Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ জুন, ২০২৬ ০৪:২৯ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষক ও শিক্ষার্থী (জ্ঞানের দীপশিখা) -মোঃ মুজিবুর রহমান



শিক্ষক  শিক্ষার্থী

(জ্ঞানের দীপশিখা)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

শুরু করি হৃদয়ছোঁয়া এক আলোকিত গান,
যেখানে জ্ঞানের সুরে জাগে মানবতার প্রাণ।
যেখানে শিক্ষক পথপ্রদর্শক, শিক্ষার্থী স্বপ্নচারী,
একসাথে গড়ে তোলে ভবিষ্যতের দিগন্ত ভারী।

বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষে, প্রতিটি প্রভাত বেলায়,
আশার প্রদীপ জ্বলে ওঠে জ্ঞানের শুভ খেলায়।
চকের আঁচড়, বইয়ের পাতা, প্রশ্নভরা মন,
সেখানেই রচিত হয় আগামী দিনের পণ।

শিক্ষক যেন বাতিঘর এক উত্তাল জীবনের তীরে,
অন্ধকারে পথ দেখান প্রজ্ঞার আলোক নীড়ে।
ঝড় এলে তিনি সাহস দেন, ব্যর্থতায় দেন বল,
তাঁর বাণীতে জেগে ওঠে আত্মবিশ্বাসের দল।

শিক্ষার্থী যেন কচি চারা, সম্ভাবনার বীজ,
স্নেহ-জলে বেড়ে ওঠে, ছুঁতে চায় আকাশদ্বিজ।
প্রতিটি মনে লুকিয়ে থাকে অজস্র শক্তিধার,
সঠিক দিশা পেলেই তারা হয় উজ্জ্বল নক্ষত্রহার।

শিক্ষা শুধু তথ্য নয়, নয় কেবল পাঠ,
শিক্ষা হলো মানুষ হওয়ার মহিমান্বিত ঠাঁট।
শ্রদ্ধা যেখানে সম্পর্কের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর,
সেই বন্ধনেই গড়ে ওঠে সফলতার ঘর।

শিক্ষক যখন স্নেহমাখা কণ্ঠে বলেন কথা,
শিক্ষার্থীর মন ভরে যায় আশার মধুর ব্যথা।
ভয় নয়, ভালোবাসাতেই জ্ঞানের দুয়ার খোলে,
সম্মানের সে বন্ধন থাকে যুগের পরে যুগ চলে।

শিক্ষার্থী যখন শ্রদ্ধাভরে শোনে শিক্ষকের বাণী,
জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার পায় সে অমূল্য টানি।
অভিজ্ঞতার আলো নিয়ে শিক্ষক এগিয়ে দেন হাত,
অজ্ঞতার কালো মেঘে জ্বালান জ্ঞানের প্রভাত।

পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে সুন্দর এক সেতু,
যেখানে নেই ভয়ের ছায়া, নেই কোনো গোপন ঋতু।
মনের কথা খুলে বলে শিক্ষার্থী নির্ভয়ে,
শিক্ষক তখন সমাধানের পথ দেখান সদয়ে।

জ্ঞান যেন এক অফুরন্ত সাগর বিস্তৃত,
যতই শেখা যায় ততই হয় পথ নব উদ্ভাসিত।
শিক্ষক সেই নাবিক যিনি ধরেন দিকের হাল,
শিক্ষার্থীরা যাত্রী হয়ে পাড়ি দেয় মহাকাল।

গণিত শেখায় যুক্তির শক্তি, বিজ্ঞানে বিস্ময়,
ইতিহাসে জানা যায় কত সভ্যতার পরিচয়।
ভাষা শেখায় মনের কথা সুন্দর করে বলা,
সাহিত্যে মেলে অনুভবের রঙিন মধুশালা।

প্রতিটি প্রশ্ন সম্ভাবনার নতুন কোনো দ্বার,
প্রতিটি উত্তর আলোকিত করে ভাবনার সংসার।
শিক্ষক বলেন, “প্রশ্ন করো, জানার নেই শেষ,”
সেই আহ্বানে জেগে ওঠে অনুসন্ধানের রেশ।

ভুল করলে লজ্জা নয়, শেখার নতুন ধাপ,
ব্যর্থতাও সাফল্যেরই প্রস্তুতির প্রতিচ্ছাপ।
শিক্ষক শেখান ধৈর্য ধরে এগিয়ে যাওয়ার রীতি,
পড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়ানোই জীবনের প্রকৃতি।

সত্য কথা বলার শিক্ষা, ন্যায়ের পথে চলা,
মানবতার মূল্য বুঝে অন্যের পাশে দাঁড়ানো।
এসব কেবল বইয়ের পাতা শেখাতে পারে না,
শিক্ষকের জীবনাদর্শ সেই শিক্ষা ছড়ায় সনা।

