Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৭ জুন, ২০২৬ ১১:০৭ অপরাহ্ণ

আরশের ছায়াতলে মোঃ মুজিবুর রহমান


আরশের ছায়াতলে

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি হৃদয় জাগানিয়া গান,

হাশরের সেই ভয়াল দিনের স্মরণে কম্পে প্রাণ।

যেদিন সূর্য হবে নিকট, উত্তাপে জ্বলিবে ধরা,

মানুষ ছুটবে আশ্রয় খুঁজে, দিশাহারা সর্বহারা।

সেদিন কোথায় বৃক্ষছায়া, কোথায় শীতল নদীর কূল?

কোথায় পাহাড়, কোথায় প্রাসাদ, কোথায় রাজসিংহাসন ভুল?

সবকিছুই হারাবে জ্যোতি, হারাবে পৃথিবীর মান,

শুধু থাকবে আল্লাহর আরশ, মহিমাময় অফুরান।

সেই আরশের বিশাল ছায়ায় কারা পাবে আশ্রয়স্থান?

কোন সৌভাগ্যবান বান্দারা হবে প্রভুর মেহমান?

হাদিসেতে এসেছে যাদের মহাসুন্দর পরিচয়,

তাদের গুণে ভরে উঠুক আমাদের জীবনময়।

প্রথমে আসে ন্যায়পরায়ণ শাসক মহিমান্বিত,

ক্ষমতার আসনে থেকেও যিনি থাকেন সুবিচারচিত্ত।

আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু কিংবা আপন দলের টান,

কখনো নষ্ট করতে পারে না তার ন্যায়ের জ্ঞান।

তিনি জানেন ক্ষমতা ক্ষণিক, মালিক কেবল রব,

প্রতিটি হুকুমের হিসাব হবে, থাকবে না কোনো ঢল।

অসহায়ের অশ্রু মুছে, দেন তিনি ন্যায়ের আলো,

তাই তো আরশের ছায়াতলে তার স্থান হবে ভালো।

তারপর আসে সেই যুবক, যৌবনের দীপ্তিমান,

যার হৃদয়ে জেগেছিল আল্লাহপ্রেমের গান।

বন্ধুরা যখন ব্যস্ত ছিল ক্ষণিক সুখের নেশায়,

সে তখন মাথা নত করত সিজদার ভালোবাসায়।

যৌবনের উত্তাল ঢেউয়ে কত প্রলোভনের ডাক,

কত রঙিন স্বপ্ন এসে করেছে হৃদয় ফাঁক।

তবু সে বলেছে দৃঢ় কণ্ঠে, "আমার রব আছেন,"

তাঁর সন্তুষ্টির পথেই আমি জীবনভর চলেছি।

আরশতলে স্থান পাবে সেই তরুণ ঈমানদার,

যার রাত কেটেছে তাহাজ্জুদে, নয়ন অশ্রুধার।

যার প্রাণে ছিল কুরআনের অমৃত সুধার ধ্বনি,

যার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ ছিল রবের বাণী।

তৃতীয় সেই সৌভাগ্যবান, মসজিদমুখী প্রাণ,

আজান শুনে যার হৃদয়ে জাগে অনির্বাণ টান।

নামাজ শেষে বেরিয়ে গিয়েও মন পড়ে থাকে তায়,

কবে আবার প্রভুর ঘরে ফিরে আসবে সে হায়!

মসজিদের প্রতিটি ইট তার কাছে প্রিয়তর,

সেখানে সে খুঁজে পায় শান্তির অমৃতঘর।

দুনিয়ার কোলাহল ছেড়ে যখন দাঁড়ায় কাতারে,

ফেরেশতারা দোয়া করে তার পবিত্র আচারে।

চতুর্থ যারা ভালোবাসে কেবল আল্লাহর তরে,

স্বার্থহীন বন্ধুত্ব গড়ে ঈমানের মধুর ডোরে।

না আছে ধনের লোভ, না আছে জাগতিক মান,

শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি তাদের মিলনের প্রাণ।

একসাথে তারা চলে সৎপথে, ডাকে কল্যাণে,

সত্যের বাণী বলে সদা ঈমানের আহ্বানে।

যদি দূরে চলে যায় তারা, বিচ্ছেদও হয় রবের তরে,

তাদের প্রেমের সাক্ষী থাকেন আল্লাহ নিজ ঘরে।

পঞ্চম সেই বীর মুমিন, চরিত্র যার ঢাল,

পাপের ঝড়ে নত হয় না, থাকে অটল কাল।

সম্ভ্রান্ত রূপসী নারী যখন আহ্বান করে কাছে,

সে তখন আল্লাহর ভয়ে নিজেকে রক্ষা রাখে।

নফস বলে, "চলো এগিয়ে, সুযোগ এসেছে আজ,"

