সহকারী অধ্যাপক
০৬ জুন, ২০২৬ ০৩:৪৯ অপরাহ্ণ
আমি কি নিরাপদ? - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
আমি কি নিরাপদ?
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
ইবলিস তো ছিল বড় ‘আবিদ’, দীর্ঘ ইবাদতের ইতিহাস
কিন্তু অহংকারে হারিয়ে গেল—রহমত হলো তার বিরোধাভাস।
সেজদা না করার এক অহংকার, এক “আমি”র দম্ভের ঢেউ
চির অভিশাপের অন্ধকারে হারালো সে নিজেরই দেয়ালে সে-ই।
আর আমি? আমি তো মানুষ, দুর্বল, ভাঙা মাটির পাত্র
প্রতিটি শ্বাসেই লুকানো আছে ভুল, গুনাহের অজস্র মাত্রা।
আমার অন্তরে কি আছে সত্যিকারের আল্লাহর আনুগত্য?
নাকি ইবাদতের ভিড়ে লুকিয়ে আছে গোপন আত্ম-গৌরবের ব্যর্থতা?
হে রব! আমি কি সত্যিই তোমার হুকুমের পথে চলি স্থির?
নাকি নিজের ইচ্ছার কাছে বন্দী হয়ে করি নাফরমানীর বীর?
সালাতের দাঁড়ানো কি শুধুই অভ্যাসের যান্ত্রিক ছায়া?
নাকি সেখানে কাঁদে হৃদয়, পায় তোমার সান্নিধ্যের মায়া?
অহংকার কি আমার ভেতর লুকিয়ে নেই নিঃশব্দে, গভীরে?
কারো কথা শুনলে কি আমি ভাঙি, নাকি থাকি নিজের ঘিরে?
নিজেকে কি আমি দেখি সবসময় সঠিক, অপরকে তুচ্ছ করে?
নাকি সত্যের সামনে মাথা নত করি—নফসকে দিই জোরে?
অন্যের হক্ব—সেটা কি আমি ঠিকভাবে রাখি, পূরণ করি?
কারো কষ্ট কি আমার হাতে জমে গিয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়?
চোখের পানি কি আমি কখনো অবহেলায় মুছে ফেলেছি?
নাকি অজান্তে আমি অনেকের অধিকার কেঁড়ে নিয়েছি?
হে আমার রব! আমি তো জানি না আমার আমল কেমন হবে গ্রহণ
কতটা খাঁটি, কতটা ভেজাল—তুমি ছাড়া কার আছে এ জ্ঞান?
ইবলিসের মতো বড় ইবাদতও অহংকারে হলো শূন্য
তাই আমি ভয়ে কাঁপি—আমার আমলও তো হতে পারে ভগ্ন-ভগ্ন।
বিনা হিসেবের জান্নাত—তোমার রহমতের এক অজানা দান
সত্তর হাজারের কাফেলা—তোমার ক্ষমার এক গোপন বিধান।
আমি কি সেখানে পৌঁছাবো? আমার কি আছে সে যোগ্যতা?
না, আমি কেবল চাই—তোমার দয়ার ভিখারি হওয়া, তোমারই সান্নিধ্যতা।
হে আল্লাহ! আমাকে এমন বানাও, যে অহংকারকে ভেঙে দেয়
যে নিজের ভুল দেখে কাঁদে, অন্যের হক্বকে ভালোবাসে নেয়।
যে নামাজে দাঁড়ালে ভাবে—আমি কিছুই না, তুমি ছাড়া কিছু নেই
যার হৃদয় সবসময় বলে—“হে রব, তোমারই কাছে ফিরতে চাই আমি এই।”
আমাকে দাও বিনয়, দাও নরম হৃদয়, দাও সত্যের আলো
আমার নফসের অন্ধকারে তুমি জ্বেলে দাও করুণা-জ্বালো।
যদি আমি ভুল করি, তুমি ক্ষমা করো বারবার
তুমি ছাড়া তো নেই কেউ—তোমারই কাছে আমার আর্তি বারবার।
আমি চাই না গর্বিত ইবাদত, চাই না প্রদর্শনের নামাজ
আমি চাই ভাঙা হৃদয়, চোখের পানি, নীরব সিজদার সাজ।
যেখানে আমি থাকি ছোট, তুমি থাকো মহান সর্বদা
সেই বিনয়েই পাই যেন তোমার রহমতের অজস্র ধারা।
হে রব! আমার আমলকে করো না আমার ওপর নির্ভরশীল
তুমি ছাড়া আমি শূন্য, আমি কেবল তোমার দয়ার অধীনস্থ দলীল।
আমাকে বাঁচাও ইবলিসের পথে—অহংকারের সেই পতন থেকে
আর নিয়ে চলো সেই পথে, যেখানে ক্ষমা ঝরে রহমতের রূপে।
যদি কখনো জান্নাত পাই—তা যেন হয় তোমারই দান
না আমার ইবাদতের দাম, না আমার অহংকারের কোনো মান।
আমি শুধু বলি—হে আল্লাহ, আমাকে করো তোমারই প্রিয় বান্দা
যার শেষ ঠিকানা হয় তোমার দয়ার ছায়ায় শান্তির ধারা-ধারা।
***
ইবলিস ছিল ইবাদতের দীপ্ত শখা, দীর্ঘ তাসবিহের ইতিহাস
তবু “আমি উত্তম”—এই এক অহংকারে নিভে গেল রহমতের আকাশ।
হুকুম এলো সিজদার, সে থামল নিজের যুক্তি-দম্ভের ভেতর
আর সেখানেই খুলে গেল চিরঅভিশাপের অন্ধকার দরজার ভিতর।
আর আমি? আমি তো মানুষ—মাটির তৈরি ভাঙা এক অস্তিত্ব
একদিকে আনুগত্য, অন্যদিকে নফসের গোপন বিদ্রোহ-চিত্র।
আমার ভিতরে কি সত্যিই আছে আল্লাহর হুকুমের পূর্ণ মানা?
নাকি ইবাদতের ভিড়ে লুকিয়ে থাকে আত্মগর্বের নীরব জানা?
হে রব! আমি কি তোমার পথে চলি একনিষ্ঠ, সোজা ও স্থির?
নাকি নিজের ইচ্ছার গোলাম হয়ে ভুলের ভেতর করি জির?
