Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ জুন, ২০২৬ ০৩:১১ অপরাহ্ণ

পিতা-মাতার হক ও মানবতার কবিতা - মোঃ মুজিবুর রহমান


পিতা-মাতার হক মানবতার কবিতা

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি প্রভুর নামে গান,

যিনি দিলেন জীবন, আলো, সৃষ্টি করলেন প্রাণ।

যাঁর দয়াতে সূর্য ওঠে, চাঁদে জোছনা হাসে,

যাঁর করুণায় সৃষ্টিজগৎ সৌন্দর্যে ভরে ভাসে।

তিনি বলেন— “আমার ইবাদত করো একনিষ্ঠ প্রাণে,

শির্কের আঁধার দূরে সরাও সত্যের দীপ্ত টানে।

আর সঙ্গে সঙ্গে দিলেন তিনি অমর এক ফরমান

পিতা-মাতার প্রতি করো উত্তম সম্মান।

মায়ের কোলে প্রথম শিখি পৃথিবীর পরিচয়,

বাবার ঘামে গড়ে ওঠে জীবনের দৃঢ় ভিত্তিময়।

তাদের ত্যাগের হিসাব লেখা যায় না কভু কালে,

তাদের ঋণ শোধ হবে না ধন-সম্পদের জালে।

মা বহন করেন সন্তানেরে কষ্টের পর কষ্ট,

রাত্রি জেগে আগলে রাখেন ভুলে নিজের ক্লান্তি-শ্রান্ত।

বাবা আবার রৌদ্র-বৃষ্টিতে সংগ্রামের পথ ধরে,

সন্তানের সুখের আশায় জীবন কাটান ভরে।

তাই তো নবী বলেছিলেন প্রশ্নের উত্তরে,

সর্বাধিক প্রিয় আমল কী আল্লাহর দরবারে?”

বললেন তিনি— “সময়মতো সালাত আদায় করো,”

