Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ জুন, ২০২৬ ০৩:৫২ পূর্বাহ্ণ

দ্বীন হলো আন্তরিক কল্যাণকামিতা - মোঃ মুজিবুর রহমান


দ্বীন হলো আন্তরিক কল্যাণকামিতা

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

শুরু করি শ্রদ্ধাভরে কল্যাণেরই গান,
নসীহতের আলোয় জাগুক মানবের প্রাণ।
রাসূল দিলেন শিক্ষা সোনালি বাণী হয়ে,
সত্যের দীপ জ্বালতে আজও হৃদয় বেয়ে।

ধর্ম শুধু আচার নয়, নয় কিছু রীতি,
ধর্ম মানে সত্যপথে চলার অঙ্গীকার-নীতি।
ধর্ম মানে শুভবোধ, নির্মল অন্তর,
মানুষ গড়ার মহাশিক্ষা, কল্যাণের ঘর।

একদিন নবীজিকে সাহাবিরা ঘিরে,
জানতে চাইল সত্যধর্মের গভীর মর্ম নীরে।
তিনি বললেন সংক্ষেপে, অথচ কত বিশাল
ধর্ম হলো নসীহত, সত্যবাণী চিরকাল।

সাহাবিরা বললেন তখন, “কার জন্য দান?”
নবী বললেন, “শোনো তবে দ্বীনের মহাগান।
আল্লাহর জন্য নসীহত, তাঁর কিতাব তরে,
রাসূলের জন্য নসীহত, মানবকল্যাণ ঘরে।

নেতৃবৃন্দের জন্য নসীহত, জনগণের তরে,
এভাবেই দ্বীনের সৌন্দর্য বিকশিত হয় ধীরে।
সংক্ষিপ্ত বাণী হলেও অর্থে সীমাহীন,
শিক্ষা ধারণ করলে উজ্জ্বল হয় দ্বীন।

আল্লাহ এক, তিনি মহান, বিশ্বজগতের রব,
তাঁরই দানে জীবনধারা, তাঁরই কৃপা সব।
নসীহত মানে বিশ্বাস রাখা অন্তর ভরে,
তাঁরই পথে জীবন গড়া সকাল-সন্ধ্যা জুড়ে।

নয় কেবল মুখের বুলি, নয় শুধু উচ্চারণ,
কর্মে-কথায় ফুটে ওঠে ঈমানেরই বর্ণন।
সুখের দিনে কৃতজ্ঞ থাকা, দুঃখে ধৈর্য ধরা,
আল্লাহরই হুকুম মেনে জীবনপথে চলা।

গোপন কিংবা প্রকাশ্যে যেখানেই থাকি,
রবের ভয়ে অন্যায়ের পথ থেকে ফিরি।
তিনি দেখেন সবকিছুই, জানেন অন্তরগাথা,
তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনেই জীবনের সার্থকতা।

নসীহত তাই রবের তরে আনুগত্যের নাম,
তাঁরই বিধান মান্য করা মুমিনের সম্মান।
যে হৃদয়ে রবের প্রেমে জ্বলে অনন্ত দীপ,
সেই হৃদয় আলোকিত হয় সুখে-শান্তির নীড়।

আসমানি সেই মহাগ্রন্থ, সত্যের অমৃতধারা,
যার আলোয় জেগে ওঠে মানবতার সারা।
অন্ধকারে পথহারাদের দিশা দেয় যে বই,
কুরআনের মতো মহাগ্রন্থ দ্বিতীয় কোথাও নই।

নসীহত তার জন্য মানে বিশ্বাস অটুট রাখা,
এর প্রতিটি বাণী মেনে জীবনপথকে আঁকা।
শুধু তিলাওয়াত করলেই দায়িত্ব শেষ নয়,
অর্থ বুঝে আমল করা সত্য মুমিনের পরিচয়।

কুরআনের আলো ছড়াক ঘরে ঘরে আজ,
অজ্ঞতার অন্ধকারে উঠুক জ্ঞানের সাজ।
মানবমুক্তির বাণী এতে, নৈতিকতার ডাক,
ন্যায় সত্য প্রতিষ্ঠাতে রয়েছে কত ফাঁক।

