সহকারী শিক্ষক
০৭ জুন, ২০২৬ ০৭:০৮ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাস
বাংলাদেশ নারী ফুটবলের যাত্রা শুরু হয় ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কর্তৃক মহিলা উইং গঠনের মাধ্যমে। ঘরোয়া টুর্নামেন্টের পর ২০০৫ সালে জাতীয় দল আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখে। এরপর থেকেই ধাপে ধাপে এগিয়ে আজ তারা দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে এশিয়ান পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।প্রাথমিক যাত্রা ও ঘরোয়া ফুটবল (২০০৩-২০০৫)২০০৩ সালে বাফুফে প্রথম মহিলা উইং গঠন করে এবং ভারতে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলার জন্য দল প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে বাফুফে প্রথমবারের মতো জাতীয় মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে, যেখানে ঢাকা জেলা চ্যাম্পিয়ন হয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেয়েদের ভয় দূর করতে বাফুফে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ দলকে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠায়।আন্তর্জাতিক অভিষেক ও সাফ শিরোপা (২০১০-২০২২)২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য দক্ষিণ এশিয়ান (এসএ) গেমসে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলন ও বয়সভিত্তিক দলগুলোর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ২০২২ সালে তারা প্রথমবারের মতো সাফ (SAFF) চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করে ইতিহাস গড়ে।এশিয়ান মঞ্চে ঐতিহাসিক সাফল্য (২০২৫-২০২৬)সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে যখন পিটার বাটলারের কোচিংয়ে বাংলাদেশ প্রথম দল হিসেবে বাছাইপর্ব পেরিয়ে ২০২৬ সালে এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। এছাড়াও, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সাফ নারী ফুটসল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ অভাবনীয় শিরোপা জয় করে।সাফ টুর্নামেন্ট ও লিগজাতীয় দলের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক দলগুলোও দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। ঘরোয়া ফুটবলের মানোন্নয়নে ২০১১ সালে শুরু হওয়া 'বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগ' নিয়মিত আয়োজনের ফলে সাবিনা খাতুনের মতো আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়রা উঠে এসেছেন।
৫৩
৯২ মন্তব্য