সহকারী অধ্যাপক
১৪ জুন, ২০২৬ ০৬:১৫ অপরাহ্ণ
আমানত ও অঙ্গীকার (আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অষ্টম বৈশিষ্ট্য অবলম্বনে) সূরাঃ আল-মুমিনুন আয়াতঃ ৮ মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
আমানত ও অঙ্গীকার
(আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অষ্টম বৈশিষ্ট্য অবলম্বনে)
সূরাঃ আল-মুমিনুন আয়াতঃ ৮ মাক্কী
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
শুরু করি হৃদয় ছোঁয়া এক সত্যের মহাগান,
আমানত আর অঙ্গীকারে জাগুক মানবপ্রাণ।
সততার যে দীপ জ্বলে বিশ্বাসেরই তীরে,
মানবতার সৌন্দর্য তা ছড়িয়ে পড়ে ধীরে।
আল্লাহর প্রিয় বান্দারা রাখে সত্য মান,
তাদের বুকে অটল থাকে ঈমানের সম্মান।
কথা দিয়ে কথা রাখে, করে না প্রতারণা,
ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকে, মুছে সকল বঞ্চনা।
অর্পিত যত দায়িত্ব তারা পালন করে,
সত্যনিষ্ঠার আলোকধারা রাখে অন্তরে।
লোভের ডাকে ভোলে না তারা, ভাঙে না বিশ্বাস,
তাদের গুণে গড়ে ওঠে সুন্দর পরিবেশ।
আমানত শুধু স্বর্ণ-রৌপ্য কিংবা ধনের ভার,
আমানতের মাঝে আছে দায়িত্ব অপার।
একটি কথা, একটি কাজ, একটি গোপন বাণী,
সবই আমানত হয়ে আসে জীবনের কাহিনি।
কেউ যদি তার অন্তরের কথা করে দান,
বিশ্বাস রেখে বলে যদি মনের অবসান,
সে কথাটি রক্ষা করা পবিত্র এক দায়,
বিশ্বাসভঙ্গ মানুষেরে অপমানিত করে যায়।
অর্পিত যদি হয় কারও ধন-সম্পদের ভার,
সততা দিয়ে রাখতে হবে তার সব অধিকার।
যতদিন না ফেরত দেওয়া হয় যথাস্থানে,
ততদিন তা রক্ষা করা কর্তব্যেরই টানে।
শিক্ষক যখন জ্ঞান বিলান ছাত্রদের মাঝারে,
সেটিও এক আমানত যে মানবতার দ্বারে।
চিকিৎসকও রোগীর প্রতি আমানতের দায়,
সত্যসেবা ও আন্তরিকতা তার কর্তব্য হয়।
বিচারকের হাতে থাকে ন্যায়ের ভারসাম্য,
সত্যের পথে অবিচল থাকা তার মহৎ সাম্য।
ক্ষমতারও আছে আবার আমানতের রূপ,
অন্যায়ের তরে ব্যবহার হলে নামে অশুভ ধূপ।
মাতা-পিতা সন্তানেরে লালন করে যেই,
সন্তানেরও কর্তব্য আছে শ্রদ্ধা রাখা সেই।
পরিবারের ভালোবাসা, সম্পর্কের বন্ধন,
আমানতের রূপে গড়ে জীবনেরই চন্দন।
মানুষের প্রতি মানুষের যে রয়েছে অধিকার,
তা রক্ষা করা ঈমানদারের পবিত্র আচরণ আর।
প্রতিবেশীর হক আদায়ে যে থাকে সদা সচেতন,
তার জীবনেই ফুটে ওঠে মুমিনের লক্ষণ।
আল্লাহ যেসব দায়িত্ব দেন বান্দাদের তরে,
সেগুলোও আমানত হয়ে আসে জীবনভরে।
নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত, ন্যায়ের সব বিধান,
পালন করা মুমিনেরই ঈমানী পরিচয় জ্ঞান।
সত্য বলা, মিথ্যা ত্যাগ, সংযম রাখা প্রাণে,
এসবও তো আমানতের অন্তর্ভুক্ত মানে।
পাপের পথে না চলা আর অন্যায় হতে দূর,
