গিয়ে

হারাল সত্যকার্য।

চোখের সামনে শিক্ষা ছিল,

ইতিহাসের পাতা,

তবু মানুষ শিক্ষা নিল না,

ভুলল স্রষ্টার কথা।

আজও কত হৃদয় দেখি

পাষাণ হয়ে রয়,

সত্যের কথা শুনলেই যেন

অস্থিরতা সঞ্চয়।

মসজিদের মিনার ডাকে,

আজানের সুমধুর সুর,

তবু কত প্রাণ ব্যস্ত থাকে

দুনিয়ার মোহে ভরপুর।

কুরআনের আলো ঘরে ঘরে,

তবু পড়ে ধুলোর নিচে,

মোবাইলের ক্ষণিক রঙে

মানুষ হারায় পিছে।

জীবন যেন ক্ষণিক মেঘ,

ভেসে চলে আকাশে,

তবু মানুষ স্থায়ী ভেবে

আশা বাঁধে সর্বনাশে।

ধন-সম্পদের হিসাব কষে,

গোনে দিনের পর দিন,

কিন্তু নিজের আমলখাতা

দেখে না কোনোদিন।

সুদ, ঘুষ, মিথ্যা, প্রতারণা,

অন্যায়ের ব্যবসা,

এসব দিয়ে সাজায় জীবন,

হারায় চিরভরসা।

এত ব্যস্ত সংসার গড়ায়,

এত আয়োজন,

মৃত্যুর ডাকে থেমে যাবে

সব কোলাহল ক্ষণ।

একদিন হবে নিঃশব্দ রাত,

থামবে জীবনের গান,

নিস্তব্ধ কবর জিজ্ঞাসিবে

"কোথায় আজ অহংকার?"

যে মুখ ছিল কথার ঝড়ে,

নীরব হবে সে,

যে হাত ছিল ক্ষমতার মুঠোয়,

মাটির বুকে রবে।

যে চোখ ছিল লোভের নেশায়,

বন্ধ হবে চিরতরে,

যে কান শুনত মিথ্যার সুর,

নিস্তব্ধ হবে ঘোরে।

তখন শুধু আমলগুলো

দাঁড়াবে পাশে এসে,

নেকি হলে আলো হবে,

পাপ হলে ভয় মিশে।

হে মানুষ! আজও সময় আছে,

ফিরে এসো রবের পানে,

যিনি তোমায় জীবন দিলেন,

ডাকছেন অশেষ টানে।

চোখকে দাও কুরআনের আলো,

কানকে দাও হকের সুর,

হৃদয় ভরো আল্লাহভীতিতে,

জীবন হোক নূরে ভরপুর।

পিতা-মাতার সেবা করো,

রাখো আত্মীয়তার বন্ধন,

এতিম-মিসকিন, দুঃখী মানুষের

হও কল্যাণের স্পন্দন।

ক্ষমা করো অপরের ভুল,

অহংকার দূরে রাখ,

মানুষকে ভালোবেসে যাও,

সত্যের প্রদীপ জ্বালাও আজ।

কারণ হৃদয় যখন জাগে,

জাগে সমগ্র প্রাণ,

একটি হৃদয় বদলে দিলে

বদলায় শত মানবজান।

গাফেলতা এক গভীর ঘুম,

জাগরণ তার ঔষধ,

যে জেগেছে রবের প্রেমে,

সফল তারই উদ্দেশ্য।

তাই বলি আজ মানবজাতি,

শোনো কুরআনের বাণী,

হৃদয়, চোখ আর শ্রবণশক্তি

এসব রবের দানই।

দানকে যদি কাজে লাগাও,

পাবে জান্নাতের পথ,

অবহেলায় হারালে সেগুলো

ডেকে আনবে সর্বনাশ রথ।

হে পরওয়ারদিগার আমাদের,

গাফেলদের দলে রেখো না,

সত্য বুঝার তাওফীক দিয়ে

হিদায়াত থেকে সরিও না।

অন্তরে দাও তাকওয়ার আলো,

চোখে দাও ইবরতের দৃষ্টি,

কানে দাও হকের আহ্বান,

জীবন ভরুক সুমহান সৃষ্টি।

যেদিন হবে হিসাবের ময়দান,

কম্পিত হবে প্রাণ,

সেদিন যেন রহমত ছায়ায়

পাই জান্নাতের স্থান।

আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।

***

গাফেল হৃদয়ের পরিণতি

বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি,

প্রভুর নামে গান,

সত্যের আলো ছড়িয়ে দিতে

জাগুক মানবপ্রাণ।

মানুষ তুমি কে ভেবেছ কি,

কোথা হতে আগমন?

