Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ জুন, ২০২৬ ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ

পরমত সহিষ্ণুতা -মোঃ মুজিবুর রহমান



পরমত সহিষ্ণুতা

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

শুরু করি হৃদয় ছোঁয়া মানবতার গান,
পরমত সহিষ্ণুতায় জাগুক সবার প্রাণ।
ভিন্ন পথে চলুক মানুষ, ভিন্ন হোক মত,
শ্রদ্ধা আর সৌহার্দ্যে গড়ি সুন্দর জগত।

মানুষ আসে পৃথিবীতে নানা রঙের বেশে,
নানা ভাষা, নানা ধর্ম, নানা সংস্কৃতির দেশে।
কারও ভাবনা পূর্বমুখী, কারও পশ্চিম পানে,
তবু সবাই মানুষ মোরা এক পৃথিবীর টানে।

নিজের মত সঠিক ভেবে চলা দোষের নয়,
তাই বলে কি অন্য সবার মর্যাদা আর ক্ষয়?
নিজের কথা বলব আমরা যুক্তির আলো ধরে,
অন্যের কথাও শুনব তবে সম্মানভরা স্বরে।

পরমত সহিষ্ণুতা মানে দুর্বলতা নয়,
এটি হলো মহৎ হৃদয়, বিবেক জাগার জয়।
মতের ভিন্ন স্রোতধারা মিলুক শান্ত নীড়ে,
মানবতার সুবাস ছড়াক পৃথিবীর প্রতিটি ঘরে।

যখন দেখি ভিন্ন মানুষ ভিন্ন কথা কয়,
তখন যদি ক্রোধে জ্বলি, মঙ্গল কোথায় হয়?
ধৈর্যের আলো জ্বালতে হবে অন্তরের গভীরে,
সত্য খুঁজতে শিখতে হবে নম্রতারই নীড়ে।

কেউ বা চলে এক বিশ্বাসে, কেউ বা অন্য পথে,
কারও রীতি আলাদা হয় জীবনযাপনের রথে।
তাই বলে কি অবজ্ঞার তীর ছুঁড়ব তারই পানে?
মানবতার শিক্ষা তো দেয় ভালোবাসার টানে।

অন্যের মত প্রকাশের অধিকার আছে সবার,
এই শিক্ষাতে গড়ে ওঠে সভ্যতারই দ্বার।
কথার জবাব কথা দিয়ে, যুক্তি দিয়ে দেই,
ঘৃণা কিংবা বিদ্বেষ দিয়ে কোনো সমাধান নেই।

যেখানে থাকে সহিষ্ণুতা, থাকে শান্তির আলো,
মানুষ মানুষকে তখন বাসে অনেক ভালো।
সংঘাতের কালো মেঘও সরে যায় দূর দেশে,
সম্প্রীতির ফুল ফুটে ওঠে সুখের পরিবেশে।

পরিবারে সহিষ্ণুতা সুখের মূলমন্ত্র,
গুণ ছাড়া অশান্তি ঢোকে ঘরের অন্তর।
বাবা-মায়ের মতের সাথে সন্তানের মত ভিন্ন,
শ্রদ্ধার সাথে শুনলে তবে সম্পর্ক থাকে চিরদিন।

বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে এই শিক্ষার দাম,
ভিন্ন চিন্তা শুনে শিখি জ্ঞানের নতুন নাম।
বন্ধুদেরও ভিন্ন হতে পারে মতের ধারা,
তবু বন্ধুত্ব অটুট থাকে ভালোবাসা সারা।

গণতন্ত্রের ভিত্তি গড়ে এই মহৎ গুণে,
ভিন্ন মতের অধিকার তাই থাকে সবার সনে।
যেখানে মানুষ মত প্রকাশে স্বাধীনতা পায়,
সেই সমাজে উন্নতিরই সুবাতাস বইতে চায়।

অসহিষ্ণু মন যখন বিভেদের দেয় দেয়াল,
মানুষে মানুষে বাড়িয়ে তোলে বিরোধের জাল।
সন্দেহ, ঘৃণা, বিদ্বেষ এসে করে হৃদয় ভার,
শান্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বারংবার।

