সহকারী অধ্যাপক
০৮ জুন, ২০২৬ ১০:২৩ অপরাহ্ণ
নিজেকে বাঁচাও, পরিবারকে বাঁচাও মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
নিজেকে বাঁচাও, পরিবারকে বাঁচাও
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
(সূরা আত-তাহরীম ৬-এর আলোকে)
বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি হৃদয়-জাগানিয়া গান,
রবের বাণী ছড়িয়ে দিক জীবনের মহা-জ্ঞান।
হে ঈমানদার! শুনো আজ আসমানি আহ্বান,
নিজেকে বাঁচাও আগে, বাঁচাও আপন পরিজন।
আগুন আছে ভয়ংকর, শাস্তির অগ্নিকুণ্ড,
যেখানে নেই মুক্তির পথ, নেই কোনো আশ্রয়-বিন্দু।
মানুষ হবে ইন্ধন যার, পাথর হবে সাথি,
সেদিন কাঁদবে অবিশ্বাসী, হারাবে সকল গাঁথি।
সেই আগুনের প্রহরী সব কঠোর ফেরেশতা,
আল্লাহর হুকুম মানে তারা, নেই অবাধ্যতা।
নেই সেখানে সুপারিশ, নেই কোনো ক্ষমা-দ্বার,
হুকুম পেলে পালন করে অবিরাম বারবার।
তাই তো প্রভু ডেকেছেন করুণাময় সুরে,
"বাঁচাও নিজেদের আগে, আপনজনকে ঘিরে।"
শুধু নিজের মুক্তি চেয়ে থেমে থেকো না আর,
পরিবারের হিদায়াতও তোমার উপর ভার।
বাবা তুমি ঘরের মাঝে দায়িত্বশীল জন,
সন্তানদের ঈমান শেখাও, শেখাও আলোর পণ।
মা তুমি স্নেহের ছায়া, ভালোবাসার নীড়,
সন্তান যেন দ্বীনের পথে হয় অবিচল ধীর।
স্বামী তুমি স্ত্রীকে ডাকো তাহাজ্জুদের ক্ষণে,
স্ত্রীও ডাকে স্বামীকে রবের প্রেমের বনে।
যে ঘরে নামে সালাতের সুর, কুরআনের তিলাওয়াত,
সেই ঘরে নামে রহমতের অমল মধুর বারাত।
সাত বছরে সন্তান যখন পৌঁছে যায় ধীরে,
সালাত শেখাও ভালোবেসে কোমল আদর ঘিরে।
দশ বছরে অবহেলা করলে যদি কভু,
শিক্ষার কঠোরতায় বোঝাও সালাত কত প্রভু।
শুধু নামায নয় যে শুধু, শিক্ষা দিতে হবে,
রোযা, যাকাত, সৎচরিত্র হৃদয়ে গড়ে রবে।
হালাল-হারামের জ্ঞান যেন শৈশব থেকে পায়,
দ্বীনের পথে জীবন গড়ে রবের সন্তুষ্টি চায়।
কত পিতা ব্যস্ত শুধু দুনিয়ারই পিছে,
সন্তানের হৃদয়টাকে রাখে না যে খুঁজে।
ডিগ্রি দিল, ধনও দিল, দিল বড়ো ঘর,
ঈমানহারা সন্তান দেখে কাঁদে অন্তর।
কত মাতা সাজায় শুধু বাহ্যিক জীবনের রূপ,
আখিরাতের শিক্ষা দিতে করে না যে সূচনা কূপ।
যে সন্তান রবকে চেনে না, জানে না কুরআন,
কেমন করে পাবে তবে জান্নাতের সম্মান?
পরিবারের প্রতিটি প্রাণ আমানত আল্লাহর,
জিজ্ঞাসা হবে কিয়ামতে, কী ছিল তোমার কার্য?
সন্তানকে কি শিখিয়েছ সত্যের আলোকধারা?
নাকি তাকে ছেড়ে দিয়েছ অন্ধকারের কারা?
