Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ জুন, ২০২৬ ০৮:২১ অপরাহ্ণ

শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষক ও অভিভাবক—উভয়ের দায়িত্ব সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা মানুষের জীবনের মূল ভিত্তি। একটি শিশুকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক, পরিবার ও সমাজ—সবার সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান সময়ে অনেক অভিভাবকের অবহেলার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নৈতিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। একজন শিক্ষক হিসেবে বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে ভাবায়।
বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানদান, শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অভিভাবকরা সন্তানের পড়াশোনার প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দেন না।
সন্তান নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না, পড়াশোনা করছে কি না কিংবা কাদের সঙ্গে মিশছে—এসব বিষয়ে অনেক অভিভাবক উদাসীন থাকেন। ফলে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
বর্তমান যুগে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। অনেক অভিভাবক সন্তানকে মোবাইল দিয়ে দায়িত্ব শেষ মনে করেন, কিন্তু তার সঠিক ব্যবহার তদারকি করেন না। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার বদলে খেলাধুলা, আসক্তি বা অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট করে।
শিক্ষক বিদ্যালয়ে যতই চেষ্টা করুন না কেন, পরিবারের সহযোগিতা ছাড়া শিক্ষার পূর্ণ সফলতা অর্জন করা কঠিন।
একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, অভিভাবকদের শুধু সন্তানের ভরণপোষণ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের উচিত সন্তানের মানসিক বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা ও শিক্ষাজীবনের প্রতি সমান গুরুত্ব দেওয়া। বিদ্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং শিক্ষকের পরামর্শ মেনে চলা একজন সচেতন অভিভাবকের দায়িত্ব।
পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষক ও অভিভাবক—উভয়ের দায়িত্ব সমান গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের অবহেলা একটি শিশুর জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সন্তানের সঠিক শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য পরিবার ও বিদ্যালয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
Nahida Akhter
ICT4E Ambassador Brahmanbaria, a2i
Best Teacher 2022
Best Content Creator, a2i
Best Online Performer, a2i
মন্তব্য করুন