ইতিহাসের পাতায় দেখি কত সংঘাত ক্ষয়,
অসহিষ্ণু মানসিকতা ডেকে এনেছে ভয়।
জাতি-ধর্মের নামে কত অশ্রু ঝরেছে ধরা,
মানবতার বুকের মাঝে কেঁদেছে দুঃখ ভরা।

অন্যদিকে সহিষ্ণুতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত,
মানুষকে করেছে কাছে, করেছে সম্পর্ক কান্ত।
বৈচিত্র্যের সৌন্দর্যকে যারা করেছে মান,
তাদের হাতেই প্রস্ফুটিত হয়েছে সভ্য প্রাণ।

জ্ঞানী মানুষ জানেন ভালো, শেখার শেষ নেই,
অন্যের মাঝে নতুন কিছু জানার সুযোগ রয়।
ভিন্ন মতের আলো পেয়ে চিন্তা হয় সমৃদ্ধ,
সত্যের পথে এগিয়ে যেতে হয় মন আরও দৃঢ়।

নিজের ভুলও ধরা পড়ে অন্যের কথা শুনে,
অহংকারের অন্ধকার যায় জ্ঞানের আলো গুণে।
তাই তো শুনি ধৈর্য ধরে ভিন্ন মতের বাণী,
এভাবেই তো প্রসারিত হয় প্রজ্ঞার রাজধানী।

পরমত সহিষ্ণুতা কেবল মুখের বুলি নয়,
কর্মে, আচরণে, ব্যবহারে তার পরিচয়।
হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধা করতে হবে,
মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসতে হবে।

যে সমাজে সবাই মিলে সম্মান দিতে শেখে,
সেই সমাজে সুখের পাখি আনন্দগানে ডাকে।
সেখানে নেই ঘৃণার আগুন, নেই বিভেদের বাঁধ,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে শক্ত হয় প্রতিদিন সাধ।

এসো তবে প্রতিজ্ঞা করি হৃদয় খুলে আজ,
সহিষ্ণুতার আলোকধারা ছড়াই সমাজমাঝ।
ভিন্ন মানুষ, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন মতের দল,
সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গড়ি মানবতার ফল।

শান্তি, প্রেম আর সম্প্রীতির হোক উজ্জ্বল জয়,
বিদ্বেষ, হিংসা, অহংকারের হোক চিরপরাজয়।
পরমত সহিষ্ণুতার এই মহান আহ্বান,
আলোকিত করুক ধরা, জাগুক মানবপ্রাণ।

মানুষ যেন মানুষকে আর অবহেলা না করে,
শ্রদ্ধার সেতু গড়ে ওঠুক অন্তরেরই তরে।
বৈচিত্র্যের রঙে রঙে সাজুক বিশ্বলোক,
সহিষ্ণুতার মহিমাতে দূর হোক সব শোক।

শেষ করি এই প্রার্থনায় মহান রবের কাছে,
শান্তি, জ্ঞান আর সহমর্মিতা থাকুক সবার মাঝে।
পরমত সহিষ্ণুতার মহৎ আলো ভরে,
সুন্দর পৃথিবী গড়ে উঠুক যুগে যুগে ধরে।



***

পরমত সহিষ্ণুতা

শুরু করি হৃদয় জাগানিয়া এক মানবতার গান,
যে গানে জাগে সম্প্রীতির দীপ্ত শুভ আহ্বান।
ভিন্ন ভিন্ন পথের যাত্রী, ভিন্ন সবার মত,
তবু সবার মিলনভূমি এই সুন্দর জগত।

কেউ বা বলে পূর্ব কথা, কেউ বা পশ্চিম বাণী,
কেউ বা আঁকে নতুন ছবি, কেউ পুরোনো টানি।
ভাষা ভিন্ন, রীতি ভিন্ন, ভিন্ন সংস্কৃতি,
তবু সবার হৃদয় জুড়ে মানবতার স্মৃতি।

