Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ জুন, ২০২৬ ০৬:২৫ অপরাহ্ণ

দৃষ্টি সংযমের আলো (সূরাঃ আন-নূর আয়াতঃ ৩০-৩১মাদানী আলোকে) - মোঃ মুজিবুর রহমান

 


দৃষ্টি সংযমের আলো

(সূরাঃ আন-নূর আয়াতঃ ৩০-৩১মাদানী আলোকে)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি হৃদয় জাগানিয়া গান,

রবের বাণী স্মরণ করে জাগুক মুমিনের প্রাণ।

নূরের সূরা শিক্ষা দেয় পবিত্র জীবনের পথ,

যে পথে চলে সফল হবে মানুষ দিবা-রাত।

বল মুমিন পুরুষদেরকে, সংযত রাখো দৃষ্টি,

চোখের লাগাম ছুটে গেলে জন্মে পাপের সৃষ্টি।

হঠাৎ যদি চোখে পড়ে নিষিদ্ধ কোনো দৃশ্য,

সঙ্গে সঙ্গে ফিরিয়ে নাও, এটাই ঈমানী শিক্ষা।

চোখের যিনা চোখের মাঝে, সতর্ক করে নবী,

দৃষ্টি হতে জন্ম নেয় কত অন্ধকার ছবি।

একটি দৃষ্টি হৃদয় মাঝে জাগায় কত ঝড়,

সংযমহীন চোখের তীরে বিদ্ধ হয় অন্তর।

দৃষ্টির পরে কথার ধারা, তারপর স্পর্শ আসে,

এভাবেই তো মানুষ ধীরে পাপের দিকে ভাসে।

তাই তো আগে চোখকে বাঁধো তাকওয়ারই শৃঙ্খলে,

নিরাপদে থাকবে অন্তর ঈমানী আবরণে।

লজ্জাস্থানের হিফাযত করো দৃঢ় সংকল্প নিয়ে,

শয়তানের সব কুমন্ত্রণা দূরে রাখো ঠেলে দিয়ে।

ব্যভিচার আর অশ্লীলতার যত পথ রয়েছে,

মুমিন হৃদয় সেসব হতে নিজেকে দূরে রাখে।

গোপন অঙ্গ গোপন রাখো, নির্দেশ মহান,

লজ্জাশীলতা ঈমানেরই উজ্জ্বল পরিচয়দান।

যে লজ্জা হারায় জীবন থেকে হারায় নূরের ছাপ,

লজ্জাহীনতার অন্ধকারে বেড়ে চলে পাপ।

হে মুমিন নারী! তুমিও শোনো রবের পবিত্র বাণী,

দৃষ্টি নত রাখো সদা, হও না পথভ্রষ্ট প্রাণী।

সংযমে রাখো নিজের মন আর লজ্জাস্থানের হিফাযত,

এভাবেই গড়ে ওঠে জীবনে পবিত্রতার ইবাদত।

সৌন্দর্য তোমার আমানত, নয় প্রদর্শনের বস্তু,

লজ্জা-শীলতার অলঙ্কারেই ফুটে উঠে তার রূপ।

যা স্বাভাবিক প্রকাশ পায়, তাতে নেই গোনাহ,

কিন্তু অহংকারের সাজে ডেকো না কোনো চাহ।

ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখো বুকের উন্মুক্ত স্থান,

নির্দেশে রয়েছে কত মর্যাদা সম্মান।

জাহেলিয়াতের আঁধার ভেঙে নেমেছিল যে নূর,

মুমিন নারীর জীবনপথ করেছিল ভরপুর।

সাহাবিয়ারা শুনেই তখন মানলেন রবের হুকুম,

বিলম্ব করেননি তাঁরা, হয়নি কোনো কূটকৌশল।

কাপড় ছিঁড়ে বানিয়েছেন পর্দার আবরণ,

আল্লাহভীতির উজ্জ্বল ছিল তাঁদের জীবন।

পর্দা শুধু কাপড় নয়, পর্দা অন্তরজুড়ে,

চোখের মাঝে, কথার মাঝে, আচরণে ভরে।

পর্দা মানে রবের ভয়ে নিজেকে রাখা ঢেকে,