কেনই বা পৃথিবীতে

ক্ষণিক অবস্থান?

আকাশ জুড়ে সূর্য ওঠে,

চাঁদে ঝরে জ্যোৎস্নাধারা,

নক্ষত্রমালা বলে নীরব

"একই রবের সৃষ্টিধারা।"

 

পর্বত দাঁড়ায় মাথা তুলে,

সাগর গর্জে দিনরাত,

বনানীতে পাখির কূজন,

বয়ে চলে নদীর স্রোত।

ফুলের মাঝে রঙের মেলা,

ফলের মাঝে মধুর স্বাদ,

এসব দেখে জাগে না কেন

স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসা?

আল্লাহ দিলেন হৃদয় তোমায়,

চিনবে বলে সত্যপথ,

দিলেন বিবেক, দিলেন জ্ঞান,

করবে ন্যায়ের অনুগত।

দিলেন দুটি চক্ষু তোমায়,

দেখবে বলে নিদর্শন,

দিলেন দুটি শ্রবণদ্বার,

শুনবে হকের আহ্বান।

কিন্তু কত মানুষ আছে,

দেখেও কিছু দেখে না,

শুনেও যেন শোনে না তারা,

বুঝেও কিছু বোঝে না।

হৃদয় আছে, তবু তাদের

হৃদয়ে নেই উপলব্ধি,

সত্যের আলো সামনে জ্বলে,

তবু থাকে অন্ধগতি।

চোখ রয়েছে, তবু তারা

দেখে শুধু দুনিয়ার রূপ,

ধন-সম্পদ, মান-সম্মান,

সেখানে তাদের মনের ডুব।

কান রয়েছে, তবু শোনে

প্রশংসা আর মিথ্যার গান,

রবের বাণী কানে এলেও

জাগে না তাদের প্রাণ।

সকালবেলা সূর্য দেখে,

বলে না কেউ "সুবহানাল্লাহ",

রাত্রিবেলা তারা দেখে,

জাগে না অন্তর "মাশাআল্লাহ"

মেঘের ভেলায় বৃষ্টি নামে,

শস্য ফলে মাঠে ঘাটে,

তবু কত মন বুঝে না তা

রহমতেরই মহা প্রভাতে।

একটি শিশু জন্ম নিলে

আনন্দ ভরে ঘর,

কিন্তু ভাবে না কেউ গভীরে

কী মহান সেই সৃষ্টিকর্তা!

মানুষ যখন ভুলে যায়

নিজের আসল পরিচয়,

তখন তার জীবনের পথ

অন্ধকারে হারিয়ে যায়।

খাদ্য-পানীয়, ঘর-বাড়ি,

ভোগ-বিলাস, সুখের খোঁজ,

এসব নিয়েই ব্যস্ত থাকে,

এতেই যেন জীবনের রোজ।

পদ-পদবি, ক্ষমতার মোহ,

খ্যাতির নেশা, অর্থলোভ,

এইসব নিয়ে ছুটতে ছুটতে

হারায় সে অন্তরের রব।

চতুষ্পদ পশুও কিন্তু

নিজের মালিক চেনে,

যতটুকু তার দায়িত্ব আছে

ততটুকুই পালন করে।

গরু সকালে মাঠে যায়,

পাখি গেয়ে ওঠে গান,

মৌমাছিরাও নিয়ম মেনে

তৈরি করে মধুর ভাণ্ডার।

সিংহ, হরিণ, ক্ষুদ্র পিঁপড়া,

সবাই চলে নিয়মে,

স্রষ্টা যেই পথ দেখিয়েছেন,

সেই পথেই নির্ভয়ে।

কিন্তু মানুষ জ্ঞান পেয়েও

ভুলে যায় সে রবকে,

অহংকারের মুকুট পরে

দাঁড়ায় সত্যের বিপক্ষে।

তাই তো বলা হয়েছে তাদের

পশুর মতো জীবন,

বরং পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট,

যখন হারায় বিবেক-মন।

কারণ পশুর নেই তো কোনো

হিসাব-নিকাশ পরকালে,

মানুষ কিন্তু জবাব দেবে

রবের মহান আদালতে।

যে হৃদয় শুধু নিজের কথা,

নিজ স্বার্থের চিন্তা করে,

অন্যের দুঃখ, অন্যের হক

পদদলিত করে চলে,

যে চোখ শুধু ত্রুটি খোঁজে,

অন্যের দোষ দেখে যায়,

নিজের ভেতর অন্ধকারকে

কখনো দেখে না হায়!

