সহকারী অধ্যাপক
১৭ জুন, ২০২৬ ০৯:৫৭ অপরাহ্ণ
জ্ঞান /Knowledge মোঃ মুজিবুর রহমান
জ্ঞান (Knowledge(
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
পরম করুণাময়, দয়ার সাগর, অনন্ত মহীয়ান,
তাঁরই নামে শুরু করি জ্ঞানের মহাগান।
তিনি শিক্ষা দিলেন কুরআন, সত্যের দীপ্তি-ধারা,
মানবজীবন আলোকিত করে যুগে যুগে সারা।
তিনি সৃষ্টি করলেন মানুষ, দিলেন শ্রেষ্ঠ মান,
জ্ঞান-বিবেক, চিন্তা-শক্তি, মর্যাদার সম্মান।
তিনি শিখালেন ভাষার বাণী, প্রকাশের সে রীতি,
শব্দে শব্দে ফুটে উঠল হৃদয়ের অনুভূতি।
ভাষা শুধু ধ্বনি নয়, নয় কেবল উচ্চারণ,
ভাষার মাঝে লুকিয়ে থাকে সভ্যতারই প্রাণ।
ভাষার ডানায় ভর করেই জ্ঞানের পথে যাত্রা,
ভাষার আলোয় গড়ে ওঠে মানবতার মাত্রা।
জ্ঞান কোথা হতে আসে, কোথায় তার উৎপত্তি?
কে দিল মানুষকে চিন্তার এমন অনন্ত শক্তি?
কে দিল নক্ষত্রগণনার অদ্ভুত প্রজ্ঞা-ধারা?
কে দিল সাগর মাপার সাহস, আকাশ ছোঁয়ার সাড়া?
সকল জ্ঞানের মূল উৎস এক মহান স্রষ্টা,
যাঁর জ্ঞানের সীমা নেই, নেই কোনো অন্তরাল-পথ।
তিনি জানেন অদৃশ্য-দৃশ্য, অতীত ও ভবিষ্যৎ,
তাঁর জ্ঞানের সাগর হতে পায় জগৎ সমৃদ্ধ।
মানুষ যত জানে আজও, যত আবিষ্কার করে,
সবই তাঁর দানস্বরূপ, তাঁরই কৃপাধারে।
অহংকারে ভরা মানুষ ভুলে যায় সে কথা,
জ্ঞানের শিখরেও সে থাকে স্রষ্টার মুখাপেক্ষী যথা।
যখন ছিল মানবজগৎ অজ্ঞতার আঁধারে,
নামল ওহী সত্যের বাণী করুণারই দ্বারে।
নবী-রাসূল এলেন নিয়ে আলোর দিশারী,
মানুষ যেন চিনতে পারে জীবনের গতি-ধারী।
কুরআন হলো সত্যবাণী, জ্ঞানের মহাসাগর,
যার প্রতিটি আয়াত যেন আলোকিত প্রহর।
এখানে আছে নীতি-শিক্ষা, মানবতার বাণী,
এখানে আছে মুক্তির পথ, শান্তির গল্পখানি।
ওহী শেখায় মানুষকে তার স্রষ্টার পরিচয়,
শেখায় কেন জীবন ক্ষণিক, কেন মৃত্যু অবধারিত হয়।
শেখায় ন্যায়, শেখায় সত্য, শেখায় দয়ার পথ,
শেখায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে রত।
যা ইন্দ্রিয় জানে না কিছু, যা বুদ্ধিরও বাইরে,
ওহী এসে জানিয়ে দেয় সত্যকে নির্ভয়ে।
পরকাল, জান্নাত, জাহান্নাম, হিসাব-নিকাশ দিন,
ওহীর আলোয় স্পষ্ট হয় জীবনের তাৎপর্য-বিন্যাস।
মানুষ পেল বুদ্ধি-শক্তি, চিন্তার অপার ধন,
এই আকলেই সৃষ্টি হলো জ্ঞানের বিস্তরণ।
কুরআন ডাকে—ভাবো তুমি, দেখো চারিধার,
সৃষ্টির মাঝে খুঁজে নাও স্রষ্টার অপার কারুকার।
সূর্য কেন উদয় হয় আর অস্ত যায় শেষে?
চাঁদ কেন ঘোরে নীরবে মহাকাশের দেশে?
বৃষ্টি কেন ঝরে নামে শুকনো মাটির বুকে?