পর্দা মানে ফিতনা হতে ঈমানটাকে বাঁচিয়ে।

হাঁটার মাঝেও শিক্ষা দিলেন আল্লাহ সুবহান,

সৌন্দর্য যেন প্রকাশ না পায় শব্দেরই টানে।

নূপুরের ঝংকারে যদি আকর্ষণ জাগে মনে,

সেই পথ থেকেও বিরত থাকো তাকওয়ারই কারণে।

সুগন্ধ মেখে মানুষের মন কেড়ে নেওয়া নয়,

মুমিন নারী মর্যাদাতে আলাদা পরিচয়।

তার চলনে, বলনে, শালীনতার সুবাস রয়,

যা দেখে মানুষ স্মরণ করে আল্লাহরই ভয়।

হে যুবক! হে তরুণী! শোনো কুরআনের ডাক,

সংযম ছাড়া মুক্তি নেই, সত্য রেখো হাক।

যৌবনের উত্তাল স্রোত বাঁধতে হবে আজ,

রবের ভয়ে সংযমই হবে জীবনের সাজ।

চোখের পাহারা কঠিন বটে, তবু অসম্ভব নয়,

যে আল্লাহর সাহায্য চায়, তিনি সহায় হন নিশ্চয়।

দৃষ্টিকে যদি সংযত করো, অন্তর হবে নির্মল,

হৃদয়ের আকাশ ভরে উঠবে ঈমানী আলোয় উজ্জ্বল।

কত মানুষ নামাজ পড়ে, তবু চোখের হেফাজত নাই,

কত মানুষ জ্ঞানী বলে, অথচ অন্তর শুদ্ধ নয়।

আল্লাহ চান অন্তর-বাহির এক হয়ে যাক সব,

গোপনে যেমন প্রকাশ্যেও তেমন থাকুক রবভয়।

নির্জন ঘরে একা থাকো কিংবা মানুষের ভিড়ে,

আল্লাহ তোমায় দেখছেন সদা, রেখো তা অন্তরে।

যে গোপনে পাপ ত্যাগ করে রবের সন্তুষ্টি চায়,

কিয়ামতের দিনে সে- তো রহমতের ছায়া পায়।

তাওবার দ্বার খোলা আছে যতক্ষণ প্রাণ রয়,

পাপী হলেও নিরাশ হয়ো না, করো না কোনো ভয়।

অনুতাপে ভেজাও হৃদয়, ফিরো প্রভুর পানে,

ক্ষমাশীল রব অপেক্ষায় আছেন দয়ার টানে।

হে মুমিনগণ! ফিরে এসো আল্লাহরই দ্বারে,

পাপের বোঝা নামিয়ে রাখো অশ্রুসিক্ত ধারে।

তাওবার জলে ধুয়ে ফেলো অন্তরের কালিমা,

রহমতেরই সাগর ডাকে, করো না আর দেরি।

দৃষ্টি হবে সংযত যখন, পবিত্র হবে প্রাণ,

লজ্জা হবে জীবনেরই উজ্জ্বল সম্মান।

পর্দা হবে চরিত্রের ঢাল, তাকওয়া হবে সাথী,

ঈমান হবে দীপ্তিময় আলোকিত প্রভাতী।

যে ঘরে থাকে লজ্জাশীলতা, থাকে রবের নূর,

সেই ঘরেরই মানুষগুলো হয় কল্যাণে ভরপুর।

যে সমাজে সংযম থাকে, থাকে না অশান্তি,

সেখানে নেমে আসে শান্তি, নিরাপত্তা আর কান্তি।

আসো তবে কুরআনের এই অমর শিক্ষা ধরি,

নবীর দেখানো পবিত্র পথে জীবনটাকে গড়ি।

চোখের হেফাজত, অন্তর শুদ্ধ, চরিত্র হোক মহান,

এভাবেই গড়ে উঠুক মুমিনের পরিচয়দান।

শেষে করি মোনাজাত দুই হাত তুলে আকাশ পানে,

হে আল্লাহ! রাখুন আমাদের হিদায়াতের টানে।

দৃষ্টি, অন্তর, চরিত্র, আমল করুন আপনি পবিত্র,

আপনারই সন্তুষ্টি হোক জীবনের একমাত্র মিত্র।

কিয়ামতের কঠিন দিনে যখন কাঁপবে সকল প্রাণ,

