সহকারী অধ্যাপক
০৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:২৭ পূর্বাহ্ণ
শনিবারের শিক্ষা - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
শনিবারের শিক্ষা
(সূরা আল-বাকারা : ৬৫ অবলম্বনে)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
যে জাতির বুকে নেমেছিল একদিন
ওহির নির্মল আলো,
যাদের হাতে ছিল আসমানি বিধান,
যাদের ইতিহাস ছিল নবীদের ভালোবাসায় ভরা—
তাদেরই একদল মানুষ
ভুলে গেল বিধানের মর্যাদা।
প্রভু বলেছিলেন—
"একটি দিন,
শুধু একটি দিন
আমার নির্দেশের জন্য রেখে দাও।
এই দিন হবে ইবাদতের,
আত্মশুদ্ধির,
আনুগত্যের,
হৃদয় জাগরণের।"
কিন্তু মানুষের মন
যখন লোভের কাছে মাথা নোয়ায়,
তখন নিষেধও হয়ে ওঠে
পরীক্ষার কঠিন প্রশ্ন।
সাগরের ঢেউ
প্রতিটি শনিবার
রূপালি মাছে ভরে উঠত।
জল যেন ঝলমলে আয়না,
তাতে ভেসে বেড়াত
অগণিত জীবনের সমারোহ।
অন্য দিনগুলোতে
সাগর হতো নীরব,
মাছেরা যেন লুকিয়ে থাকত
অদৃশ্য গভীরে।
এ ছিল পরীক্ষা—
রিজিকের নয়,
হৃদয়ের।
সৎ মানুষ বলল,
"ধৈর্য ধরো।
আল্লাহর বিধান
মানুষের কৌশলের চেয়ে অসীম মহান।"
কিন্তু লোভ বলল—
"আমরা তো আজ মাছ ধরছি না,
শুধু পথ বানিয়ে রাখছি।"
তারা খাল কাটল,
জলকে ঘুরিয়ে দিল,
মাছ এসে আটকে রইল
শনিবারের স্রোতে।
পরদিন
তারা হাসিমুখে বলল—
"দেখো, আমরা তো নিষেধ ভাঙিনি!"
কিন্তু আকাশ জানত
কী ছিল তাদের অন্তর।
পৃথিবী জানত
কী ছিল তাদের ছলনা।
আর যিনি মানুষের বুকের গোপন কথাও জানেন,
তাঁর কাছে
শব্দের চেয়ে নিয়তই স্পষ্ট।
ধোঁকার ভাষা
আইনের ফাঁক খুঁজে পেতে পারে,
কিন্তু সত্যের দরবারে
কোনো ছলনা টেকে না।
একদল মানুষ
বারবার সতর্ক করল—
"ফিরে এসো।
এ পথ ধ্বংসের।"
তারা বলল—
"রবের অবাধ্য হয়ো না।
সামান্য লাভের জন্য
চিরন্তন ক্ষতি কিনো না।"
কিন্তু অহংকার
কানে তুলো গুঁজে দিল।
লোভ
চোখে পরিয়ে দিল
মিথ্যার পর্দা।
সৎ মানুষেরা
অবশেষে নিজেদের আলাদা করল।
তারা বিদ্বেষে নয়,
সত্যকে রক্ষা করার দায়ে
দূরে সরে দাঁড়াল।
তারপর এল
সেই ভোর,
যার নীরবতা ছিল
বজ্রপাতেরও ভয়ংকর।
কোনো কোলাহল নেই,
কোনো বাজার নেই,
কোনো হাসির শব্দ নেই।
যখন তারা এগিয়ে গেল,
দেখল—
