সিনিয়র শিক্ষক
১০ জুন, ২০২৬ ০৭:২৫ অপরাহ্ণ
জাতি কেমন শিক্ষা বাজেট দেখতে চায়!
শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘বিগত সরকারের আমলে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ কখনোই দেড় শতাংশের বেশি যায়নি, দক্ষ মানবপুঁজি তৈরি করতেই শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা নিশ্চিতের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষতাও বৃদ্ধি প্রয়োজন। ডিজিটাল ক্লাসরুমের ব্যাপারে বিগত সরকার ব্যর্থ ছিল, স্বচ্ছ ও জবাবাদিহির অভাব ছিল। এ সরকার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইন্টাররেক্টিভ ডিজিটাল ক্লাসরুম করার দিকে এগোচ্ছে।’ আওয়ামী সরকারের আমলে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব করা হয়েছিল, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে; কিন্তু ক্লাসরুমগুলোর কম্পিউটার ধুলায় গোসল করছে। কারণ কি? আমরা যে কায়দায় পড়াই, মূল্যায়ন করি তাতে কম্পিউটার ল্যাবের সঙ্গে আমাদের পড়াশোনার খুব একটা মিল নেই। তাছাড়া এসব কাজে অনেকেই অভ্যস্ত নন। শুধু অর্থ খরচ অথচ শিক্ষার বহু কাজ পড়ে আছে যেগুলো করতে পারলে শিক্ষার যে চরম দৈন্যদশা সেটি থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাওয়া যেত। ডিজিটাল ল্যাব ছাড়াও শিক্ষা খাতে বিশাল বিশাল প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে দেখা যায় কিন্তু আসল জায়গায় পরিবর্তন দেখা যায় না। বর্তমানে মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে চলছে ‘লেইস প্রজেক্ট’ প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে এই প্রজেক্টের মাধ্যমে। জানিনা এর পর শিক্ষা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, ‘প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ও ক্রিয়াশীল ক্লাসরুম গড়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান আছে এমন তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্তির কথাও জানান তিনি।’ এখানে বিরাট একটি বিষয় আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি। বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে পৃথিবীর প্রায় সব দেশে চালু ইংরেজি ভাষাটি যে আমাদের দেশে বার বছর পড়ানো হচ্ছে তাতে কজন শিক্ষার্থী বাস্তব জীবনে ব্যবহার করার মতো ইংরেজিতে একটি স্কিলও কি অর্জন করতে পারছে? অনেক কারণের ভেতর সে ধরনের শিক্ষকের অভাব, দ্বিতীয়ত জাতীয় পরীক্ষায় ভাষার মূল্যায়ন হচ্ছে অন্য সব বিষয়ের মতো। ফলে ভাষাটি ঠিক অন্য কোনো বিষয়ের মতো পড়ে শিক্ষার্থীরা পাস করছে। তাদের পাস করানোর জন্য শিক্ষক থেকে শুরু করে কোচিং এবং বিভিন্ন সহায়ক বইগুলো বাংলায় পড়াচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছে ইংরেজি বিষয়টি সহজতর করার জন্য, ভাষাটি জানানোর জন্য নয়। এ বিষয়ে কোনো কার্যকরী উদ্যোগ কখনো নেওয়া হয়নি, যার ফলে বিষয়টি পড়ার উদ্দেশ্যের সঙ্গে যারা পড়াচ্ছেন তাদের যেমন স্পষ্ট ধারণা নেই , এই বিষয়ে আমাদের মূল্যায়ন ব্যবস্থাও তাই। অথচ লক্ষ লক্ষ ইংরেজি শিক্ষক আমরা নিয়োগ দিয়ে রেখেছি। এই বাস্তবতায় তৃতীয় আর কোন ভাষাটি পড়ানোর চিন্তাভাবনা সরকার করছে এবং কীভাবে সেটি পড়ানো হবে তার রূপরেখা কি, পরিকল্পনা কি সেগুলো স্পষ্ট না হলে শুধু বলার জন্য বলা হলে কতটা কার্যকর হবে সেটি একটি চিন্তার বিষয়।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। দক্ষ জনবল তৈরি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সরকার এ দুই খাতে উল্লেখযোগ্য হারে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যতটা জানা যাচ্ছে যে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষায় ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় ৪২ হাজার ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হচ্ছে। দুই খাতে মিলিয়ে মোট বরাদ্দ দাঁড়াচ্ছে ৯২ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৯ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা বেশি। সর্বোচ্চ ব্যয়ের ১০টি খাতের জন্য মোট ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এসব খাতে বরাদ্দ ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে এই খাতগুলোতে মোট বরাদ্দ বাড়ছে ৩০ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। এই তালিকায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এ বিভাগের বরাদ্দ ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। ফলে