Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ জুন, ২০২৬ ০৬:৩১ পূর্বাহ্ণ

সর্বশেষ আসমানী বার্তা মোঃ মুজিবুর রহমান



সর্বশেষ আসমানী বার্তা

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

শুরু করি শ্রদ্ধাভরে সত্যের মহাগান,
আল-কুরআন জাগায় আলো মানব হৃদয়-প্রাণ।
রবের বাণী নেমে এলো করুণারই সুরে,
অজ্ঞতার অন্ধকারে দীপ জ্বালাতে ধীরে।

যুগে যুগে পথহারা মানুষ যখন ছিল,
সত্যের পথ ভুলে গিয়ে বিভ্রান্তিতে মিলল,
তখন দয়াময় প্রভু পাঠালেন বারবার
নবী-রাসূল, হিদায়াত আর আলোর উপহার।

আদম হতে নূহ, ইবরাহিম, মূসা, ঈসা নাম,
সকল নবী ডাক দিয়েছেন এক আল্লাহর কাম।
মানবতাকে শিখিয়েছেন ন্যায় সত্যপথ,
ভালোবাসা, দয়া, ত্যাগে গড়তে জীবনের রথ।

সেই ধারারই পরিণতি, পূর্ণতার ঘোষণা,
মুহাম্মদে মুস্তফা (সা.) পেল জগতের প্রেরণা।
হেরা গুহার নীরব রাতে এল প্রথম বাণী,
"
পড়ো" বলে জাগিয়ে দিল বিশ্বমানবখানি।

জিবরাইলের মাধ্যমে সেই পবিত্র আহ্বান,
নেমে এলো ধীরে ধীরে রবের মহাগান।
তেইশ বছরের দীর্ঘ পথে শিক্ষা দিল ধীরে,
মানুষ যেন বুঝতে পারে হৃদয় গভীর তীরে।

আল-কুরআন কেবল কোনো ইতিহাসের বই নয়,
যে জীবন গড়ার শিক্ষা, সত্যের অমৃতময়।
এতে আছে জ্ঞান-বিজ্ঞান, নীতি আর উপদেশ,
আছে মানবমুক্তির পথ, শান্তির পরিবেশ।

এতে আছে স্রষ্টার ডাকে আত্মসমর্পণ,
এতে আছে সত্যবচন, ন্যায়েরই চারণ।
এতে আছে দয়ার শিক্ষা, ক্ষমার মহিমা,
এতে আছে মানবসেবার পবিত্র প্রতিমা।

কুরআন শেখায়মিথ্যা ত্যাগ করো নির্ভয়ে,
সত্যকে ধারণ করো হৃদয়ের গভীর নীড়ে।
অন্যায়ের সাথে আপস কভু নয় যে মুমিনের কাজ,
ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকাই তার সত্যি সাজ।

গ্রন্থ শেখায় পিতা-মাতার প্রতি সম্মান,
আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীর রক্ষা করো মান।
অসহায়ের পাশে দাঁড়াও, দুঃখীর চোখ মুছাও,
নিজের সুখের সাথে অন্যের সুখও খুঁজে পাও।

এতে আছে জ্ঞান অর্জনের মহিমান্বিত ডাক,
চিন্তা করো, গবেষণা করো, খোলো প্রজ্ঞার পাখা।
আকাশ, নদী, পর্বত, সাগর, সূর্য, চাঁদের আলো,
সবকিছুর মাঝে দেখো স্রষ্টার নিদর্শন ভালো।

গ্রন্থ বলেমানুষ সবে এক আদমের সন্তান,
বর্ণে কিংবা ভাষায় নয়, তাকওয়াতেই সম্মান।
ধনী-গরিব ভেদাভেদে নয় মানুষের মান,
সৎকর্মে যে অগ্রগামী, সেই শ্রেষ্ঠ প্রাণ।

কুরআনের প্রতিটি সূরা শিক্ষার অফুরান ভাণ্ডার,
প্রতিটি আয়াতে জ্বলছে হিদায়াতের অঙ্গার।
কখনো সতর্কবার্তা, কখনো সান্ত্বনা,
কখনো আবার মুমিনদের জন্য সুসংবাদনা।

এতে আছে অতীত জাতির শিক্ষা ইতিহাস,
অহংকারের পরিণতি, সত্যপথের সুবাস।
ফিরআউনের গর্ব কেমন ধূলায় হলো মিশে,
সবর করে বিজয় এল সত্যের পথে শেষে।