বন্ধু যদি বিপথে যায়, ডেকো তাকে ফিরে,
ভাই যদি ভুল পথে চলে, দাঁড়াও তারই তীরে।
বোন যদি হারায় লজ্জা, পর্দার শিক্ষা দাও,
স্নেহ-মমতার বন্ধনে তাকে কাছে পাও।
কঠোরতা নয় নিষ্ঠুরতা, চাই না রূঢ় বচন,
ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে করো হৃদয় জয়গণ।
নবীর পথ ছিল দয়া, ছিল মমতার ঢেউ,
সেই আদর্শ আঁকড়ে ধরে জীবন গড়ো নও।
যে ঘরে কুরআন পড়ে, ফেরেশতা আসে,
শয়তান তখন দূরে সরে, ভয় পালিয়ে ভাসে।
যে ঘরে রবের স্মরণে জেগে ওঠে প্রাণ,
সেই ঘর যেন জান্নাতের ক্ষুদ্র এক উদ্যান।
আজও যদি সময় থাকে, ফিরে এসো ভাই,
আল্লাহর ডাকে সাড়া দাও, সুযোগ এখনো পাই।
নিজেকে আর পরিবারকে আগুন হতে বাঁচাও,
ঈমান, আমল, তাকওয়ার পথে সবাইকে ডাকাও।
হে আল্লাহ! আমাদের ঘর করো নূরের ঘর,
সন্তানদের করো তুমি দ্বীনের পথের পর।
মা-বাবাদের দাও হিদায়াত, দাও উত্তম জ্ঞান,
পরিবারে জাগিয়ে দাও ঈমানের গান।
যেন কিয়ামতের ময়দানে লজ্জিত না হই,
অবহেলার কারণে যেন হতাশাতে না রই।
সন্তান, স্বজন, প্রিয়জন সবাই হাতে হাত,
জান্নাতের পথে চলি আমরা তোমারই সাথে।
যাবানিয়ার কঠোর মুখ যেন না দেখি আর,
রহমতের ছায়ায় কাটুক অনন্তকাল পার।
জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা করো প্রাণ,
পরিবারসহ দান করো ফিরদাউসের স্থান।
সেদিন যখন ডাক আসবে হিসাবের ময়দানে,
আমলনামা হাতে নিয়ে দাঁড়াবো সবার টানে।
তখন যেন বলতে পারি বিনম্র হৃদয় ভরে—
"হে রব! চেষ্টা করেছি তোমারই আদেশ ধরে।"
নিজেকে বাঁচিয়েছি আমি, ডেকেছি আপনজন,
তোমার দ্বীনের আলোয় গড়েছি পরিবারের মন।
তুমি দয়াময়, তুমি ক্ষমাশীল, তুমি মহান,
তোমার রহমতেই হোক আমাদের পরিণাম।
আমীন, হে রব্বুল আলামীন।
***
আগুন থেকে বাঁচাও আপন পরিবার
বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি প্রভুর নামে গান,
যাঁর দয়াতে জাগে হৃদয়, জাগে ঈমানের প্রাণ।
যাঁর বাণীতে আলোকিত নভোমণ্ডল-ভূবন,
যাঁর হুকুমে স্থির রয়েছে সৃষ্টি-জগত-গগন।
হে ঈমানের পথিকগণ! শোনো রবের বাণী,
যে বাণীতে লুকিয়ে আছে মুক্তির চিরখানি।
হে বিশ্বাসী! জাগো আজ, জাগাও আপন ঘর,
আগুন থেকে বাঁচাও নিজে, বাঁচাও আপন পর।
সামনে আছে ভয়ংকর এক বিচারের প্রভাত,
যেখানে ধন, মান, বংশ গৌরব হবে ম্লানসাৎ।
ক্ষমতা আর অহংকারের হবে না কোনো দাম,
সেদিন কেবল কাজে লাগবে ঈমানভরা নাম।
যে আগুনের ইন্ধন হবে মানুষ আর পাথর,
যার উত্তাপে গলবে হৃদয়, কাঁপবে বিশ্বচরাচর।
যেখানে নেই মৃত্যুর স্বাদ, নেই কোনো অবসান,
শুধু আফসোস, শুধু হাহাকার, শুধু দীর্ঘশ্বাসের গান।
সেখানে আছে ফেরেশতা কঠোর, নির্মম বেশ,
রবের হুকুম পালনে যাদের নেই অবহেলার রেশ।
নেই তাদের অন্তরে দয়া অপরাধীর তরে,
আল্লাহ যা বলেন, তাই করে নিরবধি অন্তরে।
সেদিন যদি সন্তান কাঁদে—"আব্বা! আমায় বাঁচাও!"
পিতা তখন অসহায় হয়ে অশ্রুধারা ঝরাও।
মা যদি ডাকে—"হে সন্তান! ধরো আমার হাত!"
