সিনিয়র শিক্ষক
২৫ জুন, ২০২৬ ০৭:৫৫ অপরাহ্ণ
শিক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সংস্কার: ব্লুমস ট্যাক্সোনমি বনাম সোলো মডেল
আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা চলছে। মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও অর্জিত দক্ষতার প্রকৃত মূল্যায়ন করাই ছিল শিক্ষাক্রমের এসব ধারাবাহিক সংস্কারের মূল লক্ষ্য; কিন্তু বাস্তবায়ন স্তরে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন বা প্রশ্নপত্র প্রণয়নে শিক্ষাবিদ, প্রশ্নকর্তা ও মূল্যায়নকারী শিক্ষকদের মধ্যে প্রায়শই এক ধরনের তাত্ত্বিক বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এই বিভ্রান্তির মূলে রয়েছে মূল্যায়নের একটি অতি প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী তাত্ত্বিক কাঠামো—'ব্লুমস ট্যাক্সোনমি'। বিশ্বজুড়ে শিক্ষাক্রম প্রণয়ন, শিখনফল নির্ধারণ ও শিক্ষকের পাঠপরিকল্পনায় এটি দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় ও সমাদৃত হলেও, আধুনিক ডেটাচালিত এবং নিখুঁত মূল্যায়ন বিজ্ঞানের কিছু অন্তর্নিহিত সীমাবদ্ধতা ধরা পড়ছে। বিশেষ করে উত্তরপত্রের নৈর্ব্যক্তিক ও সুনির্দিষ্ট মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই শূন্যতা পূরণে বর্তমান বৈশ্বিক শিক্ষাপদ্ধতিতে 'সোলো ট্যাক্সোনমি' [Structure of Observed Learning Outcomes] এবং 'মাল্টিডাইমেনশনাল আইটেম রেসপন্স থিওরি'-এর সমন্বয় এক যুগান্তকারী সমাধান হিসেবে হাজির হয়েছে। উন্নত বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত রূপান্তরে এই দুই তত্ত্বের মেলবন্ধন কীভাবে মেধার সঠিক স্তর নির্ণয় করছে, তা বাংলাদেশের সমসাময়িক যোগ্যতা-ভিত্তিক শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নে এখন একটি বড় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।সাধারণত শিক্ষকরা যখন প্রশ্ন তৈরি করেন, তখন ব্লুমস ট্যাক্সোনমি মেনে ‘প্রয়োগ’, ‘বিশ্লেষণ’ কিংবা ‘মূল্যায়ন’—এই ধরনের উচ্চতর জ্ঞানীয় ক্রিয়াপদ ব্যবহার করেন; কিন্তু সমস্যা হয় তখন, যখন একজন শিক্ষার্থী একটি জটিল ‘বিশ্লেষণধর্মী’ প্রশ্নের উত্তর তার সহায়ক বই বা গাইড বই থেকে হুবহু মুখস্থ করে খাতায় লিখে দিয়ে আসে। শিক্ষক প্রশ্নটি করেছিলেন শিক্ষার্থীর উচ্চতর বিশ্লেষণ ক্ষমতা পরিমাপ করতে; কিন্তু শিক্ষার্থী সেটি সমাধান করল কেবলই নিম্নস্তরের স্মৃতিশক্তির জোরে। ফলে, শিক্ষকের প্রশ্ন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য আর শিক্ষার্থীর খাতার প্রকৃত মেধার স্তরের মধ্যে একটি বড় ধরনের অমিল বা ‘মিসম্যাচ’ তৈরি হয়। এখানেই ব্লুমস ট্যাক্সোনমির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা; এটি প্রশ্নকর্তার ‘উদ্দেশ্য’ বা প্রশ্নের ভাষাকে মাপা সহজ করে, কিন্তু শিক্ষার্থীর খাতার ‘প্রকৃত উত্তর’ কতটা গভীর ও সুসংহত, তা নিখুঁতভাবে ধরতে পারে না। এই কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে অনেক সময় মুখস্থবিদ্যার মাধ্যমেও উচ্চতর গ্রেড বা জিপিএ-৫ পাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে, যা সামগ্রিক মূল্যায়ন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