নিজের মতকে ভালোবাসা স্বাভাবিকই হয়,
তাই বলে কি অন্য মতের মর্যাদা যাবে ক্ষয়?
নিজের কথা বলব মোরা যুক্তির দীপ জ্বেলে,
অন্যের কথাও শুনব ধীরে শ্রদ্ধার মালা মেলে।

পরমত সহিষ্ণুতা শুধু শব্দের উচ্চারণ নয়,
যে মহান চরিত্রগুণ, বিবেক জাগার জয়।
ধৈর্য, নম্রতা, সংযম আর সহমর্মিতার ফুল,
এই গুণেতে মানুষ পায় মানবতার কূল।

মতের অমিল দেখলেই যদি জ্বলে ওঠে ক্রোধ,
তবে কেমন করে গড়ব ভালোবাসার বোধ?
ধৈর্যের নদী বইতে দাও হৃদয়ের গভীরে,
সত্যের আলো খুঁজে নাও নম্রতারই নীড়ে।

অন্যের ধর্ম, অন্যের বিশ্বাস, অন্য জীবনধারা,
সম্মান দিতে শিখলে তবেই মানবতা হয় সারা।
নিজের মত চাপিয়ে দেওয়া নয় তো জ্ঞানের কাজ,
শ্রদ্ধা দিয়ে জয় করতে হয় মানুষেরই মন-মাঝ।

যেখানে থাকে সহিষ্ণুতা, থাকে শান্তির আলো,
মানুষ মানুষকে তখন সত্যিই বাসে ভালো।
সেখানে ঘৃণার বিষবাষ্প হারায় পথের দিশা,
সম্প্রীতির ফুলে ভরে ওঠে সুখের সব নিশা।

অসহিষ্ণু মন গড়ে তোলে বিভেদের প্রাচীর,
মানুষে মানুষে দূরত্ব বাড়ে, বাড়ে বিরোধের নীড়।
সন্দেহ, হিংসা, বিদ্বেষ এসে অশান্তি করে দান,
ভেঙে দেয় সৌহার্দ্যের সব নির্মল আয়োজন।

ইতিহাসের বুকে লেখা অগণিত সাক্ষ্য রয়,
অসহিষ্ণুতার আগুন কত সভ্যতাকে ক্ষয়।
জাতি, বর্ণ, ধর্ম নিয়ে হয়েছে কত যুদ্ধ,
মানবতার বুকের মাঝে জেগেছে দীর্ঘ ক্রন্দনসুর।

আবার ইতিহাস বলে দেয় অন্য এক মহাগান,
সহিষ্ণুতার আলোকধারায় জেগেছে মানবপ্রাণ।
বৈচিত্র্যের রঙিন ডালি যারা বুকে নেয়,
উন্নতির সুবর্ণ ফসল তাদের হাতেই বয়ে যায়।

পরিবারের সুখের নীড়ে এই গুণ অমূল্য ধন,
ছাড়া যে শান্তি থাকে না কোনো ক্ষণ।
বাবার মত, সন্তানের মত হতে পারে ভিন্ন,
শ্রদ্ধা থাকলে সম্পর্ক থাকে অটুট চিরদিন।

বিদ্যালয়ের পাঠশালাতে এই শিক্ষার জয়,
ভিন্ন চিন্তার সংস্পর্শে জ্ঞানের প্রসার হয়।
বন্ধুর সাথে মতের অমিল হতে পারে বহুবার,
তবু ভালোবাসা অটুট থাকে হৃদয় যদি উদার।

সমাজজুড়ে, রাষ্ট্রজুড়ে এর প্রয়োজন বড়,
এই গুণ ছাড়া গণতন্ত্র হয় না কখনো গড়।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পায় যেখানে স্থান,
সেই সমাজেই বিকশিত হয় উন্নতির সম্ভাবন।