যে হৃদয়ে কুরআনের শিক্ষা ধারণ হয়,
সেই মানুষ মানবতার কল্যাণে রত রয়।
ভালোবাসা, দয়া, ন্যায় আর সত্যের আহ্বান
কুরআনের শিক্ষা জুড়েই গড়ে সুন্দর প্রাণ।

মুহাম্মদ মানবতার শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক,
অন্ধকার যুগে তিনি ছিলেন আলোর বার্তাবাহক।
সত্যবাদী, বিশ্বস্ত, দয়ালু মহান,
তাঁর চরিত্রে ফুটে ওঠে মানবতার জ্ঞান।

রাসূলের জন্য নসীহত মানে তাঁর প্রতি প্রেম,
তাঁরই আদর্শে সাজানো জীবনের প্রতিক্ষণ।
শুধু মুখে দরুদ পড়ে দায়িত্ব শেষ নয়,
তাঁর শিক্ষা অনুসরণেই প্রকৃত ভালোবাসা রয়।

তিনি শিখিয়েছেন ক্ষমা করতে শত্রুরও অপরাধ,
তিনি শিখিয়েছেন মানুষের সেবাই বড় সাধ।
তিনি শিখিয়েছেন বিনয় হতে শক্তির পরিচয়,
তিনি শিখিয়েছেন সত্যবাদী মানুষ শ্রেষ্ঠ হয়।

তাঁর সুন্নাহ জীবন্ত আলো যুগে যুগে রয়,
যে অনুসরণ করে তাকে পথভ্রষ্টতা ছোঁয় না কভু সয়।
মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক তিনি মহান,
তাঁর পথেই রয়েছে মুক্তি, শান্তি আর সম্মান।

যারা বহন করে সমাজের দায়িত্বের ভার,
তাদের সঠিক পথ দেখানোও ইবাদতের ধার।
ক্ষমতা কোনো গৌরব নয়, এটি বড় আমানত,
ন্যায়ের পথে ব্যবহার করাই সত্যিকার ইবাদত।

নসীহত মানে বিদ্বেষ নয়, নয় অপমানের ভাষা,
সৌজন্যে বলা সত্যকথা, কল্যাণেরই আশা।
ভুল দেখিলে সংশোধনের আহ্বান জানানো,
ন্যায়ের পথে চলার তরে উৎসাহ বাড়ানো।

নেতা যদি ন্যায়পরায়ণ হয় দেশের কল্যাণে,
শান্তির সুবাতাস বয়ে যায় জনগণের প্রাণে।
আর যদি অন্যায়ের পথে চলে ক্ষমতার মোহে,
সত্যকথা বলা তখন দায়িত্ব মানবমহে।

কল্যাণ চাওয়া, দোয়া করা, সত্যের পথে ডাকা,
নসীহতের এই শিক্ষাতে সমাজ থাকে টিকে।
বিদ্বেষ নয়, ধ্বংস নয়, চাই না বিভেদরেখা,
ন্যায়ের আলো ছড়িয়ে দিক নেতৃত্বের দেখা।

মানুষ মানুষে ভ্রাতৃত্ব হোক পৃথিবীর গান,
একজনের সুখে অন্যজন খুঁজে পাক সম্মান।
নসীহত মানে হিতকামিতা, অন্তরের শুভেচ্ছা,
মানুষ যেন মানুষ থাকেএই হোক প্রত্যাশা।

ক্ষুধার্ত যদি দাঁড়ায় এসে দুয়ারেরই কাছে,
সহায়তার হাত বাড়াও মানবতার মাঝে।
দুঃখীর চোখে অশ্রু দেখলে মুছে দাও তা ধীরে,
ভালোবাসার ভাষা ছড়িয়ে দাও হৃদয়ের নীরে।

