সহকারী শিক্ষক
২২ জুন, ২০২৬ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
নীরব ঘাতক ক্যানডিডাইটিস: অবহেলা নয়, সচেতনতাই সুস্থতার চাবিকাঠি
আমাদের দৈনন্দিন স্বাস্থ্য ভাবনায় এমন কিছু রোগ রয়েছে যা নিয়ে আমরা সচরাচর খুব একটা আলোচনা করি না, অথচ তা আমাদের জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। তেমনই একটি পরিচিত কিন্তু উপেক্ষিত স্বাস্থ্য সমস্যা হলো ক্যানডিডাইটিস। প্রতি বছর আন্তর্জাতিক ক্যানডিডাইটিস সচেতনতা দিবসে বিশ্বজুড়ে এই রোগটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটি মূলত 'ক্যানডিডা' নামক এক ধরণের ছত্রাক বা ফাঙ্গাসের অতিবৃদ্ধির কারণে ঘটে থাকে। আমাদের শরীরে এই ছত্রাকটি স্বাভাবিক মাত্রায় উপস্থিত থাকলেও, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে বা অনুকূল পরিবেশ পেলে এটি দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে সংক্রমণের রূপ নেয়। তাই এই বিশেষ দিবসে ক্যানডিডাইটিস সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা ও সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব।
সাধারণত মুখের ভেতর, ত্বক, নখ এবং শরীরের অন্যান্য আর্দ্র ও সংবেদনশীল অংশে এই সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। মুখগহ্বরের সংক্রমণে সাদাটে আস্তরণ পড়া, গিলতে কষ্ট হওয়া এবং ত্বকের ভাঁজে লালচে র্যাশ বা চুলকানি এর অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ। অনেকেই এই লক্ষণগুলোকে সাধারণ অ্যালার্জি বা সাধারণ চর্মরোগ ভেবে ভুল করেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসি থেকে মলম বা ওষুধ এনে ব্যবহার করেন। এই অসচেতনতা রোগটিকে আরও জটিল করে তোলে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগী, দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েড সেবন করছেন এমন ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।
ক্যানডিডাইটিস থেকে দূরে থাকার মূল মন্ত্র লুকিয়ে আছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের অভ্যাসে। যেহেতু এই ছত্রাকটি আর্দ্র ও উষ্ণ পরিবেশে দ্রুত ছড়ায়, তাই শরীর সবসময় শুষ্ক ও পরিষ্কার রাখা জরুরি। সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা, দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড় পরে না থাকা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে এই সংক্রমণ অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। এর পাশাপাশি আমাদের খাদ্যতালিকায় সচেতনতা আনা প্রয়োজন। অতিরিক্ত মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার ক্যানডিডা ছত্রাকের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। পক্ষান্তরে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার এবং টক দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত গ্রহণ করা উচিত।
আন্তর্জাতিক ক্যানডিডাইটিস সচেতনতা দিবসের মূল লক্ষ্যই হলো লোকলজ্জা বা অবহেলা ভেঙে এই রোগটি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা। সামান্য অসচেতনতা কিংবা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে এই সাধারণ ফাঙ্গাল ইনফেকশনটি রক্তে ছড়িয়ে পড়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই যেকোনো শারীরিক অস্বস্তিতে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক অ্যান্টিফাঙ্গাল চিকিৎসা গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আসুন, এই সচেতনতা দিবসে আমরা নিজে সুরক্ষিত থাকি এবং সঠিক তথ্য ও শিক্ষা ছড়িয়ে দিয়ে আশেপাশের সবাইকে সুস্থ ও সতেজ জীবন গড়তে উদ্বুদ্ধ করি।
৭
৬ মন্তব্য