বীজ হতে মহীরুহ ওঠে কোন রহস্যমুখে?
প্রশ্ন করো, ভাবো, শেখো, অনুসন্ধানে চলো,
জ্ঞানের পথে নির্ভয়ে আজ আলোর প্রদীপ জ্বালো।
যে জাতি চিন্তা করে না, প্রশ্ন করতে ভয়,
অজ্ঞতার অন্ধকারে সে জাতি হারায় জয়।
তবু বুদ্ধির সীমা আছে, সবকিছু সে জানে না,
স্রষ্টার অসীম জ্ঞানের তুল্য কখনো হয় না।
তাই আকল আর ওহী মিলে গড়ে সত্যের সেতু,
দুইয়ের সমন্বয়ে মানুষ পায় সফলতার রত্ন।
চোখ দু’টি জানালার মতো খুলে দেয় দিগন্ত,
কান শুনে নেয় পৃথিবীর সুর, মধুর অনুরণন।
ঘ্রাণে চেনে ফুলের সুবাস, বৃষ্টিভেজা মাটি,
স্বাদে চেনে খাদ্যের রস, জীবনের সমৃদ্ধি।
স্পর্শ বলে উষ্ণতা কী, কী শীতের অনুভব,
ইন্দ্রিয়জগৎ খুলে দেয় জ্ঞানের বহুবর্ণ উৎসব।
পর্যবেক্ষণ, গবেষণা আর পরীক্ষার পথ,
এসব দিয়েই এগিয়ে যায় বিজ্ঞানের রথ।
নদী মাপে, সাগর দেখে, গোনে তারা-গ্রহ,
রোগের ওষুধ আবিষ্কারে করে নিরন্তর দৌড়।
ইন্দ্রিয় তাই জ্ঞানের দ্বার, অভিজ্ঞতার সোপান,
তবু ভুলের সম্ভাবনা রয়—সত্যে চাই প্রমাণ।
মানুষ জন্মে নিয়ে আসে নির্মল এক আলো,
ফিতরাত নামে সেই প্রবৃত্তি সত্যের পথে চালো।
শিশুর হাসি, মায়ের প্রতি ভালোবাসার টান,
ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াবার যে সহজাত আহ্বান।
ফিতরাত বলে—সত্য সুন্দর, মিথ্যা কদাকার,
সততা মহৎ, অন্যায় কাজ লজ্জার অধিকার।
মানুষ যখন পথ হারিয়ে পাপের দিকে যায়,
ফিতরাত তখন অন্তর হতে সতর্কবার্তা দেয়।
যদিও পরিবেশ, লোভ আর অহংকারের ঢেউ,
কখনো কখনো ঢেকে ফেলে অন্তরের সেই ঢেউ।
তবু হৃদয়ের গভীর থেকে সত্য ডাকে বারংবার,
ফিতরাতের সে আহ্বান মানবতার অঙ্গীকার।
ভাষা হলো চিন্তার সেতু, হৃদয়ের অনুবাদ,
ভাষার মাঝে রচিত হয় সভ্যতারই সাধ।
ভাষাহীন হলে মানুষ কেমন প্রকাশ করত মন?
কেমন করে ছড়াত জ্ঞান, গড়ত নতুন ভুবন?
