সহকারী অধ্যাপক
১৬ জুন, ২০২৬ ০৭:৩০ অপরাহ্ণ
সৎগুণের দীপশিখা - মোঃ মুজিবুর রহমান
সৎগুণের দীপশিখা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মানুষ জন্মে পৃথিবীতে সম্ভাবনার আলো নিয়ে,
সত্য-সুন্দরের আহ্বান আসে হৃদয় ছুঁয়ে।
ভালোবাসা, দয়া, মমতা, সততার নির্মল বাণী,
এসব গুণেই প্রস্ফুটিত হয় জীবনের সত্য কাহিনি।
সৎগুণ যেন সুবাসিত ফুল, সুগন্ধে ভরে ধরা,
অসৎগুণ যেন কালো ধোঁয়া, ঢেকে দেয় দিশাহারা।
যেখানে ন্যায় জাগ্রত থাকে, জাগে কল্যাণের গান,
সেখানে মানুষ খুঁজে পায় শান্তির মহীয়ান স্থান।
ধৈর্যের মাঝে শক্তি লুকায়, ক্ষমার মাঝে জয়,
সত্য কথাটি বলার সাহস মানুষকে মহৎ করে কয়।
কৃতজ্ঞতা শেখায় মানুষকে প্রভুর দান চিনিতে,
নম্রতা শেখায় মাথা নত করে মানবতাকে জিতিতে।
যে মানুষ সৎপথে চলে, অন্যের মঙ্গল চায়,
তার পদচিহ্ন অনুসরণে নতুন ইতিহাস গড়ায়।
নিজের সুখে নয় যে মগ্ন, ভাগ করে সবার সাথে,
সে-ই তো সত্য মানবসন্তান পৃথিবীর কল্যাণপথে।
লোভ যখন হৃদয়ে জাগে, বিবেক পড়ে ঘুমে,
অন্যায়ের কালো ছায়া নেমে আসে ধীরে ধূমে।
হিংসা যখন অন্তর ভরে, ভালোবাসা যায় হারিয়ে,
বন্ধুত্বের সবুজ বাগান শুকিয়ে যায় ঝরিয়া।
অহংকারের উঁচু প্রাচীর মানুষকে করে ক্ষুদ্র,
নিজের চোখে নিজেই বড়, অথচ অন্তর শূন্য।
মিথ্যার ক্ষণিক জৌলুস আছে, নেই কোনো স্থায়ী মান,
সত্যের দীপ একবার জ্বললে মুছে যায় মিথ্যার গান।
প্রতারণা ভেঙে দেয় আস্থা, ভাঙে হৃদয়ের সেতু,
অবিশ্বাসের অন্ধকারে হারায় মানবকেতু।
স্বার্থপরতার বিষবৃক্ষ ফলায় দুঃখের ফল,
ভ্রাতৃত্বের মধুর বন্ধন করে অবিরল বিকল।
যে ঘরে থাকে সততা, সে ঘরে শান্তি নামে,
বিশ্বাসের দৃঢ় ভিত্তি গড়ে ভালোবাসার থামে।
যে ঘরে মিথ্যা বাসা বাঁধে, কলহ সেখানে জাগে,
অশান্তির কালো মেঘটি চারপাশ ঘিরে থাকে।
একজন মানুষের চরিত্রই সমাজ গড়ার মূল,
সৎ হৃদয়ের মিলন হলে প্রস্ফুটিত হয় ফুল।
একটি ভালো কাজের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে দূর,
একটি সৎ উদাহরণে বদলায় কত সুর।
সমাজ গড়ে পরিবার মিলে, পরিবার গড়ে মানুষ,
মানুষ যদি সৎ না হয়, সভ্যতা হয় নিঃস্ব।
শিক্ষা যদি চরিত্রহীন, জ্ঞান যদি হয় শূন্য,
তবে তার সব কীর্তিগাঁথা হয়ে পড়ে মূল্যহীন।
নৈতিকতার দীপ নিভিলে অন্ধকার নামে ঘরে,
স্বার্থের আগুন জ্বলে ওঠে মানবতার অন্তরে।
দুর্নীতির বিষধারা তখন ছড়িয়ে পড়ে ধীরে,
ন্যায়ের বৃক্ষ শুকিয়ে যায় অন্যায়েরই নীড়ে।