যে কান শুধু গীবত শোনে,

অপবাদে মাতে সদা,

সত্যের বাণী শুনতে গেলে

অজুহাতে থাকে বাধা,

সে মানুষ ধীরে ধীরে হয়

গাফেলতার বন্দী,

আত্মার আকাশ ঢেকে ফেলে

পাপের ঘন অন্ধি।

গাফেলতা বড় ভয়ংকর,

নীরব এক অসুখ,

যা হৃদয়ের আলো নিভিয়ে

আনে জীবনে দুঃখ।

গাফেল মানুষ ভাবে সদা

"সময় আছে অনেক,"

মৃত্যু যখন দ্বারে আসে,

শেষ হয়ে যায় সবকিছু এক।

যৌবনের শক্তি থাকে না,

রূপের গৌরব মুছে যায়,

ধন-সম্পদের পাহাড় গড়েও

কেউ তো সাথে নিতে না পায়।

কবরের ঘরে একাই যেতে

হবে সবাইকে শেষে,

সঙ্গে যাবে আমল শুধু,

বাকি সবই রবে দেশে।

তাই হে মানুষ, জাগো এবার,

খুলো হৃদয়ের দ্বার,

সত্যের আলো গ্রহণ করে

ফিরে চলো রবের পার।

চোখকে দাও সত্যের দৃষ্টি,

কানকে দাও হকের শ্রবণ,

হৃদয় ভরো ঈমান দিয়ে,

জাগুক পবিত্র স্পন্দন।

আকাশ দেখে বলো অন্তর

"আমার রব কত মহান!"

পৃথিবী দেখে বলো আবার

"তাঁরই দয়া অফুরান।"

কুরআনের বাণী শোনো,

নবীর পথে চল,

মানবসেবায় জীবন গড়ো,

অন্যায়ের সাথে নয় দল।

পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন,

প্রতিবেশী, দীন-দরিদ্র,

সবার হক আদায় করে

করো জীবন সমৃদ্ধ।

অহংকারের মুকুট খুলে

বিনয় ধারণ কর,

মানুষ হয়ে মানুষের তরে

ভালোবাসার ঘর গড়।

তবে হৃদয় বুঝবে সত্য,

চোখে ফুটবে নূরের আলো,

কানে ধ্বনিত হবে সদা

হকের বাণী ভালো।

আর যখন রবের ডাকে

শেষ যাত্রা হবে শুরু,

তখন তুমি পাবে আশ্রয়

রহমতেরই নূর।

হে আল্লাহ!

আমাদের অন্তরকে দিন

সত্য উপলব্ধির জ্ঞান,

চোখকে দিন নিদর্শন দেখার

নূরময় দৃষ্টি দান।

কানকে দিন হক শোনার

সদা প্রস্তুত মন,

গাফেলতার ঘোর অন্ধকার থেকে

করুন মুক্ত জীবন।

পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট নয়,

হই যেন শ্রেষ্ঠ মানব,

আপনার পথে চলতে চলতে

পাই জান্নাতের সুমহান সব।

আমীন।

গাফেল হৃদয়ের পরিণতি

হায়! কত মানুষ পৃথিবীতে

জ্ঞান-বিজ্ঞানে মহীয়ান,

মহাকাশের দূর নক্ষত্রে

খুঁজে ফেরে নতুন জ্ঞান।

সমুদ্রতলের অন্ধকারে

অনুসন্ধানের দীপ,

পরমাণুর ক্ষুদ্র জগতে

গড়ে বিস্ময়ের নীড়।

তবু নিজের অন্তরখানি

রয়েছে অচেনা আজ,

স্রষ্টাকে চেনার বিদ্যাতে

রয়েছে কত লাজ!

আকাশ দেখে মুগ্ধ হয়,

কিন্তু দেখে না স্রষ্টাকে,

ফুলের গন্ধে মন ভরে,

ভোলে সুবাসদাতাকে।

বসন্ত এলে রঙের মেলা,

বর্ষায় মেঘের গান,

শীতের কুয়াশা, শরতের চাঁদ

সবই দয়ার নিদর্শন।

কিন্তু গাফেল হৃদয় শুধু

রূপের মাঝেই থামে,

স্রষ্টার দিকে পথ না খুঁজে

হারায় মোহের ঘোরে।

তারা ভাবে—"আমি বড়,

আমার শক্তি অপরিসীম!"

অহংকারের নেশায় মাতে,

স্বপ্ন দেখে অগণিত দিন।

কিন্তু যখন ঝড়ে ভেঙে যায়

ক্ষমতার উঁচু মিনার,

তখন বোঝে কত অসহায়

মানবজীবন যে আর!

