Loading..

ব্লগ

রিসেট

১২ জুন, ২০২৬ ০৬:৫৮ অপরাহ্ণ

শৈশব হোক বইয়ের পাতায়, শ্রমের খাঁচায় নয়: আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসের অঙ্গীকার


​প্রতিবছর ১২ জুন যখন আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস আমাদের দ্বারে ফিরে আসে, তখন তা কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ হয়ে থাকে না, বরং তা আমাদের সামাজিক বিবেকের দেয়ালে এক বড় আঘাত। যে বয়সে একটি শিশুর মেতে থাকার কথা ছিল খেলার মাঠে, ডুবে থাকার কথা ছিল রূপকথার গল্পে আর রঙিন খাতা-কলমের আঁচড়ে, সেই বয়সে জীবনের নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে কোটি শিশু জড়িয়ে পড়ছে কলকারখানা, ইটের ভাটা কিংবা চায়ের দোকানের ভারী শ্রমে। শৈশবের এই অকালপ্রয়াণ কেবল একটি শিশুর ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং একটি গোটা জাতির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পায়ে কুঠারাঘাত।

​শিক্ষা প্রতিটি শিশুর জন্মগত এবং মৌলিক অধিকার। অথচ জীবিকার নির্মম তাগিদে আজ লাখ লাখ কোমলমতি প্রাণ হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের গলিপথে। একটি শিশু যখন কলকারখানার ধোঁয়া আর কালির মাঝে তার দিনাতিপাত করে, তখন তার চোখের ভেতরের বড় হওয়ার স্বপ্নগুলো এক এক করে নিভে যায়। শ্রেণী কক্ষের যে বেঞ্চটিতে বসে তার দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর হওয়ার কথা ছিল, সেই বেঞ্চটি শূন্য রেখে সে যখন শ্রম বাজারে সস্তা মানবসম্পদ হিসেবে বিক্রি হয়, তখন সমাজ হিসেবে আমাদের ব্যর্থতাই প্রকাশ পায়। ঝরে পড়া এই শিশুদের বড় অংশই শিক্ষার আলো থেকে চিরতরে বঞ্চিত হয়ে এক চক্রাকার দারিদ্র্যের ফাঁদে আটকে পড়ে।

​এই সংকট থেকে উত্তরণের পথটি কেবল আইনের কঠোর প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর জন্য প্রয়োজন আমাদের মানসিকতার আমূল পরিবর্তন। শিক্ষার আলো দিয়ে এই অন্ধকার দূর করতে হলে শিক্ষাঙ্গনকে করতে হবে আনন্দময় এবং আকর্ষণীয়, যেখানে প্রতিটি শিশু ভালোবেসে ফিরে আসবে। প্রযুক্তির এই যুগে আধুনিক ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ শিক্ষার মাধ্যমে যদি আমরা প্রতিটি শিশুর মনে জানার আগ্রহ তৈরি করতে পারি, তবে বিদ্যালয় থেকে তাদের দূরে সরিয়ে রাখা কঠিন হবে। একই সাথে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অভিভাবকদের মাঝে শিক্ষার দীর্ঘমেয়াদী সুফল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি, যাতে তারা সাময়িক উপার্জনের চেয়ে সন্তানের টেকসই ভবিষ্যতের দিকে নজর দেন।

​শিশুরাই আগামী দিনের পৃথিবী। তাদের কাঁধ আজ ভারী কোনো যন্ত্র বা ইট-পাথরের বোঝা বহনের জন্য নয়, বরং স্বপ্নের ডানা মেলে আকাশ ছোঁয়ার জন্য। এই আন্তর্জাতিক শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে আসুন আমরা সবাই মিলে একাত্ম হই এবং যার যার অবস্থান থেকে প্রতিজ্ঞা করি, আমরা কোনো শিশুকে আর শ্রমের অন্ধকার গলিতে হারিয়ে যেতে দেব না। প্রতিটি শিশুর হাতে বই তুলে দিয়ে তাদের শৈশবকে নিরাপদ রাখাই হোক আমাদের আজকের দিনের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।

মন্তব্য করুন