আপনার রহমতের ছায়ায় দিন নিরাপদ স্থান।

সংযম, লজ্জা, তাওবা, তাকওয়া হোক জীবনের সাথী,

ঈমানের নূরে আলোকিত হোক আমাদের প্রতিটি গাঁথি।

***

বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি নূরের পবিত্র গান,

রবের বাণী হৃদয় মাঝে জাগুক ঈমানের প্রাণ।

সূরা নূরের শিক্ষা নিয়ে খুলুক হিদায়াতের দ্বার,

আলোকিত হোক জীবনপথ, দূর হোক পাপের ভার।

বল মুমিন পুরুষদেরকে, নিচু রাখো দৃষ্টি সদা,

চোখের তীরেই শুরু হয় অনেক ফিতনার কদা।

একটি দৃষ্টি অগ্নিশিখা, জ্বালায় অন্তরখানি,

অসংযমী চোখের কারণে ডুবে যায় কত প্রাণী।

হঠাৎ যদি চোখে পড়ে নিষিদ্ধ কোনো দৃশ্য,

সঙ্গে সঙ্গে ফিরিয়ে নাও, এটাই ঈমানী শিক্ষা।

প্রথম দৃষ্টি ক্ষমার যোগ্য যদি হয় অনিচ্ছায়,

দ্বিতীয় দৃষ্টি গোনাহ ডাকে শয়তানেরই ছলনায়।

চোখের যিনা শুধু দেখা, নবী দিয়েছেন বার্তা,

চোখের পরে হৃদয় ভাসে কামনারই স্রোতধারা।

দৃষ্টি হতে কথা বাড়ে, কথায় বাড়ে আশা,

তারপর মানুষ হারিয়ে ফেলে তাকওয়ার ভাষা।

কত পাপের সূচনা হয় একটুখানি চাহনিতে,

কত ঘর যে ভেঙে গেছে অবাধ দৃষ্টির আগুনেতে।

তাই তো আগে চোখকে বাঁধো আল্লাহভীতির রশিতে,

নিরাপদে থাকবে অন্তর ঈমানী আলোর বেষ্টনীতে।

লজ্জাস্থানের হিফাযত করো দৃঢ় সংকল্প নিয়ে,

শয়তানের সব ফাঁদগুলো দূরে রাখো ঠেলে দিয়ে।

ব্যভিচার আর অশ্লীলতার যত রাস্তা পৃথিবীতে,

মুমিন হৃদয় সেসব হতে দূরে থাকে সতর্কতাতে।

নিজের সতর রক্ষা করো প্রকাশ্যে আর নির্জনে,

মানুষ দেখুক আর না দেখুক, আল্লাহ দেখেন গোপনে।

নির্জন কক্ষে একা থাকো কিংবা জনসমুদ্রে,

রবের দৃষ্টি সর্বদা রয় আসমান জমিনজুড়ে।

লজ্জাশীলতা ঈমানেরই উজ্জ্বল এক অলংকার,

যার হৃদয়ে লজ্জা থাকে সে পায় নূরের অধিকার।

লজ্জাহীনতার অন্ধকারে হারায় আত্মার দীপ,

শয়তানেরই পথের দিকে এগিয়ে যায় সে নীরব চিত্ত।

হে মুমিন নারী! তুমিও শোনো নূরের পবিত্র ডাক,

সংযমে রাখো নিজের দৃষ্টি, ঈমানকে করো পাক।

লজ্জাস্থানের হিফাযত করো, রক্ষা করো সম্মান,

এভাবেই তো গড়ে ওঠে জান্নাতমুখী প্রাণ।

সৌন্দর্য তোমার আমানত, নয় প্রদর্শনের ধন,

লজ্জা আর শালীনতাতে ফুটে উঠে তার রূপবন।

যা স্বাভাবিক প্রকাশ পায়, তাতে নেই কোনো দোষ,

কিন্তু অহংকারের সাজে ডেকো না ফিতনার রোষ।

ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখো বক্ষের উন্মুক্ত স্থান,

নির্দেশে রয়েছে কত মর্যাদা আর সম্মান।

জাহেলিয়াতের আঁধার ভেঙে নেমেছিল যে নূর,

