Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ জুন, ২০২৬ ১১:২০ অপরাহ্ণ

sucite theke fera asa

সুই*সাইড করতে গিয়েও একদম শেষ মুহুর্তে ফিরে এসেছে এমন একজনের সাথে গতকাল আমার কথা হয়েছিল। 


আমি মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম- কার জন্যে সুই*সাইড করতে গিয়েছিলেন?

মেয়েটা নির্লিপ্তভাবে উত্তর দিয়েছিল- একটা ছেলের জন্যে। 

তারপর জিজ্ঞেস করলাম - তাহলে সুই*সাইড করার শেষ মুহুর্ত থেকে ফিরে আসলেন কিভাবে? 


মেয়েটা বলল- আমি ফ্যানের সাথে ঝুলে ফাঁ*স দিতে গিয়েছিলাম। ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায়ও লাগিয়ে ফেলেছিলাম। 


নিচের চেয়ারটা পা দিয়ে ফেলে দিলেই আমার জীবনের ইতি ঘটে যাবে। বাসায়ও তখন কেউ ছিল না যে আমাকে বাঁচাবে। 


কি মনে করে যেন চেয়ার না ফেলেই গলার ওড়না পেচিয়ে অনেকক্ষণ যাবত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কেমন যেন পাথরের মত লাগছিল নিজেকে। 


আমি জিজ্ঞেস করলাম - তারপর কি এমন হলো যে বেঁচে ফিরলেন?

মেয়েটা বলল- দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার মাথায় অনেকগুলো ভাবনা আসছিল তখন। যৌক্তিক কোন ভাবনা না, এলোমেলো সব চিন্তাভাবনা।

আমি জিজ্ঞেস করলাম - কি ভাবনা?


মেয়েটা জবাব দিল- দেখুন যে ছেলেটার জন্যে আমি আ*ত্মহ*ত্যা করতে গিয়েছিলাম আমার মৃত্যুতে তার কোন ক্ষতিই হবে না। কোন অনুশোচনাও হবে না। 


সে বরং আমাকে বাদ দিয়ে যাকে বিয়ে করেছে সে মেয়েকে নিয়েই সুখে শান্তিতে দিন কাটাবে।


দিব্যি হেসেখেলে দিন পার করবে। মাঝখানে থেকে যা ক্ষতি হবার সব আমারই হবে। আমি ভেবেছিলাম আমার আ*ত্মহ*ত্যার  মাধ্যমে ওকে বুঝাব, আমি ওকে কতটা ভালোবাসি। 


কিন্তু সবশেষে মনে হলো আমার মৃত্যুটা ওর কাছে খুব বেশি হলে অপমৃত্যু মনে হবে এর চাইতে বেশি কিছু না। 


আমি জিজ্ঞেস করলাম - এগুলো মনে হবার পরই ফাঁস খুলে নেমে পড়েছিলেন.?

মেয়েটা উত্তর দিল- না। তখন আমার পুরনো অনেক স্মৃতিই মনে পড়েছিল।

আমি জিজ্ঞেস করলাম - কি স্মৃতি? 


মেয়েটা বলল- বিয়ের অনেকদিন পর্যন্ত আম্মুর বাচ্চা হচ্ছিল না। এটা নিয়ে দাদু বাড়ির সংসারে সবসময় নানান অশান্তি হতো। তারপর দীর্ঘ ছয় বছর পর আমি জন্মাই। 


আম্মু বলেছিল আমি না-কি অনেক ছোট অবস্থায় জন্মেছিলাম। আমার ওজন ছিল মাত্র ১৩০০ গ্রাম। 

বাঁচব কি-না সেটা নিয়ে ডাক্তাররা আশঙ্কায় ছিলেন।আব্বুও অনেক ভেঙে পড়েছিলেন। 


আব্বু কখনো ওঝা, কবিরাজ এসবে বিশ্বাস করতেন না। শুধুমাত্র আমার কথা চিন্তা করে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরের এক কবিরাজের কাছে পর্যন্ত গিয়েছিলেন।


কবিরাজ নাকি বাবাকে অনেকগুলো কঠিন শর্ত দিয়েছিল। তিনদিন আব্বুকে শুধু পানি আর চিড়া খেয়ে কাটাতে হবে। আরও কি কি যেন শর্ত দিয়েঠিল। 


আব্বু সবকিছু করেছিলেন শুধুমাত্র আমাকে বাঁচানোর জন্যে। 


অনেক কষ্ট করে আব্বু আম্মু মিলে আমাকে একটু একটু করে বড় করেছেন। সে-ই আমি কিনা একটা ছেলের জন্যে নিজেকে শেষ করে ফেলব। নিজের প্রতি ঘৃণা হচ্ছিল তখন। 


অনেকক্ষণ ওভাবেই গলায় ওড়না পেচিয়ে চেয়ারটাতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এলোমেলোভাবে তখন এসব ভাবনা বারবার আসছিল মাথায়।


তারপর ওভাবে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে একটা সময় পর নেমে আসি। ফাঁস খুলে ফেলি। তারপর চুপচাপ টেবিলে বসে অনেকক্ষণ যাবত বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। 


বাইরে গাছের পাতা নড়তেছে, পাখিরা উড়তেছে।ভাবছিলাম আমি মারা গেলে গাছের একটা পাতা নড়াও থামবে না, পাখিরাও আগের মতই উড়বে। 


কারো কিচ্ছুই হবে না। যা হবার সব আমার আর বাবা-মায়েরই হবে। এগুলো আগে কখনো নোটিশ করা হয়নি, ওইদিন বসে বসে করেছিলাম। তারপর সুই*সাইড নোটটাও ছিঁড়ে ফেলেছিলাম।


এতক্ষণ যাবত মেয়েটার কথাগুলো মনযোগ দিয়ে শুনছিলাম আমি।


মেয়েটা আবারও বলতে শুরু করল- অনেকক্ষণ বসে থাকার পর কি করব ভেবে না পেয়ে একটু চা বানাতে গেলাম। অনেক সময় নিয়ে, যত্ন করে বানালাম। খেয়ে দেখলাম অসম্ভব সুন্দর হয়েছে।


আমি তেমন একটা চা বানাই না, বানাতে পারিও না। আম্মুই সবসময় বানায়। ভাবলাম আজকে আম্মু আব্বুকেও চা বানিয়ে খাওয়াই। 


উনাদের অফিস থেকে আসার সময়ও হয়ে গিয়েছিল তখন।


তারপর যত্ন করে দুকাপ চা বানালাম। আসার পর আব্বু আম্মুকে চা দিলাম। ভেবেছিলাম ভালো হবে না। কি না কি আবার বলে। এটা ভেবে আমি আমার রুমে চুপচাপ বসে ছিলাম।


একটু পর আব্বু আমার রুমে এসে একটা হাসি দিয়ে বলেছিলেন - মা, চা নাকি তুমি বানিয়েছো? অনেক ভালো হয়েছে তো। এখন থেকে প্রতিদিন তুমি চা বানিয়ে খাওয়াবা কিন্তু। 


জানেন, ওই মুহুর্তে না আমার নিজেকে সবচেয়ে সুখী মানুষটা মনে হচ্ছিল। 


মনে হচ্ছিল- আমার আরও অনেকদিন বাঁচা দরকার।হ আব্বু আম্মুর জন্যে কিংবা নিজের জন্যে হলেও। অন্তত আব্বুকে প্রতিদিন চা বানিয়ে খাওয়ানোর জন্যে হলেও।

মন্তব্য করুন