সহকারী অধ্যাপক
১৩ জুন, ২০২৬ ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
সহমর্মিতা -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
সহমর্মিতা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
শুরু করি মানবতার এক হৃদয়ছোঁয়া গান,
সহমর্মিতার আলো জ্বালুক প্রতিটি মানবপ্রাণ।
যে গুণ মানুষকে শেখায় মানুষের পাশে থাকা,
অন্যের ব্যথার সাগর দেখে অশ্রুসিক্ত হওয়া।
সহমর্মিতা শুধু নয় মুখের কিছু সান্ত্বনা বাণী,
এ যে হৃদয়ের গভীর থেকে ওঠা মমতার টানি।
এ যে অন্যের কষ্ট দেখে নীরবে কাঁদতে শেখা,
ভাঙা হৃদয়ের ব্যথাগুলো নিজের মাঝে রাখা।
যখন কোনো মানুষ পড়ে বিপদের অন্ধকারে,
যখন দুঃখের কালো মেঘ নামে তার সংসারে,
সহমর্মিতা তখন এসে ধরে আশার হাত,
বলতে শেখায়—“তুমি একা নও, আছি দিন-রাত।”
অন্যের চোখের অশ্রুবিন্দু বুঝতে পারার নাম,
অন্যের ব্যথা অনুভবে ভিজে ওঠা অবিরাম।
নিজের সুখের প্রাসাদ ছেড়ে তার পাশে যাওয়া,
মানবতার এই পাঠই তো জীবনের বড় পাওয়া।
কেউ হয়তো হারিয়েছে প্রিয়জন একদিন,
বুকের মাঝে জমে আছে অশ্রুর গোপন ঋণ।
তখন যদি কেউ এসে নীরবে পাশে বসে,
সহমর্মিতার স্পর্শ পেয়ে ব্যথা অনেকটা খসে।
কেউ হয়তো অভাব নিয়ে কাটায় প্রতিটি ক্ষণ,
অন্নহীন সন্তানের মুখে জাগে কান্নার রণন।
সহমর্মী হৃদয় তখন শুধু দেখে না দূর থেকে,
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ভালোবাসা মেখে।
সহমর্মিতা শেখায় না কাউকে দোষারোপ করতে,
বরং শেখায় মানুষের কষ্ট গভীরভাবে বুঝতে।
কার ভুল, কার অপরাধ—এসব নয় প্রথম কথা,
প্রথমে বুঝতে হবে তার অন্তরের ব্যথা।
যে মানুষ বিচার করে না তড়িঘড়ি কারো প্রাণ,
বোঝার চেষ্টা করে আগে কেন ভাঙে তার মন।
সে-ই তো সত্য সহমর্মী, সে-ই মানবতার ফুল,
তার আচরণে ফুটে ওঠে সৌন্দর্যের মূল।
সহানুভূতি বলে শুধু—“তোমার কষ্টে দুঃখ পাই”,
সহমর্মিতা বলে—“তোমার ব্যথা বুঝতে চাই।”
সহানুভূতি দূর থেকে দেয় সান্ত্বনার বাণী,
সহমর্মিতা হৃদয় দিয়ে খোঁজে ব্যথার টানি।
যদি আমি থাকতাম তারই জীবনের স্থানে,
হয়তো আমারও চোখ ভাসত অশ্রুর বেদনায়।
এই ভাবনাই সহমর্মিতার সবচেয়ে বড় রূপ,
এতে গড়ে ভালোবাসার অপরূপ এক সেতুবন্ধন সুদৃঢ়।
মানুষ যখন মানুষকে সত্যি বুঝতে শেখে,
বিদ্বেষের দেয়ালগুলো ভেঙে যায় নিমেষে।
রাগের আগুন নিভে গিয়ে জ্বলে মমতার দীপ,
শান্তির সুরে ভরে ওঠে জীবন নদীর তীর।
পরিবারে সহমর্মিতা আনতে পারে সুখ,