মুমিন নারীর জীবনপথ করেছিল ভরপুর।

সাহাবিয়ারা শুনেই যখন পেলেন রবের বাণী,

বিলম্ব করেননি তাঁরা, ছিলেন না অবাধ্য প্রাণী।

কাপড় ছিঁড়ে বানিয়েছিলেন পর্দার আবরণ,

আল্লাহভীতির আলোয় ভরা ছিল তাঁদের জীবন।

পর্দা শুধু পোশাক নয়, পর্দা অন্তরজুড়ে,

চোখের মাঝে, কথার মাঝে, চলার ভঙ্গিমায় ঘিরে।

পর্দা মানে রবের ভয়ে নিজেকে রাখা সুরক্ষিত,

পর্দা মানে ঈমানকে রাখা সর্বদা সম্মানিত।

কণ্ঠস্বরেও শালীনতা, আচরণেও নূর,

মুমিন নারী মর্যাদাতে থাকে সবার চেয়ে দূর।

তার চলনে থাকে হায়া, কথায় থাকে জ্ঞান,

তাকে দেখে স্মরণ আসে রবেরই বিধান।

নূপুরের শব্দ, সাজের ভঙ্গি, আকর্ষণের ঢেউ,

ফিতনার দ্বার খুলে দিতে পারে অজান্তেই কেউ।

তাই তো আল্লাহ শিক্ষা দিলেন সতর্কতার পথ,

তাকওয়ারই প্রাচীর গড়ো দিন-রাত অবিরত।

হে যুবক! হে তরুণী! শুনো কুরআনের আহ্বান,

সংযম ছাড়া রক্ষা হবে না হৃদয় কিংবা প্রাণ।

যৌবনের উত্তাল নদী বাঁধতে হবে আজ,

রবের ভয়ে সংযমই হবে জীবনের সাজ।

মোবাইলের পর্দায় আজ কত ফিতনার ডাক,

একটি ক্লিকেই খুলে যায় গোনাহর অগণিত ফাঁক।

হে মুমিন! সাবধান হও, রক্ষা করো চোখ,

অন্তর যেন না হারায় ঈমানী আলোর লোক।

কত মানুষ নামাজ পড়ে, তবু চোখের হেফাজত নাই,

কত মানুষ জ্ঞানী বটে, অন্তর তার নির্মল নয়।

আল্লাহ চান অন্তর-বাহির এক হয়ে যাক সব,

গোপনে যেমন প্রকাশ্যেও তেমন থাকুক রবভয়।

যে গোপনে পাপ ত্যাগ করে কেবল রবের তরে,

ফেরেশতারা তার নাম লেখে রহমতেরই ঘরে।

মানুষ দেখে না হয়তো তার অন্তরের সংগ্রাম,

কিন্তু আল্লাহ জানেন তার প্রতিটি নীরব কাম।

যে চোখকে রাখে সংযমে, হৃদয় থাকে পবিত্র,

যে হৃদয়ে তাকওয়া থাকে, জীবন হয় সুগঠিত।

যে চরিত্রে হায়া থাকে, সে হয় মহিমান্বিত,

রবের কাছে সেই বান্দা থাকে সর্বাধিক প্রিয়চিত।

তাওবার দ্বার খোলা আছে যতক্ষণ প্রাণ রয়,

পাপী হলেও নিরাশ হয়ো না, করো না কোনো ভয়।

অশ্রুভেজা অন্তর নিয়ে ফিরো প্রভুর পানে,

ক্ষমাশীল রব অপেক্ষায় আছেন দয়ার টানে।

হে মুমিনগণ! ফিরে এসো আল্লাহরই দ্বারে,

পাপের বোঝা নামিয়ে রাখো অশ্রুসিক্ত ধারে।

তাওবার জলে ধুয়ে ফেলো অন্তরের কালিমা,

রহমতেরই সাগর ডাকে, করো না আর দেরি মা।

আজ যদি আমরা গড়ে তুলি নূরের সমাজখানি,

সংযম, হায়া, তাকওয়াতে ভরে উঠবে প্রাণী।

অশ্লীলতার কালো মেঘ হারাবে আপন রং,

সত্যের পথে চলবে মানুষ গাইবে ঈমানী সঙ্গ।

যে ঘরে থাকে লজ্জাশীলতা, থাকে কুরআনের নূর,

