সহকারী শিক্ষক
১৪ জুন, ২০২৬ ০৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আগামী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৬-২৭ থেকে সারা বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে আগে জমা দিলে বেশি করছাড় পাবেন করদাতারা। আর দেরিতে দিলে জরিমানার শিকার হতে পারেন। ২০২৬-২৭ বাজেট প্রস্তাব অনুসারে,
অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা, যা কম তাই ছাড় পাবেন।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন যা কর তাই দিলেই হবে। কোনো প্রণোদনা পাওয়া যাবে না।
আর জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা, যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে।
এপ্রিল-জুন মাসে রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা, যেটি বেশি সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে।
প্রতি বছর জুলাই মাস থেকে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া গেলেও অনেক শিক্ষক আয়কর রিটার্ন জমা দিতে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করেন। অনেকে নভেম্বর মাস আসলে বা আরো দেরিতে আয়কর ফাইল জমা দেন। এই বছর থেকে যারা বিলম্বে রিটার্ন জমা দিবেন তাদের ক্ষেত্রে পরিশোধযোগ্য করের উপর অতিরিক্ত টাকা জরিমানা হিসেবে জমা দিতে হতে পারে।
এ বছর আয়করের কর হার পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। যেমন– এবার করমুক্ত আয়সীমার পরের প্রথম এক লাখ টাকার জন্য যে ৫ শতাংশ কর আছে, তা বাদ দেওয়া হয়েছে। যাঁদের বার্ষিক আয় ৩৭৫,০০০ টাকার বেশি তাঁদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা পরবর্তী প্রথম ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ যেটা গত বছর ছিল ৫% বা ৫ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার জন্য ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার জন্য ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের জন্য ৩০ শতাংশ হারে করারোপ করা হয়েছে।
বছরে মাত্র একবার আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়। তারপরেও আমরা শিক্ষকগণ শুধুমাত্র কিছু খরচ বাঁচানোর জন্য আয়কর আইন সম্পর্কে অনভিজ্ঞ অথবা বাজারের কোন কম্পিউটার বা ফটোকপির দোকান থেকে ভুলভাল রিটার্ন জমা দিয়ে নিজেদের সর্বনাশ নিজেরাই করছি। অনেকেই জানেন বিগত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জমা দেওয়া আয়কর রিটার্ন হতে ৭২ হাজারের বেশি রিটার্ন ফাইল অডিট কেসে পড়েছে। অর্থাৎ ভুলভাল তথ্য অথবা আয় বা সম্পদের কোন তথ্য গোপন করে যারা ইতিপূর্বে রিটার্ন সাবমিট করেছেন, তারা যে কোন সময় অডিট কেসে পড়তে পারেন। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো আয়কর রিটার্ন ফাইলে দেওয়া তথ্য যাচাই করে যদি সঠিক প্রমাণ না হয়, সেক্ষেত্রে বড় অঙ্কের জরিমানা এমনকি আরও কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এ বিষয়ে আমি আমার একটি অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি বিগত ছয় বছর যাবত ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল প্রসেসিং এর কাজ করে আসছি। ২০২৩ সালে আমার পরিচিত একজন শিক্ষক তার প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপন করে অল্প পরিমাণ সম্পদ দেখিয়ে একটি জিরো রিটার্ন জমা দেন। বর্তমানে তার ফাইলটিও অডিটে পড়েছে। অর্থাৎ আমরা যারা মনে করি আয় বা সম্পদের তথ্য সব না দেখালেও সমস্যা নেই এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আমাদের কারো ফাইল যদি একবার অডিটে পড়ে এবং আমরা যদি রিটার্নে প্রদর্শিত সম্পদের সাথে আমাদের প্রকৃত সম্পদের তথ্য সঠিকভাবে না উপস্থাপন করতে পারি, সেক্ষেত্রে আয়কর অফিস থেকে বড় অংকের জরিমানাসহ সেই রিটার্ন পুনরায় সাবমিট করতে হতে পারে। তাই বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন। পাশাপাশি আপনার ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ন ফাইল অনলাইনে প্রসেসিং ও জমা দিতে চাইলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন যোগাযোগের তথ্য নিচে দেওয়া হল।
01717 456562 (Whatsapp) ফেসবুক পেজ: https://www.facebook.com/taxmentorbd
৫৩
৯১ মন্তব্য