হাসিমুখে কাটে তখন জীবনের প্রতিমুহূর্ত।
স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন কিংবা পিতা-মাতার মাঝে,
ভালোবাসার ফুল ফোটে সহমর্মিতার সাজে।
সমাজ যখন হারায় দয়া, বাড়ে হিংসা-ঘৃণা,
মানুষ তখন মানুষ হয়ে মানুষকে দেয় যন্ত্রণা।
সহমর্মিতার শিক্ষা যদি হৃদয়ে থাকে জাগ্রত,
তবে সমাজ হবে শান্তিময়, সুন্দর ও আলোকিত।
শিশুর কান্না শুনে যদি কেঁপে ওঠে প্রাণ,
বৃদ্ধের কষ্ট দেখে যদি ঝরে মমতার গান,
অসহায়ের আর্তনাদে যদি জাগে ব্যথার ঢেউ,
তবে বুঝবে হৃদয়ের মাঝে মানবতা বেঁচে আছে এখনও।
পথের ধারে ক্ষুধার্ত শিশু চেয়ে থাকে কার পানে,
কত মানুষ পাশ কাটিয়ে চলে নিজের টানে।
সহমর্মী হৃদয় কিন্তু থামে একটুখানি,
মানুষ হয়ে মানুষের দুঃখ বুঝে আনে টানি।
এই পৃথিবী টিকে আছে এমন মানুষের তরে,
যারা অন্যের কষ্ট দেখে দাঁড়ায় পাশে গিয়ে ঘিরে।
নিজের সুখের ভাগটুকুও বিলিয়ে দিতে জানে,
ভালোবাসার আলো ছড়ায় মানবতার টানে।
সহমর্মিতা কোনোদিন দুর্বলতার নাম নয়,
এ যে সাহসী হৃদয়ের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
নিজের স্বার্থ ভুলে গিয়ে অন্যের কথা ভাবা,
মানবতার আকাশ জুড়ে দয়ার প্রদীপ জ্বালা।
যে হৃদয়ে সহমর্মিতার নির্মল আলো জ্বলে,
সে হৃদয় ঘৃণা শেখে না কোনো কালে কভু ফলে।
সেখানে থাকে ক্ষমার সুধা, মমতার অফুরান ধারা,
সেখানে মানুষ খুঁজে পায় ভালোবাসার ঠিকানা।
এসো সবাই গড়ে তুলি সহমর্মিতার সমাজ,
যেখানে মানুষ হবে মানুষের সবচেয়ে বড় সাজ।
কান্নার মাঝে সান্ত্বনা দেব, ব্যথার মাঝে বল,
অন্ধকারে জ্বালব আমরা আশার দীপজ্বল।
হিংসা-বিদ্বেষ দূরে ঠেলে বাড়ুক মমতার ডাল,
মানবতার সুবাস ছড়াক কালে কালে কাল।
অন্যের সুখে হাসব আমরা, দুঃখে হব সাথি,
এই হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ মানবিক প্রার্থনা-মতি।
শেষ করি এই মহাগান হৃদয়ের গভীর তান,
সহমর্মিতার আলোয় জাগুক প্রতিটি মানবপ্রাণ।
মানুষ যেন মানুষ হয়ে ভালোবাসতে শেখে,
মানবতার এই মহিমা চিরদিন হৃদয়ে রেখে।
সহমর্মিতার জয়গান
মানবতার মহাসাগরে তুলেছি আজ গান,
সহমর্মিতার সুধা মেখে জাগুক বিশ্বপ্রাণ।
যে গুণ মানুষকে শেখায় মানুষেরই ব্যথা,
নিজের হৃদয় দিয়ে বুঝতে অন্য প্রাণের কথা।
যখন দেখি কারো চোখে নীরব অশ্রুধারা,
যখন দেখি বেদনায় তার ভেঙে গেছে সারা,
সহমর্মিতা তখন এসে হৃদয় ছুঁয়ে কয়,
“তোমার ব্যথার অংশ নিতে আমিও প্রস্তুত রয়।”