নামাজ কি তোমার জন্য সত্যিকার সাক্ষাৎ, না অভ্যাসের ছায়া?
যেখানে দাঁড়াই দেহ, কিন্তু হৃদয় থাকে অন্য কোথাও মায়া?
অহংকার কি আমার ভিতরে নেই—নীরব, সূক্ষ্ম, অদৃশ্য ধোঁয়া?
যেখানে আমি ঠিক, অন্যেরা ভুল—এই ধারণাই কি আমার জোঁয়া?
কারো কথা শুনলে কি ভাঙি আমি, না নিজের দেয়ালেই থাকি?
সত্য এলে কি মাথা নত করি, নাকি নফসকে আরও শক্তি দিই রাখি?
অন্যের হক্ব—সেটা কি আমি ঠিকভাবে রক্ষা করি প্রতিদিন?
কারো অধিকার কি আমার ভুলে পড়ে থাকে অসহায় ও ক্ষীণ?
কারো কষ্ট কি আমার কারণে জমে ওঠে নীরব পাহাড় হয়ে?
আর আমি কি বুঝেও কখনো থেকেছি উদাসীন, গর্বে অন্ধ হয়ে?
হে আল্লাহ! আমি জানি না আমার আমল কতটা খাঁটি আর কাঁচা
কতটা গ্রহণযোগ্য, কতটা ভেতরে ভেজাল আর ফাঁকা।
ইবলিসের মতো বহু ইবাদতও অহংকারে হলো শূন্য
তাই আমারও ভয় হয়—আমার আমল যেন না হয় দুর্নির্মল, ভগ্ন।
বিনা হিসেবের জান্নাত—তোমার রহমতের এক অদ্ভুত দান
সত্তর হাজারের কাফেলা—তোমার ক্ষমার এক গোপন বিধান।
আমি কি সেখানে যাবার যোগ্য? নেই আমার কোনো দাবি বা মান
তবু চাই—তোমার দয়ার ছায়ায় হোক আমার শেষ ঠিকানা, প্রাণ।
হে রব! আমাকে এমন বানাও, যে নিজের ভুলে কাঁদতে জানে
অন্যের হক্ব দেখে যার হৃদয় নরম হয়ে ভেঙে যায় প্রাণে।
যে নামাজে দাঁড়ালে বলে—“আমি কিছুই না, তুমি ছাড়া সব শূন্য”
যার ভেতর অহংকার নয়, থাকে শুধু বিনয়-ভেজা তৃণ্যময় বর্ণ।
আমাকে দাও এমন হৃদয়, যা সত্যের সামনে সহজে নত হয়
যে নফসের সাথে যুদ্ধ করে, কিন্তু অহংকারকে জয় নয়, লয়।
আমার ভেতরের অন্ধকারে জ্বেলে দাও বিনয়ের এক আলো
যাতে নিজের আমি হারিয়ে গিয়ে পাই তোমার করুণা ভালো।
আমি চাই না প্রদর্শনের ইবাদত, না মানুষের বাহবা-সুখ
আমি চাই নিঃশব্দ সিজদা, যেখানে শুধু তুমি থাকো মুখোমুখি মুখ।
চোখে থাকুক অনুতাপের অশ্রু, হৃদয়ে থাকুক কম্পিত ভয়
যেখানে নিজের কিছু নেই, শুধু তোমার রহমতই অবলম্বন হয়।
হে আল্লাহ! আমার আমলকে আমার ওপর ছেড়ে দিও না কখনো
আমি ভুলে ভরা, আমি দুর্বল—তুমি ছাড়া কে আছে বলো?
তুমি চাইলে ইবলিসও ছিল জান্নাতের যোগ্য ইবাদতকারী
কিন্তু অহংকারে হারিয়ে গেল সে—হয়ে গেল চিরদূরকারী।
তাই আমাকে রক্ষা করো সেই “আমি” থেকে, যা ধ্বংসের মূল
আমাকে শেখাও “তুমি” বলতে, যেখানে নফস হয় নির্ভুল ও ভুল।
আমাকে এমন বানাও, যে হক্বকে আঁকড়ে ধরে, না করে লঙ্ঘন
যার জীবনের শেষ শব্দ হয়—“হে রব, তুমি আমারই জীবন।”
যদি কখনো বিনা হিসেবের জান্নাত পাই—তা হবে শুধু তোমার দান
না আমার ইবাদতের শক্তি, না আমার আমলের কোনো গর্ব-মান।
আমি শুধু চাই—একটি ভাঙা হৃদয়, একটি বিনীত আত্মা
যা বারবার বলে—“হে রব, তুমি ছাড়া আমি একেবারেই অসহায়তা।”
শেষে এই দোয়া—আমাকে বাঁচাও ইবলিসের অহংকার-পথ থেকে
আমাকে নিয়ে চলো তোমার রহমতের নরম আলো-ভরা পথে।
যেখানে আমি নই, শুধু তুমি—আর তোমারই অশেষ করুণা
সেখানেই হোক আমার শেষ, সেখানেই হোক চিরশান্তির পূর্ণতা।
***
ইবলিস ছিল ইবাদতের দীপ্ত প্রদীপ, বহু সিজদার ইতিহাস
তবু এক “আমি উত্তম”—এই অহংকারেই নেমে এলো অভিশাপের আকাশ।
হুকুমের সামনে মাথা না নোয়ানোই হলো তার পতনের মূল কথা
ইবাদত ছিল, তবু হারিয়ে গেল—অহংকার ঢেকে দিল সব সত্যতা।
আর আমি? আমি তো মানুষ—মাটির তৈরি, ভুলে ভরা এক প্রাণ
প্রতিটি নিঃশ্বাসে জড়িয়ে থাকে গাফিলতি, কামনা আর অভিমান।
আমার অন্তর কি সত্যিই আল্লাহর হুকুম মানে নিঃশর্তে, পূর্ণভাবে?
নাকি নফসের সাথে চুপিচুপি চলে নিজের ইচ্ছার অন্ধ গোপন দাবে?
হে রব! আমি কি তোমার পথে চলি একনিষ্ঠ, দৃঢ় আর সোজা?
নাকি মাঝে মাঝে নিজের ইচ্ছাই হয়ে ওঠে আমার গোপন ভরসা?
