প্রভাষক
০৬ জুন, ২০২৬ ১০:২৩ অপরাহ্ণ
কিডনি সুস্থ রাখতে করনীয়
কিডনি সুস্থ রাখতে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা, সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা. মানবদেহের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটিকে দীর্ঘকাল সচল রাখতে নিচের নিয়মগুলো নিয়মিত মেনে চলা উচিত:
১. সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পানি পানপর্যাপ্ত পানি: প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার (৮-১০ গ্লাস) পানি পান করুন. তবে মনে রাখবেন, অতিরিক্ত পানি পানের প্রয়োজন নেই, পানির সঠিক পরিমাণ বুঝতে প্রস্রাবের রঙের দিকে খেয়াল রাখুন (হালকা হলুদ বা স্বচ্ছ হওয়া ভালো).
লবণ কম খাওয়া: দৈনিক খাবারে লবণের পরিমাণ ১ চা-চামচের কম রাখুন. তরকারিতে অতিরিক্ত লবণ বা পাতে কাঁচা লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন.
প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন: ফাস্টফুড, চিপস, ক্যানজাত খাবার এবং কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলোতে উচ্চমাত্রায় সোডিয়াম ও ফসফরাস থাকে.
পরিমিত প্রোটিন: অতিরিক্ত লাল মাংস (যেমন- গরু বা খাসির মাংস) খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, কারণ এটি কিডনির ওপর চাপ (রেনাল লোড) বাড়ায়.
২. ওষুধ ব্যবহারে সতর্কতাব্যথানাশক ওষুধ পরিহার: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘনঘন ব্যথানাশক ওষুধ (যেমন- NSAIDs বা আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন) খাবেন না, এগুলো সরাসরি কিডনির ক্ষতি করে.
৩. শারীরিক নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতাডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: কিডনি বিকল হওয়ার প্রধান দুটি কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও হাই ব্লাড প্রেশার. তাই এগুলো সবসময় নিয়মের মধ্যে রাখুন.ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি ধরনের শারীরিক পরিশ্রম বা হাঁটার অভ্যাস করুন. এটি রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখে এবং বাড়তি ওজন কমায়.
ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন: ধূমপান ও মদ্যপান কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয় এবং কার্যক্ষমতা নষ্ট করে.
৪. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাবছরে অন্তত একবার চিকিৎসকের পরামর্শে প্রস্রাব (Microalbuminuria) এবং রক্তের ক্রিয়েটিনিন (Creatinine) পরীক্ষা করিয়ে কিডনির অবস্থা নিশ্চিত করুন.
৫
৫ মন্তব্য