যেখানে ঘুষ সম্মান পায়, সত্য থাকে লাঞ্ছিত,
সেখানে আইন দুর্বল হয়ে পড়ে অবহেলিত।
ক্ষমতার অপব্যবহারে কাঁদে নিরীহ প্রাণ,
ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষাতে দীর্ঘ হয় অবসান।
রাষ্ট্র তখন দুর্বল হয়ে পড়ে ভিতরে ভিতরে,
বিশৃঙ্খলার ঝড় ওঠে চারিধারের ঘরে ঘরে।
অপরাধের অশুভ ছায়া বিস্তার করে ডানা,
শান্তির পাখি হারিয়ে ফেলে আপন ঠিকানা।
কিন্তু এখনো আশা আছে, জাগরণের সময়,
মানুষ যদি সত্যের পথে ফিরতে শেখে নিশ্চয়।
সৎগুণেরই চর্চা হবে জীবনের মূল সাধনা,
মানবতার কল্যাণ হবে প্রতিটি প্রাণের কামনা।
শিশুর মনে বপন করতে হবে নৈতিকতার বীজ,
সততারই আলো জ্বেলে গড়তে হবে ভীত।
শিক্ষালয়ে শেখাতে হবে শুধু তথ্য নয়,
চরিত্র গঠনের শিক্ষাই হোক শিক্ষার পরিচয়।
শ্রমের মর্যাদা বুঝতে হবে, বুঝতে হবে ন্যায়,
অন্যায়ের সাথে আপস করে কোনো মুক্তি নাই।
বইয়ের পাতায়, জীবনের পথে, কর্মের প্রতিটি ধাপে,
সত্য ও নীতির শিক্ষা থাকুক আলোর প্রদীপ হাতে।
ধৈর্য হবে পথের সাথী, দয়া হবে বল,
ক্ষমাশীলতা শেখাবে মানুষকে মহীয়ান অনল।
বিনয় হবে চরিত্রের শোভা, সততা হবে ঢাল,
সুন্দর জীবনের পথে এগোবে মানবকাল।
প্রতিবেশীর দুঃখে কাঁদা, ক্ষুধার্তকে আহার,
এগুলো শুধু সৎকর্ম নয়, মানবতার উপহার।
যে হাত অন্যকে তোলে, সে হাত মহৎ হয়,
মানুষের কল্যাণে নিবেদিত জীবন কখনো ক্ষয় নয়।
সত্যবাদী ব্যবসায়ী, ন্যায়পরায়ণ শাসক,
দায়িত্বশীল শিক্ষক, সেবাপরায়ণ রক্ষক—
সকলেই যদি নিজ নিজ স্থানে সততার আলো জ্বালে,
সমৃদ্ধির নতুন সূর্য উঠবে দেশের আকাশতলে।
সৎকাজ শুধু ব্যক্তিগত নয়, সমাজেরও প্রাণ,
এতে জাগে সহযোগিতার অমলিন সম্মান।
মানুষ মানুষকে ভালোবেসে এগিয়ে এলে সাথে,
কল্যাণের ফুল ফুটে ওঠে জীবনের প্রতিপাতে।
আত্মশুদ্ধি শুরু হোক নিজের অন্তর হতে,
দোষ দেখিবার আগে দেখি নিজেকে নীরবে।
লোভ, হিংসা, ক্রোধ, অহংকার দূর করি মন হতে,
সত্য, দয়া, প্রেম ও বিনয় স্থাপন করি তাতে।
যে অন্তরে নৈতিকতার দীপ জ্বলে অবিরাম,
সেই অন্তরে জন্ম নেয় শান্তির মহাকাব্যধাম।
সেই মানুষই আলোকিত করে পরিবার ও দেশ,
তার জীবন হয়ে ওঠে কল্যাণের পরিবেশ।
ইহকালের সফলতা আর পরকালের মুক্তি,
দুটিরই মূল নিহিত সৎচরিত্রের শক্তি।
ধন-সম্পদ, জ্ঞান-বিজ্ঞান, ক্ষমতার উচ্চ শিখর,
নৈতিকতা ছাড়া সবই হয় ক্ষণস্থায়ী প্রহর।
তাই এসো আমরা গড়ি নতুন আলোর সমাজ,
যেখানে সত্য ও ন্যায় হবে জীবনের সাজ।