সেই ঘরেরই মানুষগুলো হয় কল্যাণে ভরপুর।

যে সমাজে সংযম থাকে, থাকে না অশান্তি,

সেখানে নেমে আসে রহমত, নিরাপত্তা আর কান্তি।

আসো তবে কুরআনের এই অমর শিক্ষা ধরি,

নবীর দেখানো পবিত্র পথে জীবনটাকে গড়ি।

দৃষ্টি হোক সংযত সদা, অন্তর হোক নির্মল,

তাকওয়ার ফুলে ভরে উঠুক জীবনেরই অঙ্গন।

শেষে করি মুনাজাত দুই হাত তুলে আকাশ পানে,

হে আল্লাহ! রাখুন আমাদের হিদায়াতের টানে।

চোখের গোনাহ মাফ করুন, অন্তর করুন পবিত্র,

আমলগুলো কবুল করুন, করুন জীবন সুগঠিত।

পর্দা, হায়া, তাকওয়া, তাওবা হোক জীবনের সাথী,

ঈমানের নূরে আলোকিত হোক প্রতিটি গাঁথি।

কিয়ামতের ভয়াল দিনে যখন কাঁপবে সকল প্রাণ,

আরশের ছায়ায় দিন আমাদের নিরাপদ স্থান।

দৃষ্টি সংযমের আলোয় ভরে উঠুক অন্তর,

লজ্জাশীলতার সৌরভ ছড়াক ঘরে ঘর।

সূরা নূরের শিক্ষা নিয়ে চলুক জীবনভর,

আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক আমাদের শেষ সম্বল।

***

যেদিন আমলনামা খুলে দাঁড়াবে মানুষ সারি,

কেউ হবে আনন্দিত, কেউ হবে ভীষণ ভারী।

সেদিন দৃষ্টি সংযমের প্রতিটি ক্ষুদ্র ত্যাগ,

মিজানের পাল্লায় হয়ে উঠবে অমূল্য অনুরাগ।

যে চোখ ফিরিয়েছিল পাপের আহ্বান হতে,

সে চোখ হাসবে সেদিন জান্নাতেরই প্রভাতে।

যে অন্তর লড়েছিল গোপন কামনার সাথে,

রহমতের বারিধারা ঝরবে তারই মাথাতে।

যে নারী রক্ষা করেছে লজ্জা পর্দার মান,

যে পুরুষ হেফাজত করেছে নিজের ঈমান।

তাদের জন্য অপেক্ষায় ফিরদাউসের বাগান,

যেখানে নেই কোনো দুঃখ, নেই কোনো অবসান।

সেখানে বইবে শান্তির নদী, নূরের অফুরান ধারা,

সেখানে রবের সন্তুষ্টিই হবে শ্রেষ্ঠ সওগাত সারা।

সেখানে নবীদের সঙ্গ, শহীদদের মহিমান্বিত স্থান,

সালেহীনদের কাফেলায় জুড়াবে মুমিনের প্রাণ।

তাই হে হৃদয়! জেগে ওঠো, সময় এখনো আছে,

তাওবার অশ্রু ঝরাও নীরব রাতের কাছে।

দৃষ্টি, অন্তর, আমল, চরিত্র করো রবের তরে,

মুক্তির সুবাস ফুটবে তখন জীবনভরা ঘরে।

নূরের পথে চলতে চলতে শেষ হোক জীবনের সফর,

ঈমান হোক পাথেয় আমাদের কবর থেকে হাশর।

রবের দয়া, রবের নূর, রবেরই সন্তুষ্টি,

এই হোক মুমিন জীবনের চিরন্তন সাফল্য-সৃষ্টি।

সূরা নূরের শিক্ষা বুকে রাখি অবিরাম,

দৃষ্টি হোক সংযত সদা, নির্মল হোক প্রতিটি কাম।

পর্দা, হায়া, তাকওয়া, তাওবা হোক জীবনের বল,

আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক আমাদের শেষ সম্বল।

***

নূরের পথে দৃষ্টি সংযম

(সূরা নূর ঈমানী হায়ার আলোকে একটি দীর্ঘ কাব্য)

বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি পরম করুণার নাম,

যাঁর দয়াতে টিকে আছে আসমান-জমিনের ধাম।

যিনি দিলেন নূরের কিতাব, হিদায়াতের দিশা,

তাঁরই বাণী আঁকড়ে ধরে খুঁজি মুক্তির নিশা।

এই দুনিয়া ক্ষণিকের পথ, মুসাফিরের ঘর,

আজ যে আছে কাল সে যাবে ছেড়ে সকল ডর।

ধন-সম্পদ, মান-সম্মান, সৌন্দর্যের জৌলুস,

সবই একদিন মুছে যাবে, থাকবে আমল কেবল নিঃশ্বাসহীন নীরব স্পর্শ।

তাই তো কুরআন ডেকে বলেহে মুমিনের দল,

নিজেকে আজ গড়ে তোলো তাকওয়ারই বল।

নূরের সূরা শিক্ষা দেয় পবিত্র জীবনের পথ,

যে পথে চলে সে- পায় রবের সন্তোষরত্ন।

বল মুমিন পুরুষদেরকে, নিচু রাখো দৃষ্টি,

চোখের ভুলেই শুরু হয় অনেক পাপের সৃষ্টি।

একটি চাহনি কখনো হয় শয়তানেরই ফাঁদ,

অবহেলায় সেই আগুনে পুড়ে যায় ঈমানের বাঁধ।

হঠাৎ যদি চোখে পড়ে নিষিদ্ধ কোনো দৃশ্য,

ফিরিয়ে নাও দৃষ্টি তখন, এটাই নবীর শিক্ষা।

প্রথম দৃষ্টি অনিচ্ছাকৃত হলে আছে ক্ষমা,

দ্বিতীয় দৃষ্টি ডেকে আনে গোনাহরই সীমা।

চোখের মাঝে জন্ম নেয় কত গোপন ক্ষুধা,

যা মানুষকে টেনে নেয় পাপের দিকে সদা।

চোখের পরে মনের কথা, মনের পরে টান,

তারপর মানুষ হারিয়ে ফেলে হায়া আর ঈমান।

কত সংসার ভেঙে গেছে অবাধ দৃষ্টির তাপে,

কত অন্তর জ্বলছে আজ গোপন কামনার চাপে।

কত তরুণ হারিয়েছে স্বপ্ন আর সম্ভাবনা,

দৃষ্টির কাছে হেরে গিয়ে হারিয়েছে ঠিকানা।

তাই তো আগে পাহারা দাও নিজের দুটি চোখ,

এই দুটিই খুলে দিতে পারে জান্নাত কিংবা শোক।

যে চোখ আল্লাহর ভয়ে ফিরিয়ে নেয় দৃষ্টি,

সেই চোখেই ফুটে ওঠে ঈমানের মহাসৃষ্টি।

হে মুমিন! মনে রেখো, চোখেরও আছে হিসাব,

প্রতিটি দেখা লিপিবদ্ধ করেন মহান রব।

যা কিছু তুমি দেখো গোপনে বা প্রকাশ্যে,

সবই ধরা পড়ে যাবে বিচারেরই সভাতে।

যেদিন খুলবে আমলনামা বিশাল জনসমুদ্র মাঝে,

প্রতিটি দৃষ্টি সাক্ষী হবে নিজের কর্মের সাজে।

সেদিন চোখই বলে দেবে কোথায় ছিল মন,

কিসের পিছে ছুটেছিলে জীবনের প্রতিক্ষণ।

লজ্জাস্থানের হিফাযত করো দৃঢ় অঙ্গীকারে,

নিজেকে রেখো সুরক্ষিত আল্লাহভীতির দ্বারে।

ব্যভিচারের সব দুয়ার বন্ধ করে দাও,

পাপের দিকে নিয়ে যায় এমন পথ এড়াও।

শয়তান কখনো ডাকে না সরাসরি বড় পাপে,

ধীরে ধীরে নিয়ে যায় মানুষকে তার চাপে।

প্রথমে শুধু একটি দৃষ্টি, তারপর কিছু কথা,

তারপর গড়ে ওঠে গোপন অন্ধকার ব্যথা।

তাই তো ইসলাম শিক্ষা দেয় সতর্কতার পথ,