ঈমান বলে, "থেমে যাও, তো গুনাহের সাজ।"

সেই মুমিনের কণ্ঠে ওঠে দৃঢ় অমর বাণী

"আমি ভয় করি আল্লাহকে, তিনিই আমার জানি।"

কী মহৎ সেই আত্মসংযম, কী মহীয়ান জয়,

অন্তরের যুদ্ধ জিতে নেয় যে, সে- প্রকৃত বীর হয়।

তাই তো তার জন্য রয়েছে আরশের শীতল ছায়া,

যেখানে শেষ হবে সব দুঃখ, সব ক্লান্তির মায়া।

ষষ্ঠ সেই দানশীল ব্যক্তি, গোপন যার দান,

প্রচার নয়, প্রশংসা নয়, রবের সন্তোষ প্রাণ।

এমনভাবে সাহায্য করে অভাবগ্রস্ত জনে,

ডান হাত যা দেয়, বাঁ হাতও জানে না সে ক্ষণে।

ক্যামেরার সামনে নয়, নয় লোক দেখানো রীতি,

নেই কোনো অহংকার, নেই আত্মপ্রচার প্রীতি।

রাতের আঁধারে সাহায্য করে ক্ষুধার্ত মানুষেরে,

আল্লাহ দেখেন তার আমল, লিখেন রহমতের খাতে রে।

শেষে আসে সেই সৌভাগ্যবান নির্জনের পথিক,

যে একা বসে স্মরণ করে রবকে অনতিক।

মানুষ দেখে না, কেউ শোনে না তার মনের আর্তি,

তবু আল্লাহর ভয়ে ঝরে অশ্রু, জাগে ভক্তিভারতি।

সেই অশ্রুবিন্দু মূল্যবান মুক্তার চেয়েও বেশি,

যা গড়িয়ে পড়ে গাল বেয়ে নিঃশব্দ ভালোবেসে।

প্রভুর স্মরণে কাঁদে যে প্রাণ, লুকিয়ে রাতের শেষে,

তার জন্য আরশের ছায়া প্রস্তুত অনুপম বেশে।

হে আল্লাহ! আমরাও চাই সেই মহাসৌভাগ্য দান,

হাশরের সেই কঠিন দিনে যেন পাই আশ্রয়স্থান।

ন্যায়ের পথে চলার তাওফীক দিন আমাদের,

ইবাদতে কাটুক জীবন, হোক অন্তর পবিত্র।

মসজিদের সাথে জুড়ে দিন হৃদয়ের গভীর টান,

আপনার জন্য ভালোবাসি প্রতিটি মুমিন প্রাণ।

পাপের পথে এলে বাধা দিন তাকওয়ার বল দিয়ে,

দান করার তাওফীক দিন গোপনে হাত বাড়িয়ে।

নির্জনে আপনার স্মরণে অশ্রু ঝরুক চোখে,

ভালোবাসার আলো জ্বালুন হৃদয়ের প্রতিলোকে।

যেদিন সূর্য হবে নিকট, কাঁপবে সৃষ্টিজগৎ,

সেদিন যেন আরশতলে পাই নিরাপদ আশ্রয়সত্ত্ব।

সেদিন যেন ডাক আসে রবের পক্ষ হতে,

"ভয় করো না, এসো আমার রহমতের ছায়াতে।"

এই প্রার্থনায় শেষ করি হৃদয়ভরা গান,

আরশের ছায়াতলে হোক আমাদের চিরস্থান।

***

আরশের ছায়ার পথে

বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি হৃদয়-জাগা গান,

হাশরের সেই ভয়াল দিনের করি স্মরণ মহান।

যেদিন কেঁপে উঠবে ধরণী, স্তব্ধ হবে প্রাণ,

মানুষ ছুটবে আশ্রয় খুঁজে, হারাবে সব জ্ঞান।

সূর্য সেদিন মাথার কাছে জ্বলবে আগুন হয়ে,

ঘামে ডুববে মানুষ তখন কর্মফলের বয়ে।

কেউ বা থাকবে হাঁটুসমান, কেউ কোমরজলে,

কেউবা ডুবে যাবে ঘামের স্রোতে আপন আমল ফলে।

 

সেদিন কোথায় রাজপ্রাসাদ, কোথায় ধনের গর্ব?