নামাজ কি আমার সত্যিকার দেখা, নাকি অভ্যাসের নিরবতা?
যেখানে শরীর দাঁড়ায়, কিন্তু হৃদয় হারায় তোমার সান্নিধ্যতা?
অহংকার কি আমার ভিতরে নেই—নীরবভাবে, অজান্তে গাঁথা?
আমি কি সবসময় নিজেকেই ঠিক ভাবি, অন্যকে ছোট করে রাখা?
সত্য এলে কি আমি সহজে নত হই, না নফসকে শক্ত করে ধরি?
তর্কে জিতি, কিন্তু হৃদয়ের সত্যকে কি প্রতিদিন হারিয়ে ফেলি?
অন্যের হক্ব—এই ভার কি আমি ঠিকভাবে পালন করি প্রতিদিন?
কারো অধিকার কি আমার কারণে নষ্ট হয়ে যায় অজান্তে, ক্ষীণ?
কারো কষ্ট কি আমার ভুলে জমে থাকে নীরব পাহাড় হয়ে?
আর আমি কি উদাসীন থেকেছি কখনো, নিজের সুখে অন্ধ হয়ে?
হে আল্লাহ! আমি জানি না আমার আমল কতটা খাঁটি, কতটা মিশ্র
তুমি ছাড়া কেউ জানে না—ভিতরে কতটা সত্য, কতটা নিঃস্ব।
ইবলিসের ইবাদতও অহংকারে হলো ধ্বংস, শূন্য ও ব্যর্থ
তাই আমি কাঁপি—আমার আমলও যেন না হয় এমনই অমর্যাদার অর্থ।
বিনা হিসেবের জান্নাত—তোমার রহমতের এক অচেনা দান
সত্তর হাজারের কাফেলা—তোমার ক্ষমার গোপন মহান বিধান।
আমি কি সেখানে যেতে পারব? নেই আমার কোনো যোগ্য দাবি
তবু আমি চাই—তোমার দয়ার উপরেই শেষ হোক আমার সব ভাবি।
হে রব! আমাকে দাও এমন হৃদয়, যা সহজেই নত হয় সত্যে
যে নিজের ভুল দেখে কাঁদে, আর অন্যের হক্ব রাখে যত্নে।
যে নামাজে দাঁড়িয়ে ভাবে—আমি কিছুই না, তুমি ছাড়া সব শূন্য
যার সিজদায় থাকে আত্মসমর্পণ, না কোনো অহংকারের চিহ্ন।
আমাকে বাঁচাও সেই “আমি” থেকে, যা নীরবে বড় হয়ে ওঠে
যে আমাকে আমার রবের বদলে নিজের কাছেই নিয়ে গোপনে থোকে।
আমাকে শেখাও বিনয়, শেখাও ক্ষমা, শেখাও হক্বের পাহারা
যাতে আমি না হই কারো অধিকার ভঙ্গের অজান্তে দায়ভারা।
আমি চাই না এমন ইবাদত, যা মানুষের চোখে সুন্দর লাগে
আমি চাই এমন সিজদা, যেখানে শুধু তুমি থাকো হৃদয়ের ভাগে।
চোখে থাকুক অশ্রু, মনে থাকুক ভাঙা ও নরম অনুভব
যেখানে আমি হারিয়ে যাই, আর থাকে শুধু তোমারই গরব।
হে আল্লাহ! আমার আমলকে আমার উপর ছেড়ে দিও না কখনো
আমি ভুলে ভরা, দুর্বল—তুমি ছাড়া কে আছে বলো?
যদি তুমি না ধরো, আমি তো হারিয়ে যাব নিজেরই পথে
তোমার রহমত ছাড়া নেই আমার কোনো স্থায়ী আশ্রয়ের রথে।
যদি বিনা হিসেবের জান্নাত পাই—তা হবে শুধু তোমার দান
না আমার ইবাদতের শক্তি, না আমার ত্যাগের কোনো মান।
আমি শুধু চাই—একটি ভাঙা হৃদয়, একটি বিনীত প্রাণ
যে বারবার বলে—“হে রব, তুমি ছাড়া আমি শূন্য, আমি অজ্ঞান।”
শেষে এই প্রার্থনা—আমাকে বাঁচাও অহংকারের অন্ধ পথ থেকে
নিয়ে চলো তোমার রহমতের আলোয়, তোমার ক্ষমার রথে।
যেখানে আমি হারিয়ে যাই, আর পাই তোমারই সান্নিধ্য ধারা
সেখানেই হোক আমার শেষ ঠিকানা—চিরশান্তির নীল নীড়ের তারা।
আমি কি নিরাপদ?
ইবলিস ছিল ইবাদতের এক দীপ্ত দীর্ঘ ইতিহাস,
সিজদার সাথী, তাসবিহে ভরা তার রাত-দিনের শ্বাস।
কিন্তু এক “আমি উত্তম”—এই অহংকারের আগুনে
ঝরে গেল সব আলো, ডুবে গেল সে অভিশাপের বুননে।
সেজদার হুকুম এলো—সে বলল, “আমি আগুনের সন্তান,”
এই এক “আমি”-র ভিতরেই ভেঙে গেল তার ঈমান-অভিমান।
ইবাদত ছিল পাহাড় সমান, কিন্তু অহংকারে হলো শূন্য,
রহমতের দরজা বন্ধ হলো, নেমে এলো চির অন্ধকার ধূন্য।
আর আমি? আমি তো মানুষ—মাটির তৈরি দুর্বল প্রাণ,
ভুলের ভেতর হাঁটি আমি, গুনাহে জড়িয়ে প্রতিদিন-প্রাণ।
আমার ভিতরে কি আছে সত্যিকারের আনুগত্যের আলো?
নাকি ইবাদতের আড়ালে লুকিয়ে আছে নফসের কালো?
হে রব! আমি কি সত্যিই তোমার হুকুমের পথে চলি?
নাকি নিজের ইচ্ছার কাছে অজান্তে বারবারই দোলি?
নামাজ কি আমার জন্য সাক্ষাৎ, না শুধু অভ্যাসের ছায়া?
যেখানে শরীর দাঁড়ায়, আর মন হারায় অন্য মায়া?
অহংকার কি আমার ভেতর নীরবে গাঁথা কোনো শিকড়?