ইউসুফের ধৈর্য শেখায় বিপদে না হার মানতে,
আইয়ূব শেখায় কষ্ট সয়ে রবের দিকে থাকতে।
মূসা শেখায় জুলুমের বিরুদ্ধে দৃঢ় সংগ্রাম,
মরিয়ম শেখায় পবিত্রতার অনুপম অবিরাম।

কুরআন মানুষকে ডাকে আত্মশুদ্ধির পথে,
লোভ, হিংসা, বিদ্বেষ ত্যাগ করো অন্তর হতে।
হৃদয় যদি কলুষমুক্ত হয় বিশ্বাসের নূরে,
জীবন তখন প্রস্ফুটিত হয় শান্তিরই সুরে।

শুধু তিলাওয়াত করলেই পূর্ণ হয় না দায়,
অর্থ বুঝে জীবনজুড়ে বাস্তব প্রয়োগ চাই।
যে কুরআনের শিক্ষা নেয় কর্মের প্রতিটি ধাপে,
সে- খুঁজে পায় সাফল্যের সত্য ঠিকানাতে।

ঘরে ঘরে যদি জ্বলে কুরআনেরই আলো,
মানবতার বাগান তখন ফুটবে আরও ভালো।
অন্যায়, দুর্নীতি, হিংসা দূরে যাবে ধীরে,
সত্য ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে পৃথিবীজুড়ে।

শিক্ষার্থী পাবে জ্ঞানের দীপ, শ্রমিক পাবে মান,
ব্যবসায়ী শিখবে সততা, ন্যায় হবে প্রধান।
শাসক যদি কুরআনের নীতি অন্তরে নেয়,
জনকল্যাণের সুবাতাস সমাজময় বয়ে যায়।

পরিবারে গড়ে ওঠে ভালোবাসার বাঁধন,
পারস্পরিক শ্রদ্ধা হয়ে ওঠে জীবনের সাধন।
সন্তান শেখে আদব-কায়দা, নৈতিকতার বাণী,
সুন্দর চরিত্র গঠনে জাগে আলোর টানি।

কুরআন শুধু মুসলিমদের পাঠের গ্রন্থ নয়,
এতে রয়েছে মানবকল্যাণের সার্বজনীন পরিচয়।
সত্য, ন্যায়, দয়া, করুণাযে মূল্যবোধ মহান,
সেসব শিক্ষা ছড়িয়ে আছে এর প্রতিটি বয়ান।

তাই আসো, আমরা সবাই মনোযোগে পড়ি,
জ্ঞান প্রজ্ঞার আলোয় জীবনগাঁথা গড়ি।
অন্ধ অনুকরণ নয়, বুঝে নিই প্রতিটি বাণী,
সত্যের পথে চলার জন্য করি তা হৃদয়খানি।

যে ঘরে কুরআনের শিক্ষা জীবন্ত হয়ে রয়,
সেই ঘরে শান্তির ধারা অবিরত বই।
যে হৃদয়ে কুরআনের আলো জ্বলে অবিরাম,
সে হৃদয়ে জাগে সদা কল্যাণেরই নাম।

ইহজীবনের কর্মপথে হোক গ্রন্থ সাথি,
দুঃসময়ে দিক সাহস, অন্ধকারে প্রদীপবাতি।
মানবতার মহাসড়কে হোক এরই নির্দেশ,
সত্য, ন্যায় কল্যাণে গড়ুক সুন্দর পরিবেশ।

সর্বশেষ আসমানী বার্তা, অনন্ত আলোর দিশা,
কুরআনের শিক্ষা হোক জীবনের প্রতিশ্রুতি-লেখা।
রবের বাণী হৃদয়ে নিয়ে চলি সঠিক পথে,
শান্তি, সফলতা আর কল্যাণ ফুটুক জগৎমতে।

জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নৈতিকতা হোক জীবনের ধন,
কুরআনের আলোয় উদ্ভাসিত হোক মানবমন।
ইহকাল হোক সুন্দর, পরকাল হোক জয়,
রবের সন্তুষ্টি লাভেই জীবনের শ্রেষ্ঠ পরিচয়।