জ্ঞান কখনো থেমে থাকে না একক মতের ঘরে,
ভিন্ন চিন্তার জানালাতে নতুন আলো ঝরে।
অন্যের চোখে দেখা পৃথিবী শেখায় নতুন পাঠ,
অজানাকে জানার পথে খুলে দেয় নতুন ঘাট।

অহংকারের অন্ধকারে সত্য থাকে ঢাকা,
নম্রতারই প্রদীপ জ্বেলে সেই আঁধার যায় মাখা।
নিজের ভুলও বুঝতে শেখে যে মানুষ মহান,
পরমতকে শ্রদ্ধা দিয়ে বাড়ায় জ্ঞানের মান।

যে সমাজে সবাই মিলে সম্মান করতে শেখে,
সেই সমাজে সুখের পাখি আনন্দগানে ডাকে।
সেখানে নেই ঘৃণার আগুন, নেই বিভেদের বাঁধ,
ভ্রাতৃত্বের দৃঢ় বন্ধনে জাগে উন্নতির সাধ।

এসো তবে আজকে আমরা করি দৃঢ় পণ,
মানবতার পতাকা হবে আমাদের পরিচয়চিহ্ন।
ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন সংস্কৃতি যত,
শ্রদ্ধার সুরে বাঁধব মোরা সকল প্রাণের রথ।

ভালোবাসার সেতু গড়ে মিলুক হৃদয় হৃদয়,
বিদ্বেষ, হিংসা, সংকীর্ণতার হোক চিরপরাজয়।
সম্প্রীতির দীপ জ্বালিয়ে এগিয়ে যাক প্রাণ,
পরমত সহিষ্ণুতায় আলোকিত হোক ধরণী মহান।

মানুষ যেন মানুষকে আর অবহেলা না করে,
সম্মানের ফুল ফুটুক প্রতিটি অন্তরে।
বৈচিত্র্যের রঙে রঙে সাজুক বিশ্বলোক,
সহিষ্ণুতার মহিমাতে দূর হোক সকল শোক।

শেষ করি প্রার্থনা দিয়ে মহান স্রষ্টার কাছে,
শান্তি, জ্ঞান আর সহমর্মিতা থাকুক সবার মাঝে।
পরমত সহিষ্ণুতার অমলিন আলোর ধারা,
সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলুক যুগে যুগে সারা।

হোক না ভিন্ন মতের ঢেউ, ভিন্ন পথের গান,
একই আকাশ তলে মোরা একই মানবপ্রাণ।
পরমতের মর্যাদাতে ফুটুক ঐক্যের ফুল,
এই শিক্ষাই গড়ুক ভবিষ্যৎ, করুক পৃথিবী কূল।

***

পরমত সহিষ্ণুতা

শুরু করি হৃদয় জাগানিয়া মানবতার গান,
পরমত সহিষ্ণুতায় জাগুক সবার প্রাণ।
ভিন্ন পথে চলুক মানুষ, ভিন্ন হোক মত,
শ্রদ্ধা আর সৌহার্দ্যে গড়ি সুন্দর জগত।

মানুষ আসে পৃথিবীতে নানান রূপের বেশে,
নানা ভাষা, নানা ধর্ম, নানা সংস্কৃতির দেশে।
কারও ভাবনা পূর্বদিকে, কারও পশ্চিম পানে,
তবু সবার মিলনমেলা মানবতার টানে।

কেউ বা গায় ভিন্ন সুরে জীবনেরই গান,
কেউ বা খোঁজে সত্যপথে অন্য এক সন্ধান।
পথ আলাদা হতে পারে, লক্ষ্য থাকে এক,
সুন্দর পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন হৃদয়ে অটুট থাকে।

নিজের মতকে ভালোবাসা স্বাভাবিকই হয়,
তাই বলে কি অন্য মতের মর্যাদা যাবে ক্ষয়?
নিজের কথা বলব মোরা যুক্তির আলো ধরে,
অন্যের কথাও শুনব তবে সম্মানভরা স্বরে।

