সহকারী শিক্ষক
১১ জুন, ২০২৬ ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
বন্ধুত্ব ও অনিন্দিতার নিবেদিতা
বন্ধুত্ব ও অনিন্দিতার নিবেদিতা!
অনিন্দিতা আর তমাল কলেজ জীবনের বন্ধু। অনিন্দিতা তখন প্রথম বর্ষের ছাত্রী, আর তমাল দ্বিতীয় বর্ষে। কলেজে ভর্তি হওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তাদের পরিচয়, আর সেই পরিচয় ধীরে ধীরে রূপ নেয় গভীর বন্ধুত্বে।
দুজনেরই বই পড়ার প্রতি ছিল প্রবল ভালোবাসা। তাই প্রায় প্রতিদিন বিকেলে তারা যেত উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরিতে। বইয়ের পাতায় পাতায় তারা খুঁজে নিত নতুন পৃথিবী, নতুন চিন্তা আর নতুন স্বপ্ন। সেই সময়গুলোই ছিল তাদের বন্ধুত্বের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়।
কলেজ জীবন শেষ হওয়ার পরই অনিন্দিতার বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু দূরত্ব তাদের বন্ধুত্বকে কখনো ম্লান করতে পারেনি। অনিন্দিতা বাবার বাড়িতে এলেই তাদের দেখা হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু তাদের সম্পর্কের ভিত্তি ছিল আকাশের মতোই বিশাল আর নির্মল।
এরই মধ্যে অনিন্দিতা চাকরি পেয়ে যায়। তমাল তখনও কর্মহীন। জীবনের নানা প্রয়োজনে তাকে প্রায়ই বন্ধুর কাছে সাহায্যের হাত বাড়াতে হতো। কিন্তু অর্থ কিংবা প্রয়োজন কখনো তাদের বন্ধুত্বে ফাটল ধরাতে পারেনি। অনিন্দিতা সবসময় বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়েছে নিঃস্বার্থভাবে।
একবার অনিন্দিতার মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ও সে তমালের প্রতি তার সাধ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়িয়েছিল। জীবনের কিছু সাহায্য আছে, যা টাকা দিয়ে মাপা যায় না; কিছু উপস্থিতি আছে, যা কোনো প্রতিদান চায় না। তবু তমালের মন খারাপ হতো। সে ভাবত, "ইশ! আমি তো কখনো আমার বন্ধুকে তেমন কিছু দিতে পারলাম না। দুহাত ভরে শুধু নিয়েই গেলাম।"
কিন্তু সত্যিকারের বন্ধুত্বে হিসাব থাকে না। সেখানে দেওয়া-নেওয়ার খাতা খোলা হয় না। অনিন্দিতা যেন পূর্ণিমার রাতের এক ফুটফুটে জ্যোৎস্না—নীরবে আলো ছড়িয়ে যায় চারপাশে। আর তমাল? সে সেই আলোয় পথ খুঁজে পাওয়া এক কৃতজ্ঞ বন্ধু, যে জানে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কোনো সম্পদ নয়, একজন সত্যিকারের বন্ধু।
৫
৫ মন্তব্য