সন্তানও বলবে—"আজকে আমার নেই সে সামর্থ্য মাত্র।"
ভাই তখন ভাইকে ছেড়ে নিজের মুক্তি চায়,
বন্ধুত্বের সকল দাবি ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
স্বামী-স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন দূরে সরে যাবে,
নিজের বোঝা নিজেকেই সেদিন বহন করতে হবে।
তাই তো আগে সতর্ক করেন দয়াময় রহমান,
“নিজেকে বাঁচাও, বাঁচাও পরিবার-পরিজন।”
শুধু নিজের আমল নয়, শুধু নিজের দায় নয়,
পরিবারের হিদায়াতেও তোমার দায়িত্ব রয়।
তুমি যদি ঘরের কর্তা, তুমি ঘরের বাতি,
তোমার চোখে দেখবে সবাই সত্যপথের গাঁথি।
তোমার কথায় শিখবে তারা হালাল-হারামের জ্ঞান,
তোমার জীবন দেখেই গড়বে ভবিষ্যতের প্রাণ।
মা তুমি ঘরের মাদ্রাসা, প্রথম শিক্ষাগুরু,
তোমার কোলে শিখে শিশু আল্লাহর প্রেম ভরু।
তোমার মুখের মধুর বাণী, কুরআনের তিলাওয়াত,
শিশুর হৃদয় গড়ে তোলে জান্নাতেরই প্রভাত।
যে ঘরে ফজরের আজান জাগায় প্রতিটি প্রাণ,
যে ঘরে কুরআনের সুরে ভরে ওঠে আঙিনাখান,
যে ঘরে সন্তান দেখে পিতার সিজদার দৃশ্য,
সেই ঘরেই জন্ম নেয় ঈমানের মহাবৃক্ষ।
সাত বছর বয়স হলে সন্তানকে ডাকো,
সালাতের পথে ভালোবেসে ধীরে ধীরে রাখো।
নরম হাতে শেখাও তাকে সিজদার মধুর স্বাদ,
যাতে তার অন্তরে জাগে রবের প্রতি সাধ।
রোযার মাসে বোঝাও তাকে সংযমের অর্থ,
সত্যবাদিতা শেখাও তাকে, চরিত্রের মহার্থ।
দয়ার শিক্ষা, লজ্জার শিক্ষা, আদব-আখলাক,
এসব নিয়েই গড়ে ওঠে মুমিন জীবনের ফাঁক।
শুধু বিদ্যালয় নয় যে সব, শুধু ডিগ্রি নয়,
ঈমানহারা জ্ঞান কখনো প্রকৃত সফল নয়।
যে হৃদয়ে আল্লাহ নেই, নেই আখিরাত ভাব,
সে জ্ঞান যেন মরুভূমির মরীচিকারই ছাপ।
কত পিতা অর্থের নেশায় ব্যস্ত দিন-রাত,
সন্তানের হৃদয়খানায় পড়ে থাকে অন্ধকারের ঘাট।
ঘর বানালো, গাড়ি কিনল, জমালো ধনের পাহাড়,
কিন্তু সন্তান হারিয়ে গেল গুনাহের অন্ধকার।
কত মাতা সাজায় শুধু দুনিয়ার বাহার,
আখিরাতের শিক্ষা দিতে থাকে না প্রস্তুতার।
সন্তান যখন বড় হয়ে ভুল পথে যায় ধীরে,
তখন অশ্রু ঝরে শুধু অসহায়ের নীড়ে।
হে মুমিন! মনে রেখো, সন্তান তোমার নয়,
আল্লাহর দেওয়া আমানত, ক্ষণিকেরই সঙ্গময়।
তোমার কাছে জিজ্ঞাসা হবে—"কেমন রাখলে তাকে?"
"সত্যের পথে ডেকেছিলে, নাকি ছেড়েছিলে ফাঁকে?"