কোথায় শক্তি, কোথায় ক্ষমতা, কোথায় মিথ্যা সর্বস্ব?

সব অহংকার ভেঙে পড়বে, নিভে যাবে মান,

রবে শুধু কর্মের খাতা আর রবের দরবারখান।

লক্ষ-কোটি মানবসন্তান দাঁড়াবে সারিবদ্ধ,

ফেরেশতারা ঘিরে রাখবে পরিবেশ গম্ভীর-নিবদ্ধ।

নবীগণও বলবেন সেদিন, "নাফসি! নাফসি!" বারংবার,

প্রত্যেক প্রাণ ব্যস্ত হবে নিজের হিসাবের ভার।

সেই কঠিন দিন, সেই ভয়াবহ ক্ষণ,

কারা পাবে আরশতলে নিরাপদের জীবন?

কারা হবে সৌভাগ্যবান রবের ছায়াতলে?

কারা থাকবে শান্ত-প্রশান্ত মহা বিচারের কলে?

হাদিসেতে এসেছে যাদের মহিমান্বিত নাম,

তাদের গুণে জাগুক আবার আমাদের ঈমান।

প্রথমে আসে ন্যায়পরায়ণ শাসক মহীয়ান,

সত্য ইনসাফ যার জীবনের মূল গান।

ক্ষমতার আসনে থেকেও ভুলে না রবকে,

প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেয় আল্লাহর ভয় বুকে।

আত্মীয় হলে দেয় না ছাড়, শত্রুকেও নয় জুলুম,

বিচারের পাল্লায় রাখে সমান সকল কুল।

অসহায়ের কান্না শুনে ছুটে যায় নির্ভয়ে,

অত্যাচারীর হাত থামায় ন্যায়ের শক্তি নিয়ে।

যে শাসকের অন্তরে থাকে তাকওয়ার দীপশিখা,

তার জন্য আরশতলে জ্বলবে রহমতের দিশা।

তারপর আসে সেই যুবক, যৌবনের অধিকারী,

যে যুবক আল্লাহর প্রেমে হয়েছে আত্মহারা।

বন্ধুরা যখন ডেকেছে তাকে ভোগের মেলায়,

সে তখন কুরআন হাতে বসেছে নিরালায়।

যৌবনের উত্তাল নদী প্রবল স্রোতে বয়,

সে নদীতে ভেসে যাওয়া খুবই সহজ হয়।

তবু যে যুবক আঁকড়ে ধরে ইসলামের পথ,

তার চেয়ে সুন্দর আর কে আছে জগৎ?