আমি কি নিজেকে দেখি সবসময় ঠিক—অন্যকে করি তুচ্ছ তর্ক?
সত্য এলে কি আমি মাথা নত করি, না জেগে ওঠে “আমি”?
নফস কি ফিসফিস করে না—“তুইই ঠিক”—এই ভুল দাবী?
অন্যের হক্ব—এই বোঝা কি আমি ঠিকভাবে বয়ে চলি?
কারো চোখের পানি কি আমার কারণে নিঃশব্দে ঝলি?
কারো অধিকার কি ভেঙে গেছে আমারই অজান্তে ভুলে?
নাকি নিজের স্বার্থে সত্যকে রেখেছি পায়ের ধুলে?
হে আল্লাহ! আমি তো জানি না আমার আমল কতটা খাঁটি,
কতটা গ্রহণযোগ্য, কতটা ভেতরে মিশে আছে ভ্রান্তি।
ইবলিসের ইবাদতও অহংকারে হলো শূন্য পরিণাম,
তাই আমি কাঁপি—আমার আমলও যেন না হয় ব্যর্থ ধাম।
তুমি বলেছো—তোমার রহমত সব কিছুর চেয়ে বড়,
তোমার দয়ার দরিয়ায় ডুবে যায় পাপের অগণিত পর।
বিনা হিসেবের জান্নাত—তোমার এক অদ্ভুত দান,
সত্তর হাজারের কাফেলা—তোমার রহমতের মহান বিধান।
আমি কি সেখানে যেতে পারব? নেই আমার কোনো দাবি,
নেই আমার আমলের শক্তি, নেই আমার অহংকারের ছবি।
আমি শুধু চাই—তোমার দরবারে এক ভিখারি হয়ে থাকা,
তোমার দয়ার দিকে তাকিয়ে বারবার ক্ষমা চাওয়া।
হে রব! আমাকে এমন বানাও—যে অহংকার ভেঙে ফেলে,
নিজের ভুল দেখলে কাঁদে, আর সত্যের পথে চলে।
যে নামাজে দাঁড়িয়ে ভাবে—আমি কিছুই না, তুমি ছাড়া,
যার হৃদয় বলে—“হে আল্লাহ, তুমি ছাড়া নেই কোনো ভরসা।”
আমাকে দাও বিনয়, দাও নরম হৃদয়, দাও সত্যের আলো,
আমার ভিতরের অন্ধকারে জ্বেলে দাও করুণার আলো।
যদি আমি ভুল করি, তুমি ক্ষমা করো বারবার,
তুমি ছাড়া আর কে আছে—তুমি-ই আমার একমাত্র সার।
আমি চাই না গর্বিত ইবাদত, না দেখানোর কোনো নামাজ,
আমি চাই ভাঙা হৃদয়, নীরব কান্না, সিজদার গোপন সাজ।
যেখানে আমি ক্ষুদ্র, তুমি মহান—এই সত্যই থাকুক স্থির,
সেই বিনয়ের পথেই পাই যেন তোমার রহমতের নীড়।
হে রব! আমার আমলকে আমার ওপর ছেড়ে দিও না কখনো,
আমি তো ভুলে ভরা, আমি তো দুর্বল—তুমি ছাড়া কে জানো?
তুমি ধরলে তবেই বাঁচি, তুমি না ধরলে আমি ধ্বংস,
তোমার রহমত ছাড়া আমার জীবন অন্ধকার নিঃসঙ্গ।
যদি কখনো জান্নাত পাই—তা হবে শুধু তোমার দান,
না আমার ইবাদতের মূল্য, না আমার ত্যাগের কোনো মান।
আমি শুধু চাই—একটি বিনীত হৃদয়, একটি ভাঙা আমি,
যে বারবার বলে—“হে রব, তুমি ছাড়া আমি কিছুই নই।”
শেষে শুধু এই আর্তি—আমাকে রক্ষা করো অহংকার থেকে,
ইবলিসের “আমি” থেকে বাঁচাও, নিয়ে চলো বিনয়ের পথে।
যেখানে আমি মুছে যাই, শুধু তুমি থাকো অবশিষ্ট,
সেখানেই হোক আমার শেষ—তোমার রহমতের শান্ত দৃষ্টি।
***Top of Form
ইবলিস তো ছিল বড় ‘আবিদ’, দীর্ঘ ইবাদতের ইতিহাস
কিন্তু অহংকারে হারিয়ে গেল—রহমত হলো তার বিরোধাভাস।
সেজদা না করার এক অহংকার, এক “আমি”র দম্ভের ঢেউ
চির অভিশাপের অন্ধকারে হারালো সে নিজেরই দেয়ালে সে-ই।
আর আমি? আমি তো মানুষ, দুর্বল, ভাঙা মাটির পাত্র
প্রতিটি শ্বাসেই লুকানো আছে ভুল, গুনাহের অজস্র মাত্রা।
আমার অন্তরে কি আছে সত্যিকারের আল্লাহর আনুগত্য?
নাকি ইবাদতের ভিড়ে লুকিয়ে আছে গোপন আত্ম-গৌরবের ব্যর্থতা?
হে রব! আমি কি সত্যিই তোমার হুকুমের পথে চলি স্থির?
নাকি নিজের ইচ্ছার কাছে বন্দী হয়ে করি নাফরমানীর বীর?
সালাতের দাঁড়ানো কি শুধুই অভ্যাসের যান্ত্রিক ছায়া?
নাকি সেখানে কাঁদে হৃদয়, পায় তোমার সান্নিধ্যের মায়া?
অহংকার কি আমার ভেতর লুকিয়ে নেই নিঃশব্দে, গভীরে?
কারো কথা শুনলে কি আমি ভাঙি, নাকি থাকি নিজের ঘিরে?
নিজেকে কি আমি দেখি সবসময় সঠিক, অপরকে তুচ্ছ করে?
নাকি সত্যের সামনে মাথা নত করি—নফসকে দিই জোরে?
অন্যের হক্ব—সেটা কি আমি ঠিকভাবে রাখি, পূরণ করি?
কারো কষ্ট কি আমার হাতে জমে গিয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়?
চোখের পানি কি আমি কখনো অবহেলায় মুছে ফেলেছি?
নাকি অজান্তে আমি অনেকের অধিকার কেঁড়ে নিয়েছি?
