সহকারী শিক্ষক
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
যু'দ্ধের আ'গুনে পো'ড়া শৈশব, শরণার্থী শিবিরের চরম কষ্ট, শারীরিক দুর্বলতাকে পেছনে ফেলে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা; এই গল্প শুধু সিনেমায়ই পাওয়া যায়। কিন্তু এটা সিনেমা না, পুরোপুরি বাস্তবতা। লুকা মদ্রিচের জীবন যেন তাই এক অবিশ্বাস্য রূপকথা।
১৯৮৫ সালে ক্রোয়েশিয়ার জাদার শহরে জন্ম নেওয়া মদ্রিচের শৈশব খুব বেশিদিন স্বাভাবিক ছিল না। ১৯৯১ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে স্বাধীনতা যু'দ্ধ শুরু হলে মাত্র ছয় বছর বয়সেই তিনি জীবনের সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হন। সার্ব বিদ্রো'হীদের হামলায় তার দাদা লুকা মদ্রিচ সিনিয়রকে পরিবারের চোখের সামনেই হ'ত্যা করা হয়। এরপর তাদের বাড়িঘরও পু'ড়িয়ে দেওয়া হয়। সবকিছু হারিয়ে পরিবারটি উদ্বাস্তু হয়ে জাদারের একটি হোটেলে আশ্রয় নেয়, যা তখন শরণার্থী শিবির হিসেবে ব্যবহৃত হতো...
সেই শিবিরের পার্কিং লটেই অন্য শিশুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতেন ছোট্ট মদ্রিচ। চারপাশে গো'লাগু'লির শব্দ, মর্টার শেল আর গ্রে'নেড বিস্ফো'রণের আতঙ্ক ছিল প্রতিদিনের বাস্তবতা। পরে তিনি নিজেই বলেছিলেন, যু'দ্ধ তাকে আরও শক্ত, আরও ধৈর্যশীল মানুষ হতে শিখিয়েছিল...
যুদ্ধ শেষ হলেও সংগ্রাম শেষ হয়নি। ফুটবলে ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে তাকে বারবার শুনতে হয়েছে- তিনি নাকি খুব রোগা, খুব দুর্বল, খুব শান্ত স্বভাবের। অনেক কোচই বিশ্বাস করতেন, এত ছোট গড়নের একজন ছেলে কখনোই বড় পর্যায়ের ফুটবলে সফল হতে পারবে না। সেই মদ্রিচ এরপর যা করেছেন, খুব কম ফুটবলার সেটা পেরেছেন...
রিয়াল মাদ্রিদে্র সবচেয়ে সমালোচিত সাইনিংয়ের একটা ছিল টটেনহ্যাম থেকে মদ্রিচকে নিয়ে আসা। কিন্তু সময়ই দেখিয়ে দেয়, রিয়ালের সেই সাইনিং ভুল ছিল না। রিয়ালের হয়ে ছয়টা ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন।
২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে দেশটার ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছিলেন, নিজেও জেতেন গোল্ডেন বল। একই বছর ব্যালন ডি’অর জিতে ভাঙেন টানা এক দশক ধরে চলা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আধিপত্য। পরের বিশ্বকাপে হন তৃতীয়, ২০২৩ সালের নেশন্স লিগের ফাইনালেও স্পেনের কাছে টাইব্রেকারে হেরে আরেকবার স্বপ্নভঙ্গ হয়। ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে স্বপ্নভঙ্গ হলো আরেকবার, এবার রাউন্ড অব থার্টি টু!! আর ক্রোয়েশিয়ার জার্সিতেই মদ্রিচের এটাই শেষ...
আল বিদা, বন্ধু...
১৪
২৪ মন্তব্য