Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ জুন, ২০২৬ ০৮:৫২ পূর্বাহ্ণ

বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জন্য সুনির্দিষ্ট অবস্থানকাল নির্ধারণ করা শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ, কার্যকর ও ফলপ্রসূ করে তোলে।

বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জন্য সুনির্দিষ্ট অবস্থানকাল নির্ধারণ করা শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ, কার্যকর ও ফলপ্রসূ করে তোলে। সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনে এবং একটি জবাবদিহিমূলক পরিবেশ সৃষ্টি করে। ফলে শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ এবং একটি আদর্শ শিক্ষা পরিবেশ গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় গড়ে তোলার পেছনে একজন শিক্ষকের মহান ত্যাগ ও আন্তরিক পরিশ্রম নিহিত থাকে। শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানই করেন না, বরং নিজের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও মূল্যবান সময় উৎসর্গ করে শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার চেষ্টায় ব্রত থাকেন। একজন প্রকৃত শিক্ষক অনেক সময় ব্যক্তিগত সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কাজ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ভুল সংশোধন করেন, নৈতিক শিক্ষা দেন এবং জীবনের সঠিক পথ দেখান। সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের মূল কারিগর হচ্ছেন শিক্ষক, কারণ তার হাত ধরেই গড়ে ওঠে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও দক্ষ মানবসম্পদ। তাই শিক্ষকের ত্যাগ ধৈর্য ও নিষ্ঠার মূল্য অপরিসীম।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান একজন শিক্ষকের মহান ত্যাগ, দায়িত্ব ও আত্ম নিবেদনের পরিচয় বহন করে। একজন শিক্ষক পাঠ্য বইয়ের জ্ঞান দান করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা , শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের শিক্ষাও দিবেন। শ্ক্ষিার্থীর একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য শিক্ষক নিজের আরাম-আয়েশ, ব্যক্তিগত সময় ও অনেক স্বার্থ ত্যাগ করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবেন। শেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি খাতা মূল্যায়ন, পাঠ প্রস্তুতি ও শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে তিনি নিরলস পরিশ্রম করবেন।

একজন শিক্ষক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তার সর্বোচ্চ সময় ব্যয় করবেন এটাই স্বাভাবিক। একজন আদর্শ শিক্ষকের দৈনন্দিন কাজের মধ্যে রয়েছে- শ্রেণি পাঠদান, পাঠ প্রস্তুতি, খাতা মূল্যায়ন, শিক্ষার্থীদের পরামর্শ, সহশিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলার আয়োজন, অভিভাবকের সাথে পরামর্শ, স্কাউটিং (সমজাতীয় অন্যান্য কার্যক্রম যেমন গার্লস গাইড, বিএনসিসি প্রভৃতি), প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাজ।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে যে, শিক্ষকদের জন্য বিদ্যালয়ে কতটুকু সময় অবস্থান করতে হবে তাহা কোথাও সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা নাই। বাংলাদেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের বিদ্যালয়ে অবস্থানের নির্দিষ্ট সময় সাধারনত সরকারী বিধি, বিদ্যালয়ের রুটিন ও প্রশাসনিক নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে; কিন্তু বাস্তবে বিদ্যালয়ে আবশ্যিকভাবে অবস্থানের সুনির্দিষ্ট কোন বিধান না থাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিছুসংখ্যক নামধারী শিক্ষকের পেশিশক্তির প্রভাবে বেশিরভাগ প্রশাসনিক নির্দেশনা উপেক্ষিত হয়। এর মাধ্যমে ওপরের বুলেট পয়েন্টে উল্লিখিত কার্যক্রম বাস্তবায়ন ব্যহত হয় ফলে ক্রমান্বয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষা বঞ্চিত হয়, শিক্ষা গ্রহণে স্বাচ্ছন্দ্য হারায়, বিদ্যালয়বিমুখ এবং মাদকাসক্ত হয় ও কিশোরগ্যাংয়ে যুক্ত হয়। পরিশেষে তাকে শিক্ষাজীবনের যবনিকা টানতে হয়।

একজন শিক্ষক বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ দিয়ে শিক্ষার্থীকে অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করে একটি নিরাপদ ও সুন্দর জীবন দান করতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে শিক্ষককে শ্রেণি পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে সময় ব্যয় করতে হবে। স্কুলিং শুধু ঘড়ি বা সূর্যের দিকে তাকিয়ে চলবে না।

বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জন্য সুনির্দিষ্ট অবস্থানকাল নির্ধারণ করা শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ, কার্যকর ও ফলপ্রসূ করে তোলে। সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনে এবং একটি জবাবদিহিমূলক পরিবেশ সৃষ্টি করে। ফলে শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ এবং একটি আদর্শ শিক্ষা পরিবেশ গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট অবস্থানকাল নির্ধারণ করে দেওয়া কর্তৃপক্ষের একটি অত্যাবশ্যক দায়িত্ব বলে মনে করছি।

মন্তব্য করুন