আগেই বন্ধ করো ফিতনার সকল গোপন রথ।

যেখানে সন্দেহ জন্মায়, সেখান হতে দূরে,

রক্ষা করো অন্তরটাকে ঈমানেরই নূরে।

হায়া হলো ঈমানেরই অপরূপ অলংকার,

হায়া থাকে যার অন্তরে সে- নূরের অধিকার।

হায়া শুধু লজ্জা নয়, রবের প্রতি ভয়,

হায়া মানুষকে শেখায় কী করা উচিত হয়।

যখন মানুষ হারায় হায়া, হারায় অন্তরজ্যোতি,

পাপের পথে ছুটে চলে ভুলে সত্যগতি।

লজ্জাহীনতার কালো ঢেউ গ্রাস করে প্রাণ,

অশান্তিতে ভরে ওঠে জীবন সংসারখান।

হে মুমিন নারী! শোনো আজ নূরের পবিত্র ডাক,

দৃষ্টি নত রাখো সদা, ঈমান রাখো পাক।

লজ্জাস্থানের হিফাযত করো দৃঢ় মনোবলে,

জীবন সাজাও তাকওয়ারই সুগন্ধি ফুলে।

সৌন্দর্য তোমার আমানত, রবের দেওয়া দান,

তার মর্যাদা রক্ষা করা ঈমানের পরিচয়জ্ঞান।

শালীনতার আবরণে সৌন্দর্য হয় দীপ্ত,

হায়ার আলোয় নারী হয় সম্মানে সমৃদ্ধ।

পর্দা শুধু কাপড় নয়, পর্দা হৃদয়ের ঢাল,

পর্দা হলো আত্মমর্যাদা, চরিত্রেরই জাল।

চোখের মাঝে, কথার মাঝে, আচরণের রূপে,

পর্দার শিক্ষা ছড়িয়ে থাকে জীবনের প্রতিরূপে।

ওড়না শুধু বাহ্যিক নয়, অন্তরেও পর্দা চাই,

যেখানে রবের ভয় থাকে, পাপ সেখানে ঠাঁই নাই।

যে নারী রাখে মর্যাদা আল্লাহর সন্তোষে,

সে হয় জান্নাতের ফুল রহমতেরই কোষে।

সাহাবিয়ারা শুনেছিলেন যখন রবের বাণী,

বিলম্ব করেননি তাঁরা, ছিলেন সত্যপ্রাণী।

হুকুম পেয়ে মাথা নত করেছেন বিনা দ্বিধায়,

এমন আনুগত্য আজও ইতিহাসে জ্বলে রয়।

হে যুবক! হে তরুণী! শুনো কুরআনের ডাক,

যৌবনের উত্তাল স্রোত তাকওয়ায় রাখো পাক।

যে যৌবন আজ আল্লাহর ভয়ে সংযত হয়,

সেই যৌবনই কিয়ামতে সম্মানের কারণ হয়।

আজকের যুগে মোবাইল হাতে পৃথিবী ঘরে আসে,

নেকির পথও খুলে যায়, পাপও কাছে ভাসে।

একটি ক্লিকেই খুলে যেতে পারে ফিতনার দরজা,

একটি ক্লিকেই জাগতে পারে নূরের নতুন সুরভা।

তাই প্রযুক্তিকে করো না শয়তানেরই সাথী,

কুরআন, হাদিস, জ্ঞানচর্চায় করো তাকে গাঁথি।

যে মোবাইল আজ পাপের পথ খুলে দেয় বারবার,

সেই মোবাইল হতে পারে জান্নাতেরও দ্বার।

নির্জন ঘরে একা থাকো কিংবা জনসমাগমে,

আল্লাহ তোমায় দেখছেন সদা প্রতিটি মুহূর্তে।

মানুষ হয়তো জানে না তোমার মনের কথা,

কিন্তু রবের কাছে লুকায় না কোনো ব্যথা।

যে গোপনে পাপ ত্যাগ করে কেবল আল্লাহর তরে,

তার জন্য রহমতের দ্বার খুলে যায় ধীরে ধীরে।

নীরব রাতের অন্ধকারে যে করে অশ্রুপাত,

রবের কাছে তার সে কান্না অমূল্য ইবাদাত।