এমন জীবন আলোকিত করে হৃদয় ভরপুর।
অঙ্গীকারও মহামূল্য মানুষের জীবনে,
প্রতিশ্রুতির মর্যাদা দেয় সম্মানের আসনে।
কথা দিয়ে কথা রাখা মহৎ গুণের ধন,
এ গুণে মানুষ পায় সকলেরই আপন মন।
আল্লাহর সাথে কৃত যে শপথ অন্তরে,
তাও রক্ষা করতে হবে শ্রদ্ধাভরে ঘিরে।
স্রষ্টার প্রতি আনুগত্যের যে রয়েছে দায়,
সত্যনিষ্ঠ হৃদয় কখনো তা ভুলে না যায়।
মানুষ মানুষের মাঝে যত চুক্তি হয়,
ন্যায় ও সততার ভিত্তিতে তা পূরণ করা রয়।
ব্যবসাতে, সম্পর্কে কিংবা সমাজের প্রয়োজনে,
অঙ্গীকারের মর্যাদা রাখো জীবনেরই সনে।
যে ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি দেয় অথচ ভঙ্গ করে,
বিশ্বাসের সে প্রাসাদ ভেঙে পড়ে ক্ষণে ক্ষণে।
ভাঙা বিশ্বাস জোড়া লাগে বড়ই কঠিন কাজ,
তাই তো সততা রক্ষায় জাগুক বিবেক আজ।
মুমিন কখনো প্রতারণার পথে চলে না,
লোভের মোহে সত্যের আলো ফেলে দেয় না।
তার চরিত্র নির্মল নদীর স্বচ্ছ জলের মতো,
মানবতার বাগান জুড়ে ছড়ায় সুগন্ধ শত।
মিথ্যা কথা ক্ষণিক সুখের মায়াবী আয়োজন,
শেষে আনে লজ্জা, দুঃখ, অনুশোচনার ক্ষণ।
সত্য যদিও কঠিন হয় কখনো কখনো,
সত্যের পথেই শান্তি মেলে জীবনেরই জন্য।
অন্যায়ের লাভ অল্পদিনের ক্ষণস্থায়ী ফল,
সততার বৃক্ষ দেয় যে শান্তির ফসল।
যে আমানত রক্ষা করে নিষ্ঠা দিয়ে প্রাণে,
মানুষ তাকে শ্রদ্ধা করে যুগে যুগে গানে।
ইতিহাসের পাতায় যত মহৎ মানুষের নাম,
সততা আর বিশ্বস্ততায় উজ্জ্বল তাদের দাম।
তাদের জীবন শিক্ষা দেয় মানবসমাজ জুড়ে,
বিশ্বাসের পথেই সুখের আলো আসে ঘুরে।
একটি সমাজ গড়ে ওঠে আস্থার ভিতরে,
সততার সে ভিত্তি থাকে মানুষের অন্তরে।
যেখানে নেই বিশ্বাসঘাতকতা, নেই প্রতারণার ছায়া,
সেখানে নেমে আসে শান্তির স্নিগ্ধ মায়া।
আমানতদার মানুষগুলো সমাজেরই রত্ন,
তাদের কারণে নিরাপদ হয় জীবনের যত্ন।
শিশুরা শেখে সত্যবাদী হতে ধীরে ধীরে,
ভালোবাসা বাড়ে সবার হৃদয়েরই নীড়ে।
বন্ধুত্বের মূলেও থাকে বিশ্বাসের বন্ধন,
অঙ্গীকারের মর্যাদাতে টিকে থাকে জীবন।
কথা রাখার সৌন্দর্য যে হৃদয় ছুঁয়ে যায়,
মানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা সেখানেই ধরা পায়।
লোভ, ক্রোধ, হিংসা, মিথ্যা যত অশুভতার ঢেউ,
সততার সে দৃঢ় প্রাচীর ভাঙতে পারে না কেউ।
ঈমানী শক্তি জাগ্রত হলে অন্তরের গভীরে,
সত্যের আলো পথ দেখায় অন্ধকারের নীড়ে।
যে কর্মচারী দায়িত্ব পালন করে নিষ্ঠাভরে,
সে-ও আমানত রক্ষাকারী সমাজের অন্তরে।
যে নেতা জনগণের হক রক্ষা করে সদা,
তার হাতেই প্রস্ফুটিত হয় ন্যায়ের মহাকথা।
যুবক যদি সততার পথে জীবন গড়ে নেয়,
ভবিষ্যতের সুন্দর স্বপ্ন বাস্তব রূপ পায় সেই।
শিশুর মনে সত্যের বীজ রোপণ করো আজ,