তারপর বললেন— “পিতা-মাতার সেবা করো।

সালাত যেমন বান্দাকে নেয় রবের সান্নিধানে,

পিতা-মাতার খিদমত তেমনি নেয় জান্নাতের পানে।

যে ঘরে থাকে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা আর সম্মান,

সে ঘরে নামে রহমতের অগণিত বরকত দান।

হে মানবজাতি! শোনো তবে দ্বীনের মহা বাণী,

সুন্দর চরিত্র ছাড়া নয় সফল জীবনের গল্পখানি।

সদাচারই মুমিনের শ্রেষ্ঠ অলংকার মহান,

যা আলোকিত করে দুনিয়া পরকালের স্থান।

কারো হক কখনো রেখো না অবহেলায় থামিয়ে,

প্রাপ্য তার ফিরিয়ে দাও ন্যায় সত্য মানিয়ে।

অন্যায়ের পথে কভু নয় দুর্বলকে নিপীড়ন,

ন্যায়ের পথে অটল থাকাই মুমিনের পরিচয় গুণ।

মিথ্যার কালো বিষবাষ্পে দূষিত হয় প্রাণ,

সত্যবাদী মানুষ পায় আল্লাহর ভালোবাসার দান।

মিথ্যা সাক্ষ্য, প্রবঞ্চনা আর প্রতারণার পথ,

ধ্বংস করে বিবেক, নষ্ট করে চরিত্রের রথ।

কন্যা সন্তান আল্লাহর দান, রহমতের উপহার,

তাদের প্রতি অবহেলা নয়, স্নেহের হোক সংসার।

দারিদ্র্যের ভয় দেখিয়ে নয় নিষ্ঠুরতার আচরণ,

প্রত্যেক শিশুই আল্লাহর দেওয়া সম্ভাবনার জীবন।

সালাত কায়েম করো সবাই বিনয়ের সঙ্গে মিলে,

যাকাত দিয়ে ভাগ করে নাও অভাবীর কষ্ট নিলে।

পবিত্রতা ঈমানের অংশ, হৃদয় রাখো নির্মল,

অন্তর জুড়ে জাগুক সদা তাকওয়ার শুভ কমল।

আত্মীয়তার বন্ধন যেন ছিন্ন না হয় কভু,

রক্তের টানে ভালোবাসা বাড়ুক নব নব রূপে সবু।

চাচা-জেঠা, খালা-মামা, দাদা-নানার ঘর,

সম্পর্কের সেতুগুলো রাখো অটুট করে পর।

ইয়াতীমের চোখের জলে দেখো নীরব আর্তনাদ,

বিধবার দীর্ঘশ্বাস শুনে বাড়াও সহায়তার হাত।

গরিব-দুঃখীর মুখে হাসি ফোটানো মহৎ কাজ,

এতে থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি, জান্নাতেরই সাজ।

প্রতিবেশী নিকট হোক বা দূরের কোনো জন,

তার প্রতি সদাচারই মুমিনের পরিচয় চিরক্ষণ।

মুসাফির, পথিক, অতিথি কিংবা অধীনস্থ প্রাণ,

সবার প্রতি করো ব্যবহার সৌজন্যে ভরা মহান।

হাসিমুখে কথা বলা এক মহৎ সদকা,

মিষ্টি ভাষা দূর করে দেয় হৃদয়ের সব ফাঁকা।

অশালীন বাক্য আগুন হয়ে পোড়ায় মানুষের মন,

সুন্দর ভাষা গড়ে তোলে ভালোবাসার বন্ধন।

নম্রতা মানুষকে করে মহিমান্বিত মহান,

অহংকারে পতন ঘটে হারায় সম্মান।

যে মাথা নত করে চলে আল্লাহর বিধানে,

তাকেই মানুষ শ্রদ্ধা করে হৃদয়ের টানে।

গীবত, অপবাদ, চোগলখোরী বিষের মতো ক্ষয়,

সম্পর্কের সুন্দর বাগান মুহূর্তে ধ্বংস হয়।

অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো নয় মুমিনের কাজ,

নিজের ভুল সংশোধনে থাকুক জীবনের সাজ।

কু-ধারণা, হিংসা, বিদ্বেষ হৃদয়ের কালো ধোঁয়া,

এসব নিয়ে বাঁচলে মানুষ শান্তি কোথাও না পায় খোঁয়া।

ক্ষমা করো, দয়া করো, ভেঙে দাও রাগের দেয়াল,

ক্ষমাশীলকে ভালোবাসেন দয়াময় রব্বুল আলামীন কালজয়ী কাল।

বড়দের প্রতি সম্মান দাও, ছোটদের দাও স্নেহ,

এভাবেই গড়ে ওঠে সমাজে মানবতার গেহ।

ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বাঁধো মুসলিম সকল প্রাণ,

ঐক্যের মাঝে শক্তি থাকে, বিভেদ আনে ক্ষয়মান।