হে আমার রব! আমি তো জানি না আমার আমল কেমন হবে গ্রহণ
কতটা খাঁটি, কতটা ভেজাল—তুমি ছাড়া কার আছে এ জ্ঞান?
ইবলিসের মতো বড় ইবাদতও অহংকারে হলো শূন্য
তাই আমি ভয়ে কাঁপি—আমার আমলও তো হতে পারে ভগ্ন-ভগ্ন।
বিনা হিসেবের জান্নাত—তোমার রহমতের এক অজানা দান
সত্তর হাজারের কাফেলা—তোমার ক্ষমার এক গোপন বিধান।
আমি কি সেখানে পৌঁছাবো? আমার কি আছে সে যোগ্যতা?
না, আমি কেবল চাই—তোমার দয়ার ভিখারি হওয়া, তোমারই সান্নিধ্যতা।
হে আল্লাহ! আমাকে এমন বানাও, যে অহংকারকে ভেঙে দেয়
যে নিজের ভুল দেখে কাঁদে, অন্যের হক্বকে ভালোবাসে নেয়।
যে নামাজে দাঁড়ালে ভাবে—আমি কিছুই না, তুমি ছাড়া কিছু নেই
যার হৃদয় সবসময় বলে—“হে রব, তোমারই কাছে ফিরতে চাই আমি এই।”
আমাকে দাও বিনয়, দাও নরম হৃদয়, দাও সত্যের আলো
আমার নফসের অন্ধকারে তুমি জ্বেলে দাও করুণা-জ্বালো।
যদি আমি ভুল করি, তুমি ক্ষমা করো বারবার
তুমি ছাড়া তো নেই কেউ—তোমারই কাছে আমার আর্তি বারবার।
আমি চাই না গর্বিত ইবাদত, চাই না প্রদর্শনের নামাজ
আমি চাই ভাঙা হৃদয়, চোখের পানি, নীরব সিজদার সাজ।
যেখানে আমি থাকি ছোট, তুমি থাকো মহান সর্বদা
সেই বিনয়েই পাই যেন তোমার রহমতের অজস্র ধারা।
হে রব! আমার আমলকে করো না আমার ওপর নির্ভরশীল
তুমি ছাড়া আমি শূন্য, আমি কেবল তোমার দয়ার অধীনস্থ দলীল।
আমাকে বাঁচাও ইবলিসের পথে—অহংকারের সেই পতন থেকে
আর নিয়ে চলো সেই পথে, যেখানে ক্ষমা ঝরে রহমতের রূপে।
যদি কখনো জান্নাত পাই—তা যেন হয় তোমারই দান
না আমার ইবাদতের দাম, না আমার অহংকারের কোনো মান।
আমি শুধু বলি—হে আল্লাহ, আমাকে করো তোমারই প্রিয় বান্দা
যার শেষ ঠিকানা হয় তোমার দয়ার ছায়ায় শান্তির ধারা-ধারা।
ইবলিস ছিল ইবাদতের দীপ্ত শিখা, দীর্ঘ তাসবিহের ইতিহাস
তবু “আমি উত্তম”—এই এক অহংকারে নিভে গেল রহমতের আকাশ।
হুকুম এলো সিজদার, সে থামল নিজের যুক্তি-দম্ভের ভেতর
আর সেখানেই খুলে গেল চিরঅভিশাপের অন্ধকার দরজার ভিতর।
আর আমি? আমি তো মানুষ—মাটির তৈরি ভাঙা এক অস্তিত্ব
একদিকে আনুগত্য, অন্যদিকে নফসের গোপন বিদ্রোহ-চিত্র।
আমার ভিতরে কি সত্যিই আছে আল্লাহর হুকুমের পূর্ণ মানা?
নাকি ইবাদতের ভিড়ে লুকিয়ে থাকে আত্মগর্বের নীরব জানা?
হে রব! আমি কি তোমার পথে চলি একনিষ্ঠ, সোজা ও স্থির?
নাকি নিজের ইচ্ছার গোলাম হয়ে ভুলের ভেতর করি জির?
নামাজ কি আমার জন্য সত্যিকার সাক্ষাৎ, না অভ্যাসের ছায়া?
যেখানে দাঁড়াই দেহ, কিন্তু হৃদয় থাকে অন্য কোথাও মায়া?
অহংকার কি আমার ভিতরে নেই—নীরব, সূক্ষ্ম, অদৃশ্য ধোঁয়া?
যেখানে আমি ঠিক, অন্যেরা ভুল—এই ধারণাই কি আমার জোঁয়া?
কারো কথা শুনলে কি ভাঙি আমি, না নিজের দেয়ালেই থাকি?
সত্য এলে কি মাথা নত করি, নাকি নফসকে আরও শক্তি দিই রাখি?
অন্যের হক্ব—সেটা কি আমি ঠিকভাবে রক্ষা করি প্রতিদিন?
কারো অধিকার কি আমার ভুলে পড়ে থাকে অসহায় ও ক্ষীণ?
কারো কষ্ট কি আমার কারণে জমে ওঠে নীরব পাহাড় হয়ে?
আর আমি কি বুঝেও কখনো থেকেছি উদাসীন, গর্বে অন্ধ হয়ে?