যেখানে মানুষ মানুষকে দেখবে সম্মানের চোখে,
কল্যাণের বাণী ছড়িয়ে পড়বে সুখের আলোকলোকে।
সৎগুণের মহাসমুদ্রে ভাসুক মানবপ্রাণ,
অসৎগুণের অন্ধকারে না হারাক কোনো জ্ঞান।
নৈতিকতার পতাকা তুলে এগিয়ে চলি সবাই,
মানবতার জয়ধ্বনি হোক পৃথিবীময় ভাই।
শেষে রাখি এই আহ্বান—
সততা হোক শক্তি আমাদের,
দয়া হোক হৃদয়ের ভাষা,
ন্যায় হোক জীবনের পথপ্রদর্শক,
মানবতা হোক সভ্যতার পরিচয়।
***
নৈতিকতার মহাকাব্য
(সৎগুণের জয়যাত্রা ও মানবতার মহাগান)
শুরু করি মহান নামে, যিনি দয়াময় প্রভু,
যাঁর কৃপাতে জাগে প্রাণে সত্য-সুন্দরের অনুভব।
আকাশভরা নক্ষত্ররাজি, পৃথিবী ফুলে ভরা,
তাঁরই দানে মানুষ এলো সৃষ্টির সেরা ধরা।
জ্ঞান দিলেন, বিবেক দিলেন, দিলেন চিন্তার আলো,
সৎ-অসতের পার্থক্য বুঝি হৃদয় জুড়ে ভালো।
পথও দিলেন, লক্ষ্যও দিলেন, দিলেন কর্মের ডাক,
সৎগুণে যে জীবন গড়ে, তারই উজ্জ্বল হোক ভাগ্যলেখা।
মানবজীবন ক্ষণিক যাত্রা, নয় তো চিরকাল,
কর্মের বীজ বপন করে চলে প্রতিটি কাল।
যেমন বপন তেমন ফল, প্রকৃতির এই বিধান,
সৎকর্ম গড়ে সুখের ভবিষ্যৎ, অসৎ আনে অবসান।
সফলতা কেবল ধন নয়, নয় কেবল সম্মান,
সফলতা হলো সত্যপথে নির্মল জীবনগান।
যে জীবনে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত, প্রেম যার মূলমন্ত্র,
সেই জীবনেই ফুটে ওঠে কল্যাণের পুণ্যতন্ত্র।
সৎগুণ যেন বসন্ত-বেলা, ফুলে ভরা বন,
যেখানে দয়া, প্রেম ও মমতা গড়ে আপন ভুবন।
সততা তার দীপ্ত সূর্য, বিনয় তার চাঁদ,
ধৈর্য তার গভীর সাগর, ক্ষমা তার অবিরাম সাধ।
সত্যবাদী মানুষ যেন দীপ জ্বালানো ঘর,
তার উপস্থিতিতে মুছে যায় অন্ধকারের পর্দা।
কঠিন সময়ে সত্য বলা বীরের মহৎ কাজ,
মিথ্যার কাছে মাথা নত নয় তার কোনো সাজ।
ধৈর্য মানুষকে শেখায় কেমন ঝড়ের মাঝে থাকা,
বিপদ এলেও আশা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া।
ক্ষমা শেখায় প্রতিশোধ নয়, উত্তম পথের জয়,
ক্ষমাশীল হৃদয় পৃথিবীতে শান্তির বার্তা কয়।
কৃতজ্ঞতা শেখায় মানুষকে প্রতিটি দানের মান,
এক ফোঁটা জল, একটুকু আলো, প্রতিটি অনুগ্রহ জ্ঞান।
যে কৃতজ্ঞ হয় স্রষ্টার প্রতি, মানুষের প্রতিও তাই,
তার হৃদয়ে অহংকারের স্থান কখনো নাই।
দয়া মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ, মানবতার প্রাণ,
অন্যের দুঃখ নিজের মতো অনুভবেরই গান।
যেখানে দয়ার স্রোত বয়, সেখানে সুখের দেশ,
মানুষ মানুষকে ভালোবেসে গড়ে সুন্দর পরিবেশ।