মেহমান এলে স্বাগত দাও হাসিমুখে বলে,

মারহাবা মিষ্টি ধ্বনি উঠুক হৃদয়তলে।

রোগীর সেবায় পাশে দাঁড়াও সহানুভূতির হাত,

জানাজার ডাকে সাড়া দাও স্মরণ করে আখিরাত।

সালামের উত্তর দাও আন্তরিকতার সুরে,

মজলুমের পাশে দাঁড়াও দৃঢ়তার নূরে।

শপথ করলে পূর্ণ করো সত্যের অঙ্গীকার,

বিশ্বাসযোগ্য মানুষ হয় সমাজের অহংকার।

গাছ লাগাও, প্রাণীর প্রতি দেখাও দয়ার মন,

সৃষ্টির সেবায় নিয়োজিত থাকুক তোমার জীবন।

প্রতিটি পাতা, প্রতিটি প্রাণ রবের সৃষ্টি জানো,

তাদের প্রতি মমতা দেখিয়ে আল্লাহর নৈকট্য মানো।

সময়ের প্রতি কভু দিও না অভিশাপের ভাষা,

সময় তো আল্লাহর সৃষ্টি, তাতেই জীবনের আশা।

ভালো নাম রাখো সন্তানের, ডাকো সুন্দর নামে,

মহৎ পরিচয় ফুটে ওঠে এমন ছোট্ট কামে।

হাঁচি দিলে বলোআলহামদুলিল্লাহকৃতজ্ঞতার তরে,

আশ্চর্যে বলোসুবহানাল্লাহহৃদয়ের গভীর ঘরে।

প্রতিটি ক্ষুদ্র সুন্নাহ যেন জীবনের অলংকার,

এসব দিয়েই পূর্ণ হয় মুমিনের চরিত্রের দ্বার।

হে মানুষ! মনে রেখো, দুনিয়া ক্ষণিকের পথ,

আজ আছি, কাল নেইএটাই জীবনের রথ।

রবে শুধু আমলনামা, রবে চরিত্রের দান,

রবে পিতা-মাতার প্রতি তোমার কৃত সম্মান।

যে সন্তান সেবা করে বৃদ্ধ পিতা-মাতারে,

ফেরেশতারা দোয়া করে তার কল্যাণের তরে।

যে সন্তান কষ্ট দেয় তাদের অকারণে,

হারায় সে বরকত অনেক নিজের জীবনে।

এসো তবে প্রতিজ্ঞা করি রবের সন্তুষ্টির তরে,

মানবতার এই শিক্ষাগুলো ধারণ করব ঘরে ঘরে।

সালাত, সদাচার, দয়া, ন্যায় আর সত্যের জয়গান,

ছড়িয়ে দেব পৃথিবীময় ইসলামের মহা আহ্বান।

পিতা-মাতার খিদমত হবে জীবনের শ্রেষ্ঠ ব্রত,

মানবসেবায় কাটবে জীবন, দূর হবে সকল ক্ষত।

আল্লাহর প্রেম, রাসূলের পথ, নেক আমলের টান

এই হোক মুমিন জীবনের চিরন্তন মহাগান।

***

বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি, মহান রবের নামে,

যাঁর কুদরতে বিশ্বজগৎ দাঁড়িয়ে আছে থামে।

যাঁর হুকুমে সূর্য ওঠে, চাঁদ ছড়ায় শুভ্র আলো,

যাঁর রহমতে ফুলের বুকে সৌন্দর্যের ঢেউ ভালো।

তিনি সৃষ্টি করলেন মানুষ জ্ঞানের সেরা দান,

দিলেন বিবেক, দিলেন হৃদয়, দিলেন সত্য জ্ঞান।

দিলেন নবী, দিলেন কিতাব, দিলেন হিদায়াত,

দিলেন ন্যায়ের সোজা পথ আর জান্নাতের সুসংবাদ।

সেই মহান রব ঘোষণা দেন মহাগ্রন্থ কুরআনে

পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো সম্মানের টানে।

শুধু কোনো উপদেশ নয়, নয় সামান্য বাণী,

যে রবের ফরমান, মুমিন জীবনের প্রাণী।

মায়ের গর্ভে অন্ধকারে দশটি মাসের তপস্যা,

অগণিত কষ্ট বুকে নিয়ে সন্তানেরই প্রত্যাশা।

রাতের ঘুম বিসর্জন দিয়ে আগলে রাখেন প্রাণ,

নিজে কাঁদেন, তবু সন্তানের মুখে ফোটান হাসির গান।

বাবা আবার প্রখর রোদে শ্রমের ঘাম ঝরান,

অভাব-অনটন বুকে চেপে স্বপ্নগুলো গড়ান।

নিজের সুখকে বিসর্জন দিয়ে সন্তানের কল্যাণে,

অবিরত লড়াই করেন জীবনের প্রতিক্ষণে।

তাই তো প্রিয় নবীজী, মানবতার শ্রেষ্ঠ পথিক,

দিয়েছেন আমাদের জন্য আদর্শ অমলিন নীতিক।

জিজ্ঞাসিলেন ইবনু মাসউদ— “প্রভুর নিকট প্রিয় কাজ?”