***

সর্বশেষ আসমানী বার্তা : আল-কুরআন

শুরু করি হৃদয় ছোঁয়া সত্যের মহাগান,
রবের বাণী শুনে জেগে উঠুক মানবপ্রাণ।
আলোকধারা হয়ে নেমে এলো যে মহাগ্রন্থ,
মানবতার মুক্তির পথে যার অমর অন্তর্গত।

যুগে যুগে ধরাতে এসেছে কত নবী,
সত্যপথের দিশা নিয়ে ছিলেন তাঁরা রবি।
অন্ধকারে হারানো মানুষ ফিরিয়ে দিতে আলো,
রহমতেরই আহ্বান নিয়ে চলেছেন নির্ভালো।

নূহের ডাকে জাগেনি যারা, ডুবেছে মহাপ্লাবে,
ইবরাহিমের ত্যাগের শিক্ষা জ্বলে আজও ভাবে।
মূসার হাতে সত্যের পতাকা ফিরআউনের বিপরীতে,
ঈসা ডেকেছেন প্রেম দয়ার মহিমা পৃথিবীতে।

সকল নবীর আহ্বান ছিল এক মহান রব,
একই সত্য, একই শিক্ষা, একই পবিত্র নব।
সেই ধারারই পরিণতিতে পূর্ণতার আয়োজন,
মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে এলো চূড়ান্ত ঘোষণা।

হেরা গুহার নিস্তব্ধ রাতে নেমে এলো বাণী,
পড়ো”—বলে জাগিয়ে দিল বিশ্বমানবখানি।
কেঁপে উঠল নীরব পর্বত, জাগল নতুন ভোর,
মানবতার ইতিহাসে খুলল আলোর দ্বার।

জিবরাইল (.)-এর মাধ্যমে রবের কালাম এলো,
পবিত্র সেই বাণীর ধ্বনি হৃদয় ভরে নিল।
তেইশ বছরের দীর্ঘ পথে ধীরে ধীরে নাজিল,
মানবজীবন গড়ার তরে হলো পূর্ণ শামিল।

আল-কুরআন শুধু নয় কোনো ধর্মগ্রন্থ মাত্র,
যে সত্য ন্যায়ের পথে চলার মহান সূত্র।
এতে আছে জীবনের সব প্রশ্নের সমাধান,
মানবতার কল্যাণময় এক অনন্য বিধান।

একশো চৌদ্দ সূরার মাঝে জ্ঞানের দীপ্তি জ্বলে,
অগণিত আয়াত সত্যের মুক্তা হয়ে দোলে।
সৃষ্টি, জীবন, মৃত্যু, বিচারসবই এতে আছে,
যুগে যুগে পথহারাদের ডাকে আপন কাছে।

গ্রন্থ শেখায় মানুষ যেন মানুষকে ভালোবাসে,
অসহায়ের পাশে দাঁড়ায় দুঃসময়ের আশে।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে থাকে সাহসী দৃঢ়,
সত্যের পথে অটল থাকে বিশ্বাসে সুদৃঢ়।

কুরআন শেখায় পিতা-মাতার সম্মান করতে সদা,
শ্রদ্ধা, সেবা, ভালোবাসায় পূর্ণ হোক প্রতিদা।
আত্মীয়, প্রতিবেশী, বন্ধুসবার রয়েছে হক,
মানবসেবার মাঝেই লুকায় ইবাদতের সুখ।

এতে আছে জ্ঞানার্জনের মহান আহ্বান,
চিন্তা করো, গবেষণা করো, জাগাও প্রজ্ঞাপ্রাণ।
আকাশভরা নক্ষত্রমালা, সাগরের গভীরতা,
স্রষ্টার শক্তির নিদর্শনে জাগে বিস্ময়তা।

কুরআন বলেঅহংকারে নয় মানুষের মান,
ধন-সম্পদে নয় শ্রেষ্ঠত্ব, নয় বংশের সম্মান।
সৎকর্ম, ন্যায়পরায়ণতা, চরিত্রের মহিমা,
এসব দিয়েই গড়ে ওঠে মানুষের মর্যাদা।

যে কুরআনের শিক্ষা নেয় অন্তরের গভীরে,
তার জীবন আলোকিত হয় প্রভুর নূরের নীড়ে।
দুঃখে পায় ধৈর্যের শক্তি, সুখে কৃতজ্ঞতা,
বিপদে পায় আশার আলো, জাগে সহনশীলতা।