এটি শুধু করুণা নয়, নয় সান্ত্বনার ভাষা,
এ যে অন্যের অন্তর জুড়ে ভালোবাসার বাসা।
এ যে অন্যের সুখে হাসা, দুঃখে হওয়া সাথি,
মানবতার শ্রেষ্ঠ রূপের অমূল্য এক গাঁথি।
কেউ যদি হারায় জীবনের সবচেয়ে প্রিয়জন,
নিঃশব্দে কাঁদে বসে হয়ে স্মৃতিরই বন্দী মন,
সহমর্মী হৃদয় তখন নীরবতায় বসে রয়,
বুঝতে চায় সেই ব্যথাখানি কতটা গভীর হয়।
কেউ যদি ক্ষুধার জ্বালায় কাটায় দিনের পর দিন,
অভাব যার জীবনের সাথি, কষ্ট যার সঙ্গীচিন,
সহমর্মিতা শেখায় তখন শুধু তাকিয়ে নয়,
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে, যতটুকু সম্ভব হয়।
যে শিশুটি পথের ধারে চেয়ে থাকে বিষণ্ণ মুখে,
যার হাসিটুকু হারিয়ে গেছে দারিদ্র্যের অসুখে,
সহমর্মী প্রাণ ভাবতে শেখে তারও আছে স্বপ্ন,
তারও আছে বাঁচার অধিকার, সুখের সোনালি যজ্ঞ।
সহমর্মিতা শেখায় না কারো দোষ খুঁজে বেড়াতে,
শেখায় আগে মানুষের মনের ব্যথা বুঝতে।
কেন সে ভুল করল, কেন পথ হারাল আজ,
সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজে মানবতার সাজ।
সহানুভূতি বলে শুধু—“তোমার কষ্টে ব্যথিত আমি”,
সহমর্মিতা বলে—“তোমার ব্যথার পথেই নামি।”
সহানুভূতি দেখে দূর থেকে দুঃখের অশ্রুধারা,
সহমর্মিতা হৃদয় দিয়ে অনুভব করে সারা।
যদি আমি থাকতাম তারই কঠিন জীবনের পথে,
হয়তো আমিও কাঁদতাম আজ দুঃখের বোঝা কাঁধে।
এই যে ভাবার ক্ষমতাখানি, এই যে মনের দান,
সহমর্মিতার মহিমাতে জাগ্রত হয় প্রাণ।
যে হৃদয়ে সহমর্মিতার নির্মল আলো জ্বলে,
সেই হৃদয় কাউকে কখনো অবহেলায় না ফেলে।
সেখানে থাকে দয়ার সুর আর মমতার গান,
সেখানে ফুটে মানবতার সুবাসিত বাগান।
পরিবারের সুখের মূলে সহমর্মিতার ছোঁয়া,
এ গুণ থাকলে সম্পর্কগুলো হয় না কখনো ক্ষয়।
স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন কিংবা পিতা-মাতার প্রাণ,
বোঝাপড়ার সেতু গড়ে এই মহৎ অবদান।
সমাজজুড়ে যত বিভেদ, যত ঘৃণার দেয়াল,
সহমর্মিতা পারে সেগুলো করতে চুরমার।
মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে শেখায় যেই,
মানবতার পথের প্রদীপ সেই তো নিঃসন্দেহেই।
জাতি-বর্ণ-ধর্মের ভেদ মুছে যায় একদিন,
যখন মানুষ মানুষকে বুঝতে শেখে প্রতিদিন।
ভাষা আলাদা হতে পারে, আলাদা হতে রঙ,
সহমর্মিতার ছায়াতলে সবাই আপন সঙ্গ।
এটি কোনো দুর্বলতা নয়, নয় ভীরুতার চিহ্ন,
এ যে সাহসী আত্মার মাঝে জ্বলন্ত আলোকবিন্দু।
নিজের স্বার্থ ভুলে গিয়ে অন্যের কথা ভাবা,
এমন মহৎ শক্তি পেলে জীবন পায় প্রভা।