রাসূলের ঘরে দেখো কেমন ছিল আদর্শ দীপ,
নিজে জেগে ডাকতেন তিনি পরিবারের প্রতিপ।
তাহাজ্জুদের নীরব রাতে জাগাতেন আপনজন,
রবের সান্নিধ্য লাভে করতেন আহ্বান।
তিনি ছিলেন দয়ার সাগর, ছিলেন শ্রেষ্ঠ পথ,
পরিবারকে শিখিয়েছেন ঈমানের মহারথ।
তাঁর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরো, তাতেই মুক্তি রয়,
এ পথ ছেড়ে অন্য পথে চিরকল্যাণ নয়।
আজকে যদি ঘরে ঘরে জাগে দ্বীনের আলো,
হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে যায়, জীবন হয় ভালো।
স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা বাড়ে আল্লাহর তরে,
সন্তান বড় হয় তাকওয়ার সুশীতল ঘেরাটোপে।
যে ঘরে মিথ্যা থাকে না, থাকে না প্রতারণা,
যে ঘরে সালাত প্রতিষ্ঠিত, নেই গুনাহের কারখানা,
সে ঘরে নামে শান্তিধারা, রহমতের বর্ষণ,
সেই ঘর যেন পৃথিবীতে জান্নাতেরই স্পন্দন।
আসো তবে আজকে সবাই নতুন শপথ করি,
নিজের আগে পরিবারকে দ্বীনের পথে ধরি।
সন্তানদের হাতে তুলে দেই কুরআনের আলো,
ঈমানের বীজ বপন করি হৃদয়েরই তলে ভালো।
হে আল্লাহ! আমাদের ঘর করো নূরের মিনার,
যেখানে জাগে তাকওয়ার ফুল, ঈমানের সমাহার।
আমাদের সন্তানদের করো সৎকর্মের সাথী,
তোমার প্রেমে রাঙিয়ে দাও তাদের জীবনের গাঁথি।
পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান ও স্বজন,
সবার অন্তর ভরিয়ে দাও হিদায়াতের চেতন।
যেন আমরা আগুন হতে মুক্তি লাভ করি,
ফিরদাউসের ছায়াতলে একত্রে বাস করি।
যেদিন কাঁপবে মহাবিশ্ব, ভাঙবে সব অহংকার,
সেদিন যেন রহমতের ছায়া থাকে আমাদের পার।
আমলনামা ডান হাতে নিয়ে হাসিমুখে বলি—
"হে রব! তোমারই আদেশে চলার চেষ্টা করেছি চলি।"
নিজেকে বাঁচাতে চেয়েছি, বাঁচাতে চেয়েছি ঘর,
তোমার দ্বীনের আলো ছড়িয়েছি অন্তর ভর।
আজ তুমি রহম করো, তুমি ক্ষমা করো প্রাণ,
পরিবারসহ দান করো জান্নাতের সম্মান।
আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।
***
নিজেদের বাঁচাও, পরিবারকে বাঁচাও
বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি, দয়ার সাগর নামে,
যিনি রাখেন সৃষ্টি জগৎ অনন্ত করুণাধামে।
যাঁর ইশারায় সূর্য ওঠে, চাঁদ ছড়ায় আলো,
যাঁর বাণীতে মুমিন হৃদয় খুঁজে পায় পথ ভালো।
হে ঈমানদার! শুনো আজ মহান রবের ডাক,
ঘুমিয়ে থেকো না আর কভু, ভেঙে ফেলো ফাঁক।
নিজের প্রাণকে বাঁচাও আগে গুনাহের অন্ধকার,
পরিবারকেও বাঁচাও সাথে, এ যে তোমার ভার।
সামনে আছে একদিন কঠিন বিচারের ক্ষণ,
যেদিন খুলে যাবে সবার আমলেরই পণ।
সেদিন ধন আর ক্ষমতা কিছুই হবে না কাজ,
আল্লাহভীরু হৃদয় ছাড়া মিলবে না পরিত্রাণ আজ।
যে আগুনের জ্বালানি হবে মানুষ আর পাথর,
যার ভয়ে কেঁপে উঠবে আকাশ, জমিন, সাগর।
যেখানে নেই বিশ্রাম কোনো, নেই শান্তির ছায়া,
সেখানে শুধু আক্ষেপ জাগে, শুধু কান্না গাঁথা।
সেই আগুনের প্রহরী সব কঠোর ফেরেশতা,
আল্লাহর হুকুম মানে তারা, নেই অবাধ্যতা।
নেই সেখানে সুপারিশ, নেই কোনো উপায়,
অপরাধী কাঁদবে শুধু, মুক্তির পথ না পায়।
তাই তো প্রভু সতর্ক করে বললেন আপন বান্দায়,
“নিজেদেরকে বাঁচাও আগে, পরিবারকে সাথে নাও।”
এই নির্দেশ শুধু নয় যে নিজের আমল গড়া,
ঘরের মানুষ দ্বীনে চলে—সেটাও দেখতে হবে সারা।
