সহকারী অধ্যাপক
০৬ জুন, ২০২৬ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
গাফেল হৃদয়ের পরিণতি ২ - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
গাফেল হৃদয়ের পরিণতি ২
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি,
প্রভুর নামে গান,
সত্যের আলো ছড়িয়ে দিতে
জাগুক মানবপ্রাণ।
মানুষ তুমি কে ভেবেছ কি,
কোথা হতে আগমন?
কেনই বা এ পৃথিবীতে
ক্ষণিক এ অবস্থান?
আকাশ জুড়ে সূর্য ওঠে,
চাঁদে ঝরে জ্যোৎস্নাধারা,
নক্ষত্রমালা বলে নীরব—
"একই রবের সৃষ্টিধারা।"
পর্বত দাঁড়ায় মাথা তুলে,
সাগর গর্জে দিনরাত,
বনানীতে পাখির কূজন,
বয়ে চলে নদীর স্রোত।
ফুলের মাঝে রঙের মেলা,
ফলের মাঝে মধুর স্বাদ,
এসব দেখে জাগে না কেন
স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসা?
আল্লাহ দিলেন হৃদয় তোমায়,
চিনবে বলে সত্যপথ,
দিলেন বিবেক, দিলেন জ্ঞান,
করবে ন্যায়ের অনুগত।
দিলেন দুটি চক্ষু তোমায়,
দেখবে বলে নিদর্শন,
দিলেন দুটি শ্রবণদ্বার,
শুনবে হকের আহ্বান।
কিন্তু কত মানুষ আছে,
দেখেও কিছু দেখে না,
শুনেও যেন শোনে না তারা,
বুঝেও কিছু বোঝে না।
হৃদয় আছে, তবু তাদের
হৃদয়ে নেই উপলব্ধি,
সত্যের আলো সামনে জ্বলে,
তবু থাকে অন্ধগতি।
চোখ রয়েছে, তবু তারা
দেখে শুধু দুনিয়ার রূপ,
ধন-সম্পদ, মান-সম্মান,
সেখানে তাদের মনের ডুব।
কান রয়েছে, তবু শোনে
প্রশংসা আর মিথ্যার গান,
রবের বাণী কানে এলেও
জাগে না তাদের প্রাণ।
সকালবেলা সূর্য দেখে,
বলে না কেউ "সুবহানাল্লাহ",
রাত্রিবেলা তারা দেখে,
জাগে না অন্তর "মাশাআল্লাহ"।
মেঘের ভেলায় বৃষ্টি নামে,
শস্য ফলে মাঠে ঘাটে,
তবু কত মন বুঝে না তা
রহমতেরই মহা প্রভাতে।
একটি শিশু জন্ম নিলে
আনন্দ ভরে ঘর,
কিন্তু ভাবে না কেউ গভীরে—
কী মহান সেই সৃষ্টিকর্তা!
মানুষ যখন ভুলে যায়
নিজের আসল পরিচয়,
তখন তার জীবনের পথ
অন্ধকারে হারিয়ে যায়।
খাদ্য-পানীয়, ঘর-বাড়ি,
ভোগ-বিলাস, সুখের খোঁজ,
এসব নিয়েই ব্যস্ত থাকে,
এতেই যেন জীবনের রোজ।
পদ-পদবি, ক্ষমতার মোহ,
খ্যাতির নেশা, অর্থলোভ,
এইসব নিয়ে ছুটতে ছুটতে
হারায় সে অন্তরের রব।
চতুষ্পদ পশুও কিন্তু
নিজের মালিক চেনে,
যতটুকু তার দায়িত্ব আছে
ততটুকুই পালন করে।
গরু সকালে মাঠে যায়,
পাখি গেয়ে ওঠে গান,
মৌমাছিরাও নিয়ম মেনে
তৈরি করে মধুর ভাণ্ডার।
সিংহ, হরিণ, ক্ষুদ্র পিঁপড়া,
সবাই চলে নিয়মে,
স্রষ্টা যেই পথ দেখিয়েছেন,
সেই পথেই নির্ভয়ে।
কিন্তু মানুষ জ্ঞান পেয়েও
ভুলে যায় সে রবকে,
অহংকারের মুকুট পরে
দাঁড়ায় সত্যের বিপক্ষে।
তাই তো বলা হয়েছে তাদের—
পশুর মতো এ জীবন,
বরং পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট,
যখন হারায় বিবেক-মন।
কারণ পশুর নেই তো কোনো
হিসাব-নিকাশ পরকালে,
মানুষ কিন্তু জবাব দেবে
রবের মহান আদালতে।
যে হৃদয় শুধু নিজের কথা,
নিজ স্বার্থের চিন্তা করে,
অন্যের দুঃখ, অন্যের হক
পদদলিত করে চলে,
যে চোখ শুধু ত্রুটি খোঁজে,
অন্যের দোষ দেখে যায়,
নিজের ভেতর অন্ধকারকে
কখনো দেখে না হায়!
