Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ জুন, ২০২৬ ১০:২১ অপরাহ্ণ

আল্লাহভীরু ও তাওয়াক্কুল -মোঃ মুজিবুর রহমান

আল্লাহভীরু ও তাওয়াক্কুল

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি হৃদয় জাগানিয়া গান,
আল্লাহভীরু বান্দার তরে জাগুক ঈমানের প্রাণ।
যে ভয় করে আপন রবকে, মানে তাঁরই বিধান,
তারই জন্য খুলে দেন রব মুক্তির সব দরজাখান।

দুঃখ যদি ঘিরে ধরে, নামে বিপদ ঘন,
চারিদিকে আঁধার দেখে কাঁদে ক্লান্ত মন।
ঠিক তখনই রবের পক্ষ থেকে আসে বাণী ধীর,
"
ভয় কর আমায়, আমি আছি, হয়ো না অধীর।"

যে আল্লাহকে ভয় করে, তাঁর জন্য পথ হয় তৈরি,
বন্ধ দুয়ার খুলে যায়, দূর হয় রাতের আঁধারি।
যেখানে মানুষ থেমে যায়, আশা হয় ক্ষীণ,
সেখান থেকেই রহমতের ধারা হয় রঙিন।

কত মানুষ চিন্তা করে, কোথা থেকে হবে রিযিক?
কেমন করে চলবে জীবন, মিটবে কষ্টের দিক?
রব বলেন, "হে আমার বান্দা, রেখো আমাতে ভরসা,
আমি দেব এমন উৎ হতে, যা ভাবনি কখনো বসা।"

মেঘের আড়াল ভেদ করে যেমন সূর্য হাসে,
শুকনো মাটির বুকে যেমন বৃষ্টি নেমে আসে,
তেমনি রবের দান এসে ছুঁয়ে দেয় অন্তর,
যখন বান্দা ভরসা রাখে রবের উপর।

ক্ষুধার্ত পাখি ভোরে যায় আকাশের নীল পথে,
জানে না কোথায় খাদ্য আছে পৃথিবীর কোন রথে।
তবু সে যায় নির্ভয়ে, ডানায় ভরসা নয়,
রিযিকদাতা রবের প্রতি নির্ভরতার পরিচয়।

সন্ধ্যা হলে ফিরে আসে ভরা পেটের সুখে,
রবের দান লুকিয়ে থাকে সৃষ্টির প্রতিটি মুখে।
পাখির মতো তাওয়াক্কুল যদি থাকে প্রাণে,
রহমতের দরজা খুলে যায় অজানা ঠিকানায়।

তাওয়াক্কুল মানে নয় শুধু বসে থাকা চুপ,
তাওয়াক্কুল মানে চেষ্টা করে রবের দিকে রুখ।
বীজ বুনে কৃষক যেমন আকাশপানে চায়,
ফসল ফলার আশীর্বাদ রবের কাছেই পায়।

নাবিক যেমন পাল তোলে উত্তাল নদীর বুকে,
ভরসা রাখে রবের উপর ঝড়ের ভয়কে রুখে।
রোগী যেমন ওষুধ খেয়ে দোয়া করে প্রাণে,
শিফার মালিক আল্লাহ আছেন তারই বিশ্বাসখানে।

যে আল্লাহর উপর রাখে অন্তরের নির্ভর,
তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনিই মহাশক্তিধর।
মানুষ যদি ছেড়ে যায়, না দেয় কোনো সাড়া,
রবের সাহায্য আসবেই, হবে না পথহারা।

কত রাজা এসেছে গেছে, মুছে গেছে নাম,
রয়েছে শুধু রবের কুদরত, রয়েছেন তিনি মহান।
তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ হবেই, বাধা দেবার কে?
সকল শক্তি নত হয়ে যায় তাঁর হুকুমের ডাকে।