আগামী দিনের আলোকিত সমাজ হবে সাজ।
আমানত ও অঙ্গীকার কেবল শব্দ নয়,
সভ্যতার ভিত্তি গড়ে এদের উপর রয়।
মানবতার উচ্চ শিখর স্পর্শ করে সে প্রাণ,
যার অন্তরে জাগ্রত থাকে সত্যের সম্মান।
বিশ্বাস রক্ষার মহিমাতে মহৎ হয় মন,
সততারই সৌন্দর্যে বাড়ে জীবনের মূল্যবান ক্ষণ।
আল্লাহ ভালোবাসেন তাদের যারা বিশ্বস্ত রয়,
ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে সত্যকে বরণ করে সয়।
এসো তবে আমরা সবাই করি দৃঢ় পণ,
রক্ষা করব আমানত, রাখব প্রতিশ্রুতিবন্ধন।
সত্য, ন্যায় ও বিশ্বস্ততায় গড়ব নতুন প্রাণ,
আলোকিত হোক মানবজীবন, জাগুক ঈমান।
যে ঘরে থাকে সততা, সে ঘরে সুখের আলো,
যে মনে থাকে বিশ্বস্ততা, সে মন থাকে ভালো।
আমানত আর অঙ্গীকারে সুশোভিত হোক প্রাণ,
এই হোক আমাদের জীবনের চিরন্তন গান।
বিশ্বাসের এই মহাকাব্য থাকুক যুগে যুগে,
মানুষ যেন সত্যের পথে চলতে শেখে বুকে।
আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের এই মহৎ পরিচয়—
আমানত রক্ষা, প্রতিশ্রুতি পালন, সত্যের জয়।
***
আমানত ও অঙ্গীকার
শুরু করি হৃদয় ছোঁয়া এক সত্যের মহাগান,
আমানত আর অঙ্গীকারে জাগুক মানবপ্রাণ।
সততার দীপ জ্বালিয়ে যে চলে জীবনভর,
তারই পথে বর্ষে নূর দয়াময়ের নিরন্তর।
মুমিন সে-ই, যার অন্তরে বিশ্বাস অটুট রয়,
যার চরিত্র দেখে মানুষ সত্যের পরিচয় পায়।
কথা দিলে কথা রাখে, করে না প্রতারণা,
ন্যায়ের পথে অটল থাকে, করে না বঞ্চনা।
আল্লাহ বলেন, সফল তারা, ঈমান যাদের প্রাণ,
যারা রক্ষা করে সদা আমানত ও অঙ্গীকারের মান।
এ গুণ শুধু মুখের বুলি নয় কিংবা বাহির সাজ,
এ গুণ গড়ে চরিত্রখানি, মহিমান্বিত আজ।
আমানত শুধু ধন-সম্পদের রক্ষার নাম নয়,
মানবজীবন জুড়ে এর বিস্তৃত পরিচয়।
প্রতিটি দায়িত্ব, প্রতিটি হক, প্রতিটি ন্যায্য কাজ,
আমানতেরই অন্তর্ভুক্ত—সত্য এ মহাসাজ।
আল্লাহ দিলেন জীবন মোদের, দিলেন দুটি নয়ন,
দিলেন জ্ঞান ও বিবেকবোধ, দিলেন সুন্দর মন।
এসব কিছু আমানতই, প্রভুর দেওয়া দান,
এসব নিয়ে চলতে হবে সত্যের কল্যাণ।
নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত, কুরআনের আহ্বান,
পালন করা মুমিন হৃদয় জানে অবিরাম।
শরিয়তের সব বিধানই আমানতের ধন,
অবহেলায় হারিয়ে যায় ঈমানেরই মন।
আল্লাহর হক আদায় করা প্রথম দায়িত্ব হয়,
প্রভুর ডাকে সাড়া দেওয়াই বান্দার বড় পরিচয়।
সিজদাতে যে মাথা নত হয় প্রেম ও ভক্তিভরে,
সে-ই তো রাখে আমানত তার রবেরই আদেশ ধরে।
মানুষ যখন কারও কাছে রাখে ধনের ভার,
সততা দিয়ে রক্ষা করা কর্তব্য তার।
একটি মুদ্রা, একটি দিরহাম, কিংবা অল্প দান,
সবই হবে ফিরিয়ে দিতে যথাযথ সম্মান।
গোপন কথা বললে যদি বিশ্বাস রেখে কেউ,