কিন্তু যখন হৃদয়জুড়ে লোভের আগুন জ্বলে,
মানুষ তখন হারিয়ে ফেলে সত্যের সোনার দলে।
অল্পতে যার তৃপ্তি নেই, চায় আরও অধিক,
সে ভুলে যায় জীবনপথের নৈতিক শিক্ষালিখ।
হিংসা হলো গোপন আগুন, জ্বালায় অন্তর-মাঠ,
অন্যের সুখে কষ্ট পায় যে, হারায় শান্তির ঘাট।
অহংকারের প্রাসাদ যত উঁচু হয়ে রয়,
ভিতরে তত শূন্যতা আর নিঃসঙ্গতার ক্ষয়।
ক্রোধ যখন বিবেক ঢাকে, জ্বলে ওঠে মন,
মুহূর্তে ভেঙে যায় তখন বছরের সম্পর্ক-বন।
মিথ্যা কথা বিষের মতো ধীরে ধীরে ছড়ায়,
বিশ্বাসের সুন্দর গাছকে শিকড় থেকে ঝরায়।
প্রতারণা আর স্বার্থপরতা সমাজের কালরাত্রি,
তাদের ছোঁয়ায় শুকিয়ে যায় মানবতার পবিত্র ভাটি।
অন্যায়ের পথে অর্জিত ধন ক্ষণিক সুখ দিলেও,
শেষে আনে অশান্তি শুধু, দুঃখের বোঝা মেলেও।
যে মানুষ নীতিহীন পথে চলতে শেখে ধীরে,
তার অন্তরে শান্তি থাকে না কোনোদিনও ফিরে।
বাহিরে হাসি থাকলেও মন থাকে ভারাক্রান্ত,
বিবেকের আদালতে সে নিজেই হয় ভ্রান্ত।
অসৎকাজে অর্জিত সুখ মরুভূমির জল,
দেখতে যেমন সত্য মনে হয়, বাস্তবে তত ছল।
অন্তরে তখন জমতে থাকে অনুশোচনার মেঘ,
আত্মার আকাশ ঢেকে ফেলে অশান্তির আবেগ।
সৎচরিত্রের মানুষ কিন্তু সহজ জীবন যাপন করে,
অল্প সম্পদেও আনন্দ খুঁজে অন্তরের গভীরে।
তার ঘুম শান্ত, মন প্রশান্ত, হৃদয় থাকে স্থির,
নৈতিকতার শক্তি তাকে করে অটল বীর।
পরিবার হলো সমাজগঠনের প্রথম পাঠশালা,
যেখানে শিশুর হৃদয়ে লেখা হয় জীবনের বর্ণমালা।
পিতা-মাতার সততা যদি আলোর মতো জ্বলে,
সন্তানও সে আলো নিয়ে ভবিষ্যতের পথে চলে।
মিথ্যা যদি ঘরে ঢোকে, আস্থা যায় হারিয়ে,
কলহ এসে ভালোবাসার প্রদীপ দেয় নিভিয়ে।
শ্রদ্ধা, স্নেহ ও দায়িত্ববোধ পরিবারকে গড়ে,
অবহেলা আর স্বার্থপরতা সম্পর্কগুলো ঝরে।
প্রতিবেশী যদি হয় আপন, সমাজ হয় সুন্দর,
সহযোগিতার বন্ধনে তখন জীবন হয় মধুর।
সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তির উপর দাঁড়ায় সভ্যতা,
নৈতিকতাই রক্ষা করে মানবতার মর্যাদা।
একজন নেতা যেমন হন, তেমন গড়ে দেশ,
তার নীতি-আদর্শ ছড়িয়ে পড়ে সর্বপরিবেশ।
ন্যায়পরায়ণ শাসক হলে শান্তি নামে ধরা,
অন্যায়কারী শাসক হলে অন্ধকারে দেশ ভরা।
দুর্নীতি যখন রাষ্ট্রযন্ত্রে বিস্তার করে ডানা,
আইনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস হারায় ঠিকানা।
ঘুষ, জুলুম ও বৈষম্য তখন সমাজজুড়ে রয়,
অপরাধের অরণ্যে গিয়ে ন্যায়বিচার হারায়।