কুরআন শেখায়মিথ্যা ত্যাগ করো, বলো সত্য কথা,
প্রতারণা আর অন্যায় থেকে দূরে রাখো ব্যথা।
সততার পথেই রয়েছে সম্মানের আসন,
সৎ জীবনের মধ্যেই লুকায় সফলতার পণ।

শুধু তিলাওয়াত করলেই পূর্ণ হয় না দায়,
অর্থ বুঝে আমল করাই প্রকৃত অনুসায়।
আয়াতগুলো জীবনেরই প্রতিটি পথে জ্বালো,
তবেই কুরআনের শিক্ষা ফলবে ভালো ভালো।

যে ঘরে কুরআনের আলো প্রতিদিনের সাথি,
সেই ঘরে শান্তির সুবাস, মমতার প্রদীপবাতি।
সন্তান শেখে আদব-কায়দা, সত্য শিষ্টাচার,
পরিবারে গড়ে ওঠে সৌহার্দ্যের সংসার।

যে সমাজে কুরআনের নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়,
সেখানে ন্যায়বিচারের ধারা অবিরত বই।
শোষণ, বৈষম্য, দুর্নীতি হারায় ধীরে ধীরে,
মানবতার ফুল ফোটে সৌভ্রাতৃত্বের নীড়ে।

কুরআন মানুষকে ডাকে আত্মশুদ্ধির পথে,
লোভ, হিংসা, বিদ্বেষ ত্যাগ করো অন্তর হতে।
হৃদয় যদি নির্মল হয় ঈমানের আলোয়,
সুখের নদী বয়ে চলে জীবনেরই পালোয়।

গ্রন্থ সতর্ক করে বিচার দিনের কথা,
যেদিন প্রকাশ পাবে সকল কর্মের ব্যাখ্যা।
সৎজন পাবে পুরস্কার, পাবে শান্তির স্থান,
অন্যায়কারী বুঝবে সেদিন কর্মের পরিণাম।

তাই আসো, আমরা সবাই পড়ি মহাগ্রন্থ,
বুঝে নিই তার মর্মবাণী, করি জীবন ধন্য।
শুধু মুখের উচ্চারণে সীমাবদ্ধ না থেকে,
কর্মে, চিন্তায়, চরিত্রগঠনে রাখি তাকে দেখে।

আল-কুরআন আলোর মশাল, জ্ঞানের মহাসাগর,
মানবতার শ্রেষ্ঠ সম্পদ, সত্যের দিশারী অমর।
যে তার বাণী হৃদয়ে নিয়ে এগিয়ে চলে প্রাণে,
কল্যাণের পথ উন্মুক্ত হয় তার জীবনখানে।

ইহকালের শান্তি মিলে, জাগে নৈতিক বল,
পরকালের মুক্তির আশা হয় আরও উজ্জ্বল।
রবের সন্তুষ্টি লাভের শ্রেষ্ঠ পথের জ্ঞান,
আল-কুরআন চিরকালই মানবতার প্রাণ।

ধ্বনিত হোক বিশ্বজুড়ে এই মহান আহ্বান
পড়ো, বুঝো, মানো কুরআন, জাগুক মানবপ্রাণ।
সত্য, ন্যায় কল্যাণময় হোক সবার অভিযান,
আল-কুরআন হোক জীবনের চিরন্তন সংবিধান।

***

সর্বশেষ আসমানী বার্তা : আল-কুরআন

কুরআনের ডাকে জাগে বিবেকের দীপশিখা,
অন্তরজুড়ে ফুটে ওঠে সত্যপথের দীক্ষা।
অজ্ঞানতার ঘন আঁধারে হারানো যত প্রাণ,
খুঁজে পায় দিশা নতুন রবের মহাবাণ।

গ্রন্থ শুধু মরুভূমির কোনো যুগের নয়,
যুগে যুগে, দেশে দেশে এর আবেদনময়।
সময়ের সীমানা পেরিয়ে অম্লান যার আলো,
মানবতার পথচলায় সে আজও অনন্য ভালো।

শিশুর হাতে জ্ঞানের প্রদীপ, তরুণের প্রেরণা,
প্রবীণের অন্তরে জাগায় ধৈর্যের সান্ত্বনা।
শাসকেরে শেখায় ন্যায়, বিচারকেরে সুবিচার,
ব্যবসায়ীকে সততা, কর্মীকে কর্তব্যের অধিকার।

