প্রভাষক
১৬ জুন, ২০২৬ ০৯:৪৩ অপরাহ্ণ
খেজুরের পুষ্টিগুণ ও অনন্য উপকারিতা
- খেজুরের গুণাগুণ
খেজুর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অত্যন্ত পছন্দের ১২টি খাবারের মধ্যে অন্যতম। এটিকে সুন্নাত হিসেবে গ্রহণ করলে যেমন অসংখ্য রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, তেমনি সওয়াবও অর্জন করা যায়।
খেজুরকে বলা হয় "ন্যাচারাল এনার্জি" বা প্রাকৃতিক শক্তির উৎস। কারণ, সমপরিমাণ অন্য কোনো ফলে খেজুরের মতো এত বিপুল শক্তি ও পুষ্টিগুণ পাওয়া যায় না। এর গুরুত্বের কারণেই পবিত্র কুরআনে ২৬ বার এবং বাইবেলে প্রায় ৫০ বার খেজুরের উল্লেখ এসেছে।
হযরত মারইয়াম (আলাইহিস সালাম) যখন প্রসব-বেদনায় কাতর হয়ে একটি খেজুর গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তখন মহান আল্লাহ তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
"এবং তুমি খেজুর গাছের কাণ্ড ধরে নিজের দিকে নাড়া দাও, তোমার ওপর তাজা-পাকা খেজুর ঝরে পড়বে।" (সূরা মারইয়াম: ২৫, তরজুমায়ে কানজুল ঈমান)
একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে—"বছরে যতগুলো দিন আছে, খেজুরে তার চেয়ে বেশি গুণ আছে।"
প্রিয় নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"পুরাতন খেজুরের সাথে নতুন খেজুর মিলিয়ে খেলে মানুষের শরীর মজবুত হয়। আর শয়তান তা দেখে আফসোস করতে থাকে।"
তিনি আরও ইরশাদ করেছেন:
"যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন তাকে কোনো বিষ বা জাদু ক্ষতি করতে পারবে না।"
রাসূলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খেজুর দিয়ে ইফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন। আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণা করে দেখেছে যে, সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরে যে পুষ্টি ও শক্তির ঘাটতি তৈরি হয়, খেজুর খুব দ্রুত তা পূরণ করে। এটি সহজে হজম হয় এবং রক্তে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে।
খেজুরের পুষ্টিগুণ ও বৈজ্ঞানিক উপকারিতা
গবেষকদের মতে, শুকনা খাবারের মধ্যে খেজুরে সবচেয়ে বেশি পলিফেনল থাকে, যা শরীরকে বহু বিপজ্জনক রোগ থেকে রক্ষা করে। এছাড়া খেজুর পটাশিয়ামের চমৎকার এবং সোডিয়ামের ভালো একটি উৎস, যা কিডনি সচল রাখতে ও স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে অত্যন্ত কার্যকর।
খেজুরে রয়েছে শরীরের জন্য অপরিহার্য তেল, ক্যালসিিয়াম, সালফার, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ, কপার এবং ম্যাগনেসিয়াম। চিকিৎসকদের মতে, এর নিয়মিত ব্যবহারে নিম্নলিখিত উপকারগুলো পাওয়া যায়:
হৃদপিণ্ড ও রক্ত সঞ্চালন: এটি হার্টের রোগীদের জন্য দারুণ উপকারী। রক্তশূন্যতা দূর করতে এবং শরীরে নতুন রক্ত তৈরিতে খেজুরের জুড়ি নেই।
হজম ও রুচি বৃদ্ধি: খেজুর মুখের লালা খাবারের সাথে মিশতে সাহায্য করে, ফলে বদহজম ও পেটের গ্যাস দূর হয় এবং রুচি বাড়ে।
ক্যান্সার ও জটিল রোগ প্রতিরোধ: এটি ফুসফুসের সুরক্ষা দেয় এবং মুখগহ্বরের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এছাড়া পক্ষাঘাত (প্যারালাইসিস) ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশ হয়ে যাওয়ার মতো রোগে এটি উপকারী।
মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা: গর্ভবতী নারীদের জরায়ুর মাংসপেশির দ্রুত সংকোচন-প্রসারণ ঘটিয়ে এটি প্রসব সহজ করতে সাহায্য করে এবং প্রসব-পরবর্তী কোষ্ঠকাঠিন্য ও রক্তক্ষরণ কমায়।
ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়: কফ, শুষ্ক কাশি, অ্যাজমা, জ্বর এবং কণ্ঠনালির ব্যথায় খেজুর বেশ কার্যকরী।
অন্যান্য উপকার: এটি ত্বক ভালো রাখে, দৃষ্টিশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, মস্তিষ্ককে প্রাণবন্ত রাখে এবং শিশুদের রিকেটস নিরাময়ে ভূমিকা রাখে।
তাই কেবল রমজান মাসেই নয়, সারা বছর পরিবারের সবার সুস্থতার জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় খেজুর রাখা প্রয়োজন। আর যখনই খেজুর খাবেন, প্রিয় নবীজির সুন্নাত মনে করে খাবেন; তবেই শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মিলবে আত্মিক প্রশান্তি এবং পাপ থেকে মুক্তি।
৫৩
৯২ মন্তব্য