আকাশ, জমিন, চন্দ্র, সূর্য, সাগরের কল্লোল,
সবকিছুই চলছে তাঁর নির্ধারিত অনুকূল।
কোনো কিছুই হয় না আগে, হয় না পরে কভু,
নির্দিষ্ট সময় এলে তবেই পূর্ণ করেন প্রভু।

তাই হে মুমিন, হতাশ হয়ো না কখনো,
কষ্ট দেখে বলো না আর, "শেষ হয়ে গেলো যেন।"
রব যখন আছেন সাথে, ভয় কিসের আর?
তাঁর রহমতের সাগর অশেষ, অফুরন্ত অপার।

রাত যতই দীর্ঘ হোক, ফজর আসবেই,
চোখের অশ্রু মুছে দিয়ে সুখের বাতি জ্বলবেই।
সবর আর তাওয়াক্কুলে যে রাখে জীবন গড়া,
তার জন্যই খুলে যায় জান্নাতের সোনার ধরা।

সত্তর হাজার সৌভাগ্যবান যাবে বিনা হিসাবে,
তাদের অন্তর ভরসা রাখত রবেরই আশ্রয়ে।
দুনিয়ার সব ভয়কে তারা করেছিল তুচ্ছ জ্ঞান,
আল্লাহর উপর ভরসাতেই পেয়েছিল সম্মান।

হে আল্লাহ! দাও আমাদের সত্য তাওয়াক্কুলের নূর,
যাতে ভেঙে যায় অন্তরের সকল সন্দেহ-সুর।
রিযিকের ভয়, ভবিষ্যতের চিন্তা করো দূর,
তোমার প্রেমে ভরে উঠুক হৃদয়ের প্রতিটি সুর।

দাও এমন ঈমান, যেথায় নেই কোনো দ্বিধা,
দাও এমন বিশ্বাস, যেথায় নেই মনের ক্লান্তি-বিধা।
তোমার উপর ভরসা করে কাটুক জীবনকাল,
তোমার সন্তোষেই হোক আমাদের সকল কামাল।

যে ভয় করে আল্লাহকে, তার জন্য মুক্তির পথ,
যে ভরসা রাখে আল্লাহতে, তারই সফল রথ।
এই বাণী হোক জীবনের চিরউজ্জ্বল আলো,
তাওয়াক্কুলের ডানায় ভর করে চলি রবের ভালো।

***

বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি হৃদয় জাগানিয়া গান,
রবের বাণী স্মরণ করে জাগুক ঈমানের প্রাণ।
ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াতে কতই আসে ঝড়,
তাওয়াক্কুলের আলো ছাড়া পথ হয় অন্ধকার।

যে ভয় করে আল্লাহকে গোপনে প্রকাশে,
যে চলে তাঁর বিধান মেনে সুখে কিংবা সর্বনাশে,
তারই জন্য খুলে দেন রব উত্তরণের দ্বার,
অন্ধকারের বুক চিরিয়া জ্বালেন নূরের হার।

যখন চারিদিকে শুধু বিপদেরই ঘেরাটোপ,
নেই কোনো পথ, নেই উপায়, নেই আশার রূপ,
তখন রবের অদৃশ্য সাহায্য আসে নীরব পায়ে,
বন্ধ দুয়ার খুলে গিয়ে মুক্তির সুবাস ছড়ায়।

কত মানুষ ভাবে বসেকোথা হতে হবে রিযিক?
কেমন করে চলবে জীবন, মিটবে অভাবের দিক?
রব বলেন, "হে আমার বান্দা, রেখো আমাতে ভরসা,
আমি দেব এমন উৎ হতে যা ভাবোনি কখনো আশা।"

হিসাব-নিকাশ মেলে না যার মানুষের জ্ঞানে,
রবের দান এসে পৌঁছে যায় অদেখা ঠিকানায় প্রাণে।
শুকনো মাটিতে যেমন হঠাৎ নামে বৃষ্টি,
রবের রহমত তেমনি আসে বদলে দিতে দৃষ্টি।