তুমি যদি হও পিতা, তবে ঘরের নেতা তুমি,
তোমার হাতে গড়ে ওঠে আগামী দিনের ভূমি।
তোমার মুখে যদি থাকে কুরআনের বাণী,
সন্তানের হৃদয় ভরে ঈমানেরই পানি।
তুমি যদি হও মাতা, স্নেহের শীতল ছায়া,
তোমার কোলে শেখে শিশু রবের প্রেমের মায়া।
তোমার চোখে যদি থাকে তাকওয়ার দীপ্তি জাগ্রত,
সন্তানও শিখবে ধীরে ধীরে আল্লাহপ্রেমে উদ্বুদ্ধ।
কত ঘরে আজ আলো আছে, নেই তবে ঈমান,
কত ঘরে আছে সম্পদ, নেই কুরআনের জ্ঞান।
কত ঘরে সাজসজ্জা আর বিলাসিতার ঢেউ,
কিন্তু সালাতের ডাক শুনে জাগে না কেহ কেউ।
কত পিতা অর্থের নেশায় কাটান দিনরাত,
সন্তানের হৃদয়খানি থাকে শূন্য প্রভাত।
কত মাতা দুনিয়ার রূপে ব্যস্ত অবিরাম,
আখিরাতের শিক্ষা দিতে করেন না আয়োজন।
সন্তান যখন বড় হয়ে ভুলের পথে যায়,
তখন বুকের ভেতর শুধু হাহাকারই জাগায়।
তাই তো আগে শিখাও তাকে রবের পরিচয়,
আল্লাহভীতি ছাড়া জীবনে সত্য সফল নয়।
সাত বছর বয়স হলে সালাতের ডাক দাও,
ভালোবাসার মিষ্টি সুরে মসজিদের পথ দেখাও।
দশ বছরে পৌঁছলে যদি অবহেলা করে,
শিক্ষার কঠোর শাসন দাও প্রজ্ঞার অন্তরে।
রোযা শেখাও, সত্য শেখাও, শেখাও নম্রতা,
শেখাও যেন মানুষের প্রতি থাকে মমতা।
শেখাও হালাল, শেখাও হারাম, শেখাও সৎপথ ধরা,
শেখাও যেন মিথ্যার সাথে না করে আপস করা।
যে ঘরে ফজরের আজানে জেগে ওঠে প্রাণ,
যে ঘরে প্রতিদিন শোনা যায় কুরআনের জ্ঞান,
যে ঘরে সন্তান দেখে পিতার দীর্ঘ সিজদা,
সেই ঘরে রহমত নামে, দূরে সরে ফিতনা।
যে ঘরে স্ত্রী স্বামীকে ডাকে তাহাজ্জুদের তরে,
যে ঘরে স্বামী স্ত্রীকে নেয় রবের স্মরণের ঘরে,
যে ঘরে সবাই মিলে করে আল্লাহর জিকির,
সেই ঘরে ফেরেশতারা করে রহমতের নাযিল।
হে মুমিন! ভুলে যেও না, পরিবার আমানত,
তাদের প্রতি দায়িত্ব তোমার মহান ইবাদত।
কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা হবে মহান রবের দরবারে,
“কেমন ছিলে অভিভাবক তোমার সংসার ঘরে?”
বলতে পারবে কি সেদিন—“হে রব! করেছি চেষ্টা,
তোমার দ্বীনের আলো ছড়িয়েছি নিরন্তর যথা।
নিজে চলেছি সত্যপথে, ডেকেছি আপনজন,
তোমার প্রেমে গড়তে চেয়েছি পরিবারের মন।”
আসো তবে আজকে সবাই নতুন শপথ করি,
নিজের ঘরে দ্বীনের আলো জ্বালিয়ে তুলে ধরি।
সন্তানের হাতে কুরআন দেই, হৃদয়ে দেই নূর,
তাকওয়ার পথে চলতে শেখাই সকাল, সন্ধ্যা, ভোর।
হে আল্লাহ! আমাদের ঘর করো নূরের বাগান,
যেখানে ফুটে ঈমানের ফুল, তাকওয়ার সম্মান।
আমাদের সন্তানদের করো কুরআনের সাথী,
সুন্নাহর পথে গড়ে দাও তাদের জীবনের গাঁথি।
যেন না হয় তারা কোনোদিন গাফিল ও পথহারা,
যেন না হয় দুনিয়ার মোহে আখিরাতে হারা।
তোমার প্রেমে ভরে দাও তাদের কোমল প্রাণ,
তোমার ভয়ে সিক্ত হোক তাদের অন্তঃস্থান।
যেদিন কাঁপবে মহাবিশ্ব, নিভে যাবে আলো,
যেদিন সবার আমল নিয়ে বিচার হবে ভালো,
সেদিন যেন পরিবারসহ দাঁড়াতে পারি হাসি,
তোমার রহমতের ছায়াতলে পাই জান্নাতবাসী।
নিজেদেরকে বাঁচিয়েছি, বাঁচাতে চেয়েছি ঘর,
এই সাক্ষ্য যেন দিতে পারি তোমার সামনে পর।
হে দয়াময়! হে ক্ষমাশীল! কবুল করো প্রাণ,
পরিবারসহ দান করো ফিরদাউসের সম্মান।
আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।
৫৩
৯১ মন্তব্য