পরমত সহিষ্ণুতা কোনো দুর্বলতা নয়,
যে মহৎ হৃদয়বৃত্তি, বিবেক জাগার জয়।
সংযম, ধৈর্য, সহমর্মিতা যার অলংকার,
সে- পারে মানুষ হয়ে ছড়াতে প্রেমধার।

মতের ভিন্ন স্রোতধারা বইবে শত দিকে,
তবু কেন বিরোধ গড়ে হৃদয়েরই নীড়ে?
ভিন্নমতের মাঝেও যদি শ্রদ্ধা থাকে জাগ্রত,
তবে সমাজ হয় শান্তিময়, সুন্দর সমৃদ্ধ।

যখন দেখি ভিন্ন মানুষ ভিন্ন কথা কয়,
তখন যদি ক্রোধে জ্বলি, মঙ্গল কোথায় হয়?
ধৈর্যের প্রদীপ জ্বালতে হবে অন্তরের গভীরে,
সত্যের আলো খুঁজতে হবে নম্রতারই নীড়ে।

কেউ বা চলে এক বিশ্বাসে, কেউ বা অন্য পথে,
কারও রীতি আলাদা হয় জীবনযাপনের রথে।
তাই বলে কি অবজ্ঞার তীর ছুঁড়ব তারই পানে?
মানবতা তো শেখায় মোদের ভালোবাসার টানে।

অন্যের মত প্রকাশের অধিকার আছে সবার,
এই শিক্ষাতেই গড়ে ওঠে সভ্যতারই দ্বার।
কথার জবাব কথা দিয়ে, যুক্তি দিয়ে দেই,
ঘৃণা কিংবা বিদ্বেষ দিয়ে কোনো সমাধান নেই।

যেখানে থাকে সহিষ্ণুতা, থাকে শান্তির আলো,
মানুষ মানুষকে তখন সত্যিই বাসে ভালো।
সংঘাতের কালো মেঘও সরে যায় দূর দেশে,
সম্প্রীতির ফুল ফুটে ওঠে সুখের পরিবেশে।

পরিবারের সুখের নীড়ে এই গুণ মহাধন,
ছাড়া যে টেকে না কোনো মধুর সম্পর্কবন্ধন।
বাবা-মায়ের মতের সাথে সন্তানের মত ভিন্ন,
শ্রদ্ধার সাথে শুনলে তবে সম্পর্ক থাকে চিরদিন।

ভাইয়ের সাথে ভাইয়ের মত মিলবে না সবখানে,
তবু ভালোবাসা অটুট থাকে হৃদয়েরই টানে।
সহিষ্ণুতার স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় দূর হয় অভিমান,
আনন্দময় হয়ে ওঠে সংসারের প্রতিক্ষণ।

বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে এই শিক্ষার দাম,
ভিন্ন চিন্তা শুনে শিখি জ্ঞানের নতুন নাম।
বন্ধুদেরও ভিন্ন হতে পারে মতের ধারা,
তবু বন্ধুত্ব অটুট থাকে ভালোবাসা সারা।

শিক্ষক যখন শেখান মোদের শুনতে সবার কথা,
তখন খুলে যায় জ্ঞানের পথে নতুন সম্ভাবনা।
ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয় শিক্ষার আলো,
চিন্তার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়, মন হয় আরও ভালো।

গণতন্ত্রের ভিত্তি গড়ে এই মহৎ গুণে,
ভিন্ন মতের অধিকার তাই থাকে সবার সনে।
যেখানে মানুষ মত প্রকাশে স্বাধীনতা পায়,
সেই সমাজে উন্নতিরই সুবাতাস বইতে চায়।

অসহিষ্ণু মন যখন বিভেদের দেয় দেয়াল,
মানুষে মানুষে বাড়িয়ে তোলে বিরোধের জাল।
সন্দেহ, ঘৃণা, বিদ্বেষ এসে করে হৃদয় ভার,
শান্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বারবার।

ইতিহাসের পাতায় দেখি কত সংঘাত ক্ষয়,
অসহিষ্ণু মানসিকতা ডেকে এনেছে ভয়।
জাতি-ধর্মের নামে কত অশ্রু ঝরেছে ধরা,
মানবতার বুকের মাঝে কেঁদেছে দুঃখভরা।