সততার ভিত্তিতে গড়া রাষ্ট্র হয় সমৃদ্ধ,
সেখানে জ্ঞান, শিল্প ও শ্রম পায় সম্মান নিখুঁত।
ন্যায় যেখানে প্রতিষ্ঠিত, নিরাপদ জনজীবন,
সেই রাষ্ট্রেই বিকশিত হয় উন্নতির আয়োজন।
তবু মানবজীবনজুড়ে আশার আলো রয়,
অন্ধকারের পরেই আসে প্রভাতের পরিচয়।
যে নিজেকে বদলাতে চায়, সে-ই প্রকৃত বীর,
আত্মশুদ্ধির পথ ধরিলে ভবিষ্যৎ হয় ধীর।
ধৈর্যকে কর সঙ্গী তোমার, সত্যকে কর ঢাল,
বিনয়কে কর অলংকার, সততাকে কর জ্বলজ্বাল।
লোভ-হিংসা দূরে সরাও, ক্রোধকে কর জয়,
ক্ষমা, প্রেম ও মানবসেবায় জীবনের পরিচয়।
শিক্ষা হোক চরিত্রগঠন, শুধু তথ্য নয়,
জ্ঞান যেন মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হতে কয়।
শিশুর হৃদয়ে রোপণ কর নৈতিকতার বীজ,
ভবিষ্যতের সোনার ফসলে ভরে উঠুক ভীত।
এসো গড়ি এমন সমাজ, যেখানে সত্য হাসে,
মানুষ মানুষকে ভালোবেসে সুখের পথেই ভাসে।
যেখানে ধনী-দরিদ্র সবে পায় সমান মান,
যেখানে ন্যায় ও করুণাতে জাগে নতুন গান।
যেখানে শিক্ষক আলোকবর্তিকা, ছাত্র জ্ঞানের ফুল,
যেখানে শ্রমিক সম্মানিত, কৃষক নয় অবহেলিত কূল।
যেখানে ব্যবসা সততায় চলে, বিচার হয় নিরপেক্ষ,
যেখানে মানবকল্যাণই রাষ্ট্রচিন্তার লক্ষ্য।
মানবতার এই অভিযানে সবাই হব সাথি,
নৈতিকতার পতাকা নিয়ে এগোব দিনরাতি।
সৎগুণের সুবাস ছড়াবে নগর থেকে গ্রাম,
পৃথিবীজুড়ে ধ্বনিত হবে কল্যাণেরই নাম।
সৎগুণের প্রতিটি বীজ একদিন বৃক্ষে ফলে,
কল্যাণের ছায়া হয়ে দাঁড়ায় মানুষেরই তলে।
অসৎগুণের প্রতিটি পদক্ষেপ আনে শুধু ক্ষয়,
সত্য ও ন্যায়ের পথেই মানুষের প্রকৃত জয়।
তাই এসো আজ শপথ করি হৃদয় দিয়ে প্রাণ,
সততা হবে জীবনপথের চিরউজ্জ্বল গান।
দয়া হবে ভাষা আমাদের, ন্যায় হবে পরিচয়,
মানবতার সেবার মাঝে খুঁজব জীবনের জয়।
ব্যক্তি হবে আলোকিত,
পরিবার হবে সুন্দর,
সমাজ হবে শান্তিময়,
রাষ্ট্র হবে সমৃদ্ধ।
আর সৎগুণের দীপ্ত শিখায় আলোকিত হয়ে
ইহকাল ও পরকালের চিরকল্যাণময় সফলতার পথে
অগ্রসর হবে মানবসভ্যতার মহিমান্বিত জয়যাত্রা।
***
নৈতিকতার মহামন্ত্র
(সৎগুণের বিজয়গাথা)
আসো গাই আজ নৈতিকতার অমর জয়গান,
যে গানে জাগে সত্য, ন্যায়, প্রেম ও কল্যাণ।
যে গানে মানুষ খুঁজে পায় জীবনের উদ্দেশ্য,
যে গানে মুছে যায় অন্ধকারের সব অনিষ্ট।
পৃথিবীর যত সভ্যতার গৌরবময় ইতিহাস,
নৈতিকতার ভিত্তিতেই পেয়েছে বিকাশ।
যেখানে ছিল সত্য, সেখানে ছিল জয়,
যেখানে ছিল অন্যায়, সেখানে ছিল ক্ষয়।