যে নেতা মানুষের কান্না শুনে ব্যথিত হয়,
যে শিক্ষক ছাত্রের দুঃখ বুঝে পাশে দাঁড়ায় সদয়,
যে বন্ধু বন্ধুর বিপদে ছুটে আসে নির্ভয়ে,
সহমর্মিতার মহিমা তার জীবন জুড়ে রয়।
পৃথিবীর যত মহামানব এসেছেন যুগে যুগে,
মানুষের সুখ-দুঃখ বুকে নিয়েছেন অনুরাগে।
তাদের হৃদয় কেঁদেছিল মানুষেরই তরে,
তাই তো আজও স্মরণীয় হয়েছেন ঘরে ঘরে।
এসো তবে আজ আমরা করি পবিত্র অঙ্গীকার,
সহমর্মিতার আলো জ্বালব হৃদয়ে বারবার।
কাঁদে যদি কোনো প্রাণ, শুনব তারই কথা,
ভাঙা হৃদয় জুড়াতে দেব ভালোবাসার ব্যথা।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াব, হব সত্যের সাথি,
অসহায়ের কষ্টে হব সহমর্মী এক বাতি।
অন্ধকারের মাঝখানে জ্বালব আশার দীপ,
মানবতার সুরে গাইব ভালোবাসার গীত।
হাসি ভাগ করে নেব সবাই, ভাগ করব কান্নাও,
মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াব নির্ভয়ে তাও।
এই হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা, শ্রেষ্ঠ বাণী,
সহমর্মিতায় আলোকিত হোক ধরণীর প্রতিটি প্রাণী।
শেষ করি এই কাব্যগান হৃদয়ের অনুরাগে,
মানবতার মহাসৌরভ ছড়িয়ে যাক অনুরাগে।
সহমর্মিতার জয়ধ্বনি উঠুক বিশ্বময়,
মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হোক পরিচয়।
***
সহমর্মিতার দীপশিখা
মানবতার মহাকাশে জ্বলে এক অনন্ত আলো,
সহমর্মিতার দীপশিখা, নির্মল তার ভালো।
যে আলোয় মুছে যায় হৃদয়ের সব কালিমা,
জেগে ওঠে মানুষত্বের চিরসুন্দর মহিমা।
এটি শুধু মায়া নয়, নয় করুণার ভাষা,
এ যে ব্যথিত প্রাণের তরে মমতারই আশা।
এ যে অন্যের অশ্রুধারা নিজের চোখে ধরা,
অন্যের সুখে হাসিমুখে আনন্দসাগর ভরা।
কেউ যদি নিরাশ হয়ে বসে থাকে একা,
দুঃখের ভারে ভেঙে পড়ে হারিয়ে ফেলে দেখা,
সহমর্মী হৃদয় তখন ছুটে যায় তার পানে,
আশার বাণী শোনায় গিয়ে স্নেহভরা টানে।
অন্যের কষ্ট অনুভবে যে হৃদয় হয় নত,
সেই হৃদয়ে ফুটে ওঠে মানবতার রত্ন।
যে বোঝে না শুধু ঘটনা, বোঝে মনের ক্ষত,
সেই মানুষই পৃথিবীতে সত্যিকার মহৎ।
কেউ হয়তো হাসছে বাইরে, অন্তরে ঝড় বয়ে যায়,
নিঃশব্দে সে কাঁদছে তবু কেউ খবর না পায়।
সহমর্মিতার দৃষ্টি কিন্তু অন্তর ভেদ করে,
নীরবতার ভাষা বুঝে ব্যথার কাছে ঝরে।
সহানুভূতি দাঁড়িয়ে দেখে দূর আকাশের মতো,
সহমর্মিতা নেমে আসে হৃদয়-নদীর স্রোতে।
সহানুভূতি বলে শুধু—"তোমার কষ্টে ব্যথা পাই",
সহমর্মিতা বলে—"তোমার পথের সাথী হতে চাই"।