ভুল করলে কাউকে কখনো অপমান করো না,
নরম কথায় বুঝিয়ে বলো, আঘাত যেন না হয়।
মানুষ গড়ার শ্রেষ্ঠ পন্থা সুন্দর আচরণ,
রূঢ় ভাষাতে ভেঙে যায় বহু মনের বন্ধন।

সত্য বলো, তবে যেন থাকে প্রজ্ঞার ছোঁয়া,
উপকারের উদ্দেশ্য ছাড়া নয় কোনো কথা বলা।
যে উপদেশ মানুষকে দেয় আলোর দিশা ধরে,
সেই নসীহত হৃদয় ছুঁয়ে কল্যাণ বয়ে আনে ঘরে।

নসীহত মানে নয় কেবল বক্তৃতার আয়োজন,
নসীহত মানে জীবনের নির্মল আচরণ।
মায়ের স্নেহ, বাবার শিক্ষা, শিক্ষকের আহ্বান,
বন্ধুর আন্তরিক উপদেশসবই নসীহতের দান।

হাসিমুখে কথা বলা এক মহান সদকা,
মানুষের দুঃখ ভাগ করে নেওয়াও নসীহতের পথ।
ক্ষমা করা, সহ্য করা, অন্যকে সুযোগ দেওয়া,
এসব গুণে মানবজীবন হয় মহিমান্বিতা।

নসীহত এক নির্মল নদী, কল্যাণ যার স্রোত,
যেখানে নেই অহংকার, নেই বিভেদের জট।
ভালোবাসা যার ভিত্তি, সত্য যার প্রাণ,
সেই নসীহত বদলে দিতে পারে বিশ্বজগৎখান।

ধর্ম যদি বৃক্ষ হয়, নসীহত তার ফুল,
কল্যাণ যদি নদী হয়, নসীহত তার কূল।
ধর্ম যদি প্রাসাদ হয়, নসীহত তার দ্বার,
ধর্ম যদি আলো হয়, নসীহত তার জ্যোতির্ঝার।

আল্লাহর তরে আন্তরিকতা, কুরআনের সম্মান,
রাসূলের পথে জীবন গড়া, মানবতার গান।
নেতৃত্বে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, মানুষের উপকার
এসব মিলেই গড়ে ওঠে দ্বীনের মহাসার।

তাই এসো আজ প্রতিজ্ঞা করি অন্তর করি শুদ্ধ,
হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে হই সত্যে বদ্ধ।
নসীহতের এই শিক্ষা ছড়াক ঘরে ঘরে,
শান্তি, ন্যায় আর ভালোবাসা ফুটুক ধরণীজুড়ে।

ধর্মের প্রাণ কল্যাণকামিতা সত্য অম্লান,
যুগে যুগে মানবতার জন্য মহামূল্যবান।
الدين النصيحة”—
চিরউজ্জ্বল এই আহ্বান,
মানুষ গড়ার শ্রেষ্ঠ বাণী, হৃদয় জাগানো গান।
***

নসীহতের কবিতা

শুরু করি হৃদয়ছোঁয়া এক কল্যাণের গান,
যেখানে জাগে সত্য, প্রেম, নির্মল মানবপ্রাণ।
যেখানে নেই স্বার্থলোভ, নেই প্রতারণার ছায়া,
আছে শুধু শুভকামনার অনন্ত সুধামায়া।

যুগে যুগে মানুষ খুঁজেছে জীবনের মর্মবাণী,
কিসে গড়ে শান্তির সমাজ, কিসে সুখের খানি।
কিসে জাগে ভ্রাতৃত্ববোধ, কিসে দূর হয় ক্ষতি,
কিসে গড়ে মানবতার দীপ্ত মহামতি।

মরুর বুকে একদিন উঠল আলোর রব,
মানবজাতির মুক্তির তরে প্রেরিত হলেন নবী রবের প্রিয়তম সব।
তাঁর ওষ্ঠ হতে ঝরল বাণী সংক্ষিপ্ত অথচ মহান
"الدين النصيحة"—
এতেই দ্বীনের প্রাণ।

