হাম (Measles) একটি অতিসংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এর প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি, লাল চোখ এবং সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি। হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো এমএমআর (MMR) টিকা দেওয়া। আক্রান্ত হলে রোগীকে বিশ্রামে রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।
হাম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
ভাইরাস সংক্রমণের সাধারণত ১০-১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে:
- প্রাথমিক লক্ষণ: মাত্রাতিরিক্ত জ্বর, যা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হতে পারে। এর সাথে শুকনো কাশি, সর্দি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং লাল ও পানি পড়া চোখ।
- কপলিক স্পট: ফুসকুড়ি ওঠার আগে মুখের ভেতরের গালে ছোট ছোট সাদা দাগ (Koplik's spots) দেখা দিতে পারে।
- ফুসকুড়ি: জ্বরের চার দিনের মাথায় মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।
- এমএমআর ভ্যাকসিন (MMR Vaccine): হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য উপায় হলো শিশুদের হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা দেওয়া।
- টিকা দেওয়ার সময়সূচি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গাইডলাইন অনুযায়ী, শিশুর ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়।
- রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা: হাম আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্তত ৪-৫ দিন দূরে থাকতে হবে কারণ এটি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়ায়।
হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই, তবে লক্ষণগুলো কমানোর জন্য যা করবেন:
- বিশ্রাম ও পানিশূন্যতা রোধ: রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে দিন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি, শরবত বা ওরস্যালাইন খাওয়ান।
- জ্বর ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন।
- ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল: হামের জটিলতা কমাতে অনেক সময় ভিটামিন 'এ' দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে এটি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে হতে হবে।
- পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: হাম হলে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখুন এবং ব্যবহৃত তোয়ালে বা কাপড় অন্য কারও সাথে ভাগ করবেন না।
- চিকিৎসকের পরামর্শ: প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা, বা চার-পাঁচ দিনেও জ্বর না কমলে দেরি না করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে যান।
৫৩
৯২ মন্তব্য