ভাষার কলমে লেখা হয় ইতিহাসের পাতা,
ভাষার ডানায় উড়ে চলে জ্ঞানের বারতা।
কবির কাব্য, বিজ্ঞানীর সূত্র, দার্শনিকের বাণী,
সবই ভাষার মাধ্যমে পায় অমরতার টানি।
শিক্ষক যখন শিক্ষা দেন, ভাষা তখন সাথি,
ভাষার কারণেই মানুষ পায় জ্ঞানের মহারথী।
তাই ভাষা এক মহা নেয়ামত, স্রষ্টার অমূল্য দান,
যার মাধ্যমে উজ্জ্বল হয় মানবজীবন-প্রাণ।
জ্ঞান ছাড়া উন্নতি নেই, নেই কোনো অগ্রগতি,
জ্ঞানহীন সমাজে নামে অন্ধকারের গতি।
জ্ঞানই গড়ে সেতু, নগর, চিকিৎসার আয়োজন,
জ্ঞানই আনে শিল্প-সংস্কৃতি, শান্তির প্রতিষ্ঠাপন।
যে জাতি জ্ঞানকে ভালোবাসে, গবেষণায় দেয় মান,
সে জাতি পায় উন্নতির শিখর, বিশ্বজয়ের সম্মান।
যে জাতি অজ্ঞতায় ডুবে, অবহেলা করে শিক্ষা,
সে হারায় মর্যাদা, হারায় উন্নতির দীক্ষা।
শুধু জ্ঞান যথেষ্ট নয়, চাই নৈতিক বল,
মানবতার কল্যাণে জ্ঞান হোক সফল।
নৈতিকতা ছাড়া জ্ঞান কখনো হয় বিপদ,
মানবকল্যাণের বদলে আনতে পারে শোক-দুর্ভোগ।
তাই জ্ঞানের সাথে চাই দয়া, সততা, বিবেক,
চাই ন্যায়বোধ, চাই বিনয়, চাই সত্যের আবেগ।
যে জ্ঞান মানুষকে মানুষ করে, সেটাই শ্রেষ্ঠ জ্ঞান,
যে জ্ঞান মানুষকে আল্লাহভীরু করে, সেটাই মহাদান।
এসো তবে শপথ করি জ্ঞানের পথে চলব,
অজ্ঞতার অন্ধকার সব দূরে সরিয়ে ফেলব।
কুরআনের আলো হাতে নিয়ে এগিয়ে যাব সদা,
সত্য, ন্যায় ও মানবতার পতাকা থাকবে উঁচু ধরা।
ওহী হবে পথের দিশা, আকল হবে সাথি,
ইন্দ্রিয় হবে অনুসন্ধানী, ফিতরাত হবে রথী।
ভাষার ডানায় ভর করে ছড়াব আলোর বাণী,
মানবকল্যাণে নিবেদিত হবে জীবনের কাহিনি।
পরম করুণাময় আল্লাহ, জ্ঞানের মহান উৎস,
তাঁরই দেওয়া আলোয় জ্বলে বিশ্বজগতের স্পন্দন-স্পর্শ।
তাঁরই নামে শেষ করি এ জ্ঞানের মহাগান,
তিনি দান করুন সত্যজ্ঞান, নির্মল ঈমান-প্রাণ।
***
মায়ের কোলে শিশুর শুরু প্রথম শিক্ষার দিন,
মমতার সেই স্নেহছায়ায় জাগে জ্ঞানের বীণ।
মায়ের মুখের মধুর বাণী, বাবার সৎ উপদেশ,
চরিত্রগঠনের ভিত্তি গড়ে, খুলে দেয় শুভ দেশ।
পরিবার এক বিদ্যালয়, আদর্শ যার পাঠ,
শ্রদ্ধা, প্রেম আর দায়িত্ববোধ শেখায় দিন ও রাত।
ছোট্ট শিশুর কোমল মনে বপন করে বীজ,
সেই বীজ হতে একদিন জ্ঞানের বনরাজি।
যে ঘরে থাকে নীতি-শিক্ষা, সত্যের অনুশীলন,
সে ঘর হতে জন্ম নেয় মহৎ মানুষের দল।
সভ্যতার সব মহীরুহের শিকড় থাকে যেথা,
পরিবারের শিক্ষালয়ে তারই প্রথম কথা।
শিক্ষক যেন প্রদীপখানি, নিজে জ্বলে রাত,
অন্য সবার জীবনপথে ছড়ায় আলোর প্রভাত।
নবীগণ ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষকবৃন্দ,
তাঁদের শিক্ষা জাগিয়েছে যুগে যুগে আনন্দ।
শিক্ষক গড়েন চরিত্রখানি, জাগান আত্মশক্তি,
অজ্ঞতার দেয়াল ভেঙে আনেন জ্ঞানের ভক্তি।