পথের ধারে ক্ষুধার্ত শিশু চেয়ে থাকে নীরব,
চোখে তার ভবিষ্যতের স্বপ্নগুলো ক্ষীণরব।
সহমর্মী প্রাণ তখন ভাবে গভীর মনে,
"আমার সন্তানের মতো সেও মানুষ এ ভুবনে।"
বৃদ্ধ কোনো পিতা বসে জানালারই পাশে,
অপেক্ষাতে দিন ফুরোয়, কেউ না তারে ভাসে।
সহমর্মিতার হৃদয় গিয়ে ধরবে তার হাত,
একটু স্নেহ দেবে তাকে, ভরাবে নিঃসঙ্গ রাত।
ক্লান্ত শ্রমিক ঘামে ভেজা পথের ধুলোর মাঝে,
জীবনযুদ্ধ লড়ে যায় সে প্রতিদিনের সাজে।
সহমর্মিতা শেখায় তখন সম্মানেরই পাঠ,
মানুষকে তার মর্যাদাতে দেখতে দিন-রাত।
পরিবারে সহমর্মিতা সুখের সোনার চাবি,
এ গুণ ছাড়া সম্পর্কগুলো হয় যে প্রায় নাবি।
স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন, কিংবা স্নেহময়ী মা,
বোঝাপড়ার আলোয় তখন পূর্ণ হয় ঘরখানা।
সমাজজুড়ে যত বিভেদ, হিংসা আর অহংকার,
সহমর্মিতার ছোঁয়ায় সেসব হয় যে চূর্ণসার।
মানুষ মানুষকে চিনে নেয় আপন আত্মার মতো,
ভালোবাসার সেতু গড়ে অবিরত শত শত।
ধনী কিংবা দরিদ্র হোক, শ্বেত কিংবা কালো,
মানুষ সবার পরিচয়ই মানবতার আলো।
ধর্ম-বর্ণের প্রাচীর যত আকাশ ছুঁতে চায়,
সহমর্মিতার শক্তির কাছে ভেঙে ধূলায় যায়।
এটি কোনো দুর্বলতা নয়, নয় করুণার দান,
এ যে সাহসী আত্মার এক মহীয়ান সম্মান।
নিজের সুখের বাইরে গিয়ে অন্য প্রাণে থাকা,
নিজের মাঝে অন্য কারো ব্যথার সুরকে রাখা।
যে শিক্ষক ছাত্রের দুঃখ নীরবে বুঝে নেন,
যে চিকিৎসক সেবার মাঝে মানবতাকে চেনেন,
যে বন্ধু বন্ধুর বিপদে ছুটে আসে নির্ভয়ে,
সহমর্মিতার সৌন্দর্য তার জীবনমাঝে রয়।
যত মহৎ মানুষ ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে,
মানুষের সুখ-দুঃখ নিয়েই হেঁটেছেন ভালোবেসে।
অসহায়ের কান্নাধ্বনি শুনে কেঁদেছেন তারা,
তাই তো আজও জ্বলছে তাদের মহিমারই তারা।
এসো তবে আজকে আমরা করি দৃঢ় শপথ,
মানবতার পথে হব সহমর্মিতার রথ।
কাঁদে যদি কোনো হৃদয়, শুনব তারই কথা,
ভাঙা প্রাণে জুড়িয়ে দেব মমতার বারতা।
হাসি ভাগ করে নেব সবাই, ভাগ করব অশ্রুজল,
দুঃখের দিনে হব পাশে, ধরব আশার বল।
মানুষ হয়ে মানুষেরই পাশে দাঁড়াই সদা,
এই হোক জীবনের শ্রেষ্ঠ মানবিক প্রতিজ্ঞা।
জ্বলে উঠুক হৃদয়জুড়ে সহমর্মিতার দীপ,
ভালোবাসার সুরে ভরে উঠুক ধরার নীড়।
মানবতার জয়ধ্বনি উঠুক দিগ্বিদিকময়,
মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হোক পরিচয়।
শেষ করি এ কাব্যগান প্রার্থনারই সুরে,
সহমর্মিতার ফুল ফুটুক সকল প্রাণের নূরে।