পাখির দিকে চেয়ে দেখো শিক্ষা কত মহান,
ক্ষুধার্ত বুকে ভোরে ছাড়ে আপন বাসস্থান।
জানে না সে কোন ডালে আজ মিলবে খাদ্যের দান,
তবু তার মনে থাকে না কোনো হতাশার গান।

সারাদিন সে খুঁজে ফেরে আকাশ-বাতাস জুড়ে,
রিযিকদাতার ভরসাতে ডানা মেলে দূরে।
সন্ধ্যা হলে ফিরে আসে পরিপূর্ণ আহার নিয়ে,
রবের কুদরত দেখিয়ে যায় নীরব ভাষা দিয়ে।

তাওয়াক্কুল মানে নয় যে অলস বসে থাকা,
হাত গুটিয়ে ভাগ্যের নামে দীর্ঘশ্বাসে ডাকা।
তাওয়াক্কুল মানে চেষ্টা করা সর্বশক্তি দিয়ে,
ফলাফলের ভারটা শুধু রবের হাতে দিয়ে।

কৃষক যখন বীজ বোনে মাঠের উর্বর বুকে,
আকাশ পানে চেয়ে থাকে আশা ভরা চোখে।
সে তো জানে ফসল ফলার মালিক এক আল্লাহ,
তাঁরই রহমত না বরষিলে বৃথা সবই চাওয়া।

নাবিক যখন উত্তাল নদীর ঢেউয়ের মাঝে যায়,
ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়ে থেকেও সাহস ফিরে পায়।
কারণ সে জানে রবের হুকুম ছাড়া কিছু নয়,
তাঁরই ইচ্ছায় নিরাপদে ফিরে আসে নৌকাখানায়।

রোগী যখন ওষুধ খায় ব্যথায় কাতর হয়ে,
শিফার আশায় হাত তোলে গভীর মিনতি লয়ে।
সে জানে না ওষুধে আছে কতটুকু উপকার,
আল্লাহ চাইলে মুহূর্তেই দূর হবে অন্ধকার।

যে আল্লাহর উপর রাখে অন্তরের নির্ভর,
তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনিই মহাশক্তিধর।
মানুষ যদি ফিরিয়ে দেয়, দুনিয়া যদি হাসে,
রবের সাহায্য যথাসময়ে ঠিকই কাছে আসে।

তিনি যা চান তাই হবে, রুখবে এমন কে?
পাহাড় নত হয় তাঁর হুকুমে, সাগর চলে ডাকে।
রাজা-বাদশাহ, ক্ষমতাবান, ধনসম্পদের ঢেউ,
রবের ইচ্ছার সামনে তারা কিছুই নয় কেউ।

আকাশজুড়ে নক্ষত্রমালা ঘুরে নিয়ম মেনে,
সূর্য ওঠে নির্দিষ্ট ক্ষণে, ডুবে যায় সন্ধ্যাবেলায় ক্ষণে।
চাঁদের কক্ষপথ নির্ধারিত, বাতাস চলে ঠিক,
রবের হুকুম ছাড়া কোথাও নেই তো বিচ্যুতি একটুও দিক।

তিনি স্থির করেছেন সবার জন্য সময়ের পরিমাণ,
জন্ম-মৃত্যু, সুখ-দুঃখ, প্রাপ্তি কিংবা ক্ষয়মান।
আগে নয়, পরে নয়, নির্ধারিত ক্ষণেই হয়,
রবের ফয়সালার সামনে বান্দার নতশির রয়।

কখনো দেরি দেখে তুমি হতাশ হয়ো না ভাই,
রবের ঘরে বিলম্ব আছে, অবিচার কিন্তু নাই।
যে দোয়া আজ কবুল হয়নি মনে হয় তোমার,
হয়তো তার উত্তম জবাব লিখা আছে অপার।