একটি ভালো উপদেশে বদলে যেতে পারে প্রাণ,
একটি সত্য বাণী গড়ে ভবিষ্যতের সম্মান।
কলম হাতে শিক্ষক যখন শ্রেণিকক্ষে দাঁড়ান,
জ্ঞান-নদীর প্রবাহ বেয়ে খুলে দেন নতুন জ্ঞান।
তাঁদের ত্যাগে আলোকিত হয় সমাজ ও মানবতা,
তাঁদের হাতে নির্মিত হয় জাতির ভবিষ্যৎগাথা।
পড়ো—এই প্রথম আহ্বানে জাগল নতুন যুগ,
কলম হাতে মানুষ তখন ভাঙল অজানার মুখ।
লিপির মাঝে বন্দী হলো শত সহস্র জ্ঞান,
বইয়ের পাতায় রয়ে গেল যুগের অভিজ্ঞতা-প্রাণ।
গ্রন্থাগার জ্ঞানের মন্দির, নীরব আলোকধারা,
অসংখ্য মনীষীর চিন্তা সেখানে জাগে সারা।
প্রাচীন দিনের গবেষণা আর নব উদ্ভাবন,
একত্র হয়ে গড়ে তোলে মানবসভ্যতার মন।
যে জাতি বই ভালোবাসে, জ্ঞানকে করে মান,
সে জাতি হয় বিশ্বসভায় মর্যাদার অধিকারী মহান।
কলম তাই তরবারির চেয়েও শক্তিশালী হয়,
সত্যের বাণী যুগে যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রয়।
প্রকৃতির প্রতিটি পাতায় জ্ঞানের লেখা রয়,
যে তা পড়ে, অনুসন্ধানে নামে, সেই সফল হয়।
সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রমালা, সাগরের গভীরতা,
সবই যেন আহ্বান করে গবেষণার বারতা।
বিজ্ঞান শেখায় প্রশ্ন করতে, খুঁজতে নতুন পথ,
অজানাকে জানার নেশায় এগিয়ে চলে রথ।
রোগের প্রতিষেধক খোঁজে, মাপে মহাকাশ,
মানবকল্যাণে ব্যয় করে জ্ঞানের সুবাতাস।
তবে বিজ্ঞান পথ দেখাবে সত্যের অনুসন্ধানে,
অহংকারে নয়, বিনয়ের সাথে কল্যাণের টানে।
স্রষ্টার সৃষ্টি যত দেখি ততই বুঝি শেষে,
জ্ঞানের সাগর সীমাহীন তাঁরই মহিমার দেশে।
একদিন ছিল জ্ঞানচর্চার স্বর্ণোজ্জ্বল কাল,
শিক্ষালয়ে ভরেছিল বিশ্ব, জেগেছিল মহাকাল।
গণিত, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, দর্শনেরই শাখা,
জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়ত পৃথিবীর সব বাঁকে।
গবেষণার প্রদীপ জ্বেলে মনীষীরা রাত,
মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে করতেন নিত্য সাধ।
সত্যের খোঁজে নিবেদিত সে মহৎ সব প্রাণ,
সভ্যতার ইতিহাসজুড়ে রেখেছে অমর দান।
তাদের শ্রমের ফলেই আজ জ্ঞানের এই বিস্তার,
তাদের স্মৃতি শেখায় আমাদের অধ্যবসায়ের ভার।
অতীত হতে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে,
নতুন জ্ঞানের আলো দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ে রবে।
মানুষ সবার আগে মানুষ, পরে যত পরিচয়,
ভাষা, বর্ণ, দেশ ভিন্ন হলেও মানবতা এক হয়।
পৃথিবীজুড়ে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেওয়া চাই,
বিদ্বেষ, হিংসা, বিভেদ ভুলে ভালোবাসা পাই।
জ্ঞান শেখায় সহমর্মিতা, শেখায় সম্মান,
অন্যের দুঃখ নিজের মনে অনুভবের জ্ঞান।
