হযরত আলী (রা.) ৬৫৬ সালে ইসলামের চতুর্থ খলিফা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ৬৬১ সালে শাহাদাত বরণ পর্যন্ত শাসন করেন। তাঁর প্রায় ৫ বছরের খেলাফতকাল ছিল মুসলিম ইতিহাসের অন্যতম চরম সংকটপূর্ণ সময়, যা প্রথম ফিতনা বা অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধের (First Fitna) যুগ হিসেবে পরিচিত। [
1,
2,
3,
4]
আলী (রা.)-এর খেলাফতের প্রধান ঘটনাবলি ও বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. খেলাফত গ্রহণ ও পরিস্থিতি
- খলিফা উসমান (রা.)-এর মর্মান্তিক শাহাদাতের পর চরম অরাজকতার মধ্যে মদিনায় সাহাবি ও সাধারণ মানুষের অনুরোধে তিনি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- দায়িত্ব নিয়েই তিনি পূর্ববর্তী প্রশাসনে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের অপসারণ করে নতুন গভর্নর নিয়োগ করেন। [1, 2]
২. গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ ও সংঘাততাঁর খিলাফতকালে প্রধানত তিনটি অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ সংঘটিত হয় : [
1]
- উটের যুদ্ধ (Battle of Camel): উসমান (রা.)-এর হত্যার বিচার ও হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে আয়েশা (রা.), তালহা (রা.) এবং জুবায়ের (রা.)-এর বাহিনীর সাথে আলীর (রা.) বাহিনী বসরায় এই যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
- সিফফিনের যুদ্ধ (Battle of Siffin): সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া (রা.)-এর বিরুদ্ধে খেলাফতের কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য এই যুদ্ধ হয়, যা পরবর্তীতে সালিশির মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। [1, 2, 3]
- নাহারওয়ানের যুদ্ধ: সিফফিনের ঘটনার পর আলীর (রা.) দল থেকে ‘খাওয়ারিজ’ নামক একটি উগ্রপন্থী দল বিচ্ছিন্ন হয়ে বিদ্রোহ করলে, তাদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
৩. প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও রাজধানী স্থানান্তর
- তিনি মদিনা থেকে রাজধানী ইরাকের কুফায় স্থানান্তর করেন। কুফা ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক দিয়ে তৎকালীন সাম্রাজ্যের কেন্দ্রে ছিল।
- খিলাফত পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি কঠোরভাবে কুরআন ও সুন্নাহর নীতি অনুসরণ করেন এবং বায়তুল মালের সম্পদ বিতরণে পূর্ণ সমতা বজায় রাখেন। [1, 2]
- ৬৬১ সালের ২৬ জানুয়ারি (হিজরি ৪০ সালের ১৯ রমজান) কুফার জামে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় ইবনে মুলজাম নামক এক খারিজি বিষাক্ত তলোয়ার দিয়ে তাঁকে আক্রমণ করে।
- এই আক্রমণের তিন দিন পর ২৯ জানুয়ারি, ৬৬১ সালে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। [1, 2, 3, 4]
- সুন্নি মতাদর্শ অনুযায়ী তিনি চারজন 'খোলাফায়ে রাশেদীন'-এর (সঠিক পথের অনুসারী খলিফা) শেষ খলিফা।
৪
৪ মন্তব্য