Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৫ জুন, ২০২৬ ০৮:৩৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ কুটির শিল্পের প্রয়োজনীয়তা
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থায় কুটির শিল্পের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। মূলত গ্রামীণ বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং ঐতিহ্যবাহী পণ্যের প্রসারে এই শিল্পের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। 
১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: কুটির শিল্পে অল্প পুঁজিতে ও পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় কাজ করা যায়। ফলে গ্রামাঞ্চলে বিপুল সংখ্যক নারী ও পুরুষের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা বেকারত্ব হ্রাস করে।
২. দারিদ্র্য বিমোচন ও গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত করা: প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে কুটির শিল্প কাজ করে। এটি গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও পারিবারিক সচ্ছলতা আনতে সহায়তা করে।
৩. দেশজ কাঁচামালের সঠিক ব্যবহার: এই শিল্পে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাঁশ, বেত, পাট, সুতা, মাটি ও কাঠের মতো কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়। এর ফলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোচ্চ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। 
৪. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: জামদানি, নকশিকাঁথা, মৃৎশিল্প, শীতলপাটি এবং পাটজাত হস্তশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এই পণ্যগুলো রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। 
৫. আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস ও নগরায়ণ নিয়ন্ত্রণ: গ্রামে বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে কুটির শিল্প গড়ে ওঠায় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্য কমে। তাছাড়া, কাজের সন্ধানে গ্রাম থেকে শহরে মানুষের অভিবাসন কমে যায়।
৬. ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ: যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা হস্তচালিত তাঁত, শীতলপাটি বা মৃৎশিল্পের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলোকে টিকিয়ে রাখতে কুটির শিল্পের বিকল্প নেই।
৭. নারী ক্ষমতায়ন: কুটির শিল্পের বড় একটি অংশ নারীদের দ্বারা পরিচালিত হয়। নারীরা ঘরের কাজের পাশাপাশি কুটির শিল্পে যুক্ত হয়ে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পান। 

মন্তব্য করুন