কত মানুষ বাহিরে ভালো, ভেতরে অন্ধকার,

কত মানুষ গোপনে করে পাপেরই ব্যবসার।

আল্লাহ চান অন্তর-বাহির এক হয়ে যাক,

প্রকাশ্যে যেমন গোপনেও তেমন রবভয় থাক।

তাওবার দ্বার খোলা আছে যতক্ষণ প্রাণ রয়,

পাপী হলেও নিরাশ হয়ো না, করো না কোনো ভয়।

দয়ার সাগর মহান রব ডাকছেন অবিরাম,

ফিরে এসো তাঁরই পানে ছেড়ে গোনাহর ধাম।

অনুতাপের অশ্রুবিন্দু মুক্তার চেয়েও দামি,

তাওবার জলে ধুয়ে যায় পাপের যত কালিমা থামে।

যে বান্দা সত্য হৃদয়ে ফিরে আসে রবের দ্বারে,

রহমতের ফুল ফুটে ওঠে তার জীবনের ধারে।

হে আল্লাহ! আমরা দুর্বল, পাপের বোঝা ভার,

আপনি ছাড়া নেই তো আমাদের কোনো উদ্ধার।

চোখের গোনাহ ক্ষমা করুন, ক্ষমা করুন মন,

ক্ষমা করুন ভুলে ভরা জীবনের প্রতিক্ষণ।

আমাদের দৃষ্টি করুন নূরের পথে পরিচালিত,

আমাদের অন্তর করুন তাকওয়ায় সুসজ্জিত।

আমাদের ঘরগুলো ভরিয়ে দিন কুরআনের আলোয়,

আমাদের সন্তানদের রাখুন ঈমানেরই ছায়ায়।

যে ঘরে থাকে হায়া, থাকে কুরআনের নূর,

সেই ঘরের প্রতিটি প্রাণ হয় কল্যাণে ভরপুর।

যে সমাজে সংযম থাকে, থাকে না অশান্তি,

সেখানে নামে রহমতেরই শীতল স্নিগ্ধ কান্তি।

যেদিন কাঁপবে হাশরের মাঠ, থমকে যাবে প্রাণ,

যেদিন সূর্য কাছে এসে বাড়াবে উত্তাপের টান।

সেদিন দৃষ্টি সংযমের প্রতিটি ক্ষুদ্র ত্যাগ,

মিজানের পাল্লায় হয়ে উঠবে মহামূল্য অনুরাগ।

যে চোখ ফিরিয়েছিল পাপের আহ্বান হতে,

সে চোখ হাসবে জান্নাতেরই নূরময় প্রভাতে।

যে হৃদয় লড়েছিল গোপন কামনার সাথে,

রহমতের বারিধারা ঝরবে তারই মাথাতে।

ফিরদাউসের বাগিচাতে মিলবে শান্তির স্থান,

সেখানে থাকবে না কোনো দুঃখ, থাকবে না অবসান।

নবীদের সঙ্গ, শহীদদের মহিমান্বিত কাফেলা,

সালেহীনদের সাথে হবে চিরসুখের মেলা।

তাই হে মুমিন! জেগে ওঠো, সময় এখনো আছে,

মৃত্যু আসার আগেই ফিরো রবেরই কাছে।

দৃষ্টি, অন্তর, আমল, চরিত্র করো তাঁর তরে,

মুক্তির সুবাস ফুটবে তখন জীবনভরা ঘরে।

নূরের পথে চলতে চলতে শেষ হোক জীবনের সফর,

ঈমান হোক পাথেয় আমাদের কবর থেকে হাশর।

রবের দয়া, রবের নূর, রবেরই সন্তুষ্টি,

এই হোক মুমিন জীবনের চিরন্তন সাফল্য-সৃষ্টি।

সূরা নূরের শিক্ষা বুকে রাখি অবিরাম,

দৃষ্টি হোক সংযত সদা, নির্মল হোক প্রতিটি কাম।

হায়া, পর্দা, তাকওয়া, তাওবা হোক জীবনের বল,

আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক আমাদের শেষ সম্বল।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