অবাধ্যতার অহংকার
ভেঙে পড়েছে আল্লাহর বিচারে।
যারা নিজেদের বুদ্ধিকে
ওহির ঊর্ধ্বে তুলেছিল,
তারা হয়ে গেছে
অপমানের প্রতীক।
এই ঘটনা
কেবল একটি জাতির ইতিহাস নয়;
এ মানবতার আয়না।
কারণ পাপ
সব সময় প্রকাশ্যে আসে না।
কখনো
পাপ ধার্মিকতার পোশাক পরে।
কখনো
অবাধ্যতা
যুক্তির অলংকার পরে।
কখনো
প্রতারণা
আইনের ভাষা শেখে।
মানুষ ভাবে—
"আমি সবাইকে ফাঁকি দিলাম।"
কিন্তু সে ভুলে যায়—
নিজের বিবেককে
ফাঁকি দেওয়া যায় না।
আর আল্লাহকে
কখনোই নয়।
শয়তান
সবসময় নিষেধ ভাঙতে বলে না;
কখনো বলে—
"নিষেধ মানো,
তবে একটু ঘুরিয়ে।"
এই "একটু" থেকেই
শুরু হয় পতন।
একটি ছোট আপস
একদিন হয়ে যায়
বড় অবাধ্যতা।
একটি ছোট ছলনা
একদিন গ্রাস করে
সমস্ত চরিত্র।
তাই মুমিনের পথ
সরল।
তার কথা সরল।
তার ব্যবসা সরল।
তার ইবাদত সরল।
তার প্রতিশ্রুতি সরল।
সে জানে—
আল্লাহর সন্তুষ্টি
কৌশলে নয়,
আনুগত্যে।
তিনি বাহ্যিক রূপের বিচারক নন;
তিনি অন্তরের সত্যের বিচারক।
তাই যে মানুষ
গোপনে সৎ,
সে-ই প্রকৃত সম্মানিত।
যে মানুষ
লোভকে জয় করে,
সে-ই প্রকৃত বিজয়ী।
যে মানুষ
ক্ষণিক লাভ ছেড়ে
চিরস্থায়ী কল্যাণ বেছে নেয়,
তার জীবনই সফল।
আজও
সমুদ্র আছে,
মাছ আছে,
ব্যবসা আছে,
সম্পদ আছে,
অসংখ্য সুযোগ আছে।
আজও
মানুষের সামনে
হালাল ও হারামের সীমানা আঁকা।
আজও
বিবেক ডাকে,
ওহি ডাকে,
সত্য ডাকে।
প্রশ্ন একটাই—
আমরা কি আনুগত্য বেছে নেব,
নাকি ছলনার পথ?
মনে রেখো,
ইতিহাসের ঘটনাগুলো
শুধু অতীতের গল্প নয়;
সেগুলো ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা।
যে হৃদয় শিক্ষা নেয়,
তার জন্য প্রতিটি আয়াত
একটি প্রদীপ।
যে হৃদয় সত্যকে ভালোবাসে,
তার কাছে প্রতিটি সতর্কবাণী
রহমতের দরজা।
হে পরম দয়াময়,
আমাদের হৃদয়কে
লোভের অন্ধকার থেকে রক্ষা করুন।
আমাদেরকে দিন
সত্যকে সত্য হিসেবে দেখার দৃষ্টি,
মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে চিনবার শক্তি।
আমাদের জীবনে
কোনো ছলনা নয়,
কোনো কপটতা নয়,
কোনো অবাধ্যতার পথ নয়।
আপনার আদেশকে
আমরা যেন ভালোবাসি,
আপনার নিষেধকে
আমরা যেন শ্রদ্ধা করি।
আমাদের অন্তরকে করুন
স্বচ্ছ নদীর মতো নির্মল,