এই জটিল সমস্যার একটি বৈজ্ঞানিক ও নিখুঁত সমাধান দেয় ‘সোলো ট্যাক্সোনমি’। জন বিগস এবং কেভিন কলিস উদ্ভাবিত এই মনস্তাত্ত্বিক মডেলটি প্রশ্নের বাহ্যিক ভাষার চেয়ে শিক্ষার্থীর খাতার ‘উত্তরের কাঠামোগত জটিলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এখানে মূল্যায়ন করা হয় শিক্ষার্থী উত্তরটি দেওয়ার সময় উদ্দীপক বা পাঠ্যবই থেকে ঠিক কয়টি তথ্য ব্যবহার করল এবং সেগুলোর মধ্যে কোনো যৌক্তিক বা কার্যকারণ সম্পর্ক তৈরি করতে পারল কি না। সোলো মডেলে শিক্ষার্থীর শিখন ও মূল্যায়নের প্রক্রিয়াটি সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে ওপরে ওঠে। প্রথম স্তরে শিক্ষার্থী কেবল একটি বিচ্ছিন্ন তথ্য চিহ্নিত করতে পারে। দ্বিতীয় স্তরে সে একাধিক তথ্য দিলেও সেগুলোর মাঝে কোনো অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক বোঝাতে পারে না; কিন্তু প্রকৃত গভীর শিখন শুরু হয় এর পরের ধাপ থেকে; অর্থাৎ তৃতীয় স্তর বা ‘রিলেশনাল’ স্তরে গিয়ে শিক্ষার্থী তথ্যগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট কার্যকারণ সম্পর্কে রূপ দিয়ে সমন্বিত ব্যাখ্যা তৈরি করে। আর সর্বোচ্চ স্তর বা ‘এক্সটেন্ডেড অ্যাবস্ট্রাক্ট’ স্তরে শিক্ষার্থী সেই সমন্বিত জ্ঞানকে সম্পূর্ণ নতুন, অদৃশ্য বা একটি কাল্পনিক প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করে নিজস্ব দূরদর্শিতা দেখাতে পারে।
বৈশ্বিক মূল্যায়নের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থাগুলো এরই মধ্যে মেধা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত রূপান্তর ঘটিয়েছে। যেমন, অস্ট্রেলিয়ান কারিকুলাম, অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড রিপোর্টিং অথরিটি এবং নিউজিল্যান্ডের জাতীয় পরীক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মুক্ত-উত্তর মূল্যায়ন ও গ্রেডিং নির্ধারণ করা হয় সোলো মডেলের সাহায্য নিয়ে। একটি বাস্তব পরিবেশগত বা সামাজিক প্রশ্ন দিয়ে উদাহরণ দিলে ব্লুমস ও সোলো মডেলের মূল্যায়নের এই বিশাল ব্যবহারিক ফারাকটি সহজে অনুধাবন করা সম্ভব।
ধরা যাক, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের একটি চার্ট বা গ্রাফ দেওয়া হলো যেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বনাঞ্চল হ্রাসের একটি ৫০ বছরের চিত্র রয়েছে এবং প্রশ্ন করা হলো—"উদ্দীপকের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বনাঞ্চল হ্রাসের সম্পর্কটি ব্যাখ্যা করো।" প্রচলিত ব্লুমস মডেলে একজন শিক্ষক এটিকে ‘বিশ্লেষণ’ বা উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্ন ধরে সর্বোচ্চ ৩ নম্বর বরাদ্দ করেন এবং কোনো শিক্ষার্থী যদি গাইড বই থেকে মুখস্থ করে লেখে, "জনসংখ্যা বাড়ার কারণে মানুষ গাছ কাটছে, তাই বন কমছে," তবে সে পূর্ণ নম্বর পেয়ে যায়। এখানে মূল্যায়নের পুরোটাই শিক্ষকের ব্যক্তিগত অনুমানের ওপর নির্ভর করে, যা মেধার সঠিক স্তর নির্ণয় করতে পারে না।