যে কান শুধু গীবত শোনে,
অপবাদে মাতে সদা,
সত্যের বাণী শুনতে গেলে
অজুহাতে থাকে বাধা,
সে মানুষ ধীরে ধীরে হয়
গাফেলতার বন্দী,
আত্মার আকাশ ঢেকে ফেলে
পাপের ঘন অন্ধি।
গাফেলতা বড় ভয়ংকর,
নীরব এক অসুখ,
যা হৃদয়ের আলো নিভিয়ে
আনে জীবনে দুঃখ।
গাফেল মানুষ ভাবে সদা—
"সময় আছে অনেক,"
মৃত্যু যখন দ্বারে আসে,
শেষ হয়ে যায় সবকিছু এক।
যৌবনের শক্তি থাকে না,
রূপের গৌরব মুছে যায়,
ধন-সম্পদের পাহাড় গড়েও
কেউ তো সাথে নিতে না পায়।
কবরের ঘরে একাই যেতে
হবে সবাইকে শেষে,
সঙ্গে যাবে আমল শুধু,
বাকি সবই রবে দেশে।
তাই হে মানুষ, জাগো এবার,
খুলো হৃদয়ের দ্বার,
সত্যের আলো গ্রহণ করে
ফিরে চলো রবের পার।
চোখকে দাও সত্যের দৃষ্টি,
কানকে দাও হকের শ্রবণ,
হৃদয় ভরো ঈমান দিয়ে,
জাগুক পবিত্র স্পন্দন।
আকাশ দেখে বলো অন্তর—
"আমার রব কত মহান!"
পৃথিবী দেখে বলো আবার—
"তাঁরই দয়া অফুরান।"
কুরআনের বাণী শোনো,
নবীর পথে চল,
মানবসেবায় জীবন গড়ো,
অন্যায়ের সাথে নয় দল।
পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন,
প্রতিবেশী, দীন-দরিদ্র,
সবার হক আদায় করে
করো জীবন সমৃদ্ধ।
অহংকারের মুকুট খুলে
বিনয় ধারণ কর,
মানুষ হয়ে মানুষের তরে
ভালোবাসার ঘর গড়।
তবে হৃদয় বুঝবে সত্য,
চোখে ফুটবে নূরের আলো,
কানে ধ্বনিত হবে সদা
হকের বাণী ভালো।
আর যখন রবের ডাকে
শেষ যাত্রা হবে শুরু,
তখন তুমি পাবে আশ্রয়
রহমতেরই নূর।
হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তরকে দিন
সত্য উপলব্ধির জ্ঞান,
চোখকে দিন নিদর্শন দেখার
নূরময় দৃষ্টি দান।
কানকে দিন হক শোনার
সদা প্রস্তুত মন,
গাফেলতার ঘোর অন্ধকার থেকে
করুন মুক্ত জীবন।
পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট নয়,
হই যেন শ্রেষ্ঠ মানব,
আপনার পথে চলতে চলতে
পাই জান্নাতের সুমহান সব।
আমীন।
—
মানুষের সৃষ্টি ও দায়িত্ব,
হৃদয়, চোখ ও কানের প্রকৃত ব্যবহার,
গাফেলতার কারণ ও পরিণতি,
দুনিয়ার মোহ ও প্রতারণা,
কবর, হাশর ও হিসাব,
তওবা, হিদায়াত ও জান্নাতের আশা
***
গাফেল হৃদয়ের পরিণতি
জন্মের ক্ষণে কেঁদে উঠি,
হাসে চারিপাশ,
বিদায়ের দিনে হাসি ফুরায়,
কাঁদে আপন আকাশ।
দুই দিনের এই দুনিয়াতে
কিসের এত গর্ব?