পৃথিবী হোক শান্তিময়, মমতায় ভরা ধরা,
মানুষ মানুষকে ভালোবাসুক—এই হোক চিরধারা।
***
সহমর্মিতার অমর আলো
মানবতার মহাগ্রন্থে স্বর্ণাক্ষরে লেখা,
সহমর্মিতার মহিমা যেন চিরসুন্দর রেখা।
যে রেখা ছুঁয়ে জেগে ওঠে বিবেক ঘুমন্ত প্রাণ,
যে আলোয় উদ্ভাসিত হয় মানুষের সম্মান।
এ আলো কোনো প্রদীপ নয়, নয় কোনো শিখা,
এ আলো হৃদয় থেকে হৃদয়ে ছড়ানো দীক্ষা।
এ আলো শেখায় মানুষকে মানুষের ব্যথা বুঝতে,
ভাঙা মনের নীরব কান্না নিঃশব্দে অনুভব করতে।
কত মানুষ হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখে ক্ষত,
কত মানুষ নিঃসঙ্গতায় হারায় জীবনের রথ।
বাইরে দেখে বোঝা যায় না বুকের গভীর জ্বালা,
সহমর্মিতা সেই ব্যথাতে জ্বালায় আশার জ্বালা।
যে গুণ অন্যের চোখের জলে নিজের অশ্রু আনে,
অন্যের সুখে আনন্দ খুঁজে, দুঃখে দাঁড়ায় টানে।
নিজেকে তার স্থানে রেখে অনুভব করে মন,
সেই তো সত্য সহমর্মী, সেই মহৎ জীবন।
সহানুভূতি দূর থেকে কয়—"তোমার কষ্টে ব্যথা পাই",
সহমর্মিতা কাছে এসে বলে—"তোমার পাশে রয়"।
সহানুভূতি দেখে শুধু দুঃখের বহমান স্রোত,
সহমর্মিতা নেমে পড়ে সেই স্রোতেরই রথ।
কেউ যদি হারায় মায়ের স্নেহ, পিতার মধুর ছায়া,
স্মৃতির ভেতর বেঁচে থাকে তার অশ্রুভেজা মায়া।
সহমর্মী হৃদয় তখন নীরবে তার পাশে বসে,
ভালোবাসার ভাষা দিয়ে শোকের মেঘটা খসে।
ক্ষুধার্ত শিশু পথের ধারে তাকিয়ে থাকে চুপ,
স্বপ্নগুলো ঝরে পড়ে ধূলিমাখা রূপ।
সহমর্মিতার হৃদয় তখন প্রশ্ন করে মনে,
“এই শিশুটির অধিকার কি কম আমার সন্তানের সনে?”
বৃদ্ধ কোনো পিতা বসে জানালার ধারে একা,
প্রিয় মুখের অপেক্ষাতে সন্ধ্যা নামে নীরব দেখা।
সহমর্মিতার কোমল হাত ছুঁয়ে দেয় তার প্রাণ,
একটু স্নেহেই ফিরে আসে জীবনের সম্মান।
ক্লান্ত শ্রমিক ঘামে ভেজা রৌদ্রদগ্ধ পথে,
অভাব নিয়ে যুদ্ধ করে প্রতিদিনের রথে।
সহমর্মিতা শেখায় তখন শ্রদ্ধা করতে তাকে,
কারণ তারই শ্রমে গড়ে সভ্যতারই ফাঁকে।
রোগশয্যায় কাতর কেউ যন্ত্রণাতে রয়,
দিনের পরে দিন কেটে যায়, শান্তি খুঁজে নয়।
সহমর্মিতার স্নেহস্পর্শ আশার ফুল ফোটায়,
অন্ধকারের গভীর রাতে প্রভাতের গান শোনায়।
পরিবারে সহমর্মিতা সুখের সোনার সেতু,
ভালোবাসার বাগানজুড়ে সুবাসিত তার ক্ষেত্র।
স্বামী-স্ত্রীর বোঝাপড়ায়, সন্তানের প্রতি টানে,
সম্পর্কগুলো দৃঢ় থাকে বিশ্বাসেরই গানে।
ভাইয়ের দুঃখ ভাই যদি না বোঝে আপন মনে,
কেমন করে বন্ধন তবে অটুট থাকে ক্ষণে?