একটি ভাইরাস অদৃশ্য ক্ষুদ্র

কাঁপিয়ে দেয় দুনিয়া,

একটি ভূমিকম্প মুহূর্তে

মুছে দেয় সভ্যতা।

এক ফোঁটা রক্ত বন্ধ হলে

থেমে যায় প্রাণের সুর,

একটি নিশ্বাস আটকে গেলে

নিভে যায় জীবনের নূর।

তবু মানুষ শিক্ষা নেয় না,

ফিরে না রবের পানে,

দম্ভের নেশায় ডুবে থাকে

মিথ্যা সুখের টানে।

হে মানব!

তুমি কি দেখনি কবরস্থানে

ঘুমিয়ে আছে কত জন?

রাজা-বাদশাহ, জ্ঞানী-গুণী,

ক্ষমতাবান অগণন।

যার নামে কাঁপত নগর,

যার ইশারায় চলত দেশ,

আজ সে শুয়ে মাটির নিচে

নিঃসঙ্গ নীরব বেশ।

যে ধনকুবের স্বর্ণ গুনত

রাত্রি থেকে ভোর,

আজ তার হাতে কিছুই নেই,

শূন্য দুই কর।

যে রূপসী ছিল সৌন্দর্যের

অহংকারে ভরা,

আজ তার কবরের মাটির সাথে

মিশে গেছে সারা।

যে যুবক শক্তির গরবে

দেখত সবাইকে তুচ্ছ,

আজ সে নীরব মাটির বুকে,

শেষ হয়েছে উচ্চকণ্ঠ।

এভাবেই তো সময় চলে,

এভাবেই যুগ যায়,

মানুষ আসে, মানুষ যায়,

শুধু আমল সাথে রয়।

তাই হে অন্তর!

জেগে ওঠো আজই তবে,

মৃত্যুর আগে মৃত্যু স্মরণ

রাখো হৃদয়-ভরে।

চোখকে দাও অশ্রুর ভাষা,

তওবার স্নিগ্ধ ঢেউ,

কানকে দাও কুরআনের সুর,

যা প্রশান্তি বয়ে আনে ঢেউ।

হৃদয়টাকে করো উন্মুক্ত

রবের প্রেমের তরে,

তাহলেই জীবনের অন্ধকার

নূরে ভরে উঠবে ঘরে।

যে হৃদয়ে আল্লাহ আছেন,

সে হৃদয় কখনো মরে না,

যে প্রাণে আছে ঈমানের আলো,

সে পথভ্রষ্ট হয় না।

ঝড় এলেও ভাঙে না সে,

দুঃখ এলেও হারায় না,

পৃথিবী যদি মুখ ফিরায়,

রব তাকে ছাড়েন না।

কারণ সে জানে

দুনিয়া ক্ষণিক পরীক্ষাগার,

চিরস্থায়ী আবাস নয়;

প্রভুর সন্তুষ্টিই জীবনের

সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয়।

হে আল্লাহ!

আমাদের হৃদয়কে গাফেলতা থেকে

সদা নিরাপদ রাখুন,

চোখকে দিন সত্য দেখার শক্তি,

কানকে দিন হক শোনার গুণ।

আমাদের জ্ঞানকে করুন উপকারী,

আমলকে করুন কবুল,

অহংকার, রিয়া গুনাহ থেকে

রাখুন সদা দূর।

যেদিন মানুষ ছুটবে ভীত হয়ে

হাশরের বিশাল মাঠে,

সেদিন আপনার রহমতের ছায়া

মিলুক আমাদের সাথে।

যেদিন আমলনামা খুলবে,

কাঁপবে সকল প্রাণ,

সেদিন যেন ডান হাতে পাই

মুক্তির সুসংবাদ মহান।

আর শেষ বিচারের পরে

আপনার অনুগ্রহে,

সালেহ বান্দাদের কাতারে

স্থান দিন জান্নাতের ছায়াতলে।

আমীন, ইয়া আরহামার রাহিমীন।

***

 

মানুষের সৃষ্টি দায়িত্ব,

হৃদয়, চোখ কানের প্রকৃত ব্যবহার,

গাফেলতার কারণ পরিণতি,

দুনিয়ার মোহ প্রতারণা,

কবর, হাশর হিসাব,

তওবা, হিদায়াত জান্নাতের আশা

এসব বিষয় ধারাবাহিক কাব্যিক বিন্যাসে উপস্থাপিত হবে।

অথবা আপনি চাইলে কাব্যটিকে আরও:

ছন্দবদ্ধ,

অলংকারসমৃদ্ধ,

আবৃত্তিযোগ্য,

পাঠ্যপুস্তক-মানের,

অথবা ইসলামী মহাকাব্যধর্মী

রূপেও সাজিয়ে দিতে পারি।

জন্মের ক্ষণে কেঁদে উঠি,

হাসে চারিপাশ,

বিদায়ের দিনে হাসি ফুরায়,

কাঁদে আপন আকাশ।

দুই দিনের এই দুনিয়াতে

কিসের এত গর্ব?