আগামী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ২ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪২ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৮ হাজার ৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে। বাজেট উত্থাপনের পর আমরা জানতে পারব এর আসল চিত্র, হয়তো এর চেয়ে কিছু কম বা বেশি হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করা হয়েছে। সে আলোকে শিক্ষা খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’ আমরা এসব মন্তব্যের সঙ্গে পুরো একমত পোষণ করছি কিন্তু আমাদের আগে শিক্ষার মূল দর্শন ঠিক করতে হবে। দেশের ১০ হাজার ৭৪০টি স্কুলে কোনো খেলার মাঠ নেই। মাঠের অভাবে শিশুরা মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ডিভাইসে আসক্ত হয়ে পড়ছে এবং সৃজনশীল কাজে যুক্তি হতে পারছে না। ফলে শিশুরা একরকম মানসিক বৈকল্য নিয়ে বেড়ে উঠছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যারা পড়াচ্ছেন তাদের মধ্যে পাঁচশত শিক্ষকের কাগজপত্র ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। যারা এগুলো বের করছেন তারা নিজেরাই দুর্নীতির সাগরে হাবুডুব খাচ্ছেন। বাংলাদেশের সব ধরনের শিক্ষক মিলিয়ে প্রায় দশলাখ শিক্ষক কাজ করছেন। তাদের মধ্যে কত শতাংশ শিক্ষক আসলে তাদের লেভেল অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রমের উপযুক্ত সেটি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সেজন্য একটি লেভেল টেস্ট করা দরকার।
লেভেল টেস্টের মাধ্যমে শিক্ষকদের একটি গ্রেডিং করতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি গ্রেডিং করতে হবে। শিক্ষকদের লেভেল অনুযায়ী সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। যারা সত্যিকার অর্থে মুটিভেটেড, ডেডিকেটেড এবং সৃজনশীল তারা এবং এর ধারে কাছেও যারা নেই তারাও একই ধরনের সুবিধা প্রাপ্ত হবে সেটি উপযুক্ত শিক্ষকদের ডিমুটিভেটেড করে এবং মেধাবীরা এই পেশার আসায় অনীহা প্রকাশ করেন। লেভেল টেস্টের বিষয় হবে নিজ বিষয়, পেডাগজি এবং সাধারণ জ্ঞান। সবাইকে গণহারে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই। লেভেল টেস্ট দেখে নির্ধারণ করতে হবে কাদের কোথায় প্রশিক্ষণ প্রয়োজন কিংবা নিজেদের উন্নত করার জন্য সময় দেওয়া, তাদের প্রেজেন্টেশন দেখা ও ক্লাস ফলোআপ করা। তবে, লেভেল টেস্ট শিক্ষকদের বাদ দেওয়ার জন্য নয়। তারপর আমরা যাতে ভালো শিক্ষক পাই সেজন্য গ্র্যাজুয়েশন লেভেলের পরীক্ষাও অত্যন্ত মানসম্পন্ন হতে হবে যাতে একজন শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি নিলে আমাদের কোনো সন্দেহ না থাকে। এই দুটি কাজ প্রথম দরকার শিক্ষায় কোয়ালিটি নিশ্চিতের জন্য। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় সব শিক্ষকই আসেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, কাজেই এখানকার পরীক্ষাগুলো হতে হবে ‘লিকপ্রুফ’, যাদের হাতে আমাদের শিশুদের ছেড়ে দিলে তারা যেন আসলে কিছু শেখাতে পারেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে অত্যন্ত মানসম্পন্ন করতে হবে কারণ প্রাথমিক মাধ্যমিক এমনকি উচ্চ মাধ্যমিকেও বড়সংখ্যক শিক্ষক আসেন এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, অন্যগুলো থেকে এখনো সে হারে শিক্ষকতায় আসছেন না। তারপর শিক্ষা কি সরকারিতে চলবে না বেসরকারি পর্যায়ে, না যৌথ উদ্যোগে, তার সুরাহা হতে হবে স্পষ্ট। তবে, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা যাতে নিয়মিত এবং মানসম্পন্ন হয় সেটি দেখতে হবে। এর পরের কাজ হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ম্যাপিং, ------ জনসংখ্যা ও স্থানানুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে কি না। জনসংখ্যা অনুযায়ী আমাদের কোন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি---------না প্রাথমিক বিদ্যালয়, না মাধ্যমিক না কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়। তাই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষার্থীও আছে আবার ৩ হাজারও আছে। কতসংখ্যক জনসংখ্যার জন্য কয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকবে, কয়টি মাধ্যমিক থাকবে তার কোনো হিসাবে নেই। এতে সম্পদের অপচয় হচ্ছে। তাই বহুবার বলেছি যে, একটি ম্যাপিং হওয়া দরকার, যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জনসংখ্যার অনুপাতে থাকে, শিক্ষক শিক্ষার্থীর অনুপাত বেশামাল অবস্থায় না থাকে। যেমন ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানে একটি শ্রেণিতে ২০-৪০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, তাদের সংখ্যা কম। আবার অনেকগুলোতে ৬০-১২০ বা তারও বেশি অর্থাৎ ইন্টারঅ্যাকশনের কোনো সুযোগ নেই। এগুলো নিয়ে কোনো সরকার চিন্তা করে না, চিন্তা হয়তো করে; কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণে করেনি, বাস্তবায়ন তো দূরের কথা। সবাই এসেই শুরু করে কারিকুলাম পরিবর্তন করতে হবে। অনেক উচ্চাভিলাষি চিন্তা, কথাবার্তা ও উন্নত বিশ্বের আদলে যেসব কথা ও পরামর্শের কথা শোনা যায় সেগুলোর মধ্যে অনেক আমাদের বাস্তবতায় যায় না।
আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে এগুলো। এগুলোকে পাস কাটিয়ে ডিজিটাল ল্যাব, প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম পরিবর্তন ইত্যাদি করা হলে সমস্যা তো আগের চেয়ে আরও বেড়ে যাবে। কে বাস্তবায়ন করবে উন্নত বিশ্বের আদলের শিক্ষাক্রম? এখন যা আছে তার মধ্যে থেকেই টিচিং-লার্নিং সিচুয়েশন শতকরা ৭০-৮০ ভাগ ঠিকমতো চালাতে পারলেই অনেক কিছু অর্জন সম্ভব। শিক্ষকদের অসন্তুষ্টির মধ্যে রেখে এবং যারা আসলে এই পেশার উপযুক্ত নয় এবং জনসংখ্যা অনুপাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনর্বণ্টন না করে অন্য কিছু বাস্তবায়নের চেষ্টা আমাদের বিগত বছরগুলোতে শিক্ষার মান যেমন তলানিতে নিয়ে এসেছে, এখনো সে ধরনের চেষ্টা করা হলে শিক্ষা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটি এক বিরাট চিন্তার বিষয়। উপরোক্ত কাজগুলো ঠিকভাবে করার জন্য একটি বড় অঙ্কের বাজেট প্রয়োজন।
আমাদের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা আছে হযবরল অবস্থায়, সেগুলো ঠিক করার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব উচ্চশিক্ষা প্রসারণের; কিন্তু আমরা এগুলোর চেয়ে সব সরকারের আমলে তোড়জোড় দেখি শুধু বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের। জানি না এ দর্শনের পেছনে কি কারণ আছে।
শিক্ষা বাজেট জিডিপির দুই শতাংশেরও নিচ থেকে ৫ চলে যাওয়ার ঘোষণা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক মনে হয়। এখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এই অর্থের সংস্থান কোথা থেকে হবে? জনগণকে কি আরও ট্যাক্স দিতে হবে নাকি অন্য কোনো উপায়ে যা জনগণের ওপর চাপানো হবে না। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার মূল দর্শন কি আমরা ঠিক করেছি? কোন খাতে এটি ব্যয় করা হবে? সেটি ঠিক করতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যাবলিকে প্রায়রোটাইজ করতে হবে। সেটি কি আমরা করেছি? করে থাকলে সেটিও আলোচনায় আসা উচিত। তা না হলে অর্থের মারাত্মক অপচয় হবে। আমরা শিক্ষায় হাজার হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট দেখেছি কিন্তু তার কোনটিরই প্রতিফলন শ্রেণিকক্ষে পড়েনি, শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়নি। অন্তত অর্থ খরচ অনুপাতে।
শিক্ষার মূল দর্শন ঠিক না হলে যেটি হতে পারে—প্রচুর অর্থ পাওয়া গেল, এবার শিক্ষা উন্নয়নের নামে শুরু কর ট্রেনিং, কিসের ট্রেনিং, কেন ট্রেনিং কাদের ট্রেনিং কীভাবে ট্রেনিং এগুলোরও ঠিক নেই। শুধু নির্বাহী আদেশে শিক্ষকরা ক্লাসরুম ছেড়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সেভাবে পাত্তা না দিয়ে, শিক্ষার্থীদের দিনের পর দিন ক্লাস থেকে বঞ্চিত রেখে প্রশিক্ষণে চলে যান, যার কোনো প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই না তাদের বিষয়জ্ঞান বৃদ্ধিতে, ইনোভেশনে, সৃজনশীলতায় এমনকি আচার আচরণেও। আমি এখনো দেখি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা হয় যারা সবাই সরকারি কোনো না কোনো প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত। অথচ তারা নতুন কারও সঙ্গে কিংবা পরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলতে কীভাবে অ্যাড্রেস করতে হবে, তা জানেন না। নিজের পরিচয় না দিয়ে, কোথা থেকে বলছেন, কেন বলছেন কোন ধরনের বিষয় উল্লেখ না করে শুধু নিজের চাহিদার কথা বলছেন। কিছুই বোঝা যায় না। তারা সবাই কিন্তু বহুবার বহু প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই তার প্রতিফলন। প্রশিক্ষণে বেশি যেটি অর্জিত হয় সেটি কিছু অর্থ। আর যারা পরিচালনা করেন তাদের বড় অঙ্কের অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যয় করা এবং তাদেরও একটা বড় অঙ্ক অর্জন করা, সেই টার্গেট পূরণ নিয়েই তারা ব্যস্ত। শিক্ষায় সমস্যা অনেক কিন্তু সেগুলো সব একসঙ্গে সমাধানযোগ্য নয়, সম্ভবও নয়। তবে, অসম্ভব ও বাস্তবের সঙ্গে যায় না এমন সব পরিকল্পনাও যাতে না হয় সেদিকে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।
৭৩
১৪৬ মন্তব্য