আমাদের আমলকে করুন
ভোরের শিশিরের মতো পবিত্র।
যাতে কিয়ামতের দিন
আপনার রহমতের ছায়ায় দাঁড়িয়ে
আমরা বলতে পারি—
হে আমাদের রব,
আমরা আপনার নির্দেশকে
চাতুর্য দিয়ে নয়,
ভালোবাসা দিয়ে মানতে চেয়েছি।
আপনিই আমাদের আশ্রয়,
আপনিই আমাদের সফলতার একমাত্র ঠিকানা।
***
শনিবারের শিক্ষা
যে জাতির বুকে নেমেছিল
ওহির নির্মল আলোর ধারা,
যাদের ঘরে নবীদের পদচিহ্ন,
যাদের ইতিহাস ঈমানের সোনালি অক্ষরে লেখা—
সেই জাতিরই একদল মানুষ
ভুলে গেল প্রতিশ্রুতির ভাষা,
বিধানের মর্যাদা,
রবের আনুগত্যের অমল শপথ।
প্রভু বলেছিলেন—
"একটি দিন,
শুধু একটি দিন
আমার স্মরণে নিবেদিত থাকবে।
এই দিন হবে
ইবাদতের,
বিনয়ের,
আত্মশুদ্ধির,
হৃদয়ের জাগরণের দিন।"
কিন্তু মানুষের হৃদয়ে
যখন লোভ বাসা বাঁধে,
তখন নিষেধাজ্ঞাও
তার কাছে হয়ে ওঠে
চাতুর্যের খেলার মাঠ।
সমুদ্রের বুক ভরে উঠত
রূপালি মাছের মেলায়।
শনিবার এলেই
জলের বুকে নেচে উঠত
অগণিত প্রাণের ঝাঁক;
অন্য দিনগুলোতে
ঢেউ যেন নিঃশব্দ,
জল যেন শূন্য,
মাছেরা যেন হারিয়ে যেত
অদৃশ্য গভীরে।
এ ছিল না
রিজিকের সংকট,
এ ছিল আনুগত্যের পরীক্ষা।
সৎ মানুষেরা বলেছিল—
"ধৈর্য ধরো।
যিনি রিজিক দেন,
তিনি কখনও তাঁর বান্দাকে
অন্যায় পথে ঠেলে দেন না।
আল্লাহর বিধানের ভেতরেই
সকল কল্যাণ লুকিয়ে আছে।"
কিন্তু লোভ
মিষ্টি ভাষায় ফিসফিস করে বলল—
"আমরা তো মাছ ধরছি না,
শুধু পথ তৈরি করছি।
আজ আটকে রাখব,
কাল তুলে নেব—
এতে দোষ কোথায়?"
তারা খাল কাটল,
জলের পথ ঘুরিয়ে দিল,
মাছ এসে বন্দী হলো
শনিবারের স্রোতে;
রবিবার সকালে
তারা উল্লাসে বলল—
"দেখো,
আমরা তো নিষেধ ভাঙিনি!"
কিন্তু আকাশ
তাদের কণ্ঠের ভাষা নয়,
হৃদয়ের ভাষা শুনেছিল।
পৃথিবী
তাদের কর্ম দেখেছিল,
আর আল্লাহ
তাদের নিয়ত জানতেন।
ছলনা
আইনের শব্দকে বদলাতে পারে,
কিন্তু সত্যকে নয়।
মানুষকে ফাঁকি দেওয়া যায়,
বিবেককে কিছুক্ষণ নীরব রাখা যায়,
কিন্তু
যিনি অন্তরের প্রতিটি স্পন্দন জানেন,
তাঁকে কখনো প্রতারিত করা যায় না।
একদল নেককার মানুষ
অবিরাম সতর্ক করেছিল—
"ফিরে এসো।
অবাধ্যতার পথ
কখনো মুক্তির পথ নয়।
সামান্য লাভের জন্য
চিরন্তন ক্ষতি ডেকে আনো না।"
কিন্তু অহংকার