মাটির মানুষ মাটিতেই মিশে,

এটাই চিরসত্য।

যে শিশু ছিল মায়ের কোলে,

অসহায়ের মতো,

কালের স্রোতে যুবক হয়ে

চলে নিজের পথ।

যৌবনের সে শক্তি দেখে

ভুলে যায় কতজন,

একদিন এই শক্তি তারও

হবে ক্ষয়িষ্ণু ক্ষণ।

চুলে ধরবে শুভ্রতা,

শরীর হবে নত,

জীবনসন্ধ্যার ম্লান আলোয়

ফুরাবে অহংকার যত।

তবু কেন মানুষ আজও

হয় না শিক্ষা গ্রহণ?

মৃত্যুর পথে চলতে চলতে

ভোলে শেষ গন্তব্যস্থান।

হৃদয় যদি জাগ্রত হতো,

দেখত কত চিহ্ন,

পাতার মাঝে, ফুলের মাঝে,

স্রষ্টার অগণন নিদর্শন।

একটি বীজের অন্তর হতে

মহীরুহের জন্ম,

কে দিয়েছে সেই শক্তি তাকে,

কী অপূর্ব সে কর্ম!

মায়ের বুকে স্নেহের ধারা,

শিশুর মুখের হাসি,

এসব কি শুধু আপনাতেই?

ভাবো একবার বসি।

পাখিরা যায় নীড়ে ফিরে

সন্ধ্যার কোমল লগ্নে,

মানুষ কেন পথ হারায়

অহংকারের অরণ্যে?

নদী চলে সাগরের পানে,

সূর্য চলে নিয়মে,

গ্রহ-নক্ষত্র ঘুরছে সদা

প্রভুর আদেশ মেনে।

শুধু মানুষ অবাধ্য হয়ে

ভুলে যায় সেই রব,

যিনি দিলেন জীবন, বুদ্ধি,

যিনি সকলের প্রভু সব।

গাফেল হৃদয় ব্যস্ত থাকে

মানুষের প্রশংসায়,

রবের সন্তুষ্টি হারিয়ে ফেলে

লোকদেখানো আশায়।

সে খোঁজে শুধু বাহির রূপ,

অন্তর থাকে শূন্য,

নামাজহীন দিন কাটিয়ে

ভাবছে জীবন পূর্ণ।

কত ধন সে জমায় শেষে,

কত বাড়ি গড়ে,

মৃত্যু এসে এক নিমেষে

সবই ফেলে ধরে।

কত বিরোধ, কত বিদ্বেষ,

কত হিংসার আগুন,

কবরের মাটি ঢেকে দিলে

নিভে যায় সব ধ্বনি।

তাই হে মানুষ, জেগে ওঠো,

সময় এখনও আছে,

তওবার দরজা খোলা রয়েছে

রহমতেরই কাছে।

অন্তরটাকে পরিষ্কার করো,

মুছে ফেলো মলিনতা,

সত্যের পথে ফিরিয়ে আনো

জীবনের সব গতি।

চোখকে দাও অশ্রুর পবিত্রতা,

কানে দাও কুরআনের সুর,

হৃদয় ভরো আল্লাহপ্রেমে,

জীবন হোক নূরে ভরপুর।

যে হৃদয়ে জিকির জাগে,

সে হৃদয় হয় জীবন্ত,

যে হৃদয়ে গাফেলতা বাসে,

সে হৃদয় মৃতপ্রায় অন্তঃস্থ।

হে আল্লাহ, আমাদের দিন

বুঝার মতো হৃদয়,

দেখার মতো নির্মল দৃষ্টি,

শোনার মতো শ্রবণময়।

যেন আমরা গাফেল নই,

হই হিদায়াতপ্রাপ্ত,

আপনার দয়া রহমতে

হই চিরকল্যাণলাভী।

হাশরের সেই কঠিন দিনে

করুন সহজ পথ,

আপনার সন্তুষ্টিই হোক

আমাদের জীবনের রথ।

আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।৩

মন্তব্য করুন

ব্লগ