কত ইউসুফ কূপে পড়েও হয়েছেন সম্মানিত,
কত আইয়ূব ধৈর্য ধরে হয়েছেন পুরস্কৃত।
কত মূসা সাগর পেরিয়ে দেখেছেন কুদরত,
তাওয়াক্কুলের শক্তি কত ইতিহাসে স্পষ্ট।

সত্তর হাজার সৌভাগ্যবান প্রবেশ করবে জান্নাতে,
হিসাব ছাড়া রবের দানে, চিরশান্তির প্রাসাদে।
তাদের অন্তরে ছিল না কোনো সন্দেহের দেয়াল,
রবের প্রতি ভরসাই ছিল তাদের মহাসম্বল।

তারা জানতরিযিক, জীবন, মৃত্যু, সুখের দিন,
সবকিছুই রবের হাতে, তিনি দয়াময়, মহান, মহীয়ান।
মানুষের ভয় তাদের মনে জায়গা পায়নি কভু,
কারণ তাদের হৃদয় ভরা ছিল আল্লাহর প্রেমে প্রভু।

হে মুমিন! ভয় কোরো না ভবিষ্যতের কথা,
রবের লিখন বদলাতে পারে না কোনো ব্যথা।
তুমি শুধু সৎপথে চলো, আঁকড়ে ধরো দ্বীন,
দেখবে নেমে আসবে রহমত, হবে জীবন রঙিন।

যে ঘরে থাকে তাওয়াক্কুল, থাকে সবর-শুকর,
সে ঘরে নামে প্রশান্তি, দূর হয় মনের কুয়াশার পর্দা ঘোর।
অল্প রিযিকেও তারা খুঁজে পায় অশেষ বরকত,
কারণ তাদের হৃদয় জুড়ে থাকে রবের মহব্বত।

হে আল্লাহ! দাও আমাদের খাঁটি তাওয়াক্কুলের নূর,
দাও এমন ঈমান যা করবে অন্তর ভরপুর।
দাও এমন বিশ্বাস যা টলবে না ঝড়ের দিনে,
দাও এমন ধৈর্য যা রাখবে অবিচল দ্বীনের বীণে।

রিযিকের ভয় দূর করে দাও, দূর করো সংশয়,
তোমার উপর ভরসা করে কাটুক জীবনময়।
দাও এমন হৃদয়, যা তোমার ফয়সালায় রাজি,
সুখে-দুঃখে বলে শুধু"আমার রবই যথেষ্ট আজি।"

যে ভয় করে আল্লাহকে, তার জন্য মুক্তির পথ,
যে ভরসা রাখে আল্লাহতে, সফল হয় তার রথ।
এই বাণী থাকুক জাগ্রত আমাদের প্রাণের তলে,
তাওয়াক্কুলের আলো নিয়ে চলি রবের ডাকে চলে।

***

বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি নূরের পবিত্র গান,
রবের স্মরণে জেগে উঠুক নিদ্রিত ঈমানের প্রাণ।
যিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান, জমিন, চন্দ্র-সূর্যলোক,
তাঁরই হাতে জীবন-মরণ, সুখ-দুঃখ, আশা-শোক।

মানুষ কত পরিকল্পনায় রচনা করে স্বপ্নঘর,
কত হিসাব, কত চিন্তা, কত আকাঙ্ক্ষা নিরন্তর।
তবুও শেষে বুঝতে হয়, সকল কিছুর মূলে,
রবের ইচ্ছাই কার্যকর হয় বিশ্বজগত জুড়ে।

যে ভয় করে মহান রবকে নির্জনে জনসমাজে,
যে তাঁর বিধান আঁকড়ে ধরে জীবনের প্রতিকাজে,
তার জন্য খুলে যায় এমন সব রহমতের দ্বার,
যেখানে পৌঁছাতে পারে না মানুষের দৃষ্টি আর।