কৃষকের ঘামে যে ফসল ওঠে সোনার দানে,
কুরআন শেখায় কৃতজ্ঞ হতে মহান রবের টানে।
শ্রমিক যখন পরিশ্রমে গড়ে সভ্যতার ভিত্তি,
তখন তাকে মর্যাদা দিতে দেয় মহান নির্দেশটি।

এতে আছে জ্ঞানের মুক্তা, চিন্তার অফুরান ধারা,
এতে আছে মহাবিশ্বের বিস্ময় ভরা সাড়া।
দিনের পরে রাত যে আসে, রাতের পরে দিন,
প্রকৃতির শৃঙ্খলাতে ফুটে ওঠে স্রষ্টাচিন।

নদীর স্রোত, সাগরঢেউ, আকাশভরা তারা,
সবই যেন ঘোষণা করে এক মহান ইশারা।
সৃষ্টি জগতের প্রতিটি কণা, প্রতিটি জীবপ্রাণ,
স্রষ্টার শক্তির সাক্ষ্য দেয় নিরবধি অবিরাম।

কুরআন শেখায়অহংকারে পতন অনিবার্য,
বিনয় আর ন্যায়পরতায় মানুষ হয় গৌরবময়।
ক্ষমা যার অন্তরে থাকে, ভালোবাসা যার সাথি,
তার জীবনেই ফুটে ওঠে শান্তির প্রদীপবাতি।

দুঃখ যখন ঘিরে ধরে জীবনের চারিধার,
কুরআনের বাণী তখন সাহস জোগায় অপার।
ঝড়-তুফানের মাঝখানেও আশা হারাতে বারণ,
ধৈর্যের পথে এগিয়ে যেতে দেয় অবিরাম আহ্বান।

গ্রন্থ ডাকে আত্মসমালোচনার পবিত্র পথে,
নিজের ভুলকে চিনতে শেখায় বিনয়ের সাথে।
অন্যকে নয়, আগে নিজেকে শোধরানোর তাগিদ,
এই শিক্ষাতেই গড়ে ওঠে চরিত্রের প্রকৃত ভিত্তি।

যে কুরআনকে হৃদয় দিয়ে বুঝতে শেখে ধীরে,
সে খুঁজে পায় জীবনের মানে অস্তিত্বের নীড়ে।
তার কাছে প্রতিটি সকাল নতুন আলোর দান,
প্রতিটি নিশি হয়ে ওঠে কৃতজ্ঞতার গান।

ঘরে ঘরে যদি জ্বলে কুরআনের শিক্ষা দীপ,
অন্যায়ের কালো মেঘে হারাবে না কোনো নীড়।
সত্যের পথে চলবে মানুষ, জাগবে মানবতা,
ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে গড়বে শান্তির সভ্যতা।

হিংসার বদলে সহমর্মিতা, ঘৃণার বদলে প্রেম,
প্রতারণার স্থলে সততা হবে জীবনের নিয়ম।
দুর্বল পাবে অধিকার, মজলুম পাবে ন্যায়,
শোষিতের অশ্রু মোছার দায়িত্ব নেবে সমাজ।

কুরআনের আহ্বান তাই কেবল মুখের বাণী নয়,
যে কর্মে, চিন্তায়, আদর্শে বাঁচার পরিচয়।
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যার রয়েছে দিশা,
মানুষকে মানুষ করার চিরন্তন প্রত্যয়-লেখা।

তাই আসো, আমরা সবাই পড়ি বুঝে গ্রন্থ,
জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করি আপন অন্তঃকরণ।
শুধু তিলাওয়াত নয়, হোক আমলেরও সাধনা,
জীবনের প্রতিটি ধাপে ফুটুক তার প্রজ্ঞা।

রবের বাণী হৃদয়ে নিয়ে এগিয়ে যাক প্রাণ,
সত্য, ন্যায় আর কল্যাণে মুখর হোক জাহান।
ইহকালে শান্তি লাভ, পরকালে মুক্তি জ্ঞান
এই হোক আল-কুরআনের মহিমান্বিত আহ্বান।

সর্বশেষ আসমানী বার্তা, সর্বশেষ ঐশী দান,
যুগে যুগে পথ দেখাবে মানবতার প্রাণ।
যতদিন সূর্য উদিত হবে, জ্বলবে চাঁদের আলো,
ততদিন কুরআনের শিক্ষা পথ দেখাবে ভালো।