উত্তরে এল— “সালাত আগে, তারপর পিতামাতার সেবার সাজ।

সালাত মানুষকে শেখায় রবের প্রতি আনুগত্য,

পিতা-মাতার খিদমত শেখায় কৃতজ্ঞতার মহত্ত্ব।

যে দুটিকে একত্র করে জীবনের প্রতিটি ক্ষণ,

তার জীবন আলোকিত হয় ঈমানেরই স্পন্দন।

হে মানুষ! শুধু ইবাদত নয়, চাই সুন্দর চরিত্র,

সৎ স্বভাবের মহিমাতেই হয় জীবন পবিত্র।

কারো হক কখনো রেখো না অন্যায়ের বন্ধনে,

প্রত্যেক অধিকার ফিরিয়ে দাও সত্যের আলোকবাণীতে।

মিথ্যা কথার বিষদাঁতে সমাজ যখন ক্ষয়,

সত্যবাদী মানুষ তখন শান্তির প্রদীপ জ্বয়।

মিথ্যা সাক্ষ্য, প্রতারণা আর প্রবঞ্চনার জাল,

ধ্বংস করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজের শুভকাল।

কন্যা সন্তান বোঝা নয়, জান্নাতের ফুল তারা,

তাদের প্রতি স্নেহ-মমতা ঈমানেরই ধারা।

যে ঘরে কন্যা সম্মান পায়, থাকে ভালোবাসা,

সে ঘরে নামে বরকতের অফুরন্ত ভাষা।

যাকাত দিয়ে ভাগ করে নাও অভাবীর অশ্রুধারা,

দানশীলতা দূর করে দেয় হৃদয়ের অন্ধকারা।

কৃপণতা যে আত্মাকে করে সংকীর্ণ ক্ষুদ্র,

দানশীল হৃদয়ই হয় মহানতায় সুদৃঢ়।

আত্মীয়তার সম্পর্কগুলো রক্ষা করো প্রাণে,

ভালোবাসার সেতু গড়ো আন্তরিকতার টানে।

চাচা, মামা, খালা, ফুফু, দাদা-নানার ঘর,

এসব সম্পর্কে লুকিয়ে থাকে জীবনেরই স্বর।

ইয়াতীম শিশুর চোখের জল মুছে দাও মমতায়,

বিধবার পাশে দাঁড়াও গিয়ে মানবিক সহায়তায়।

ক্ষুধার্ত মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার চেয়ে বড়,

আর কী হতে পারে বলো মানবতার ঘর?