আবার ইতিহাস সাক্ষী দেয় অন্য এক বাণী,
সহিষ্ণুতার আলোয় জেগে উঠেছে প্রাণখানি।
যেখানে মানুষ মানুষকে দিয়েছে সম্মান,
সেখানে ফুটেছে উন্নতির স্বর্ণোজ্জ্বল প্রভাতগান।

বৈচিত্র্যের রঙিন ডালি প্রকৃতিরই দান,
ভিন্নতার মাঝেই লুকায় সৌন্দর্যের গান।
একই বাগান রঙিন হয় নানান ফুলের মেলা,
একইভাবে মানবজগৎ বৈচিত্র্যে ভরা খেলা।

জ্ঞানী মানুষ জানেন ভালো, শেখার শেষ নেই,
অন্যের মাঝে নতুন কিছু জানার সুযোগ রয়।
ভিন্ন মতের আলো পেয়ে চিন্তা হয় সমৃদ্ধ,
সত্যের পথে এগিয়ে যেতে হয় মন আরও দৃঢ়।

নিজের ভুলও ধরা পড়ে অন্যের কথা শুনে,
অহংকারের অন্ধকার যায় জ্ঞানের আলো গুণে।
তাই তো শুনি ধৈর্য ধরে ভিন্ন মতের বাণী,
এভাবেই তো প্রসারিত হয় প্রজ্ঞার রাজধানী।

পরমত সহিষ্ণুতা কেবল মুখের বুলি নয়,
কর্মে, আচরণে, ব্যবহারে তার পরিচয়।
হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধা করতে হবে,
মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসতে হবে।

যে সমাজে সবাই মিলে সম্মান দিতে শেখে,
সেই সমাজে সুখের পাখি আনন্দগানে ডাকে।
সেখানে নেই ঘৃণার আগুন, নেই বিভেদের বাঁধ,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে শক্ত হয় প্রতিদিন সাধ।

এসো তবে প্রতিজ্ঞা করি হৃদয় খুলে আজ,
সহিষ্ণুতার আলোকধারা ছড়াই সমাজমাঝ।
ভিন্ন মানুষ, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন মতের দল,
সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গড়ি মানবতার ফল।

ভালোবাসার সেতু গড়ে মিলুক হৃদয় হৃদয়,
বিদ্বেষ, হিংসা, অহংকারের হোক চিরপরাজয়।
সত্য, ন্যায় আর সৌহার্দ্যে উজ্জ্বল হোক প্রাণ,
পরমত সহিষ্ণুতায় জাগুক বিশ্বমানবজ্ঞান।

মানুষ যেন মানুষকে আর অবহেলা না করে,
সম্মানের ফুল ফুটুক প্রতিটি অন্তরে।
বৈচিত্র্যের রঙে রঙে সাজুক বিশ্বলোক,
সহিষ্ণুতার মহিমাতে দূর হোক সকল শোক।

শেষ করি প্রার্থনা দিয়ে মহান রবের কাছে,
শান্তি, জ্ঞান আর সহমর্মিতা থাকুক সবার মাঝে।
পরমত সহিষ্ণুতার পবিত্র আলোর ধারা,
আলোকিত করুক বিশ্ব যুগে যুগে সারা।

হোক না ভিন্ন মতের ঢেউ, ভিন্ন পথের গান,
একই আকাশ তলে মোরা একই মানবপ্রাণ।
পরমতের মর্যাদাতে ফুটুক ঐক্যের ফুল,
সহিষ্ণুতার মহিমাতে হোক পৃথিবী সুখকূল।

মানবতার এই মহাগান ছড়িয়ে যাক দূর,
ভ্রাতৃত্বের শুভ বারতা ভরুক ভুবনপুর।
পরমত সহিষ্ণুতার এই মহান আহ্বান,
শান্তি, প্রেম আর সম্প্রীতিতে জাগুক বিশ্বপ্রাণ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