যখন চারিদিকে আঁধার নামে, আশা হয় নিঃশেষ,
যখন জীবনপথে নেমে আসে দুঃখের কালো আবেশ,
তখন হঠাৎ রহমতের বাতি জ্বলে অন্তর-মাঝে,
আল্লাহর সাহায্য নেমে আসে অদৃশ্য অনুপম সাজে।

কতবার মানুষ ভেবেছে"আর বুঝি রক্ষা নাই",
কতবার অশ্রু ঝরেছে, কাঁপছে বুক নিরুপায়।
তবু ঠিকই আল্লাহ তখন বান্দার পাশে এসে,
দুঃখের মেঘ সরিয়ে দেন রহমতের আলো মেখে।

রিযিকের চিন্তায় কত হৃদয় হয় অস্থির,
আগামীর ভয় মনে এনে করে জীবন অধীর।
কিন্তু রবের ঘোষণা শুনোকত মহান বাণী,
"
আমি দেব এমন উৎ হতে যা কল্পনাতেও আনি না তুমি।"

সাগরের তলে লুকিয়ে থাকে মুক্তার দামী হার,
মেঘের বুকে জমে থাকে বৃষ্টির অফুরন্ত ধার।
তেমনি অদেখা রহমতের ভাণ্ডার আছে রবের কাছে,
যা তিনি খুলে দেন তাঁর প্রিয় বান্দার মাঝে।

পাখিরা কি নিয়ে বেরোয় ভোরের প্রথম আলোয়?
নেই তো তাদের গোলাভরা খাদ্য ভবিষ্যৎ কালের তরে।
ক্ষুধার্ত বুকে ডানা মেলে আকাশপানে যায়,
রিযিকদাতার উপর ভরসা তাদের সাহস জোগায়।

সন্ধ্যা হলে ফিরে আসে পূর্ণ উদর ভরে,
রবের দান নিয়ে হাসিমুখে আপন নীড়ে ঘরে।
এই শিক্ষা দেয় প্রতিদিন ছোট্ট অবলা প্রাণ
তাওয়াক্কুলের মাঝে লুকিয়ে আছে সফলতার জ্ঞান।

তাওয়াক্কুল মানে নয় বসে থাকা অলসতার ছায়ায়,
তাওয়াক্কুল মানে চেষ্টা করা রবের সন্তোষ চায়।
বীজ বুনে কৃষক যেমন অপেক্ষা করে ফলের,
তেমনি মুমিন শ্রম দেয় আর ভরসা রাখে আল্লাহর।

নৌকার মাঝি দাঁড় টানে উত্তাল নদীর বুকে,
তবু জানে নিরাপত্তা আছে কেবল রবের সুখে।
যোদ্ধা নামে রণাঙ্গণে হাতে নিয়ে তরবারি,
বিজয় আসে আল্লাহ চাইলে, নয় কেবল প্রস্তুতি ভারী।

রোগী খোঁজে চিকিৎসা, পান করে ওষুধ,
তবুও জানে শিফা দানকারী রবই একমাত্র সুদূর।
মানুষ কারণ অবলম্বন করে বিধানের তরে,
ফলাফল রেখে দেয় সে আল্লাহরই ঘরে।

যে ব্যক্তি রাখে ভরসা মহান রবের উপর,
তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনিই সাহায্যকর।
মানুষ যদি দূরে সরে যায়, বন্ধুরা দেয় ফাঁকি,
রবের সাহায্য থাকে তখনও হৃদয়ের পাশে থাকি।

তিনি যা চান তাই হবে, বদলাবে না কেহ,
তাঁর হুকুমে সাগর ফাটে, পাহাড় হয় নতশিরে।
নমরূদের ক্ষমতা কোথায়? ফিরআউনেরই বা দাম?
রবের এক নির্দেশে মুছে যায় সকল নাম।