রাতের শেষে তাহাজ্জুদে যার নয়ন ভিজে যায়,

সিজদাতে যার কপাল নত, হৃদয় কেঁদে চায়।

তারুণ্যের সে পবিত্রতা রবের কাছে প্রিয়,

আরশতলে তার জন্য স্থান হবে সুমহীয়।

তৃতীয় সেই মানুষ, যার মসজিদমুখী মন,

আজানের ধ্বনি শুনলেই জেগে ওঠে প্রাণ।

নামাজ শেষে বেরিয়ে গিয়েও মসজিদেরই টান,

পরের ওয়াক্তের প্রতীক্ষাতে ব্যাকুল তার প্রাণ।

মসজিদের কার্পেট, দেয়াল, মিনার আর মিহরাব,

তার কাছে যেন জান্নাতের সুবাসময় গোলাপ।

কোলাহলময় পৃথিবীতে শান্তির এক নীড়,

যেখানে গিয়ে সে খুঁজে পায় রহমতের সমীর।

আল্লাহর ঘরের প্রতি যার এত গভীর প্রেম,

আরশতলে আশ্রয় পাবে সেই সৌভাগ্যের হেম।

চতুর্থ সেই দুই মুমিন, ভালোবাসার বাঁধন,

যাদের প্রেমে নেই কোনো স্বার্থের আবরণ।

আল্লাহর তরে মিলেছিল, আল্লাহর তরে দূর,

ঈমানী সেই সম্পর্ক যেন জান্নাতি সুর।

ধন নয়, খ্যাতি নয়, নয় কোনো স্বার্থ,

শুধু রবের সন্তুষ্টিতেই তাদের প্রেমের অর্থ।

একজন অন্যজনকে ডাকে কল্যাণের পথে,

পাপের অন্ধকার দেখলে ধরে হাত সাথে।

কিয়ামতের ভয়াবহ দিন, যখন কাঁপবে প্রাণ,

তাদের জন্যও আরশতলে থাকবে সম্মান।

পঞ্চম সেই বীর মুমিন, চরিত্র যার ঢাল,

নফসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কাটায় জীবনকাল।

রূপের মোহ, কামনার আগুন যখন জ্বলে,

আল্লাহভীতি তাকে রক্ষা করে অন্তরতলে।

সুন্দরী, সম্ভ্রান্ত নারী যখন ডাকে কাছে,

সে বলে, "আমি আল্লাহকে ভয় করি"—দৃঢ় ভাষে।

এই একটি বাক্য তখন আকাশ ছুঁয়ে যায়,

ফেরেশতারা বিস্ময়ে তার আমলনামা গায়।

যে নিজেকে জয় করেছে সে- প্রকৃত বীর,

তার জন্য আরশতলে শান্তির সুবাস নীর।

ষষ্ঠ সেই দানশীল জন, নিভৃত যার দান,

মানুষ দেখে না, দেখে শুধু রহমান।

ক্ষুধার্তের মুখে হাসি ফোটায় নীরব হাতে,

নাম প্রকাশের ইচ্ছা নেই অন্তরের প্রভাতে।

ডান হাত যা দেয়, বাঁ হাত জানে না,

রিয়ার কালো ধোঁয়া তার আমলে টানে না।

অভাবীর চোখের জলে যে খুঁজে নেয় রব,

তার জন্য রহমতের দ্বার খুলে দেন সব।

শেষে আসে সেই বান্দা, নির্জনের পথিক,

রাতের আঁধারে রবের স্মরণে থাকে নিমগ্ন ঠিক।

সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকে নীরব নিশীথে,

সে তখন কাঁদে একা আল্লাহর মহিমাতে।

কেউ দেখে না অশ্রুবিন্দু গড়ায় গাল বেয়ে,

কেউ জানে না হৃদয়খানি কী ব্যথা নিয়ে কেঁদে।

কিন্তু আরশের মালিক দেখেন সবই ঠিক,

সেই কান্নার মূল্য তাঁর কাছে অতি অধিক।

হে আমার রব!

আমাদেরও করুন সেই সৌভাগ্যের অংশীদার,

যেদিন হবে মহাবিচার, যেদিন কাঁপবে সংসার।

ন্যায়ের পথে রাখুন অটল, দিন ইবাদতের স্বাদ,

মসজিদের সাথে জুড়ে দিন হৃদয়ের সব বাঁধ।

আল্লাহর জন্য ভালোবাসি মুমিন ভাইকে যেন,

পাপের ডাকে বলি নির্ভয়ে—"না, পথে যাব না কখনো"

গোপনে দান করার শক্তি দিন অন্তরে,

নির্জনে কাঁদার তাওফীক দিন আপনারই তরে।

যেদিন সূর্য হবে নিকট, উত্তাপ হবে কঠিন,

যেদিন মানুষ খুঁজবে ছায়া হয়ে দিশাহীন

সেদিন যেন শুনতে পাই রহমতের আহ্বান,

"এসো আমার আরশতলে, হে প্রিয় ঈমানদার প্রাণ।"

সেদিন যেন ভয় না থাকে, না থাকে কোনো শঙ্কা,

রহমতের ছায়ায় কাটুক অনন্ত সুখের দিনকা।

এই দোয়াতে শেষ করি হৃদয়ের নিবেদন

আরশের ছায়াতলে হোক আমাদের চির আবাসন।

***

আরশের ছায়াতলে

হে পথিক! থেমে কি ভেবেছ একবার অন্তরে,

সেই দিনের জন্য কতটুকু প্রস্তুতি আছে ঘরে?