যেখানে মানুষ মানুষের তরে দাঁড়ায় পাশে গিয়ে,
সেখানেই গড়ে সুন্দর সমাজ আলোর পথে নিয়ে।
বিশ্বমানবতার স্বপ্ন তখন বাস্তব হয়ে যায়,
যখন ন্যায় আর করুণাতে মানবহৃদয় গায়।
জ্ঞান যদি দেয় ঐক্যের ডাক, ভ্রাতৃত্বেরই গান,
তবেই সফল হবে সবার মানবজীবন-প্রাণ।
এসো তবে শপথ করি জ্ঞানের পথে চলি,
অজ্ঞতার সব শৃঙ্খল আজ দূরে ফেলে দিই।
সত্য হবে জীবনপথের অবিচল দিশারী,
ন্যায় হবে কর্মের আলো, বিবেক হবে ভারী।
কলম হবে সেবার হাতিয়ার, শিক্ষা হবে ব্রত,
মানবকল্যাণে নিবেদিত থাকবে জীবনরথ।
ওহীর আলো, আকলের শক্তি, ফিতরাতের ডাক,
ইন্দ্রিয়ের অনুসন্ধানে জাগুক নতুন হাক।
ভাষার ডানায় ছড়িয়ে যাক জ্ঞানের পবিত্র গান,
প্রতিটি ঘরে জ্বলে উঠুক শিক্ষার দীপদান।
পরম করুণাময় আল্লাহ, জ্ঞানের মহান উৎস,
তোমারই দেওয়া আলোয় ভরে বিশ্বজগতের স্পর্শ।
তোমারই নামে শেষ করি এ মহাকাব্যের বাণী,
দান করো সত্যজ্ঞান, নির্মল হৃদয়খানি।
মানবতার কল্যাণপথে রাখো সদা স্থির,
তোমার সন্তুষ্টিতেই হোক জীবনের সমাধির নীর।
***
শিশু যখন পৃথিবীতে
খোলে দুটি আঁখি,
মায়ের মুখের স্নেহের হাসি
প্রথম দেখা থাকি।
মায়ের কোলে প্রথম শেখে
ভালোবাসার মান,
স্নেহ, মমতা, দয়ার ভাষা,
মানবতার গান।
মায়ের মুখের মধুর বাণী
প্রথম পাঠের সুর,
সেই সুরেতে জেগে ওঠে
জ্ঞান-প্রদীপের নূর।
বাবার হাতে কর্মশিক্ষার
জাগে দৃঢ় বীজ,
সততা আর দায়িত্ববোধ
হয় জীবনের চিজ।
পরিবার এক বিদ্যালয়,
আদর্শ যার পাঠ,
সকাল-সন্ধ্যা শেখায় মানুষ
জীবনযাপনের ঠাঁট।
বইয়ের আগে চরিত্রগঠন,
বিদ্যার আগে শীল,
শ্রদ্ধা, ধৈর্য, সত্যপ্রেমে
জীবন হয় রঙিন নীল।
যে পরিবার ন্যায়ের পথে
চলতে শেখায় সদা,
সেই ঘর হতে জন্ম নেয়
আলোর পথের ধ্বজা।
সেখানে শিশুর অন্তরজুড়ে
স্বপ্নের বীজ বোনা,
সেই বীজ হতে একদিন হয়
জ্ঞানবৃক্ষের সোনা।
সভ্যতার সব মহীরুহের
শিকড় থাকে যেথা,
পরিবারের সেই পাঠশালা
মানবগঠনের কথা।
অন্ধকারে প্রদীপ যেমন
জ্বালে আলোর শিখা,
শিক্ষক তেমনি জাগিয়ে তোলেন
জ্ঞানের মহাদীক্ষা।
নিজে জ্বলে, নিজে পুড়ে,
দেন আলোর দান,
তাঁদের ত্যাগে আলোকিত হয়
জাতির ভবিষ্যৎ-প্রাণ।
নবীগণ ছিলেন মানবজাতির
শ্রেষ্ঠ শিক্ষকবৃন্দ,
তাঁদের শিক্ষা জাগিয়েছে
যুগে যুগে আনন্দ।
আদম শিখলেন নামসমূহ,
জ্ঞানের প্রথম পাঠ,
নূহ শিখালেন ধৈর্যের মহিমা,
ত্যাগের অমর ঠাঁট।
ইবরাহিমের ঈমান শেখায়
সত্যে অটল থাকা,
মূসার জীবন জুলুম ভেঙে
ন্যায়ের পথে ডাকা।
ঈসা দিলেন প্রেমের শিক্ষা,
করুণার আহ্বান,
মুহাম্মদ (সা.) পূর্ণ করিলেন
মানবতার জ্ঞান।
শিক্ষক শুধু তথ্য দেন না,
জাগান অন্তরলোক,
তাঁদের বাণী দীপের মতো
দূর করে সব শোক।
একটি সত্য উপদেশ কত
জীবন বদলে দেয়,
একটি ভালো আদর্শ কত
অন্ধকার মুছে নেয়।