সৎগুণ মানুষের শ্রেষ্ঠ ধন, শ্রেষ্ঠ অলংকার,
এ গুণেই মানুষ হয় মহীয়ান, মহত্তর।
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, জ্ঞান—সবই ক্ষণিক ছায়া,
চরিত্রহীন জীবনের নেই কোনো মহিমাময় মায়া।
মানুষ এলো পৃথিবীতে সম্ভাবনার দীপ হাতে,
জ্ঞান-বিবেকের আলোকরশ্মি নিয়ে হৃদয়পাতে।
পশুর চেয়ে ভিন্ন সে যে নৈতিক চেতনায়,
সত্য-মিথ্যার বিচার করে বিবেকের আলোয়।
আকাশ দেখে, সাগর দেখে, দেখে পর্বতশ্রেণি,
স্রষ্টার সৃষ্টি চিনে নিয়ে জাগে বোধের বাণী।
তারই মাঝে স্থাপন করা হয়েছে দুটি পথ—
একটি শুভ, অন্যটি অশুভ, দুটি ভিন্ন রথ।
যে চলে সত্যের পথে, সে পায় শান্তির দিশা,
যে চলে প্রবৃত্তির পিছে, তার জীবনে বিষাদ-নিশা।
মানবজীবন পরীক্ষাক্ষেত্র, কর্মের মহামঞ্চ,
এখানেই রচিত হয় ভবিষ্যতের চূড়ান্ত সঞ্চয়।
সততা যেন সূর্যকিরণ, আলোকিত করে প্রাণ,
ধৈর্য যেন মহাসাগর, গভীর যার জ্ঞান।
দয়া যেন মেঘের বৃষ্টি, সবার তৃষ্ণা মেটায়,
ক্ষমা যেন শীতল বাতাস, হৃদয়ের ক্ষত শুকায়।
বিনয় মানুষকে করে মহান,
অহংকার করে ক্ষুদ্র।
কৃতজ্ঞতা হৃদয় ভরে আলোয়,
অকৃতজ্ঞতা করে নিঃস্ব।
সত্যবাদী মানুষের মুখে থাকে বিশ্বাসের ছাপ,
তার কথাতে আস্থা রাখে গ্রাম, নগর ও জনপদ।
সে প্রতারণা জানে না, জানে না মিথ্যার ছল,
তার চরিত্র সুগন্ধ ছড়ায় প্রস্ফুটিত ফুলসম।
যে দান করে নিঃস্বার্থ মনে,
যে সাহায্য করে গোপনে,
যে অন্যের দুঃখে কাঁদে,
মানবতার আলো জ্বলে তারই জীবনের কোণে।
লোভ এলে মানুষ চায় সীমাহীন ভোগ,
অন্যের অধিকার গ্রাস করেও পায় না সুখের যোগ।
হিংসা জ্বালায় অন্তর-মাঝে অদৃশ্য দাবানল,
নিজে পোড়ে, অন্যকেও দেয় দুঃখের ফল।
অহংকারের উঁচু মিনার আকাশ ছুঁতে চায়,
কিন্তু তার ভিতরে থাকে শূন্যতারই ছায়।
ক্রোধ যখন বিবেককে করে বন্দি,
তখন ভালোবাসাও হয়ে যায় অন্ধ।
মিথ্যা কথা ক্ষুদ্র হলেও জন্ম দেয় মহাক্ষয়,
একটি মিথ্যা শত মিথ্যার দুয়ার খুলে রয়।
প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা ভাঙে সম্পর্কের সেতু,
মানুষ মানুষ থেকে দূরে সরে হারায় মানবকেতু।
অসৎগুণের প্রতিটি শাখা বিষাক্ত বৃক্ষসম,
ফল তার দুঃখ, ফুল তার শোক, ছায়াও অকল্যাণময়।
যে হৃদয়ে সৎগুণ মরে, সেখানে শান্তি মরে,
অশান্তির ঝড় বয়ে যায় অন্তরের গভীর ঘরে।
বাহিরে থাকে হাসির মুখোশ,
ভিতরে জমে দীর্ঘশ্বাস।
রাত্রি আসে, ঘুম আসে না,
বিবেক করে প্রশ্ন;
"কোথায় হারালে সত্যপথ,
কেন হলে এত নিষ্ঠুর?"