বিপরীতে, সোলো মডেল শিক্ষার্থীর খাতার উত্তরকে চারটি নিখুঁত কাঠামোগত ধাপে মূল্যায়ন করে কোনো ব্যক্তিনিষ্ঠতার সুযোগ রাখে না। যদি শিক্ষার্থী কেবল একটি তথ্য দেয় (যেমন: জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে), তবে সে পায় প্রাথমিক স্তরের ১ নম্বর। যদি একাধিক বিচ্ছিন্ন তথ্য মেলাতে পারে (যেমন: জনসংখ্যাও বাড়ছে, আবার বনাঞ্চলের পরিমাণও কমছে), তবে পায় ২ নম্বর। শিক্ষার্থী যখন এদের মধ্যে গভীর কার্যকারণ সম্পর্ক দেখায় (যেমন: বাড়তি মানুষের বাসস্থান, চাষাবাদ ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতেই মানুষ বন উজাড় করছে, ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি সরাসরি বনাঞ্চল হ্রাসের প্রধান কারণ), তখন সে উন্নীত হয় ৩ নম্বর বা রিলেশনাল স্তরে। আর সর্বোচ্চ ৪ নম্বর বা ‘এক্সটেন্ডেড অ্যাবস্ট্রাক্ট’ স্তর কেবল তখনই দেওয়া হয়, যখন শিক্ষার্থী এই সম্পর্কটি ছাড়িয়ে সম্পূর্ণ নতুন ক্ষেত্রে তার অর্জিত জ্ঞানকে রূপান্তর করতে পারে; যেমন—"বনাঞ্চল ধ্বংসের এই ধারা অব্যাহত থাকলে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের ক্ষমতা কমে গিয়ে গ্রিনহাউস প্রভাব তীব্র হবে, যা ঠিক আমাদের দেশের পাহাড় কাটার ফলে সৃষ্ট আকস্মিক পরিবেশগত ধস ও দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু সংকটের মতো একটি শৃঙ্খল তৈরি করবে।" এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীর নিজস্ব চিন্তার গভীরতা যাচাই করা হয় বলে মুখস্থ করে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
এই গুণগত ও কাঠামোগত স্তরবিন্যাসকে যখন আধুনিক পরিসংখ্যানগত মডেল বা ‘মাল্টিডাইমেনশনাল আইটেম রেসপন্স থিওরি’র সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তখন মূল্যায়ন ব্যবস্থা এক অনন্য গাণিতিক উচ্চতায় পৌঁছায়। এমআইআরটি হলো এমন একটি উন্নত মনস্তাত্ত্বিক-পরিসংখ্যানগত কাঠামো, যা একজন শিক্ষার্থীর একাধিক সুপ্ত যোগ্যতা বা মেধার স্তরকে কম্পিউটার ডেটার মাধ্যমে একসঙ্গে পরিমাপ করতে পারে। যেমন—একটি উচ্চতর স্তরের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে গেলে শিক্ষার্থীর একই সঙ্গে তিনটি সুপ্ত মেধার প্রয়োজন হয়: প্রথমত, তথ্য খোঁজার প্রাথমিক দক্ষতা; দ্বিতীয়ত, বৈজ্ঞানিক যুক্তি বা কার্যকারণ খোঁজার ক্ষমতা এবং তৃতীয়ত, ধারণাগত রূপান্তর বা নতুন ক্ষেত্রে তা প্রয়োগের ক্ষমতা। প্রচলিত এনালগ পদ্ধতিতে এই তিনটি মেধার মিশ্রণ আলাদা করা যায় না, যার ফলে সামগ্রিক মূল্যায়ন দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু এমআইআরটি-র গাণিতিক সমীকরণ নিশ্চিত করে যে, একজন শিক্ষার্থী যদি তত্ত্বীয়ভাবে উচ্চতর স্তরের যোগ্যতাসম্পন্ন না হয়, তবে সে কোনোভাবেই ভাগ্যের জোরে বা গাইড বই মুখস্থের শর্টকাটে সর্বোচ্চ নম্বর (৪ পয়েন্ট) পাবে না। কোন শিক্ষার্থী মেধার কোন সুনির্দিষ্ট জায়গায় দুর্বল—তথ্যে, যুক্তিতে নাকি প্রয়োগে—তা এই মডেল নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে দিতে পারে, যা পরবর্তীতে প্রতিকারমূলক শিক্ষাদানে শিক্ষকদের জন্য চমৎকার গাইডলাইন হিসেবে কাজ করে।
বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন পরীক্ষা 'পিসা'র দিকে তাকালে এই আধুনিক ব্যবস্থার সফল বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায়। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পরিচালিত এই পরীক্ষায় বিশ্বব্যাপী ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের গণিত, বিজ্ঞান ও রিডিং স্কিল যাচাইয়ের প্রশ্নগুলো এমনভাবে এমআইআরটি মডেলে সাজানো থাকে, যা সরাসরি সলো ট্যাক্সোনমির আংশিক উত্তর স্তরবিন্যাসের সঙ্গে মিলে যায়। হংকং, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সিঙ্গাপুরের মতো এশিয়ার শীর্ষ শিক্ষাব্যবস্থাগুলোও তাদের অভ্যন্তরীণ পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন কাঠামো পিসার আদলে সোলো এবং এমআইআরটির সমন্বয়ে গড়ে তুলেছে। আমাদের দেশের প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শিক্ষকরা প্রায়শই নম্বরের ক্ষেত্রে ব্যক্তিনিষ্ঠ বা সাবজেক্টিভ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেন, যার ফলে এক শিক্ষকের চোখে যা ‘চমৎকার বিশ্লেষণ’, অন্য শিক্ষকের চোখে তা ‘মাঝারি’ ঠেকতে পারে। এর ফলে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের নির্ভরযোগ্যতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়; কিন্তু সোলো ট্যাক্সোনমির স্পষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ রুব্রিক্স থাকার কারণে শিক্ষকের পক্ষে কেবল তথ্য ও সম্পর্কের কাঠামোগত উপস্থিতি গুনে শতভাগ নিখুঁত নম্বর দেওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখন সনাতনী মুখস্থবিদ্যা থেকে বেরিয়ে পুরোপুরি যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়নের দিকে ঝুঁকছে, যা একটি যুগোপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এই রূপান্তরকে জাতীয় স্তরে সফল করতে হলে আমাদের মূল্যায়ন বিজ্ঞানকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব ও ডেটানির্ভর করতে হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এবং বিভিন্ন পরীক্ষা বোর্ডগুলো যদি বৈশ্বিক সফল উদাহরণগুলো অনুসরণ করে পরীক্ষামূলকভাবে হলেও সোলো ট্যাক্সোনমি এবং এমআইআরটির এই সমন্বিত বৈজ্ঞানিক মডেলটি প্রশ্ন ব্যাংক তৈরি ও খাতা মূল্যায়নে ব্যবহার করা শুরু করে, তবে প্রশ্ন ফাঁসের মতো অনৈতিক সুবিধা খোঁজা বা গাইড বইয়ের মুখস্থ করা উত্তর দিয়ে মেকি জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষতিকর প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।
একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান ও গভীরতা কেমন, তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয় তার মূল্যায়ন পদ্ধতির গুণগত গভীরতা ও বস্তুনিষ্ঠতা দিয়ে। ব্লুমস ট্যাক্সোনমি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের পাঠদানের কৌশল সাজানোর জন্য চমৎকার হলেও, পরীক্ষার খাতায় শিক্ষার্থীর মেধার প্রকৃত স্তর ও সুপ্ত যোগ্যতার নিখুঁত পরিমাপে সোলো এবং এমআইআরটির যুগলবন্দি বিশ্বব্যাপী অনেক বেশি কার্যকর, নির্ভরযোগ্য ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণিত হয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে একটি দক্ষ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে আমাদের মেধা মূল্যায়নের এই গাণিতিক ও কাঠামোগত সংস্কারে এখনই সাহসী হাত দিতে হবে।
মূল লেখক: ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান, সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)
সংগ্রহে: মোঃ হাবিবুল্লাহ্
২
৪ মন্তব্য