তিনি শেখান সততা কী, কেমন দায়িত্ববোধ,
কেমন করে রক্ষা করতে হয় নিজের অঙ্গীকার-শোধ।
কেমন করে দুর্বল জনের পাশে দাঁড়াতে হয়,
কেমন করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জয়।

চরিত্রহীন জ্ঞান কখনো সমাজ গড়তে পারে না,
বিবেকহীন বিদ্যার আলো কল্যাণ বয়ে আনে না।
তাই শিক্ষক গড়ে তোলেন মানুষ হওয়ার পথ,
যেখানে নীতি, সাহস, প্রেমসবই থাকে রত।

শিক্ষার্থীর হৃদয়মাঝে রোপণ করেন বীজ,
যা একদিন মহীরুহ হয়ে ছড়াবে আলোর রীজ।
সৎকর্ম, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা, মানবতার গান,
এসবেই প্রস্ফুটিত হয় মহৎ মানুষের প্রাণ।

নিয়ম যেন নদীর তীর, রাখে স্রোতকে ঠিক,
শৃঙ্খলা ছাড়া কোনো জীবন এগোয় না সুদূর দিক।
সময়মতো কাজ করা, দায়িত্ব পালন,
এসব গুণেই সমৃদ্ধ হয় মানুষের জীবন।

বিদ্যালয়ের প্রতিটি ঘণ্টা সময়ের আহ্বান,
কর্মমুখর প্রতিটি দিন গড়ে সোনার ভুবন।
শিক্ষক নিজে উদাহরণ হয়ে শেখান সময়মান,
শিক্ষার্থীরা অনুসরণে রচনা করে সম্মান।

পরিশ্রমের বিকল্প নেইএই মহামন্ত্র শোনে,
ঘামের ফোঁটা সাফল্যের ফুল হয়ে ফোটে ক্ষণে।
যে শিখেছে অধ্যবসায়, হার মানেনি কভু,
জয়ের মালা একদিন সে পরবেই অবশ্যই।

জ্ঞান যদি কেবল নিজের তরে থাকে সীমাবদ্ধ,
তবে তার পূর্ণ মর্যাদা হয় না কখনো প্রতিষ্ঠিত।
শিক্ষা তখনই সার্থক হয়, যখন দেয় কল্যাণ,
যখন মানুষ মানুষের জন্য উৎসর্গ করে প্রাণ।

শিক্ষক শেখান ভ্রাতৃত্বের মহিমান্বিত বাণী,
সব মানুষের মর্যাদা সমানএই চিরজানি।
ধনী-গরিব, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন বর্ণধার,
সবার মাঝে মানবতার বন্ধন অটুট আর।

শিক্ষার্থী শেখে সহযোগিতা, শেখে ভাগাভাগি,
শেখে কেমন করে দূর করতে হয় বৈরিতার ফাঁকি।
একটি হাসি, একটি সাহায্য, একটি মমতাস্পর্শ,
মানবজীবন আলোকিত করে অনন্তকাল বর্ষ।

প্রতিটি শিশুর চোখে থাকে অগণিত স্বপ্ন,
কেউ হতে চায় বিজ্ঞানী, কেউ শিল্পী অনুপম।
কেউ শিক্ষক, কেউ চিকিৎসক, কেউবা নেতা মহান,
কেউ বা হবে গবেষক হয়ে উজ্জ্বল করবে জ্ঞান।

শিক্ষক তখন দক্ষ কারিগর, স্বপ্নগড়ার শিল্পী,
সম্ভাবনার রঙে আঁকেন ভবিষ্যতের নকশাটি।
তিনি দেখেন শিক্ষার্থীতে লুকানো অমূল্য রত্ন,
যা হয়তো নিজেও জানে না তার শক্তির গুণ।

হতাশার কালো মেঘ যখন নামে জীবনের আকাশে,
শিক্ষক তখন সাহস জোগান আশার ভাষায় ভাসে।
তিনি বলেন, “চেষ্টা করো, সফলতা আসবেই,”
এই বাক্যেই অনেক প্রাণ নতুন শক্তি পেয়ে যায়ই।

আজকের শিক্ষার্থীই আগামী দিনের নেতা,
দেশগঠনের দায়িত্ব নেবে তারাই যথার্থভাবে তথা।
তাদের হাতে নির্মিত হবে উন্নয়নের সোপান,
তাদের চিন্তায় সমৃদ্ধ হবে দেশের প্রতিটি প্রাণ।

শিক্ষক তাই জাতির শ্রেষ্ঠ নির্মাতা নিরবধি,
তাঁর হাতে রচিত হয় সভ্যতার ভবিষ্যৎ নদী
একটি শ্রেণিকক্ষ থেকেই বদলে যায় সমাজ,
সেখানে জন্ম নেয় নতুন দিনের মহাকাজ।