শুনতে জানে না।
লোভ
সত্যের আলো সহ্য করতে পারে না।
অবশেষে
সৎ মানুষগুলো
নিজেদের পৃথক করে নিল।
বিদ্বেষে নয়,
বরং সত্যকে সম্মান জানিয়ে,
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে।
তারপর এল
এক ভয়ংকর সকাল।
নেই কোনো কোলাহল,
নেই কোনো বাজার,
নেই কোনো মানুষের ডাক।
নীরবতা
সেদিন বজ্রপাতের চেয়েও
অধিক ভয়ংকর ছিল।
যখন তারা
অবাধ্যদের জনপদে পৌঁছাল,
দেখল—
মানবিক অহংকার
আল্লাহর বিচারের সামনে
ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
যারা
নিজেদের কৌশলকে
আল্লাহর বিধানের উপরে তুলেছিল,
তারা হয়ে গেছে
অপমানের জীবন্ত নিদর্শন।
ইতিহাসের এই ঘটনা
শুধু এক জাতির কাহিনি নয়;
এটি প্রতিটি যুগের,
প্রতিটি মানুষের,
প্রতিটি বিবেকের জন্য
এক জাগ্রত সতর্কবার্তা।
কারণ
পাপ সবসময়
অন্ধকার পোশাক পরে আসে না।
কখনো
পাপ ধার্মিকতার মুখোশ পরে।
কখনো
অবাধ্যতা
যুক্তির অলংকার পরে।
কখনো
প্রতারণা
ধর্মীয় ব্যাখ্যার আড়ালে লুকিয়ে থাকে।
মানুষ ভাবে—
"আমি সফল।"
কিন্তু
যে সফলতা
আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে আসে,
তা আসলে
পরাজয়েরই আরেক নাম।
শয়তান
সবসময় বলে না—
"পাপ কর।"
সে অনেক সময় বলে—
"একটু ঘুরিয়ে কর,
একটু বদলে কর,
শব্দ পাল্টে কর,
অর্থ একই থাকুক।"
এই সামান্য আপসই
একদিন
মানুষকে গভীর খাদে ঠেলে দেয়।
একটি ছোট ছলনা
চরিত্রকে কলুষিত করে।
একটি ছোট অবাধ্যতা
ঈমানের সৌন্দর্যকে ম্লান করে।
তাই মুমিনের পথ
স্বচ্ছ নদীর মতো নির্মল।
তার কথা সত্য,
তার ব্যবসা সত্য,
তার অঙ্গীকার সত্য,
তার ইবাদত সত্য,
তার জীবন সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
সে জানে—
আল্লাহ
বাহ্যিক অভিনয় দেখেন না;
তিনি দেখেন
হৃদয়ের বিনয়,
নিয়তের বিশুদ্ধতা,
আনুগত্যের গভীরতা।
আজও
আমাদের চারপাশে
অসংখ্য পরীক্ষা।
আজও
লোভ
নতুন ভাষা শেখে।
আজও
অন্যায়
নতুন যুক্তি খুঁজে নেয়।
আজও
শয়তান
নতুন ছদ্মবেশ পরে আসে।
তবু
আল্লাহর বিধান
আজও অপরিবর্তিত।
সত্য
আজও সত্য।
ন্যায়
আজও ন্যায়।
হালাল
আজও হালাল।
হারাম
আজও হারাম।
প্রশ্ন কেবল একটাই—
আমরা কি
আনুগত্যকে ভালোবাসব,
নাকি
ছলনাকে আশ্রয় দেব?