তার সে কথা ছড়িয়ে দেওয়া মুমিনের কাজ নয়।
অন্তরের সে গোপন বাণী রক্ষা করা দায়,
বিশ্বাসঘাতক হৃদয় কভু শান্তি খুঁজে না পায়।
বন্ধুর দেওয়া গোপন কথা, ভাইয়ের অন্তরব্যথা,
অকারণে প্রকাশ করা নিষ্ঠুরতার কথা।
বিশ্বাস যেখানে ভেঙে যায়, সম্পর্ক হয় ক্ষয়,
আমানতের খেয়ানতে তাই কল্যাণ কখনো নয়।
শিক্ষকের হাতে জ্ঞানের ভাণ্ডার, ছাত্র তার আমানত,
সত্য ও নীতির আলো দেওয়া শিক্ষার মূল ইবাদত।
চিকিৎসকের হাতে থাকে অসুস্থ প্রাণের দায়,
নিষ্ঠা আর মানবসেবায় তার মর্যাদা পায়।
বিচারকের হাতে থাকে ন্যায়বিচারের ভার,
একটি রায়ে জাগতে পারে হাজার প্রাণের আর্তধ্বনি আর।
সত্য গোপন করলে সেখানে ভেঙে পড়ে সমাজ,
আমানতদার বিচারক তাই মানবতার সাজ।
ক্ষমতা যখন কারও হাতে অর্পিত হয়ে যায়,
সেটিও এক মহা আমানত—ভুলে থাকা না যায়।
জনগণের হক আদায়ে যে নেতা সচেতন,
তারই নামে জেগে থাকে কৃতজ্ঞতার স্পন্দন।
পিতা-মাতা সন্তানেরে ভালোবেসে গড়ে,
সন্তানও এক আমানত তাদের জীবনের তরে।
স্নেহ, শিক্ষা, শাসন দিয়ে মানুষ করে যেই,
সন্তানেরও দায়িত্ব আছে সম্মান রাখা সেই।
প্রতিবেশীর অধিকারও আমানতের অংশ,
এ শিক্ষা দেয় মানবধর্ম, নবুয়তেরই বংশ।
ক্ষুধার্ত যদি পাশে থাকে, তুমি থাকো তৃপ্ত,
মানবতার সে পরীক্ষাতে জীবন হবে লিপ্ত।
আমানতের খেয়ানত যারা করে অবিরাম,
তাদের কারণে নষ্ট হয় সমাজের সম্মান।
বিশ্বাসহীন পৃথিবী যেন মরুভূমির ধূলি,
যেখানে ভালোবাসার ফুল ফোটে না কোনো কূলেই।
রাসূল শিখিয়েছেন মোদের আমানতের মর্যাদা,
ঈমানেরই অংশ যেন এ মহৎ সাধনা।
যার মাঝে নেই আমানতদারী, দুর্বল তার প্রাণ,
দ্বীনের সৌন্দর্য ফুটে না তার জীবন-উদ্যান।
মুনাফিকের লক্ষণ চার—শুনেছে মানবজাতি,
যুগে যুগে সত্যবাণী দিয়েছে তার সাক্ষ্যটি।
আমানতে সে খেয়ানত করে, মিথ্যা বলে সদা,
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে আর সীমা লঙ্ঘন করে যথা।
অঙ্গীকারও মহামূল্য মুমিন জীবনের ধন,
এ গুণে মানুষ অর্জন করে শ্রদ্ধা ও সম্মান।
প্রতিশ্রুতির মূল্য যারা হৃদয় দিয়ে জানে,
সফলতার সোনার ফসল ফলে তাদের টানে।
আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার—ইবাদতের পথ,
সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার পবিত্র শপথ।
সে শপথকে ভঙ্গ করা নয় কোনো কল্যাণ,
বিশ্বস্ততায় পূর্ণ হয় মুমিনের পরিচয়-জ্ঞান।
মানুষ মানুষের মাঝে যত চুক্তি হয় স্থির,
সততা দিয়ে পূর্ণ করা মুমিনেরই নীতির নীর।
ব্যবসা হোক কিংবা বিবাহ, কিংবা কোনো দায়,
প্রতিশ্রুতির মর্যাদা যেন কখনো নষ্ট না হয়।
কথা দিয়ে কথা রাখা মহৎ গুণের ফুল,
এ গুণহীন চরিত্র যেন শুষ্ক মরুর কূল।