যে শিক্ষক নিষ্ঠাভরে করেন জ্ঞান বিতরণ,
তিনি গড়েন শত শত জীবনের সোনালি আয়োজন।
যে শিক্ষার্থী আন্তরিক হয়ে করে জ্ঞান অন্বেষণ,
সে- একদিন জাতির করে গৌরবময় সৃজন।

শিক্ষক শিক্ষার্থীর সম্পর্ক মহিমান্বিত ধারা,
সভ্যতার ইতিহাসজুড়ে যার গৌরব অপরিসীম সারা।
সম্পর্ক বিশ্বাসের, সম্পর্ক শ্রদ্ধার,
সম্পর্ক মানবগঠনের চিরন্তন অঙ্গীকার।

যতদিন জ্ঞানের সূর্য উঠবে মানবতার গগনে,
ততদিন বন্ধন রবে মহিমায় অনন্ত জীবনে।
শিক্ষক হবেন আলোকবর্তিকা, শিক্ষার্থী দীপ্ত শিখা,
দুজন মিলে জ্বালাবেন জ্ঞান কল্যাণের দীপশিখা।

আসুন তবে গাই সকলে শিক্ষার জয়গান,
শ্রদ্ধা, প্রেম মানবতায় ভরে উঠুক প্রাণ।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই পবিত্র মিলনধারা,
আলোকিত করুক বিশ্বভুবন যুগে যুগে সারা।

***

তুলি আজি শ্রদ্ধাভরে শিক্ষার মহাগান,
যেখানে জ্ঞান চরিত্র গড়ে মানবপ্রাণ।
যেখানে শিক্ষক আলোর দিশা, শিক্ষার্থী ভবিষ্যৎ,
দুজন মিলে রচনা করে সভ্যতার মহাসত্য।

বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষে, প্রতিটি প্রভাত বেলায়,
আশার প্রদীপ জ্বলে ওঠে জ্ঞানের শুভ খেলায়।
চকের আঁচড়, বইয়ের পাতা, প্রশ্নভরা মন,
সেখানেই রচিত হয় আগামী দিনের পণ।

শিক্ষক যেন বাতিঘর এক উত্তাল জীবনের তীরে,
অন্ধকারে পথ দেখান প্রজ্ঞার আলোক-নীড়ে।
ঝড় এলে তিনি সাহস দেন, ব্যর্থতায় দেন বল,
তাঁর বাণীতে জেগে ওঠে আত্মবিশ্বাসের দল।

শিক্ষার্থী যেন কচি চারা, সম্ভাবনার বীজ,
স্নেহ-জলে বেড়ে ওঠে, ছুঁতে চায় আকাশ-দ্বিজ।
প্রতিটি মনে লুকিয়ে থাকে অগণিত শক্তিধার,
সঠিক দিশা পেলেই তারা হয় উজ্জ্বল নক্ষত্রহার।

***

তুলি আজি শ্রদ্ধাভরে শিক্ষার মহাগান,
যেখানে জ্ঞান চরিত্র গড়ে মানবপ্রাণ।
যেখানে শিক্ষক আলোর দিশা, শিক্ষার্থী আগামীর স্বপ্ন,
দুজন মিলে রচনা করে সভ্যতার মহাকল্প।

যুগে যুগে জ্ঞানের ধারা বহে অবিরাম,
মানুষ গড়ার সাধনাতে জাগে নব অভিরাম।
বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ জ্ঞানের পুণ্যধাম,
সেখানে ফুটে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার গ্রাম।

চকের রেখায় আঁকা হয় আলোকিত প্রত্যয়,
বইয়ের পাতায় লুকিয়ে থাকে জগতজোড়া বিস্ময়।
প্রশ্নভরা কৌতূহলী মন খোঁজে জ্ঞানের দ্বার,
সেখানেই রচিত হয় আগামী দিনের অঙ্গীকার।

শিক্ষক যেন বাতিঘর এক উত্তাল সাগরতীরে,
অন্ধকারে পথ দেখান প্রজ্ঞার আলোক-নীড়ে।
ঝড়-ঝঞ্ঝা, ব্যর্থতা আর দুঃসময়ের কালে,
তাঁর বাণী সাহস জাগায় শিক্ষার্থীর হৃদয়তলে।

শিক্ষার্থী যেন কচি চারা সম্ভাবনার বীজ,
স্নেহ-জলে বেড়ে উঠে ছুঁতে চায় নীল গগনসীজ।
প্রতিটি প্রাণে সুপ্ত থাকে শক্তির অফুরান ভাণ্ডার,
সঠিক দিশা পেলেই তারা হয় উজ্জ্বল নক্ষত্রহার।

শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, স্নেহ, মমতাসম্পর্কের মূল,
এই বন্ধনেই প্রস্ফুটিত হয় জ্ঞানের শুভ ফুল।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই পবিত্র মিলনধারা,
আলোকিত করে বিশ্বভুবন যুগে যুগে সারা।

 

মন্তব্য করুন