যে হৃদয়
আয়াত থেকে শিক্ষা নেয়,
তার জীবন আলোকিত হয়।
যে হৃদয়
লোভের কাছে আত্মসমর্পণ করে,
তার অন্তর
অন্ধকারে ঢেকে যায়।
হে সর্বশক্তিমান রব,
আমাদের অন্তরকে
ছলনা থেকে পবিত্র করুন।
আমাদের নিয়তকে
শিশিরবিন্দুর মতো স্বচ্ছ করুন।
আমাদের আমলকে
সুগন্ধি ফুলের মতো নির্মল করুন।
আমাদের এমন ঈমান দিন,
যেখানে কৌশলের স্থান নেই,
শুধু আনুগত্যের সৌন্দর্য আছে।
এমন বিবেক দিন,
যা অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবে না।
এমন হৃদয় দিন,
যা আপনার সন্তুষ্টিকেই
জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মনে করবে।
আর কিয়ামতের মহাসমাবেশে
আপনার আরশের ছায়াতলে দাঁড়িয়ে
আমরা যেন বলতে পারি—
হে আমাদের প্রতিপালক,
আমরা আপনার বিধানকে
চাতুর্যের চোখে নয়,
ভালোবাসার চোখে দেখেছি;
আপনার নিষেধকে
বোঝা নয়,
রহমত বলে জেনেছি।
আপনিই আমাদের আশ্রয়,
আপনিই আমাদের পথপ্রদর্শক,
আপনিই আমাদের চূড়ান্ত সফলতার ঠিকানা।
***
শনিবারের শিক্ষা
(সূরা আল-বাকারা : ৬৫ অবলম্বনে)
যে জাতির কপালে জ্বলেছিল
ওহির উজ্জ্বল নূরের রেখা,
যাদের পথ আলোকিত হয়েছিল
নবীদের পদধ্বনিতে,
যাদের হাতে ছিল
আসমানি বিধানের অমল আমানত—
সেই জাতিরই একদল মানুষ
লোভের কাছে হারিয়ে ফেলল
আনুগত্যের সৌন্দর্য।
রব বলেছিলেন—
"একটি দিন,
শুধু একটি দিন,
আমার আদেশের প্রতি
অবিচল থেকো।
এই দিন হবে
ইবাদতের,
বিনয়ের,
আত্মশুদ্ধির,
আর হৃদয়ের প্রশান্তির দিন।"
বিধান ছিল সহজ,
কিন্তু মানুষের নফস
সহজকে কঠিন বানাতে জানে।
সমুদ্রের নীল বুকে
শনিবার এলেই
রূপালি মাছেরা
ঢেউয়ের বুকে খেলত,
যেন আকাশের তারা
জলে নেমে এসেছে।
অন্য দিনগুলোতে
সমুদ্র থাকত শান্ত,
মাছেরা হারিয়ে যেত
গভীর অতলে।
এ ছিল না
অভাবের পরীক্ষা;
এ ছিল
বিশ্বাসের পরীক্ষা।
একদল বলল—
"রবের হুকুমই যথেষ্ট।
তিনি নিষেধ করেছেন,
তাই আমরা বিরত থাকব।
তিনি রিজিকদাতা,
তিনি কখনো
তাঁর বান্দাকে বঞ্চিত করেন না।"
আরেক দল বলল—
"আমরা তো মাছ ধরব না,
শুধু সামান্য কৌশল করব।
আজ আটকে রাখব,
আগামীকাল তুলে নেব।
নিষেধও রইল,
লাভও হলো!"
লোভ
সবসময় পাপকে
পাপের ভাষায় শেখায় না;
সে শেখায়
চাতুর্যের ভাষায়।
তারা খাল কাটল,
জলের গতি ঘুরিয়ে দিল,
শনিবারের মাছ
নিজেদের ফাঁদেই এসে জমল।
রবিবারের সকালে
তারা বলল—
"দেখো,
আমরা তো নিয়ম ভাঙিনি!"
