Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ জুন, ২০২৬ ০৩:৪০ অপরাহ্ণ

দোকানে ডিসকাউন্ট বা মূল্যছাড় দেওয়া শুধু ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য নয়, এর পেছনে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কৌশল

দোকানে ডিসকাউন্ট বা মূল্যছাড় দেওয়া শুধু ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য নয়, এর পেছনে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কৌশল কাজ করে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. বিক্রয় বৃদ্ধি করা

ডিসকাউন্ট দিলে ক্রেতারা দ্রুত পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়। ফলে বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং ব্যবসার মোট আয় বাড়ে।

২. পুরোনো বা অতিরিক্ত স্টক বিক্রি

অনেক সময় দোকানে অতিরিক্ত পণ্য জমে যায় বা মৌসুম শেষ হয়ে যায়। এসব পণ্য দ্রুত বিক্রি করার জন্য ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়।

৩. নতুন ক্রেতা আকর্ষণ

ডিসকাউন্ট একটি শক্তিশালী বিপণন কৌশল। কম দামের লোভে নতুন ক্রেতারা দোকানে আসে এবং পরবর্তীতে নিয়মিত ক্রেতায় পরিণত হতে পারে।

৪. প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা

একই ধরনের পণ্য বিক্রি করা অনেক দোকানের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকে। তাই ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে তারা মূল্যছাড় দেয়।

৫. নগদ অর্থ প্রবাহ বৃদ্ধি

কখনও কখনও ব্যবসার জন্য দ্রুত নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। ডিসকাউন্ট দিয়ে দ্রুত বিক্রি বাড়িয়ে অর্থ সংগ্রহ করা হয়।

৬. মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব

"৩০% ছাড়", "একটি কিনলে একটি ফ্রি" ইত্যাদি অফার ক্রেতার মনে লাভবান হওয়ার অনুভূতি সৃষ্টি করে। ফলে তারা প্রয়োজনের চেয়েও বেশি পণ্য কিনতে পারে।

৭. সরবরাহকারীর প্রণোদনা

অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী কোম্পানি বা সরবরাহকারী বিক্রেতাকে বিশেষ ছাড় দেয়। দোকানদার সেই ছাড়ের একটি অংশ ক্রেতাদের দেয়।

৮. ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধি

নতুন পণ্য বাজারে আনার সময় ডিসকাউন্ট দিয়ে মানুষকে পণ্যটি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হয়।

৯. লাভের কৌশল

সব ডিসকাউন্টে দোকানদারের ক্ষতি হয় না। অনেক সময় পণ্যের মূল দাম আগে থেকেই কিছুটা বেশি নির্ধারণ করা হয়, পরে ডিসকাউন্ট দিয়ে বিক্রি করা হয়। এতে ক্রেতা ছাড় পাচ্ছে মনে করলেও ব্যবসায়ী লাভ করতে পারে।

উপসংহার

ডিসকাউন্টের মূল উদ্দেশ্য হলো বিক্রয় বৃদ্ধি, ক্রেতা আকর্ষণ, স্টক ব্যবস্থাপনা এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখা। তাই সব সময় বড় ডিসকাউন্ট দেখেই পণ্য কেনার আগে মূল মূল্য, পণ্যের গুণগত মান এবং প্রকৃত প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত।

মন্তব্য করুন