Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ জুলাই, ২০২৬ ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও টিকে থাকবেন কারা

স্টার অনলাইন গ্রাফিক্স

কিছুদিন আগেও সবাই বলাবলি করছিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এসে মানুষের সব কাজ কেড়ে নেবে এবং মানুষকে বেকার করে ছাড়বে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত তেমনটা বলছে না।

অ্যাক্টিভট্র্যাক নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা ১০ হাজারেরও বেশি কর্মীর ডিজিটাল কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করেছেন। তারা দেখেছেন, মানুষ যখন এআই গ্রহণ করেছে, তখন তাদের কর্মজীবন আরও তীব্র ও ব্যস্ত হয়ে উঠেছে, মোটেও সহজ হয়নি।

এই নতুন প্রযুক্তির প্রাথমিক ব্যবহারকারীরা ইমেইল, মেসেজিং এবং চ্যাট অ্যাপে আগের চেয়ে দ্বিগুণ সময় ব্যয় করছেন। তাদের বিজনেস সফটওয়্যার ব্যবহারের হারও ৯৪ শতাংশ বেড়ে গেছে।

এআই ও শিক্ষার সংকট: চিন্তার সহজ বিকল্পে কি জ্ঞান হারিয়ে যাচ্ছে?

ইউসি বার্কলের হাস স্কুল অব বিজনেসের গবেষকরা দেখেছেন, এআই ব্যবহার করার ফলে কর্মীরা এমন সব কাজও নিজেদের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন, যা তারা আগে অন্যদের দিয়ে করাতেন। কারণ, এআইয়ের কল্যাণে কোডিং বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো কাজগুলো এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। তারা সন্ধ্যায়, ছুটির দিনে, এমনকি ওয়েটিং রুমে বসেও কাজের ফাঁকফোকর তৈরি করে নিচ্ছেন। আগের চেয়ে অনেক বেশি মাল্টিটাস্কিং করছেন এবং একইসঙ্গে বিভিন্ন বট প্রোগ্রামকে তদারকি করছেন।

গবেষণাগুলো থেকে একটি সাধারণ বিষয় স্পষ্ট হয়। এআই ব্যবহার করে মানুষ যে সময়টুকু বাঁচাচ্ছে, সেই সময়ে তারা বসে থাকছে না। বরং সেই বেঁচে যাওয়া সময়ে নতুন নতুন কাজের দায়িত্ব নিচ্ছে।

ইলাস্ট্রেশন: বিপ্লব চক্রবর্তী/স্টার

কর্মী এবং তাদের বসদের প্রত্যাশাও বাড়িয়ে দিয়েছে এআই। দিনে ঠিক কতটা কাজ করা উচিত, সে সম্পর্কে তাদের ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। ফলে প্রতিটি কর্মঘণ্টা এখন আরও ব্যস্ত এবং একইসঙ্গে আরও ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে।

অ্যাক্টিভট্র্যাকের গবেষকরা দেখেছেন, মানুষের একটানা মনোযোগ দিয়ে কাজ করার সময় ৯ শতাংশ কমে গেছে। এই মানসিক অবস্থার একটি নামও তৈরি হয়েছে—‘এআই ব্রেইন ফ্রাই’।

কিছুটা অদ্ভুত শোনালেও ইতিহাসের দিকে তাকালে বিষয়টি বেশ স্বাভাবিক। যখনই মানুষের শ্রম কমানোর কোনো নতুন প্রযুক্তি এসেছে, বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে মানুষ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের জীবনকে সহজ করবে।ল

কিন্তু বাস্তবে মানুষ সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবনকে আরও বেশি কর্মব্যস্ত করে তুলেছে। উড়োজাহাজ, ট্রেন বা গাড়ি যাতায়াতের সময় ও শ্রম বাঁচায় ঠিকই, কিন্তু এর ফলে মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি ভ্রমণ করতে শুরু করেছে।

এই উদীয়মান এআই যুগের একটি মূলনীতি হলো, যখন বুদ্ধিমত্তা সহজলভ্য হয়ে যায়, তখন মানুষের ইচ্ছাশক্তির মূল্য বেড়ে যায়। এই যুগে তারাই পার্থক্য গড়ে দেবেন, যারা শুধু বিশ্রাম খোঁজার জন্য এআই ব্যবহার করবেন না। বরং নিজেদের মানসিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং আরও বেশি কাজ সম্পন্ন করতে এআইকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাবেন।

অন্য কথায়, মানুষকে এখন আর তার মেধা দিয়ে আলাদা করা যাবে না। মানসিক পরিশ্রমের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে।

এআইয়ের এই যুগেও কারা সফলভাবে টিকে থাকবেন, তা নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কিছু মানুষের মধ্যে ‘নিড ফর কগনিশন’ বা চিন্তাভাবনা করার তীব্র চাহিদা থাকে। এরা কঠিন কাজ করতে এবং মস্তিষ্ক খাটাতে ভালোবাসেন। অন্যদিকে আছেন ‘কগনিটিভ মাইজার’ বা চিন্তার কৃপণরা মস্তিষ্ক খাটাতে পছন্দ করেন না এবং সুযোগ পেলেই চিন্তার কাজ এড়িয়ে চলেন।

এই দুইয়ের মাঝামাঝি আছেন মাঝারি ঘরানার মানুষ। তারা শুধু তখনই গভীরভাবে চিন্তা করেন, যখন বিষয়টি তাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্বভাবগতভাবে এটি তারা উপভোগ করেন না। মেধার সঙ্গে ‘নিড ফর কগনিশনের’ সম্পর্ক থাকলেও এটি পুরোপুরি এক বিষয় নয়। আবার অনেক অত্যন্ত মেধাবী মানুষ আছেন, যারা পরিশ্রম করতে ভালোবাসেন না।

ঋশশবর্তমান প্রেক্ষাপটে এআইয়ের সঙ্গে মানুষের অভিজ্ঞতাকে তিন ভাগে ভাগ করেছে আটলান্টিক।

মন্তব্য করুন