Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ জুন, ২০২৬ ১০:১৬ অপরাহ্ণ

যেভাবে গড়ে ওঠে ইসলামের প্রথম বিদ্যালয়

মক্কার সাফা পাহাড়ের পাদদেশে সাহাবি আরকাম ইবনে আবিল আরকামের বাড়ি 'দারুল আরকাম'-কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ইসলামের প্রথম অনানুষ্ঠানিক বিদ্যালয় বা শিক্ষাকেন্দ্র. ৬১৪ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কার চরম প্রতিকূল পরিবেশে মুসলমানদের নিরাপত্তা ও গোপন দ্বীনি শিক্ষার জন্য এই ঘরটিকে নির্ধারণ করেছিলেন.ইসলামের প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মাদ্রাসা গড়ে ওঠার পুরো প্রেক্ষাপট ও ধারাবাহিক ইতিহাস নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মক্কার প্রতিকূলতা ও দারুল আরকাম (প্রথম অনানুষ্ঠানিক কেন্দ্র)গোপন শিক্ষাকেন্দ্র: ইসলাম প্রচারের প্রাথমিক যুগে মক্কার কুরাইশদের নির্যাতন ও বাধার কারণে প্রকাশ্যে কুরআন শিক্ষার সুযোগ ছিল না.নিরাপদ আশ্রয়: মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ও কুরআন শিক্ষার উদ্দেশ্যে নবীজি (সা.) আরকাম ইবনে আবিল আরকামের বাড়িকে বেছে নেন.তাত্ত্বিক ভিত্তি: এটিই ছিল ইসলামের ইতিহাসের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক রূপের শিক্ষাকেন্দ্র, যেখানে মুসলমানরা গোপনে এসে আল্লাহর রাসুলের কাছ থেকে সরাসরি দ্বীন শিখতেন.
২. মদিনায় ইসলামের প্রথম মাদ্রাসার সূচনাশিক্ষক প্রেরণ: নবুয়তের ত্রয়োদশ বর্ষে মদিনার (আউস ও খাজরাজ গোত্র) মানুষ যখন ইসলাম গ্রহণ শুরু করে, তখন তাদের প্রধান দাবি ছিল একজন কুরআন শিক্ষকের.মুসআব (রা.)-এর ভূমিকা: মদিনাবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নবীজি (সা.) তরুণ সাহাবি মুসআব ইবনে ওমায়ের (রা.)-কে মদিনায় পাঠান.প্রথম শিক্ষানিকেতন: মুসআব (রা.) মদিনায় গিয়ে যে সুশৃঙ্খল শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন, তাত্ত্বিকভাবে সেটিকে মদিনায় ইসলামের প্রথম মাদ্রাসা বা বিদ্যালয় বলা হয়.
৩. মদিনার প্রারম্ভিক ৩টি বিদ্যালয় (হিজরতপূর্ব সময়)হিজরতের প্রায় দুই বছর আগে মদিনায় উপানুষ্ঠানিক ৩টি শিক্ষা নিকেতন বা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা লাভ করে:

মসজিদে বনি জুরায়েক: এটি ছিল মদিনার প্রথম মাদ্রাসা. খাজরাজ গোত্রের দলপতি রাফে ইবনু মালিক জুরাকি (রা.) এখানে শিক্ষকতা করতেন.

মাদ্রাসা মসজিদুল কুবা: মদিনার দক্ষিণ দিকে কুবা নামক স্থানে মক্কার সাহাবিরা সমবেত হয়ে এই শিক্ষাকেন্দ্রটি গড়ে তোলেন.দারুল কুররাহ: মদিনার আরেকটি অন্যতম প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র যেখানে কুরআন পাঠ ও আবৃত্তি শেখানো হতো.
৪. সুফফা: ইসলামের প্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থা: হিজরতের পর ৬২২ খ্রিস্টাব্দে যখন মদিনায় মসজিদে নববী নির্মিত হয়, তখন এর উত্তর-পূর্ব দিকে একটি উন্মুক্ত চত্বর তৈরি করা হয়, যা 'আসহাবে সুফফা' নামে পরিচিত.

শিক্ষার্থী ও পাঠ্যক্রম: এটি ছিল ইসলামের প্রথম আবাসিক উচ্চতর শিক্ষাকেন্দ্র, যেখানে প্রায় ৭০ জনের মতো দরিদ্র ও গৃহহীন সাহাবি সার্বক্ষণিক অবস্থান করে কুরআন, হাদিস ও যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতেন.

বদর যুদ্ধের বন্দীদের অবদান: বদর যুদ্ধে জয়ী হওয়ার পর রাসুল (সা.) শিক্ষিত যুদ্ধবন্দীদের শর্ত দিয়েছিলেন যে, তারা যদি আনসারদের অন্তত ১০টি সন্তানকে পড়ালেখা শেখায়, তবে তাদের মুক্তি দেওয়া হবে. এই অভিনব পদ্ধতি মদিনার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করে তোলে.ইসলামের শুরুর দিকের এই বিদ্যালয়গুলো কোনো আধুনিক দালানকোঠা বা অবকাঠামো-নির্ভর ছিল না, বরং কুটির ও মসজিদভিত্তিক শিক্ষার আলো থেকেই পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানের জোয়ার তৈরি হয়েছিল.

মন্তব্য করুন