মাটির মানুষ মাটিতেই মিশে,
এটাই চিরসত্য।
যে শিশু ছিল মায়ের কোলে,
অসহায়ের মতো,
কালের স্রোতে যুবক হয়ে
চলে নিজের পথ।
যৌবনের সে শক্তি দেখে
ভুলে যায় কতজন,
একদিন এই শক্তি তারও
হবে ক্ষয়িষ্ণু ক্ষণ।
চুলে ধরবে শুভ্রতা,
শরীর হবে নত,
জীবনসন্ধ্যার ম্লান আলোয়
ফুরাবে অহংকার যত।
তবু কেন মানুষ আজও
হয় না শিক্ষা গ্রহণ?
মৃত্যুর পথে চলতে চলতে
ভোলে শেষ গন্তব্যস্থান।
হৃদয় যদি জাগ্রত হতো,
দেখত কত চিহ্ন,
পাতার মাঝে, ফুলের মাঝে,
স্রষ্টার অগণন নিদর্শন।
একটি বীজের অন্তর হতে
মহীরুহের জন্ম,
কে দিয়েছে সেই শক্তি তাকে,
কী অপূর্ব সে কর্ম!
মায়ের বুকে স্নেহের ধারা,
শিশুর মুখের হাসি,
এসব কি শুধু আপনাতেই?
ভাবো একবার বসি।
পাখিরা যায় নীড়ে ফিরে
সন্ধ্যার কোমল লগ্নে,
মানুষ কেন পথ হারায়
অহংকারের অরণ্যে?
নদী চলে সাগরের পানে,
সূর্য চলে নিয়মে,
গ্রহ-নক্ষত্র ঘুরছে সদা
প্রভুর আদেশ মেনে।
শুধু মানুষ অবাধ্য হয়ে
ভুলে যায় সেই রব,
যিনি দিলেন জীবন, বুদ্ধি,
যিনি সকলের প্রভু সব।
গাফেল হৃদয় ব্যস্ত থাকে
মানুষের প্রশংসায়,
রবের সন্তুষ্টি হারিয়ে ফেলে
লোকদেখানো আশায়।
সে খোঁজে শুধু বাহির রূপ,
অন্তর থাকে শূন্য,
নামাজহীন দিন কাটিয়ে
ভাবছে জীবন পূর্ণ।
কত ধন সে জমায় শেষে,
কত বাড়ি গড়ে,
মৃত্যু এসে এক নিমেষে
সবই ফেলে ধরে।
কত বিরোধ, কত বিদ্বেষ,
কত হিংসার আগুন,
কবরের মাটি ঢেকে দিলে
নিভে যায় সব ধ্বনি।
তাই হে মানুষ, জেগে ওঠো,
সময় এখনও আছে,
তওবার দরজা খোলা রয়েছে
রহমতেরই কাছে।
অন্তরটাকে পরিষ্কার করো,
মুছে ফেলো মলিনতা,
সত্যের পথে ফিরিয়ে আনো
জীবনের সব গতি।
চোখকে দাও অশ্রুর পবিত্রতা,
কানে দাও কুরআনের সুর,
হৃদয় ভরো আল্লাহপ্রেমে,
জীবন হোক নূরে ভরপুর।
যে হৃদয়ে জিকির জাগে,
সে হৃদয় হয় জীবন্ত,
যে হৃদয়ে গাফেলতা বাসে,
সে হৃদয় মৃতপ্রায় অন্তঃস্থ।
হে আল্লাহ, আমাদের দিন
বুঝার মতো হৃদয়,
দেখার মতো নির্মল দৃষ্টি,
শোনার মতো শ্রবণময়।
যেন আমরা গাফেল নই,
হই হিদায়াতপ্রাপ্ত,
আপনার দয়া ও রহমতে
হই চিরকল্যাণলাভী।
হাশরের সেই কঠিন দিনে
করুন সহজ পথ,
আপনার সন্তুষ্টিই হোক
আমাদের জীবনের রথ।
আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।
***
বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি,
করুণাময়ের নাম,
যাঁর রহমতে জেগে থাকে
বিশ্বজগতের প্রাণ।