সাহাবিগণ বিস্ময়ে শুনে বললেন বিনয়ে,
"
হে আল্লাহর রাসূল, কার তরে কল্যাণ বয়ে?"
তিনি বলিলেন, "রবের তরে, তাঁর কিতাবের তরে,
রাসূলের তরে, নেতৃবৃন্দ মানবসমাজ ঘিরে।"

সংক্ষিপ্ত কয়েকটি শব্দ, অথচ কত গভীর,
যেন সাগরের মাঝে লুকায় অসীম রত্ননিধির নীড়।
যতই ভাবি, ততই দেখি জ্ঞানের নতুন দিশা,
দ্বীনের মূলভিত্তি যেন এই মহৎ নসীহা।

নসীহত শুধু উপদেশ নয়, নয় কেবল বচন,
নসীহত মানে অন্তরজুড়ে শুভতার স্পন্দন।
নসীহত মানে সত্যপ্রেম, কল্যাণেরই ডাক,
মানুষ যেন উন্নতির পথে খুঁজে পায় আলোর ফাঁক।

স্বর্ণকার যেমন আগুনে সোনা করে খাঁটি,
নসীহত তেমনি শোধন করে মানবজীবন মাটি।
অন্তরের সব হিংসা-বিদ্বেষ ধুয়ে দেয় নিরন্তর,
মানুষকে মানুষ বানায়, করে চরিত্র উজ্জ্বলতর।

যেখানে আছে আন্তরিকতা, সেখানে নসীহত রয়,
যেখানে আছে কল্যাণচিন্তা, সেখানেই তার পরিচয়।
যেখানে আছে সত্যনিষ্ঠা, প্রতারণাহীন মন,
সেখানেই জ্বলে দ্বীনের আলো, সেখানেই কল্যাণধ্বনন।

আল্লাহ এক, তিনি মহান, অনন্ত করুণাধার,
তাঁরই হাতে সৃষ্টি জগত, তাঁরই বিধান সার।
তাঁর জন্য নসীহত মানে ঈমান অটল রাখা,
জীবনের প্রতিটি পথে তাঁরই সন্তোষ আঁকা।

গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে যেখানেই করি বাস,
রবের ভয়েই রক্ষা করি আমল বিশ্বাস।
সুখ এলে করি শুকরিয়া, দুঃখে ধৈর্য ধরি,
তাঁরই ইচ্ছায় জীবন গড়ি, তাঁরই দিকে ফিরি।

যে হৃদয়ে রবের স্মরণ অবিরত জাগে,
সেই হৃদয় অন্ধকারে কখনো পথ না হারায় ভাগে।
আল্লাহপ্রেমের দীপ জ্বেলে চলে যে বান্দাজন,
তার জীবনেই ফুটে ওঠে নসীহতের চিহ্ন।

আল-কুরআন আসমানি আলো, সত্যের মহাগ্রন্থ,
মানবতার মুক্তির পথে যার শিক্ষা অনন্ত।
অজ্ঞতার কালো মেঘে সূর্যের মতো দীপ্ত,
তারই বাণী মানুষকে করে জ্ঞানপ্রভায় সিক্ত।

নসীহত মানে কুরআনকে শুধু তিলাওয়াত নয়,
তার শিক্ষা হৃদয়ে নেওয়া, কর্মে তার পরিচয়।
ন্যায়ের ডাকে সাড়া দেওয়া, সত্যের পথে চলা,
মিথ্যার প্রলোভন ছেড়ে আলোর দিকে দোলা।

যে ঘরে কুরআনের বাণী প্রতিদিন উচ্চারিত,
সেই ঘর হয় শান্তির নীড়, বরকতে সমৃদ্ধ।
যে জাতি কুরআনের শিক্ষা ধারণ করে প্রাণে,
সেই জাতি উন্নতির পথে এগিয়ে চলে গৌরবে।

তিনি ছিলেন সত্যের মিনার, করুণারই সাগর,
তাঁর চরিত্রের আলো আজও বিশ্বজুড়ে জাগর।
অন্ধকারের যুগে তিনি আনলেন আলোর বার্তা,
মানবতার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম এক অধ্যায় রচনা।