একটি সত্য প্রতিশ্রুতি আনে আস্থার আলো,
ভঙ্গ করলে সম্পর্কখানি হয়ে যায় কালো।
একটি সমাজ টিকে থাকে বিশ্বাসের ভিত্তিতে,
অঙ্গীকারের দৃঢ় খুঁটি থাকে তার গভীর নীতিতে।
যেখানে মানুষ সত্যবাদী, বিশ্বস্ততার জয়,
সেখানে শান্তি, সেখানে সুখ, সেখানে ভয়ের ক্ষয়।
বাজারে যদি ব্যবসায়ী ওজনে করে ছল,
আমানতের খেয়ানতে তার জীবন হবে বিফল।
ন্যায্য মাপে বিক্রি করা ঈমানেরই অংশ,
অন্যায়ের লাভ ক্ষণস্থায়ী, ধ্বংস তার পরিণামাংশ।
কর্মচারী যদি নিষ্ঠাভরে পালন করে কাজ,
তবেই তার জীবনে জাগে সফলতার সাজ।
অলসতা আর দায়িত্বহীনতা খেয়ানতেরই রূপ,
সততার পথ আলোকিত করে জীবনের ধূপ।
যুবকের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ, জাতির আশা রয়,
সততা আর বিশ্বস্ততায় সে যদি জীবন গড়ায়।
তবে তারই হাতে প্রস্ফুটিত হবে সোনার ভোর,
ন্যায়ের আলো ছড়িয়ে পড়বে ঘরে ঘরে ঘোর।
শিশুর মনে শেখাও আগে সত্যবাদের পাঠ,
আমানতের মূল্য শেখাও, করো চরিত্র গাঁথ।
আজকের শিশু আগামী দিনের সমাজের কর্ণধার,
তাদের হাতে ফুটবে আবার বিশ্বাসের সংসার।
আমানত ও অঙ্গীকার কেবল ধর্মের বাণী নয়,
সভ্যতারও মূলভিত্তি, মানবতার পরিচয়।
এ দুটির উপর দাঁড়িয়ে থাকে ন্যায়ভিত্তিক প্রাণ,
এ দুটির মাঝেই লুকিয়ে থাকে উন্নতির সন্ধান।
যে মানুষটি বিশ্বস্ততার প্রদীপ জ্বালে বুকে,
তার স্মৃতি বেঁচে থাকে যুগের পর যুগ সুখে।
ধন-সম্পদ ফুরিয়ে যায়, মুছে যায় বাহির রূপ,
সততার সুবাস কিন্তু ছড়ায় অনন্ত ধূপ।
এসো তবে শপথ করি অন্তরের গভীরে,
আমানত রক্ষা করব আমরা জীবনের প্রতিটি নীড়ে।
প্রতিশ্রুতির মর্যাদা রাখব সর্বক্ষণ,
সত্য ও ন্যায়ের পথে হবে আমাদের গমন।
আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের এ যে মহৎ পরিচয়,
বিশ্বস্ততায় দীপ্ত থাকে যাদের জীবনময়।
আমানত রক্ষা, অঙ্গীকার পূরণ—ঈমানের মহাদান,
এ গুণেই সফল হবে মানুষের জীবনপ্রাণ।
সততার এই মহাকাব্য থাকুক যুগে যুগে,
আলোকিত করুক পৃথিবী মানুষের হৃদয়-বুকে।
বিশ্বাস, ন্যায়, বিশ্বস্ততায় ভরে উঠুক প্রাণ,
এই হোক মানবসমাজের চিরন্তন মহাগান।
***
আমনতের মহিমা
যেদিন গগন, ধরিত্রী আর অটল পর্বতমালা,
শুনল প্রভুর আমানতের মহাগম্ভীর জ্বালা।
ভয়েতে তারা নত হয়ে বলল বিনয়ভরে,
“এ ভার বহন আমাদের নয়, প্রভু! ক্ষমা করে।”
মানুষ তখন গ্রহণ করল সেই মহান দায়,
জ্ঞান-বিবেকের শক্তি পেয়ে দায়িত্ব কাঁধে নিল তাই।
কত বড় সে আমানত, কত গভীর মান,
তারই তরে নাজিল হলো আসমানি বিধান।
প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি কর্মধারা,
আমানতের হিসাব হবে কিয়ামতেরই পাড়া।
চোখের দেখা, কানের শোনা, অন্তরের ভাবনা,
সবকিছুরই জবাব দিতে হবে সেদিন না?