যিনি দিলেন জীবন-প্রভাত,
সূর্য, চন্দ্র, আলো,
যাঁর অনুগ্রহে পৃথিবীজুড়ে
ফুটে ওঠে ভালো।
যিনি দিলেন হৃদয়খানি
সত্য বুঝার তরে,
চোখ দিলেন তাঁর নিদর্শন
দেখার জন্য ঘরে ঘরে।
কান দিলেন হকের বাণী
শুনে নেবার জন্য,
বিবেক দিলেন সত্য-মিথ্যা
চেনার মহামূল্য ধন।
তবু কত মানুষ রয়েছে,
অদ্ভুত তাদের রূপ,
চোখ রয়েছে, দেখে না তারা
সত্যের আলোকসূত্র।
কান রয়েছে, শুনে না তারা
হিদায়াতের ডাক,
হৃদয় রয়েছে, তবু সেখানে
জাগে না ঈমানের পাক।
আকাশভরা নক্ষত্র দেখে,
ভাবেনা কার সৃষ্টি,
সমুদ্রের ঢেউ গর্জন করে,
জাগে না অন্তরদৃষ্টি।
পর্বতশ্রেণী মাথা তুলে
দাঁড়িয়ে আছে স্থির,
তবু মানুষ রবকে ভোলে,
হয় না তাঁর অধীর।
ফুলের মাঝে রঙের বাহার,
ফলের মাঝে রস,
এসব দেখে কতজন বলে—
"প্রভু! তুমি কত অসীম দয়াময়!"
শিশিরভেজা ভোরের বেলা,
পাখির মধুর গান,
সবই তো দেয় সাক্ষ্য বহন
এক মহান স্রষ্টার জ্ঞান।
কিন্তু গাফেল হৃদয় শুধু
দুনিয়ার মোহে মাতে,
অর্থ, ক্ষমতা, ভোগ-বিলাস
রয় তার চিন্তাতে।
তার সকাল যায় হিসাব কষে,
রাত যায় স্বপ্ন বুনে,
জীবনের মূ
কত ঘর আর কত অট্টালিকা
গড়ে সে দিনরাত,
কিন্তু নিজের কবরখানার
খোঁজ রাখে না তাত।
কত জমি আর কত সম্পদ
নিজ নামে করে,
কিন্তু মৃত্যুর পর কিছুই
সাথে যায় না রে।
গাড়ির বহর, সম্মান-যশ,
ক্ষমতার আসন,
একটি নিশ্বাস থেমে গেলেই
শেষ হয়ে যায় আয়োজন।
গাফেল মানুষ আয়না দেখে
সাজায় বাহিরখানি,
কিন্তু অন্তর কলুষিত হলে
কী লাভ সেই বাণী?
অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায়,
নিজের দোষ না দেখে,
নিজের অন্তর অন্ধকারে
রয় অজান্তে ঢেকে।
চোখের জল নেই তওবাতে,
নেই অনুতাপ প্রাণে,
তবু ভাবে সে সফল মানুষ
পৃথিবীর ময়দানে।
কত নবী এলেন দুনিয়াতে,
কত দিলেন ডাক,
এক আল্লাহর ইবাদতে
ফিরে আসার হাক।
নূহ (আ.) ডাকলেন শতাব্দী ধরে,
কওম ফিরল না তবু,
অবশেষে প্লাবন এলো,
ডুবল অহংকারী সব।
ইবরাহীম (আ.) ভাঙলেন মূর্তি,
ডাকলেন এক রবের পানে,
তবু কত হৃদয় রইল অন্ধ
শিরকের অন্ধকারখানে।
মূসা (আ.) এলেন মু'জিযা নিয়ে,
ফিরআউনের দরবারে,
তবু গর্বে অন্ধ সে রাজা
ডুবল সাগরধারে।
এসব কাহিনি ইতিহাস নয়,
শুধু গল্প নয়,
প্রত্যেক যুগের মানুষের তরে
শিক্ষার অমৃতময়।
চতুষ্পদ প্রাণীও কিন্তু
তার প্রভুর নিয়ম মানে,
ক্ষুধা মেটে, বিশ্রাম নেয়,
ফিরে যায় আপন ঠাঁইখানে।