যেদিন পিতা পুত্রকে ছাড়বে, পুত্র ভুলবে পিতা,

নিজ নিজ চিন্তায় ব্যস্ত হবে সকল সৃষ্টিসত্তা।

যেদিন মাতা ভুলে যাবে বুকের ধনের কথা,

ভাইয়ের কাছে ভাই হবে না কোনো আশ্রয়দাতা।

বন্ধু সেদিন বন্ধু হবে না বিপদের সাথী,

আমল ছাড়া কেউ পাবে না মুক্তির কোনো বাতি।

সেই ভয়ঙ্কর মহামঞ্চে দাঁড়াবে মানবজাতি,

প্রকাশ হবে গোপন যত কর্মের সব খাতি।

ক্ষুদ্র যত নেক আমলও হারাবে না কভু,

সূক্ষ্মতম অন্যায়টিও দেখবেন মহান রব।

তাই আজও সময় আছে, জাগো ওহে প্রাণ,

তওবার অশ্রু ঝরিয়ে গাও রবের জিকির গান।

মৃত্যুর আগে মৃত্যু স্মরণ করো প্রতিক্ষণ,

জীবন তো ক্ষণিকেরই এক পরীক্ষাক্ষণ।

যে যুবক আজ নামাজ ফেলে খেলায় ব্যস্ত রয়,

কাল সে- হয়তো আফসোসে বুক চাপড়াবে সয়।

যে হৃদয় আজ মসজিদের ডাক শুনেও ফেরে না,

সেই হৃদয় কাল কেন যেন শান্তি খুঁজে পায় না।

যে দান করে লোক দেখাতে প্রশংসার আশায়,

তার আমল শুকনো পাতার মতো উড়ে যায় বাতাসায়।

আর যে দেয় নীরবে শুধু আল্লাহর সন্তোষে,

তার জন্য রহমত ঝরে আকাশ ভরা বর্ষে।

যে চোখ কখনো কাঁদেনি রবের ভয়ে রাতে,

সে চোখ কেমন জবাব দেবে বিচারের আদালতে?

আর যে চোখে অশ্রু ঝরে "ইয়া রব" বলে ডেকে,

সেই চোখ হাসবে জান্নাতের সুসংবাদটি পেয়ে।

যে প্রেম ছিল আল্লাহর তরে, স্বার্থ ছিল না তায়,

সেই প্রেম আজও সুগন্ধ হয়ে ফেরেশতাদের গায়।

যে হৃদয় ছিল ঈমানে ভরা, তাকওয়ায় আলোকিত,

তারই জন্য আরশতলে স্থান হবে সুনিশ্চিত।

হে ন্যায়পরায়ণ মানুষেরা, হে সত্যপথের দিশারী,

হে ইবাদতের ফুলে ভরা যৌবনের উদ্যানচারী,

হে মসজিদমুখী প্রাণের দল, হে অশ্রুসজল নয়ন,

তোমাদের জন্য অপেক্ষায় আছে জান্নাতের অঙ্গন।

সেখানে নেই কোনো দুঃখ, নেই বিচ্ছেদের ব্যথা,

নেই কোনো ভয়, নেই কোনো শোক, নেই মৃত্যুর কথা।

সেখানে রবের সন্তুষ্টি সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার,

সেখানে মুমিন দেখবে পূর্ণ রহমতের সমাহার।

তাই এসো সবাই গড়ে তুলি তাকওয়ার জীবন,

কুরআনের আলোয় ভরাই অন্তরের গহন।

সুন্নাহর পথে চলি আমরা হাতে হাত রেখে,

হাশরের সেই দিনের কথা সর্বদা মনে রেখে।

যেদিন সূর্য হবে নিকট, উত্তাপ হবে প্রবল,

যেদিন মানুষ খুঁজবে ছায়া হয়ে ব্যাকুল-বিহ্বল,

সেদিন যেন আরশতলে ডাকা হয় আমাদের নাম

"এসো হে আমার বান্দারা, আজ সফল তোমাদের কাম।"

এই আশাতেই পথ চলি, এই আশাতেই প্রাণ,

রহমতের সেই ছায়াতলে হোক চিরকাল স্থান।

আল্লাহর প্রেমে বাঁচি যেন, আল্লাহর প্রেমে মরি,

আরশের ছায়ার পথেরই হই আজীবন যাত্রী।

 

মন্তব্য করুন