***

সর্বশেষ আসমানী বার্তা : আল-কুরআন

আলোর উৎ, জ্ঞানের সাগর, সত্যের মহাবাণী,
মানবতার কল্যাণপথে চিরউজ্জ্বল খানি।
যুগের পরে যুগ পেরিয়ে অম্লান যার শিখা,
জাগায় মনে ন্যায়-সাহস, বিবেকের দীক্ষা।

গ্রন্থ কেবল শব্দমালা, বাক্যগাঁথা নয়,
মানবজীবন গড়ার তরে মহান পরিচয়।
চিন্তা, কর্ম, নীতি, আদর্শ, চরিত্র গঠনে,
দিশা দেয় অবিরাম সে জীবনের প্রতিক্ষণে।

যেখানে আছে সত্যের ডাক, মিথ্যার প্রতি ধিক,
যেখানে আছে ন্যায়ের শিক্ষা, অন্যায়েরে ঠিক।
যেখানে আছে করুণা আর মানবসেবার বাণী,
সেখানে জ্বলে কুরআনেরই চিরকল্যাণী খানি।

গ্রন্থ বলেজ্ঞান অর্জনে হও সদা অগ্রসর,
অজ্ঞানতার শৃঙ্খল ভেঙে হও প্রজ্ঞায় সমৃদ্ধতর।
কলমের মর্যাদা শেখায়, শেখায় পাঠের মান,
শিক্ষার আলোয় উজ্জ্বল হোক বিশ্বমানবপ্রাণ।

আকাশ জুড়ে সূর্য ওঠে নিয়মেরই তানে,
চাঁদ তারা ঘুরে চলে নির্ধারিত বিধানে।
নদী বয়ে যায় সাগরপানে, ঋতু আসে যায়,
সৃষ্টিজগতের প্রতিটি দৃশ্য চিন্তার খোরাক জোগায়।

পর্বতের দৃঢ়তা দেখে শেখো অবিচল থাকা,
সাগরের গভীরতা দেখে বিনয়ের পাঠ আঁকা।
বৃক্ষ যেমন ফল বিলিয়ে করে না অহংকার,
তেমনি হও উপকারী, সেবায় হও উদার।

কুরআন ডাকে আত্মশুদ্ধির নির্মল অভিযানে,
হিংসা, লোভ, বিদ্বেষ ত্যাগ করো হৃদয়খানে।
রাগের আগুন নেভাও সদা ক্ষমার শীতল জলে,
ভালোবাসার সুবাস ছড়াও মানবতার তলে।

অসহায়ের কান্না শুনে এগিয়ে যাও পাশে,
দুঃখীর মুখে হাসি ফোটাও মমতারই আশে।
ক্ষুধার্তেরে আহার দাও, তৃষ্ণার্তেরে পানি,
মানবসেবায় ফুটে ওঠে ইমানেরই বাণী।

গ্রন্থ শেখায়প্রতিবেশীর রয়েছে অধিকার,
তার সুখ-দুঃখে অংশ নেওয়া মানবধর্মের ভার।
আত্মীয়তার বন্ধন রাখো স্নেহ-ভালোবাসায়,
সম্প্রীতিরই ফুল ফুটুক সমাজের প্রত্যাশায়।

পিতা-মাতার সম্মান যেন হৃদয়ের অলংকার,
তাঁদের সেবায় নিহিত থাকে কল্যাণ অপরিসীম আর।
যত্ন, শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতায় ভরাও জীবনের পথ,
শিক্ষাতে মহিমান্বিত হয় মানবতার রথ।

কুরআন শেখায় সততারই মহিমান্বিত জয়,
প্রতারণার অন্ধকারে কোনো কল্যাণ নয়।
ব্যবসায়ে হোক ন্যায়ের চর্চা, মাপে হোক না ছল,
সত্যনিষ্ঠার ভিতের উপর দাঁড়াক জীবনের ফল।

ক্ষমতার আসনে বসে ভুলে যেও না কভু,
বিচার হবে কর্মের তরে মহান প্রভুর রবে।
শাসক যদি ন্যায়ের পথে পরিচালিত হয়,
শান্তি সমৃদ্ধির ধারা সমাজজুড়ে বই।