তাঁকে ভালোবাসা মানে শুধু আবেগের ভাষা নয়,
তাঁর সুন্নাহর অনুসরণেই প্রকৃত ভালোবাসা রয়।
ক্ষমা, দয়া, ন্যায় বিনয়ছিল তাঁর পরিচয়,
তাঁর আদর্শে গড়া জীবনই সফলতার আশ্রয়।

মানুষ যদি মানুষের তরে ভালোবাসা বয়ে আনে,
পৃথিবী তখন জান্নাতেরই সুবাস খুঁজে পায় প্রাণে।
ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া, পথিককে আশ্রয়,
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোএসবেই কল্যাণময়।

ভুল করলে তিরস্কার নয়, সংশোধনের ডাক,
রূঢ়তার বদলে কোমল ভাষা খুলে দেয় হৃদয়ফাঁক।
দুঃখীর চোখের অশ্রুবিন্দু মুছে দেওয়া ধীরে,
নসীহতেরই জীবন্ত ছবি ফুটে ওঠে নীরে।

ধর্ম যদি হয় মহাবৃক্ষ, নসীহত তার ফুল,
ধর্ম যদি হয় বিশাল নদী, নসীহত তার কূল।
ধর্ম যদি হয় জ্যোতির্ময় এক অমল প্রদীপ,
নসীহত তার দীপ্তিশিখা, তারই উজ্জ্বল নীড়।

তাই এসো আমরা সবাই গড়ি কল্যাণের সমাজ,
যেখানে সত্য, প্রেম আর ন্যায় হবে শ্রেষ্ঠ সাজ।
"الدين النصيحة"—
চিরকাল জাগুক প্রাণের তান,
মানুষ গড়ার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা, মানবতার গান।

নসীহতের মূলভিত্তি অন্তরের ইখলাস,
সেখানে নেই লোকদেখানো, নেই খ্যাতির আশ।
যে সেবাতে স্বার্থ মেশে, কমে তারই মান,
নিঃস্বার্থ কর্মেই ফুটে ওঠে কল্যাণের গান।

নদী যেমন নীরবধারা সাগরপানে ধায়,
প্রতিদান না চেয়েও সে তৃষ্ণা মিটিয়ে যায়।
তেমনি যারা মানুষের তরে নিবেদন করে প্রাণ,
তাদের কর্মে জেগে ওঠে নসীহতের সম্মান।

বৃক্ষ যেমন ফল বিলিয়ে রাখে না হিসাব,
ছায়া দিয়ে পথিক বাঁচায়, করে না কোনো জবাব।
সৎকর্ম তেমনি হওয়া চাই অহংকারহীন,
রবের সন্তোষই হোক তার একমাত্র বিলীন।

ইখলাসহীন উপদেশে হৃদয় জাগে না,
মুখের বাণী প্রাণ ছুঁলেও অন্তর লাগে না।
যে কথাতে সত্য থাকে, থাকে ভালোবাসা,
সেই কথাতে মানুষ খুঁজে নতুন পথের আশা।

মুমিন যেন মুমিনেরই আপন ভাইসম,
এক দেহের অঙ্গ সকল, এক ব্যথাতে মরম।
কোথাও যদি দুঃখ নামে, কাঁদে অন্য প্রাণ,
এভাবেই গড়ে ওঠে ইসলামের সম্মান।

নসীহত মানে ভাইয়ের তরে শুভকামনা রাখা,
নিজের সুখের মতো করেই তার সুখকে আঁকা।
নিজে যা চাই নিজের তরে, চাই তার তরে তাই,
এই শিক্ষাতে গড়ে ওঠে সত্য ভ্রাতৃত্ব ভাই।

বিদ্বেষ যদি বাসা বাঁধে অন্তরেরই ঘরে,
শান্তির পাখি উড়ে যায় অজানারই তরে।
ক্ষমা যদি স্থান পায় হৃদয়ের মাঝখানে,
সম্প্রীতির ফুল ফোটে মানবতার বাগানে।