কিন্তু মানুষ আশাহীন নয়,
ফেরার পথও খোলা।
অনুতাপের অশ্রুধারায়
মুছে যায় মনের কালো।
আত্মশুদ্ধির কঠিন সাধনা
আবার জাগায় প্রাণ,
অন্তর জুড়ে ফুটে ওঠে
সততারই গান।
একটি পরিবার সমাজের বীজ,
সমাজ রাষ্ট্রের মূল।
পরিবার যদি নীতিহীন হয়,
সভ্যতা হয়ে যায় ভুল।
মা শেখান মমতা,
বাবা শেখান দায়িত্ব,
শিক্ষক শেখান জ্ঞান,
সমাজ শেখায় কর্তব্য।
সত্য যদি থাকে ঘরে,
শান্তি থাকে দ্বারে;
মিথ্যা যদি ঢুকে পড়ে,
কলহ নামে ঘরে ঘরে।
প্রতিবেশী যদি হয় আপন,
সমাজ হয় উদ্যান;
স্বার্থ যদি হয় প্রধান,
শুকিয়ে যায় প্রাণ।
রাষ্ট্র কেবল মানচিত্র নয়,
রাষ্ট্র মানুষের স্বপ্ন।
ন্যায়বিচার তার প্রাণশক্তি,
নৈতিকতা তার স্তম্ভ।
যেখানে দুর্নীতি সম্মান পায়,
সেখানে মেধা হারায় মূল্য।
যেখানে ঘুষে কাজ সম্পন্ন হয়,
সেখানে ন্যায় হয় বিপর্যস্ত।
অন্যায় যখন ক্ষমতার আসনে,
সত্য তখন নির্বাসিত।
জুলুম যখন আইন হয়,
জনজীবন হয় আতঙ্কিত।
কিন্তু ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব
রাষ্ট্রকে করে মহান,
সততা যার মূলনীতি,
সেই রাষ্ট্র পায় সম্মান।
ধৈর্যে ছিলেন পর্বতসম,
ক্ষমায় ছিলেন সাগর,
দয়ায় ছিলেন বর্ষার মেঘ,
সত্যে ছিলেন অমর।
অপমান পেয়েও ক্ষমা করেছেন,
অন্যায় পেয়েও ন্যায়;
মানবতার শিক্ষা দিয়ে
গড়েছেন কল্যাণময় পথচলায়।
সুন্দর চরিত্রই ছিল তাঁর
শ্রেষ্ঠ অলৌকিক দান,
যা যুগে যুগে আলোকিত করে
মানবতার প্রাণ।
এসো গড়ি এমন পৃথিবী,
যেখানে সত্যের জয়;
যেখানে মানুষ মানুষকে ভালোবাসে,
অন্যায়ের না হয় পরিচয়।
শিশুর হাতে বইয়ের সাথে
নৈতিকতার ফুল,
জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি ধাপে
চরিত্র হোক মূল।
সৎগুণ হোক জীবনের রথ,
সততা হোক পথ,
দয়া হোক ভাষা আমাদের,
ন্যায় হোক জীবনের শপথ।
ইহকালের সুখ, পরকালের মুক্তি,
একই সূত্রে গাঁথা;
সৎচরিত্রের দীপ জ্বালিয়ে
চলো সত্যের পথে হাঁটা।
লোভের বদলে ত্যাগ হোক,
হিংসার বদলে প্রেম;
অহংকারের বদলে বিনয় হোক,
মানবতা হোক নেম।
ব্যক্তি হোক আলোকিত,
পরিবার হোক পবিত্র,
সমাজ হোক শান্তিময়,
রাষ্ট্র হোক ন্যায়নিষ্ঠ।
সত্য, দয়া, সততা, ন্যায়—
এই চার স্তম্ভে দাঁড়াক ভবিষ্যৎ;
নৈতিকতার মহাগানে মুখরিত হোক
মানবসভ্যতার চিরকল্যাণময় অভিযাত্রা।
৫৩
৯২ মন্তব্য