আকাশ ঘোরে নিয়ম মেনে, সূর্য ওঠে ঠিক,
চাঁদের কক্ষপথ নির্ধারিত, বাতাস চলে ঠিক।
গাছের পাতাও ঝরে না তাঁর অনুমতি ছাড়া,
প্রতিটি কণার হিসাব রাখেন তিনি সর্বদা।

তিনি নির্ধারণ করেছেন প্রতিটি ঘটনার কাল,
জন্মের সময়, মৃত্যুর ক্ষণ, প্রাপ্তি কিংবা জঞ্জাল।
আগে নয়, পরে নয়, হবে নির্দিষ্ট ক্ষণে,
রবের সিদ্ধান্ত বাস্তব হয় নিখুঁত বিধানে।

তাই দেরি দেখে হতাশ হয়ো না কখনো,
রবের ফয়সালায় থাকে না ভুল কিংবা কোনো ক্ষণভ্রষ্টতা যেন।
আজ যে দুঃখ মনে হচ্ছে অন্ধকারের রাত,
হয়তো তারই অন্তরালে লুকিয়ে আছে প্রভাত।

ইউসুফ আলাইহিস সালাম কূপে পড়েছিলেন একদিন,
শেষে মিসরের সিংহাসনে হয়েছিল তাঁর স্থান নির্দ্বিধায় ঋণ।
আইয়ূবের দীর্ঘ কষ্ট শেষে এসেছিল শান্তির বারতা,
মূসার সামনে সাগর ফেটে খুলেছিল মুক্তির পথটা।

ইবরাহীম আগুনে গিয়েও পাননি কোনো ক্ষতি,
কারণ তাঁর অন্তর ভরা ছিল তাওয়াক্কুলের জ্যোতি।
আল্লাহর উপর নির্ভরতা যে কত মহান শক্তি,
নবীদের জীবনকথা তার উজ্জ্বল সাক্ষ্যভূমি।

সত্তর হাজার সৌভাগ্যবান যাবে জান্নাতে বিনা হিসাব,
রবের রহমতে পাবে তারা চিরসুখের অফুরন্ত জবাব।
তাদের অন্তর ছিল ভরা ভরসা আর ইয়াকীনে,
তারা নির্ভর করত কেবল আল্লাহর শক্তি-সীনে।

হে মুমিন! ভয় পেয়ো না দুনিয়ার অস্থিরতা দেখে,
রবের রহমত লুকিয়ে আছে প্রতিটি ঘটনার পেছনে।
তুমি শুধু তাঁর পথে চলো, আঁকড়ে ধরো কুরআন,
দেখবে হৃদয় ভরে উঠবে প্রশান্তির অবিরাম গান।

যে ঘরে থাকে তাওয়াক্কুল, থাকে শুকর সবর,
সে ঘরে নেমে আসে বরকত, দূর হয় অন্তরের জ্বর।
অল্প সম্পদেও তারা পায় অশেষ সুখের স্বাদ,
কারণ তাদের হৃদয় ভরা থাকে রবের স্মরণে অবিরত।

হে আল্লাহ! দাও আমাদের তাওয়াক্কুলের আলো,
দাও এমন হৃদয় যা তোমার ফয়সালায় ভালো।
দাও এমন ঈমান যা ঝড়েও টলবে না,
দাও এমন ভরসা যা সন্দেহে ভাঙবে না।

দাও এমন চোখ যা দেখে রহমতের নিদর্শন,
দাও এমন প্রাণ যা করে শুধু তোমারই স্মরণ।
দাও এমন অন্তর যা তোমার প্রেমে বিভোর,
দাও এমন মৃত্যু যা হবে ঈমানের নূরে ভরপুর।

যে ভয় করে আল্লাহকে, তার জন্য মুক্তির পথ,
যে ভরসা রাখে আল্লাহতে, সফল হয় তার রথ।
এই বাণী থাকুক জাগ্রত হৃদয়ের গভীর তলে,
তাওয়াক্কুলের পতাকা নিয়ে চলি রবের ডাকে চলে।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

মন্তব্য করুন