পাখি সকালে বাসা ছাড়ে,
সন্ধ্যায় ফিরে আসে,
মৌমাছি ফুলের বুকে বসে
মধু জমায় ভালোবেসে।
গরু-ছাগল, হরিণ, পাখি,
কেউ নিয়ম ভোলে না,
যে কাজ তাদের দায়িত্ব,
তারা তা এড়িয়ে চলে না।
কিন্তু মানুষ জ্ঞান পেয়েও
করে কত অবহেলা,
রবের দেওয়া বিধান ছেড়ে
চলে প্রবৃত্তির মেলা।
তাই তো কুরআন বলেছে তাদের—
পশুর মতো তারা,
বরং পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট,
যখন সত্য করে হারা।
কারণ পশুর নেই হিসাব,
নেই প্রতিদানের ভার,
মানুষ কিন্তু জবাব দেবে
রবের মহা দরবার।
যে হৃদয় শুধু পেটের চিন্তা,
ভোগের নেশায় ডুবে,
সে হৃদয় ধীরে ধীরে গিয়ে
অন্ধকারে ডুবে।
যে চোখ দেখে না শিক্ষা,
দেখে না মৃত্যুর সারি,
সে চোখ খুলেও অন্ধ যেন,
হারিয়েছে পথচারি।
যে কান শুনে না সত্যবাণী,
শুনে শুধু মিথ্যা,
সে কান বয়ে আনে শেষে
অনুতাপের ব্যথা।
একদিন হঠাৎ মৃত্যু এসে
কড়া নাড়বে দ্বারে,
থেমে যাবে সকল ব্যস্ততা
মুহূর্তেরই ভারে।
সেদিন হবে না আর সুযোগ
ফিরে আসার পথে,
বন্ধ হবে আমলের খাতা
জীবনেরই সাথে।
কবর হবে প্রথম ঘর,
সঙ্গী হবে কাজ,
ধন-সম্পদ, বন্ধু-স্বজন
ফিরে যাবে আজ।
যদি থাকে নেক আমল,
আলো ভরবে চারিধার,
যদি থাকে পাপের বোঝা,
কঠিন হবে অন্ধকার।
তাই হে মানুষ! জাগো এখন,
সময় আছে হাতে,
ফিরে এসো দয়ার রবের
অসীম রহমতে।
হৃদয়টাকে জাগাও আবার
কুরআনের আলোয়,
চোখকে দাও ইবরতের দৃষ্টি
সত্যের ভালোয়।
কানকে দাও হক শোনার
নম্রতারই মন,
জীবনটাকে গড়ে তোলো
ইবাদতের পণ।
পিতা-মাতার সেবা করো,
রাখো আত্মীয়তার বাঁধন,
এতিম, মিসকিন, দুঃখী মানুষের
হও কল্যাণের সাধন।
সত্য বলো, ন্যায় করো,
রাখো না কারো হক,
মানুষ হয়ে মানুষের তরে
হও রহমতের লোক।
অহংকারের মুকুট খুলে
বিনয়ের চাদর পরো,
দুনিয়ার ক্ষণিক সুখের বদলে
আখিরাতের পাথেয় গড়ো।
হে আল্লাহ!
আমাদের দিন এমন হৃদয়
যা সত্য বুঝতে পারে,
এমন চোখ দিন, যা শিক্ষা নেয়
প্রতিটি দৃশ্যধারে।
এমন কান দিন, যা শুনে নেয়
হকের পবিত্র বাণী,
এমন জীবন দিন, যা চলে
আপনারই সন্তুষ্টিখানি।
গাফেলদের দলে নয়,
হিদায়াতপ্রাপ্তদের মাঝে,
রাখুন আমাদের সর্বদা
আপনার রহমতের সাজে।
যেদিন হবে হাশরের ময়দান,
কাঁপবে সকল প্রাণ,
সেদিন যেন আপনার ছায়ায়
পাই নিরাপদ স্থান।
আর শেষ বিচারের পরে,
অশেষ দয়ার টানে,
সালেহ বান্দাদের কাতারে
রাখুন চির জান্নাতে।
৫৩
৯১ মন্তব্য