কিন্তু
আল্লাহর বিধান
শব্দের খেলায় বদলায় না।
তিনি
কথা নয়,
অন্তর দেখেন।
কর্ম নয়,
নিয়তের গভীরতাও দেখেন।
সত্যবাদীরা
তাদের ডেকেছিল—
"ফিরে এসো।
অন্যায়ের পথ
কখনো কল্যাণে পৌঁছায় না।
লোভের হাসি
শেষে কান্নাতেই মিশে যায়।"
তারা শোনেনি।
অহংকার
কানে তালা লাগিয়ে দিল।
লোভ
চোখে পরিয়ে দিল
মিথ্যার রঙিন পর্দা।
সৎ মানুষেরা
অন্যায়ের সঙ্গে আপস করল না।
তারা আলাদা হলো,
কিন্তু বিদ্বেষে নয়—
সত্যকে বাঁচানোর জন্য,
নিজেদের ঈমানকে রক্ষার জন্য।
তারপর এলো
এক নিস্তব্ধ সকাল।
ঢেউ ছিল,
কিন্তু মানুষের গান ছিল না।
বাতাস ছিল,
কিন্তু বাজারের কোলাহল ছিল না।
সূর্য উঠেছিল,
কিন্তু জনপদে
নেমেছিল এক অদ্ভুত নীরবতা।
যখন তারা এগিয়ে গেল,
দেখল—
ক্ষমতার অহংকার,
কৌশলের গর্ব,
লোভের উল্লাস—
সব ভেঙে চূর্ণ।
আল্লাহর ফয়সালা
নেমে এসেছে।
যারা
মানববুদ্ধিকে
ওহির উপরে তুলেছিল,
তারা হয়ে গেল
অপমানের নিদর্শন।
যারা
নিজেদের কৌশলকে
ধর্মের বিকল্প বানিয়েছিল,
তারা হয়ে গেল
মানবজাতির জন্য
চিরন্তন সতর্কবার্তা।
এই ঘটনা
শুধু ইতিহাস নয়।
এ এক আয়না,
যেখানে প্রতিটি যুগ
নিজেকে দেখতে পারে।
আজও
শনিবারের সেই সমুদ্র
অন্য রূপে আমাদের সামনে আসে।
আজও
লোভ
নতুন পোশাক পরে।
আজও
প্রতারণা
আইনের ভাষা শেখে।
আজও
অন্যায়
বৈধতার মুখোশ পরে।
আজও
শয়তান বলে—
"একটু বদলে কর,
একটু ঘুরিয়ে কর,
বাহ্যিক নিয়ম ঠিক থাকলেই হলো।"
কিন্তু
আল্লাহর কাছে
ছলনার কোনো মূল্য নেই।
তিনি চান
নিষ্কলুষ হৃদয়।
তিনি চান
সত্যনিষ্ঠ আনুগত্য।
তিনি চান
ভয়ভরা ভালোবাসা।
মুমিন জানে—
রিজিক
কৌশলে বাড়ে না,
বরকতে বাড়ে।
সম্মান
প্রতারণায় আসে না,
তাকওয়ায় আসে।
সফলতা
চালাকিতে নয়,
আনুগত্যে।
তাই
যে মানুষ
হারামের সামান্য লাভ ছেড়ে
হালালের অল্পটুকু গ্রহণ করে,
সে-ই প্রকৃত ধনী।
যে মানুষ
মানুষকে নয়,
রবকে ভয় করে,
সে-ই প্রকৃত মুক্ত।
হে দয়াময় প্রতিপালক,
আমাদের হৃদয়কে
লোভের অন্ধকার থেকে রক্ষা করুন।
আমাদের বিবেককে
আপনার নূরে আলোকিত করুন।
আমাদের জীবনে
কোনো প্রতারণা নয়,
কোনো কপটতা নয়,
কোনো ছলনার আশ্রয় নয়।
আমাদের এমন ঈমান দিন,
যেখানে আদেশ মানা হবে
ভালোবাসা দিয়ে,
নিষেধ মানা হবে
শ্রদ্ধা দিয়ে।
আমাদের এমন জীবন দিন,
যেখানে সত্য হবে অলংকার,
তাকওয়া হবে পরিচয়,
আনুগত্য হবে গৌরব,
আর আপনার সন্তুষ্টিই হবে
সমস্ত অর্জনের শ্রেষ্ঠ শিখর।
যেদিন
সব মুখ নত হবে
আপনার মহিমান্বিত দরবারে,
সেদিন
আপনি যেন আমাদের ডেকে বলেন—
"এসো,
তোমরা আমার সেই বান্দা,
যারা কৌশল নয়,
আনুগত্যকে বেছে নিয়েছিলে;
লোভ নয়,
তাকওয়াকে ভালোবেসেছিলে;
পৃথিবীর ক্ষণিক লাভ নয়,
আমার সন্তুষ্টিকেই
জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মনে করেছিলে।"
৪
৪ মন্তব্য