হে আল্লাহ! আমি জানি না আমার আমল কতটা খাঁটি আর কাঁচা
কতটা গ্রহণযোগ্য, কতটা ভেতরে ভেজাল আর ফাঁকা।
ইবলিসের মতো বহু ইবাদতও অহংকারে হলো শূন্য
তাই আমারও ভয় হয়—আমার আমল যেন না হয় দুর্নির্মল, ভগ্ন।
বিনা হিসেবের জান্নাত—তোমার রহমতের এক অদ্ভুত দান
সত্তর হাজারের কাফেলা—তোমার ক্ষমার এক গোপন বিধান।
আমি কি সেখানে যাবার যোগ্য? নেই আমার কোনো দাবি বা মান
তবু চাই—তোমার দয়ার ছায়ায় হোক আমার শেষ ঠিকানা, প্রাণ।
হে রব! আমাকে এমন বানাও, যে নিজের ভুলে কাঁদতে জানে
অন্যের হক্ব দেখে যার হৃদয় নরম হয়ে ভেঙে যায় প্রাণে।
যে নামাজে দাঁড়ালে বলে—“আমি কিছুই না, তুমি ছাড়া সব শূন্য”
যার ভেতর অহংকার নয়, থাকে শুধু বিনয়-ভেজা তৃণ্যময় বর্ণ।
আমাকে দাও এমন হৃদয়, যা সত্যের সামনে সহজে নত হয়
যে নফসের সাথে যুদ্ধ করে, কিন্তু অহংকারকে জয় নয়, লয়।
আমার ভেতরের অন্ধকারে জ্বেলে দাও বিনয়ের এক আলো
যাতে নিজের আমি হারিয়ে গিয়ে পাই তোমার করুণা ভালো।
আমি চাই না প্রদর্শনের ইবাদত, না মানুষের বাহবা-সুখ
আমি চাই নিঃশব্দ সিজদা, যেখানে শুধু তুমি থাকো মুখোমুখি মুখ।
চোখে থাকুক অনুতাপের অশ্রু, হৃদয়ে থাকুক কম্পিত ভয়
যেখানে নিজের কিছু নেই, শুধু তোমার রহমতই অবলম্বন হয়।
হে আল্লাহ! আমার আমলকে আমার ওপর ছেড়ে দিও না কখনো
আমি ভুলে ভরা, আমি দুর্বল—তুমি ছাড়া কে আছে বলো?
তুমি চাইলে ইবলিসও ছিল জান্নাতের যোগ্য ইবাদতকারী
কিন্তু অহংকারে হারিয়ে গেল সে—হয়ে গেল চিরদূরকারী।
তাই আমাকে রক্ষা করো সেই “আমি” থেকে, যা ধ্বংসের মূল
আমাকে শেখাও “তুমি” বলতে, যেখানে নফস হয় নির্ভুল ও ভুল।
আমাকে এমন বানাও, যে হক্বকে আঁকড়ে ধরে, না করে লঙ্ঘন
যার জীবনের শেষ শব্দ হয়—“হে রব, তুমি আমারই জীবন।”
যদি কখনো বিনা হিসেবের জান্নাত পাই—তা হবে শুধু তোমার দান
না আমার ইবাদতের শক্তি, না আমার আমলের কোনো গর্ব-মান।
আমি শুধু চাই—একটি ভাঙা হৃদয়, একটি বিনীত আত্মা
যা বারবার বলে—“হে রব, তুমি ছাড়া আমি একেবারেই অসহায়তা।”
শেষে এই দোয়া—আমাকে বাঁচাও ইবলিসের অহংকার-পথ থেকে
আমাকে নিয়ে চলো তোমার রহমতের নরম আলো-ভরা পথে।
যেখানে আমি নই, শুধু তুমি—আর তোমারই অশেষ করুণা
সেখানেই হোক আমার শেষ, সেখানেই হোক চিরশান্তির পূর্ণতা।
***
ইবলিস তো ছিল বড় ‘আবিদ’, দীর্ঘ ইবাদতের ইতিহাস
কিন্তু অহংকারে হারিয়ে গেল—রহমত হলো তার বিরোধাভাস।
সেজদা না করার এক অহংকার, এক “আমি”র দম্ভের ঢেউ
চির অভিশাপের অন্ধকারে হারালো সে নিজেরই দেয়ালে সে-ই।
আর আমি? আমি তো মানুষ, দুর্বল, ভাঙা মাটির পাত্র
প্রতিটি শ্বাসেই লুকানো আছে ভুল, গুনাহের অজস্র মাত্রা।
আমার অন্তরে কি আছে সত্যিকারের আল্লাহর আনুগত্য?
নাকি ইবাদতের ভিড়ে লুকিয়ে আছে গোপন আত্ম-গৌরবের ব্যর্থতা?
হে রব! আমি কি সত্যিই তোমার হুকুমের পথে চলি স্থির?
নাকি নিজের ইচ্ছার কাছে বন্দী হয়ে করি নাফরমানীর বীর?
সালাতের দাঁড়ানো কি শুধুই অভ্যাসের যান্ত্রিক ছায়া?
নাকি সেখানে কাঁদে হৃদয়, পায় তোমার সান্নিধ্যের মায়া?
অহংকার কি আমার ভেতর লুকিয়ে নেই নিঃশব্দে, গভীরে?
কারো কথা শুনলে কি আমি ভাঙি, নাকি থাকি নিজের ঘিরে?
নিজেকে কি আমি দেখি সবসময় সঠিক, অপরকে তুচ্ছ করে?
নাকি সত্যের সামনে মাথা নত করি—নফসকে দিই জোরে?
অন্যের হক্ব—সেটা কি আমি ঠিকভাবে রাখি, পূরণ করি?
কারো কষ্ট কি আমার হাতে জমে গিয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়?
চোখের পানি কি আমি কখনো অবহেলায় মুছে ফেলেছি?
নাকি অজান্তে আমি অনেকের অধিকার কেঁড়ে নিয়েছি?
হে আমার রব! আমি তো জানি না আমার আমল কেমন হবে গ্রহণ
কতটা খাঁটি, কতটা ভেজাল—তুমি ছাড়া কার আছে এ জ্ঞান?
ইবলিসের মতো বড় ইবাদতও অহংকারে হলো শূন্য
তাই আমি ভয়ে কাঁপি—আমার আমলও তো হতে পারে ভগ্ন-ভগ্ন।
বিনা হিসেবের জান্নাত—তোমার রহমতের এক অজানা দান
সত্তর হাজারের কাফেলা—তোমার ক্ষমার এক গোপন বিধান।
আমি কি সেখানে পৌঁছাবো? আমার কি আছে সে যোগ্যতা?