নসীহতের অন্যতম পথ জ্ঞানেরই প্রসার,
অজ্ঞতার অন্ধকারে জ্ঞানের দীপ অপার।
শিক্ষক যখন সত্যসুধা ঢালেন হৃদয়পাত্রে,
সভ্যতারই নতুন সূর্য উদয় হয় মাত্রে।

কলম যখন সত্য লেখে, জাগে নতুন ভোর,
জ্ঞানীজনের আলোকধারা ছড়িয়ে পড়ে ঘোর।
কুসংস্কারের কালো মেঘ দূর করে যে জ্ঞান,
মানুষকে সে মানুষ করে, দেয় বিবেকবান।

শিক্ষালয় হোক নৈতিকতার উজ্জ্বল এক নীড়,
যেখানে গড়ে সত্যবাদী আলোকিত মন-চরিত্র।
জ্ঞান নসীহত মিলেই গড়ে সোনার সমাজ,
মানবতার ইতিহাসে এক অনুপম সাজ।

পরিবারই প্রথম পাঠশালা জীবনের অভিযানে,
মায়ের কোলে নৈতিকতার প্রথম শিক্ষা টানে।
বাবার শ্রম, মায়ের মমতা, স্নেহের অবিরাম ধারা,
নসীহতেরই প্রথম আলো জ্বালে সংসারপাড়া।

সন্তান যদি শ্রদ্ধা করে পিতামাতার বাণী,
সুন্দর পথে এগিয়ে চলে জীবনের তরীখানি।
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের কল্যাণচিন্তা করে,
শান্তির সুবাস ছড়িয়ে পড়ে সংসারেরই ঘরে।

যেখানে থাকে সম্মান, দয়া, সহমর্মিতার রীতি,
সেই পরিবার জাতিকে দেয় উন্নয়নের গীতি।
পরিবারের এই শিক্ষাতেই সমাজ পায় প্রাণ,
নসীহতের ভিত্তিপ্রস্তর হয় তখন সুদৃঢ় জ্ঞান।

ধর্মের শিক্ষা সীমাবদ্ধ নয় কোনো গণ্ডিতে,
কল্যাণ তার ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বমানব নীড়ে।
জাতি, বর্ণ, ভাষার ভেদ মুছে যায় একদিন,
যখন মানুষ মানুষকে দেখে আপনজন চিন।

ক্ষুধার্ত মুখ, শরণার্থী, নিপীড়িতের কান্না,
মানবতার হৃদয় ছুঁয়ে জাগায় নতুন ভাবনা।
নসীহতের প্রকৃত শিক্ষা দাঁড়াতে শেখায় পাশে,
মানবপ্রেমের অমৃতধারা বইতে থাকে হাসে।

পৃথিবী যদি ভালোবাসার এক পরিবার হয়,
ঘৃণার আগুন নিভে গিয়ে শান্তির আলো রয়।
এই হোক আজ মানবজাতির শ্রেষ্ঠ অঙ্গীকার
কল্যাণে আর সত্যপথে হবে বিশ্ব উদ্ভাসার।

দ্বীন যদি হয় জীবনের পথ, নসীহত তার দিশা,
দ্বীন যদি হয় সুরের ধারা, নসীহত তার ভাষা।
দ্বীন যদি হয় মহীরুহ, নসীহত তার ফল,
দ্বীন যদি হয় আকাশপ্রদীপ, নসীহত তার বল।

আল্লাহপ্রেম, কুরআনের জ্ঞান, রাসূলের আদর্শ মহান,
মানবসেবা, ন্যায় দয়াএসবেই দ্বীনের প্রাণ।
তাই এসো আমরা গড়ে তুলি আলোকিত মানবগান,
"الدين النصيحة"
হোক চিরকাল জীবনের সম্মান।

যুগে যুগে এই বাণী জাগুক হৃদয়ের অন্তঃস্থলে,
মানুষ যেন মানুষ থাকে সত্যের সোনাঝলে।
কল্যাণ, প্রেম, আন্তরিকতা হোক জীবনের নিশান,
নসীহতের মহাশিক্ষায় আলোকিত হোক জাহান।

মন্তব্য করুন