প্রতিবেশী যদি থাকে ক্ষুধায়, তুমি থেকো না তৃপ্ত,

শিক্ষা দেয় ইসলাম আমাদের করেছে দীক্ষিত।

পথিক, অতিথি, অসহায়, শ্রমিক কিংবা সাথী,

সবার প্রতি সদাচরণ মুমিন জীবনের গাঁথি।

হাসিমুখে কথা বলাও এক মহৎ সদকা,

মিষ্টি ভাষা হৃদয়ে আনে প্রশান্তিরই রেখা।

তিক্ত বাক্য বিদ্ধ করে মানুষের কোমল প্রাণ,

ভালো কথায় জয় করা যায় অগণিত হৃদয়স্থান।

অহংকারের মুকুট পরে কেউ বড় হয় না কভু,

নম্রতারই সৌন্দর্যে মানুষ মহীয়ান সবু।

যে মাথা নত করে চলে সত্যের পথ ধরে,

মানুষ তাকে ভালোবাসে অন্তরেরই তরে।

গীবত, অপবাদ, চোগলখোরী আগুনেরই শিখা,

সম্পর্কের সবুজ বাগান মুহূর্তেই করে নিঃশ্বাসহীন দিশাহারা।

অন্যের দোষ গোপন করে যে মানুষ চলে যায়,

আল্লাহও তার গোপন দোষ আড়াল করে তায়।

হিংসা-বিদ্বেষ হৃদয়ের মাঝে বিষের মতো বাস,

ক্ষমা, দয়া, সহনশীলতায় ফুটুক শান্তির সুবাস।

ক্রোধকে জয় করতে পারাই প্রকৃত বীরত্ব,

ক্ষমার মাঝেই লুকিয়ে থাকে মানবতার মহত্ত্ব।

বড়দের সম্মান করো, ছোটদের স্নেহ দাও,

সকলের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে যাও।

মুসলিম হোক কিংবা অন্য ধর্মের মানুষ,

সবার সাথে ন্যায় আচরণই ঈমানের পরশ।

রোগীর সেবায় পাশে দাঁড়াও সহমর্মিতার হাতে,

জানাজার পথে চলতে শেখো জীবনের পরিণতিতে।

সালামের উত্তর দাও আন্তরিকতার সুরে,

মজলুমের পাশে দাঁড়াও সাহসিকতার নূরে।

গাছ লাগাও, প্রকৃতিকে ভালোবাসো প্রাণভরে,

পাখির কূজন, ফুলের হাসি ফুটুক ধরণী জুড়ে।

প্রাণীর প্রতিও দয়া করো, তারাও আল্লাহর সৃষ্টি,

মমতার মাঝেই লুকিয়ে থাকে ঈমানের দ্যুতি।

সময়কে কখনো গালি দিও না অসন্তোষে ভরে,

সময়ও তো আল্লাহর সৃষ্টি চলমান ধারা ধরে।

প্রতিটি মুহূর্ত আমানত, প্রতিটি দিন সুযোগ,

নেক আমলে ভরিয়ে তোলো জীবনের প্রতিটি যুগ।

হে মানুষ! মনে রেখো, দুনিয়া ক্ষণিকের পথ,

আজকের হাসি কালকে হয় স্মৃতির নিঃশব্দ রথ।

রয়ে যাবে শুধু আমল, থাকবে চরিত্রের দান,

থাকবে পিতা-মাতার প্রতি তোমার কৃত সম্মান।

যে সন্তান বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতার সেবক হয়,

তার জন্য জান্নাতের দুয়ার খুলে যায় নিশ্চয়।

যে সন্তান তাদের কষ্ট দেয় অবহেলার ছলে,

নিজের জীবন থেকেও হারায় বরকত ধীরে ধীরে।

এসো আজ প্রতিজ্ঞা করি হৃদয়ের গভীর তলে,

সত্য, ন্যায় আর মানবতা রাখব জীবনের ফলে।

সালাত, যাকাত, সদাচার, দয়া আর সম্মান,

হোক আমাদের প্রতিটি দিনের মহিমান্বিত গান।

পিতা-মাতার সেবার মাঝে খুঁজব রবের নূর,

মানবসেবার পথে হব সদা নিবেদিত সুর।

কুরআন-সুন্নাহর আলোয় গড়ব জীবনখানি,

এই হোক মুমিনের পথ, এই হোক চির বাণী।

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তর করো পবিত্র মহান,

পিতা-মাতার হক আদায়ে দাও অবিচল প্রাণ।

সত্য, ধৈর্য, দয়া, নম্রতায় ভরিয়ে দাও মন,

তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের চূড়ান্ত অর্জন।

আমীন।

***

মানবতার সোনালি স্বপ্ন

এসো মানুষ, হাতে হাত রাখি,

ভালোবাসার সেতু গড়ি,

ঘৃণা-বিদ্বেষ দূরে ঠেলে

শান্তির প্রদীপ ঘরে ধরি।

ধনী-গরিব ভেদ ভুলে যাই,

একই মাটির সন্তান আমরা,

একই আকাশ মাথার উপরে,

একই সূর্য দেয় যে উষ্ণতা।

যে হৃদয়ে দয়ার নদী বয়,

সে হৃদয় আল্লাহর প্রিয়,

যে হৃদয়ে অহংকার জাগে,

সে হৃদয় হয় শূন্য নির্জীব।

সত্যের পথে চলা কঠিন,

তবু সে পথ আলোর দিশা,

মিথ্যার পথে ক্ষণিক জয়,

শেষে থাকে কেবল হতাশা।

পিতা-মাতার দোয়ার ছায়া

জীবনভরা অমূল্য ধন,

তাদের মুখের একটুখানি হাসি

জান্নাতেরই শুভ স্পন্দন।

ইয়াতীম শিশুর অশ্রু মুছে,

ক্ষুধার্ত মুখে অন্ন দিই,

অসহায়ের পাশে দাঁড়িয়ে

মানবতার পতাকা বই।

প্রতিবেশীর সুখে হাসি,

দুঃখে হই সমব্যথী,

এই শিক্ষাতেই গড়ে ওঠে

সুন্দর সমাজ, সুন্দর গাঁথি।

ক্রোধ যখন আগুন হয়ে

জ্বালিয়ে দিতে চায় মন,

ক্ষমার জলে নিভিয়ে দিই

বিদ্বেষের সব আয়োজন।

হে মহান রব! দাও আমাদের

সৎকর্মে ভরা জীবনখানি,

পিতা-মাতার হক আদায়ে

হই যেন সর্বদা পরিপূর্ণ প্রাণী।

তোমার পথে কাটুক জীবন,

তোমার প্রেমে ভরুক প্রাণ,

মানবসেবার মাধ্যমে হোক

তোমার সন্তুষ্টির সন্ধান।

কুরআনের আলো, সুন্নাহর পথ,

হোক আমাদের চির সাথী,

মানবতার মহাবৃক্ষে

ফুটুক শান্তির অমর পাঁপড়ি।

যতদিন সূর্য উদিত হবে,

যতদিন চাঁদ দেবে জ্যোতি,

ততদিন ধ্বনিত হোক ধরায়

সত্য, দয়া, ন্যায় ভ্রাতৃত্বের গীতি।

***

মানবতার দীপশিখা

হে মানুষ! এসো ফিরে যাই

সত্যের নির্মল পথে,

যে পথে চলে নবী-রাসূল

আলোক জ্বেলে জগতে।

যে পথে আছে দয়ার সাগর,

ক্ষমার স্নিগ্ধ ছায়া,

যে পথে নেই হিংসা-বিদ্বেষ,

নেই কোনো মিথ্যা মায়া।

মানুষ হয়ে মানুষের মনে

দুঃখের বোঝা দিও না,

কঠোর কথার তীর ছুড়ে

হৃদয়খানি ভেঙো না।

কারো চোখের অশ্রুধারা

হতে পারে বিচার,

কারো বুকের দীর্ঘশ্বাসে

কাঁপে আরশের দ্বার।

যে মজলুমের কান্না ঝরে

নিভৃত রাতের শেষে,

তার আর্তনাদ পৌঁছে যায়

রবের দরবারে এসে।

তাই তো বলি, অন্যায় ছেড়ে

ন্যায়ের পথে চলো,

মানবতার প্রদীপ হাতে

অন্ধকার সব জ্বলো।

অসহায়ের পাশে দাঁড়াও,

ধরো তারই হাত,

মানবসেবার মাঝে লুকায়

জীবনের বরকত।

বৃদ্ধ বাবা কাঁপে যখন

জীবনের ভারে নত,

সন্তান তখন ছায়া হবে

এটাই মানবমত।

মায়ের মুখের একটি হাসি

হাজার সুখের চেয়ে বড়,

তাঁর সন্তুষ্টির মাঝেই থাকে

জান্নাতের শুভ ঘর।

যে সন্তান মা-বাবাকে

সম্মান দিয়ে চলে,

আল্লাহ তার রিজিক বাড়ান

অগণিত অনুকূলে।

আত্মীয়তার বন্ধনগুলো

সোনার মালার দানা,

একটি ছিঁড়লে ব্যথা জাগে

অসংখ্য হৃদয়খানা।

 

খালা, ফুফু, চাচা, মামা,

দাদা-নানার টান,

এসব নিয়েই গড়ে ওঠে

পরিবারের প্রাণ।

প্রতিবেশীর দুঃখ দেখেও

যদি থাকে মন নীরব,

তবে কেমন ঈমান থাকে?