না, আমি কেবল চাই—তোমার দয়ার ভিখারি হওয়া, তোমারই সান্নিধ্যতা।
হে আল্লাহ! আমাকে এমন বানাও, যে অহংকারকে ভেঙে দেয়
যে নিজের ভুল দেখে কাঁদে, অন্যের হক্বকে ভালোবাসে নেয়।
যে নামাজে দাঁড়ালে ভাবে—আমি কিছুই না, তুমি ছাড়া কিছু নেই
যার হৃদয় সবসময় বলে—“হে রব, তোমারই কাছে ফিরতে চাই আমি এই।”
আমাকে দাও বিনয়, দাও নরম হৃদয়, দাও সত্যের আলো
আমার নফসের অন্ধকারে তুমি জ্বেলে দাও করুণা-জ্বালো।
যদি আমি ভুল করি, তুমি ক্ষমা করো বারবার
তুমি ছাড়া তো নেই কেউ—তোমারই কাছে আমার আর্তি বারবার।
আমি চাই না গর্বিত ইবাদত, চাই না প্রদর্শনের নামাজ
আমি চাই ভাঙা হৃদয়, চোখের পানি, নীরব সিজদার সাজ।
যেখানে আমি থাকি ছোট, তুমি থাকো মহান সর্বদা
সেই বিনয়েই পাই যেন তোমার রহমতের অজস্র ধারা।
হে রব! আমার আমলকে করো না আমার ওপর নির্ভরশীল
তুমি ছাড়া আমি শূন্য, আমি কেবল তোমার দয়ার অধীনস্থ দলীল।
আমাকে বাঁচাও ইবলিসের পথে—অহংকারের সেই পতন থেকে
আর নিয়ে চলো সেই পথে, যেখানে ক্ষমা ঝরে রহমতের রূপে।
যদি কখনো জান্নাত পাই—তা যেন হয় তোমারই দান
না আমার ইবাদতের দাম, না আমার অহংকারের কোনো মান।
আমি শুধু বলি—হে আল্লাহ, আমাকে করো তোমারই প্রিয় বান্দা
যার শেষ ঠিকানা হয় তোমার দয়ার ছায়ায় শান্তির ধারা-ধারা।
***
ইবলিস তো ছিল বড় ‘আবিদ’, দীর্ঘ ইবাদতের ইতিহাস
কিন্তু অহংকারে হারিয়ে গেল—রহমত হলো তার বিরোধাভাস।
সেজদা না করার এক অহংকার, এক “আমি”র দম্ভের ঢেউ
চির অভিশাপের অন্ধকারে হারালো সে নিজেরই দেয়ালে সে-ই।
আর আমি? আমি তো মানুষ, দুর্বল, ভাঙা মাটির পাত্র
প্রতিটি শ্বাসেই লুকানো আছে ভুল, গুনাহের অজস্র মাত্রা।
আমার অন্তরে কি আছে সত্যিকারের আল্লাহর আনুগত্য?
নাকি ইবাদতের ভিড়ে লুকিয়ে আছে গোপন আত্ম-গৌরবের ব্যর্থতা?
হে রব! আমি কি সত্যিই তোমার হুকুমের পথে চলি স্থির?
নাকি নিজের ইচ্ছার কাছে বন্দী হয়ে করি নাফরমানীর বীর?
সালাতের দাঁড়ানো কি শুধুই অভ্যাসের যান্ত্রিক ছায়া?
নাকি সেখানে কাঁদে হৃদয়, পায় তোমার সান্নিধ্যের মায়া?
অহংকার কি আমার ভেতর লুকিয়ে নেই নিঃশব্দে, গভীরে?
কারো কথা শুনলে কি আমি ভাঙি, নাকি থাকি নিজের ঘিরে?
নিজেকে কি আমি দেখি সবসময় সঠিক, অপরকে তুচ্ছ করে?
নাকি সত্যের সামনে মাথা নত করি—নফসকে দিই জোরে?
অন্যের হক্ব—সেটা কি আমি ঠিকভাবে রাখি, পূরণ করি?
কারো কষ্ট কি আমার হাতে জমে গিয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়?
চোখের পানি কি আমি কখনো অবহেলায় মুছে ফেলেছি?
নাকি অজান্তে আমি অনেকের অধিকার কেঁড়ে নিয়েছি?
হে আমার রব! আমি তো জানি না আমার আমল কেমন হবে গ্রহণ
কতটা খাঁটি, কতটা ভেজাল—তুমি ছাড়া কার আছে এ জ্ঞান?
ইবলিসের মতো বড় ইবাদতও অহংকারে হলো শূন্য
তাই আমি ভয়ে কাঁপি—আমার আমলও তো হতে পারে ভগ্ন-ভগ্ন।
বিনা হিসেবের জান্নাত—তোমার রহমতের এক অজানা দান
সত্তর হাজারের কাফেলা—তোমার ক্ষমার এক গোপন বিধান।
আমি কি সেখানে পৌঁছাবো? আমার কি আছে সে যোগ্যতা?
না, আমি কেবল চাই—তোমার দয়ার ভিখারি হওয়া, তোমারই সান্নিধ্যতা।
হে আল্লাহ! আমাকে এমন বানাও, যে অহংকারকে ভেঙে দেয়
যে নিজের ভুল দেখে কাঁদে, অন্যের হক্বকে ভালোবাসে নেয়।
যে নামাজে দাঁড়ালে ভাবে—আমি কিছুই না, তুমি ছাড়া কিছু নেই
যার হৃদয় সবসময় বলে—“হে রব, তোমারই কাছে ফিরতে চাই আমি এই।”
আমাকে দাও বিনয়, দাও নরম হৃদয়, দাও সত্যের আলো
আমার নফসের অন্ধকারে তুমি জ্বেলে দাও করুণা-জ্বালো।
যদি আমি ভুল করি, তুমি ক্ষমা করো বারবার
তুমি ছাড়া তো নেই কেউ—তোমারই কাছে আমার আর্তি বারবার।
আমি চাই না গর্বিত ইবাদত, চাই না প্রদর্শনের নামাজ
আমি চাই ভাঙা হৃদয়, চোখের পানি, নীরব সিজদার সাজ।
যেখানে আমি থাকি ছোট, তুমি থাকো মহান সর্বদা
সেই বিনয়েই পাই যেন তোমার রহমতের অজস্র ধারা।
হে রব! আমার আমলকে করো না আমার ওপর নির্ভরশীল
তুমি ছাড়া আমি শূন্য, আমি কেবল তোমার দয়ার অধীনস্থ দলীল।
আমাকে বাঁচাও ইবলিসের পথে—অহংকারের সেই পতন থেকে
আর নিয়ে চলো সেই পথে, যেখানে ক্ষমা ঝরে রহমতের রূপে।
যদি কখনো জান্নাত পাই—তা যেন হয় তোমারই দান
না আমার ইবাদতের দাম, না আমার অহংকারের কোনো মান।
আমি শুধু বলি—হে আল্লাহ, আমাকে করো তোমারই প্রিয় বান্দা
যার শেষ ঠিকানা হয় তোমার দয়ার ছায়ায় শান্তির ধারা-ধারা।
ইবলিস ছিল ইবাদতের অগ্নিশিখা—সিজদাহীন এক ইতিহাস
কিন্তু “আমি উত্তম”—এই অহংকারেই নিভে গেল রহমতের আকাশ।
হুকুম এলো, “সিজদা কর আদমকে”—সে বলল, “আমি তো আগুনের সন্তান”
এই এক “আমি”-র দেয়ালে ভেঙে গেল ইবাদতের সব পরিচয়-মান।
তাই তো ভয় জাগে অন্তরে—আমার অবস্থাও কি তেমন নয়?