যে রাখে তার দায়িত্ব ঠিক রবের ভয় হৃদয়ে,
তার জীবন ফুলের মতো সুবাস ছড়ায় বিদ্যে।
মানুষ তাকে ভালোবাসে, আস্থা রাখে প্রাণে,
সত্যনিষ্ঠার দীপ জ্বলে তার চলার পথখানে।
নবীদের জীবন ও বিশ্বস্ততা
নবীদের জীবন জুড়ে বিশ্বস্ততার জয়,
সত্যবাদী চরিত্র ছিল তাদের মহাময়।
মানুষ তাদের ডাকত সদা “বিশ্বস্ত” উপাধিতে,
সততারই দীপ্ত নক্ষত্র মানবতার স্মৃতিতে।
অন্ধকারের যুগে তাঁরা সত্যের শিখা জ্বালেন,
খোদাভীরু জীবন গড়ে মানুষকে পথ দেখান।
ধন না চেয়ে, মান না চেয়ে, করেন শুধু দান,
প্রভুর বাণী পৌঁছে দেন মানবতার প্রাণ।
কষ্ট এল, তবু তাঁরা ভাঙেননি অঙ্গীকার,
সত্যের তরে সহ্য করেছেন দুঃখ অপরিসীম ভার।
তাদের পথে চললে মানুষ পায় সঠিক জ্ঞান,
আমানতের মর্যাদাতে উজ্জ্বল হয় প্রাণ।
মুনাফিকের অন্ধকার
মুখে বলে ঈমান আছে, অন্তর থাকে শূন্য,
প্রতিশ্রুতির মূল্য তাদের কাছে বড়ই তুচ্ছ।
আমানত পেলে খেয়ানত করে, সত্য করে ক্ষয়,
এমন পথে চললে কভু কল্যাণ লাভ না হয়।
মিথ্যার বীজ বপন করে বিশ্বাস করে নষ্ট,
নিজের হাতে গড়ে তোলে জীবনেরই কষ্ট।
লোভের আগুন জ্বলে উঠে বিবেক যখন মরে,
অন্ধকারে হারায় মানুষ সত্যপথের তরে।
যে ভাঙে তার অঙ্গীকার, প্রতারণায় মাতে,
শান্তির আলো হারিয়ে যায় জীবনেরই রাতে।
বাহির যত সুন্দর হোক, অন্তর থাকে শূন্য,
খেয়ানতের কালো দাগে চরিত্র হয় ক্ষুণ্ণ।
কিয়ামতের মহাময়দান
আসবে একদিন মহাক্ষণ, কাঁপবে ধরণীখানি,
শেষ হবে সব দম্ভ-গৌরব, শেষ হবে গল্পগাঁথা জানি।
রাজা-প্রজা সবাই তখন একই কাতার ধরে,
দাঁড়াবে রবের আদালতে ভীত-নতমুখ করে।
সেদিন ধন-সম্পদ কিছুই কাজে আসবে না,
ক্ষমতার অহংকারও কোনো উপকারে না।
জিজ্ঞাসা হবে—“কেমন করে রাখলে আমানত?
কেমন করে পূর্ণ করলে অঙ্গীকারের শপথ?”
যে রাখবে তার দায়িত্ব ঠিক, পাবে শান্তির স্থান,
দয়াময়ের করুণাতে ভরবে তার প্রাণ।
আর যে করল খেয়ানত, ভাঙল প্রতিশ্রুতি বারংবার,
লজ্জায় নত হবে সেদিন তার অহংকার।
সফল মুমিনের গান
এসো তবে গাই আমরা বিশ্বস্ততার গান,
আমানত আর অঙ্গীকারে জাগুক মানবপ্রাণ।
সত্যের পথে দৃঢ় থাকি, রাখি ন্যায়ের মান,
এ পথেই প্রস্ফুটিত হয় ঈমানের সম্মান।
আল্লাহর প্রিয় বান্দারা এমনই গুণবান,
বিশ্বাস রক্ষা করে তারা জীবনভর অবিরাম।
দায়িত্ব, হক, প্রতিশ্রুতি—সবকিছুরই জয়,
সফলতার সোনার মুকুট তাদের শিরে রয়।
যতদিন সূর্য উদিত হবে পূর্ব আকাশপানে,
ততদিন এই সত্যগাথা বেঁচে থাকবে গানে।
আমানত রক্ষা, অঙ্গীকার পূরণ—মুমিনের পরিচয়,
এই মহাগুণেই দুনিয়া-আখিরাতে চূড়ান্ত সফলতা রয়।
৪
৪ মন্তব্য