সহমর্মিতা শেখায় সবাই একে অন্যের তরে,
ভালোবাসার বীজ বপন করতে ঘরে ঘরে।
সমাজজুড়ে যত বিভেদ, যত হিংসার দেয়াল,
সহমর্মিতার স্পর্শে সেসব হয় যে ক্ষয়কাল।
ঘৃণার আগুন নিভে গিয়ে জ্বলে মমতার দীপ,
শান্তির সুরে ভরে ওঠে জীবন নদীর নীড়।
ধনী-গরিব, জাতি-বর্ণ, ভাষার যত ভেদ,
সহমর্মিতার আলো পেলে হারায় তাদের খেদ।
মানুষ শুধু মানুষ হয়, এই পরিচয় বড়,
মানবতার মহাসাগরে সবাই তখন জড়ো।
এটি কোনো দুর্বলতা নয়, নয় করুণার দান,
এ যে সাহসী আত্মার এক উজ্জ্বল সম্মান।
নিজের সুখের সীমা ছাড়িয়ে অন্য প্রাণে থাকা,
নিজের মাঝে অন্য কারো হৃদয়খানি রাখা।
যে শিক্ষক ছাত্রের ব্যথা বুঝে দেন সাহস,
যে চিকিৎসক রোগীর সেবায় করেন না অবহেলাস।
যে বন্ধু বন্ধুর বিপদে ছুটে আসে নির্ভয়,
সহমর্মিতার মহিমা তার জীবনমাঝে রয়।
পৃথিবীর যত মহামানব ইতিহাসের পাতা জুড়ে,
মানুষের সুখ-দুঃখ নিয়েই হেঁটেছেন তারা ঘুরে।
অসহায়ের কান্নাধ্বনি শুনে কেঁদেছে প্রাণ,
তাই তো আজও অমর হয়ে আছে তাদের নাম।
এসো তবে করি আজকে হৃদয়ের অঙ্গীকার,
সহমর্মিতার আলো ছড়াব বারংবার।
কাঁদে যদি কোনো হৃদয়, শুনব তারই কথা,
ভাঙা প্রাণে জুড়িয়ে দেব ভালোবাসার বারতা।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব সত্যের তরে,
অসহায়ের পাশে থাকব বিপদেরই ঘোরে।
অন্ধকারে জ্বালব আমরা আশার দীপশিখা,
মানবতার জয়গান হবে জীবনেরই দীক্ষা।
হাসি ভাগ করব সবাই, ভাগ করব অশ্রুজল,
মানুষ হয়ে মানুষেরই ধরব স্নেহবল।
পৃথিবী হবে শান্তিময়, মমতায় ভরা ধরা,
ভালোবাসার সুবাস বয়ে যাবে দেশে দেশে সারা।
শেষ করি এ কাব্যগাথা প্রার্থনারই সুরে,
সহমর্মিতার ফুল ফুটুক প্রতিটি প্রাণের নূরে।
মানুষ যেন মানুষ হয়ে মানুষকেই ভালোবাসে,
এই হোক শ্রেষ্ঠ মানবধর্ম যুগে যুগে, কালে কালে ভাসে।
৫
৫ মন্তব্য