বাহিরে সিজদা করি ঠিকই, ভিতরে কি অহংকার লুকায়িত রয়?
নফস কি চুপিচুপি বলে না—“আমি ঠিক, আমি জানি, আমি শ্রেষ্ঠ”?
আর অজান্তে কি হারিয়ে যায় বিনয়ের কোমল সুমধুর ন্যস্ত?
আমি তো মানুষ—মাটির তৈরি, দুর্বলতার ভেতর বন্দী প্রাণ
এক মুহূর্তে হাসি, আরেক মুহূর্তে ভেঙে পড়ে যায় অভিমান।
আমার আমল কি সত্যিই খাঁটি, নাকি শুধু অভ্যাসের ছায়া?
আমার নামাজ কি আলোর পথ, নাকি শুধুই সময়ের মায়া?
হে রব! আমি কি সত্যিই তোমার হুকুমের পূর্ণ অনুগত বান্দা?
নাকি নিজের ইচ্ছার পথে চলে, গড়েছি আমি অন্য এক ফাঁদা?
চোখ কি হারাম থেকে ফিরেছে, কান কি সত্য শুনতে চায়?
নাকি ভেতরে ভেতরে পাপের ডাক আমাকে টেনে নিয়ে যায়?
অহংকার কি আমার ভেতর নেই—কথায়, নীরবতায়, আচরণে?
অন্যকে ছোট করে দেখি কি আমি নিজের অজান্তে কোনো কারণে?
সত্য কথা এলে কি মাথা নত হয়, না জেগে ওঠে প্রতিরোধ?
নাকি “আমি জানি”—এই শব্দেই ঢেকে যায় অন্তরের সব বোধ?
অন্যের হক্ব—আমার হাতে কি কখনো ক্ষত-বিক্ষত হয়নি?
কারো চোখের পানি কি আমার ভুলে নীরবে ঝরে যায়নি?
কারো অধিকার কি আমি বুঝে বা না বুঝে ভেঙে ফেলেছি?
আর নিজের নফসকে খুশি রাখতে সত্যকে কি দূরে ঠেলেছি?
হে আল্লাহ! আমি জানি না আমার আমল কতটা গ্রহণযোগ্য
কতটা ভেজাল মিশে আছে, কতটা আছে নিষ্কলুষ, নির্ভরযোগ্য।
ইবলিস বহু বছর ইবাদত করেও অহংকারে হলো ধ্বংস
তাই আমি কাঁপি—আমার আমলও যেন না হয় বৃথা, নিঃস্ব, নিঃশব্দ।
বিনা হিসেবের জান্নাত—তোমার রহমতের এক অজানা দান
সত্তর হাজারের কাফেলা—তোমার দয়ার গোপন মহান বিধান।
আমি কি সেখানে পৌঁছাতে পারব? নেই আমার কোনো যোগ্যতা
তবুও আমি চাই—তোমার করুণা হোক আমার শেষ ঠিকানা।
হে রব! আমাকে দাও এমন হৃদয়, যা ভাঙলে কাঁদে নিঃশব্দে
নিজেকে দেখে ছোট মনে করে, অন্যকে দেখে সম্মানভরে।
যে নামাজে দাঁড়ালে ভাবে—“আমি কিছুই না, তুমি ছাড়া সব শূন্য”
যার সিজদাহ হয় আত্মসমর্পণ, না যে কোনো গর্বের চিহ্ন।
আমাকে বাঁচাও সেই পথ থেকে, যেখানে অহংকার জন্ম নেয়
যেখানে “আমি আমি” ধ্বনি উঠে, আর সত্যের আলো ম্লান হয়।
আমাকে শেখাও বিনয়ী হতে, ক্ষমা চাইতে দ্বিধাহীন
অন্যের হক্ব রক্ষা করতে, হতে পরিশুদ্ধ ও দীন।
আমি চাই না এমন ইবাদত, যা কেবল মানুষের চোখের জন্য
আমি চাই এমন সিজদাহ, যেখানে শুধু তুমি থাকো অন্তরজুড়ে নিঃসঙ্গ।
চোখে থাকুক অশ্রু ধারা, হৃদয়ে থাকুক ভাঙা স্বর
যেখানে তুমি ছাড়া আর কিছুই না থাকে—না অহংকার, না গরব।
হে আল্লাহ! আমার আমলকে আমার ওপর ছেড়ে দিও না কখনো
আমি ভুলে ভরা, আমি দুর্বল—তুমি ছাড়া কে আছে বলো?
তোমার দয়া ছাড়া আমার কিছু নেই, আমার কিছুই অর্জন নয়
তুমি চাইলে সব মাফ, তুমি চাইলে সবই হয় রহমত-ময়।
যদি জান্নাত পাই কোনোদিন, তা যেন হয় শুধু তোমার দান
না আমার ইবাদতের দাম, না আমার ত্যাগের কোনো মান।
আমি শুধু চাই—একটা বিনীত হৃদয়, একটা ভাঙা আত্মা
যা বারবার বলবে—“হে রব, তুমি ছাড়া আমি একেবারেই অসহায়তা।”
শেষে শুধু এই আর্তি—হে আল্লাহ, আমাকে রক্ষা করো
ইবলিসের “আমি”-র পথ থেকে, আমাকে তোমার “আমরা”-য় ভরো।
আমাকে দাও এমন মৃত্যু, যেখানে থাকবে না অহংকারের ছায়া
শুধু থাকবে তোমার রহমত, তোমার ক্ষমা—চিরশান্তির মায়া।
***
Bottom of Form
৭১
১৪৫ মন্তব্য