প্রশ্ন করে অন্তর রব।

অতিথি এলে হাসিমুখে

খুলে দাও ঘরের দ্বার,

অতিথি সেবার মাঝেই আছে

বরকতের উপহার।

গরিব যদি দ্বারে আসে

ফিরিয়ে দিও না খালি,

এক মুঠো দানও হতে পারে

জান্নাতেরই ডালি।

হাসিমুখে কথা বলাটা

ছোট্ট হলেও দান,

কত ভাঙা মন জোড়া লাগে

মিষ্টি কথার টান।

গীবত যেন আগুনস্রোত,

পুড়িয়ে ফেলে মন,

পরনিন্দার বিষবাষ্পে

মরে মানব বন্ধন।

কু-ধারণার কালো মেঘে

ঢেকে যায় হৃদয়,

বিশ্বাস আর ভালোবাসা

তখন হারায় জয়।

তাই হৃদয়কে করো নির্মল,

করো ক্ষমাশীল,

মানবতার পথে থাকো

নম্রতায় অবিচল।

ক্রোধ যখন ঝড়ের মতো

আঘাত হানে প্রাণে,

ধৈর্যের নোঙর ফেলো গিয়ে

বিবেকের গভীর টানে।

লজ্জা হলো ঈমানেরই

অমূল্য এক ফুল,

যে হৃদয়ে লজ্জা থাকে

সেখানে কমে ভুল।

সত্য বলো, ন্যায় বলো,

রাখো অঙ্গীকার,

সত্যবাদীর মর্যাদা দেয়

আল্লাহ বারবার।

শিশুরা সব ফুলের মতো,

তাদের দিও স্নেহ,

তাদের মাঝে ভবিষ্যতের

আলোকিত পথ গেহ।

শিক্ষা দাও চরিত্র গঠনের,

শিক্ষা দাও জ্ঞান,

তাদের মাঝে জাগিয়ে তোলো

মানবতার গান।

গাছ লাগাও, সবুজ গড়ো,

রক্ষা করো প্রাণ,

প্রকৃতিরও অধিকার আছে

শিখিয়েছে কুরআন।

পাখির কূজন, নদীর কলতান,

বনের সবুজ ছায়া,

এসবও তো আল্লাহর সৃষ্টি,

রবের অপার মায়া।

সময়ের মূল্য বুঝে নাও,

ফিরে আসে না ক্ষণ,

গতকালের হারানো সময়

ফেরাতে পারে কোনজন?

প্রতিটি দিন আমানত তাই,

প্রতিটি শ্বাস দান,

নেক আমলে ভরিয়ে তোলো

জীবনের প্রতিক্ষণ।

মৃত্যু একদিন আসবেই যখন

বন্ধ হবে পথচলা,

সঙ্গে যাবে না ধন-সম্পদ,

যাবে শুধু আমলভরা।

রয়ে যাবে সৎকর্ম শুধু,

রবে মানবপ্রেম,

রবে পিতা-মাতার প্রতি

সেবার উজ্জ্বল ক্ষেম।

তাই এসো আজ শপথ করি

হৃদয় রেখে খাঁটি,

কুরআন-সুন্নাহর আলোয় গড়ব

জীবনের প্রতিটি ঘাঁটি।

সালাত হবে জীবনের শ্বাস,

সদাচার হবে প্রাণ,

পিতা-মাতার সেবার মাঝে

খুঁজব রবের জ্ঞান।

হে আল্লাহ! দাও সে তাওফিক,

দাও নির্মল মন,

মানবতার এই মহাগানে

হই তোমার অনুগমন।

দাও এমন এক উজ্জ্বল জীবন,

দাও এমন ঈমান,

যাতে জুড়ে থাকে সর্বদা

সত্য, দয়া আর কুরআন।

আমীন।

মন্তব্য করুন