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক যখন
খুলে দেন জ্ঞানের দ্বার,
নতুন প্রজন্ম খুঁজে পায়
স্বপ্ন দেখার অধিকার।
কলম হাতে শিক্ষক যেন
সভ্যতার স্থপতি,
তাঁদের গড়া মানুষরাই
রচনা করে গতি।
তাই শিক্ষককে সম্মান করা
শিক্ষার প্রথম রীতি,
শ্রদ্ধা ছাড়া পূর্ণ হয় না
জ্ঞানের মহাপ্রীতি।
যেখানে শিক্ষক মর্যাদা পান,
জাগে জ্ঞানের মান,
সেই সমাজে প্রস্ফুটিত হয়
সভ্যতার সম্মান।
***
হেরা গুহার নিস্তব্ধ রাতে
নামল প্রথম বাণী,
“পড়ো তোমার রবের নামে”—
জাগল বিশ্বখানি।
শব্দ কাঁপাল ইতিহাসের
অন্ধকারের দ্বার,
মানবজাতি পেল সেদিন
জ্ঞানের অমর হার।
পড়ার সাথে শেখালেন রব
কলমেরও সম্মান,
কলম দিয়ে শিক্ষা দিলেন
মানবজাতির জ্ঞান।
কলম শুধু কাঠি নয় তো,
নয় কালি আর পাতা,
কলম হলো সভ্যতারই
অমর ইতিহাসগাথা।
কলম ধরে মানুষ লিখল
অভিজ্ঞতার কথা,
কলম ধরে রচিত হলো
যুগের মহাবার্তা।
কলম ধরে সংরক্ষিত হলো
জ্ঞানের মহাভাণ্ডার,
যুগের পরে যুগকে দিল
প্রজ্ঞার উপহার।
যদি না থাকত লিখনশিল্প,
যদি না থাকত লিপি,
কত যে জ্ঞান হারিয়ে যেত
কালের গর্ভে নিভি।
কত মনীষীর সাধনাগাথা,
কত গবেষণার ফল,
অদেখা হয়ে হারিয়ে যেত
সময়ের অতলতল।
কলম তাই সেতুবন্ধন
অতীত-ভবিষ্যতের মাঝে,
কলম তাই আলোর মশাল
মানবসভ্যতার সাজে।
কলম শেখায় সত্য লিখতে,
ন্যায়ের কথা কহ,
মিথ্যার পথে নয় কখনো,
সত্যের পথে রহ।
কলম পারে জাগিয়ে তুলতে
ঘুমিয়ে থাকা প্রাণ,
কলম পারে অন্যায়ের বিরুদ্ধে
উচ্চ করতে গান।
কলম পারে শান্তির বাণী
ছড়িয়ে দিতে দেশে,
কলম পারে বিদ্বেষ ভেঙে
ভ্রাতৃত্ব আনতে শেষে।
যে কলমে লেখা হয় জ্ঞান,
মানবকল্যাণ সাধে,
সে কলম এক ইবাদতেরই
রূপ নেয় অনুরাগে।
যে কলমে লেখা হয় মিথ্যা,
প্রতারণার ছল,
সে কলমে অন্ধকারেরই
ঘনীভূত হয় দল।
তাই কলমের আছে দায়িত্ব,
আছে পবিত্র মান,
কলম যেন সত্যের সেবক,
মানবতার প্রাণ।
বইয়ের পাতায় কলম আঁকে
স্বপ্নের নতুন রূপ,
কলম ধরে জাগে অন্তরে
জ্ঞানের অমৃতধূপ।
একটি বই শত প্রদীপের
আলো ছড়ায় নীরব,
একটি গ্রন্থ খুলে দিতে পারে
দিগন্ত অসংখ্য রব।
কলম ধরে লিখেছিলেন যারা
সত্যের মহাগান,
তাঁদের শ্রমে সমৃদ্ধ হয়েছে
মানবসভ্যতার প্রাণ।
আজও যারা জ্ঞানের তরে
রাত্রি জাগে নীরব,
কলম তাদের সাথী হয়ে
রচে ভবিষ্যৎ সব।
এসো তবে শপথ করি
কলম হবে সাথি,
সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের
চলব আলোর পথে মাতি।
কলম হবে জ্ঞানের দূত,
প্রজ্ঞার দীপশিখা,
কলম হবে মানবতার
মুক্তির মহাদীক্ষা।
যতদিন এই পৃথিবীতে
মানুষ খুঁজবে জ্ঞান,
ততদিন কলম বয়ে নেবে
সভ্যতার সম্মান।
আল-আলীমের দান যে জ্ঞান,
কলম তারই বাহন,
কলম ধরে আলোকিত হোক
মানবজাতির জীবন।
৫৩
৯২ মন্তব্য