কৃষকের ঘামে জন্মে ফসল, শ্রমিক গড়ে দেশ,
তাদের প্রতি মর্যাদা দাও, করো না অবহেলাশেষ।
মানুষে মানুষে সম্মান হোক সভ্যতার ভিত্তি,
শিক্ষাতেই নিহিত আছে উন্নতির প্রকৃতি।

ধনী কিংবা গরিব বলে মানুষের নয় মান,
বংশ কিংবা বর্ণে নয় মর্যাদার সম্মান।
সৎকর্ম, চরিত্র, তাকওয়াতেই প্রকৃত পরিচয়,
এই মহান সমতার বাণী বিশ্বজুড়ে রয়।

ইউসুফের জীবন শেখায় ধৈর্যের মহিমা,
আইয়ূব শেখায় কষ্টে রাখো রবের উপর ভরসা।
নূহের ডাকে সত্যের প্রতি অবিচল আহ্বান,
মূসার মাঝে জুলুমবিরোধী সংগ্রামেরই গান।

ইবরাহিমের ত্যাগে জ্বলে আত্মসমর্পণ দীপ,
মরিয়মের পবিত্রতায় নৈতিকতার নীড়।
সকল নবীর জীবন যেন শিক্ষার মহাগ্রন্থ,
মানবতার কল্যাণে যাঁদের অনন্ত অবদান সৃষ্ট।

কুরআনের প্রতিটি সূরা আলোর এক অধ্যায়,
প্রতিটি আয়াত সত্যপথে নতুন শিক্ষা ছড়ায়।
কখনো তাতে সতর্কবার্তা, কখনো সান্ত্বনা,
কখনো বা মুমিন হৃদয়ে সুসংবাদের গাঁথা।

যখন মানুষ পথ হারায় স্বার্থের অন্ধ নেশায়,
কুরআনেরই আলো তখন জাগে নব প্রত্যাশায়।
বিবেকহীন প্রতিযোগিতা যখন করে গ্রাস,
সত্যের বাণী ফিরিয়ে আনে নৈতিকতার সুবাস।

শুধু তিলাওয়াত করলেই পূর্ণ হয় না দায়,
অর্থ বুঝে কর্মে আনাই প্রকৃত অনুসায়।
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ চাই তার,
তবেই ফুটবে চরিত্রগঠনের সোনালি অঙ্কুরধার।

যে ঘরে কুরআনের শিক্ষা জীবন্ত হয়ে রয়,
সে ঘরে শান্তি, মমতা, সৌহার্দ্যের ধারা বই।
যে হৃদয়ে কুরআনের আলো জ্বলে অবিরাম,
সে হৃদয়ে কল্যাণ ফোটে প্রভাতের শুভধাম।

বিদ্যালয়ে জ্ঞানের সাথে নৈতিকতার পাঠ,
সমাজজুড়ে দায়িত্ববোধের হোক নতুন প্রভাত।
মানবিকতা, সততা, শৃঙ্খলা, পরম সহিষ্ণুতা,
এসব গুণেই বিকশিত হয় সুন্দর সভ্যতা।

তাই আসো, আমরা সবাই পড়ি মহাগ্রন্থ,
জ্ঞান প্রজ্ঞার আলোয় করি জীবন ধন্য।
অন্ধ অনুসরণ নয়, বুঝে নিই তার বাণী,
সত্যের পথে চলার তরে জাগাই হৃদয়খানি।

ইহকালের কর্মপথে হোক সে বিশ্বস্ত সাথি,
দুঃসময়ে সাহস দিক, আঁধারে প্রদীপবাতি।
পরকালের মুক্তিপথে দিক সে আলোর দিশা,
মানবতার কল্যাণে হোক জীবনের প্রতিশ্রুতি-লেখা।

সর্বশেষ আসমানী বার্তা, চিরন্তন মহাগান,
যুগে যুগে জাগিয়ে রাখুক বিশ্বমানবপ্রাণ।
রবের বাণী হৃদয়ে নিয়ে চলি সত্যপথে,
শান্তি, ন্যায় কল্যাণ ফুটুক জগতমতে।

জ্ঞান হোক অলংকার, প্রজ্ঞা হোক ধন,
কুরআনের আলোয় উদ্ভাসিত হোক মানবমন।
ইহকাল হোক সুন্দর, পরকাল হোক জয়,
রবের সন্তুষ্টি লাভেই জীবনের শ্রেষ্ঠ পরিচয়।

Top of Form

Bottom of Form

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