Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৪ জুলাই, ২০২৬ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাহউদ্দিনের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

১৯৭১ সাল। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ থানার কোষারানিগঞ্জ গ্রামের তরুণ সালাহউদ্দিন তখন দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র। চারদিকে যু/দ্ধে/র দামামা। দেশের স্বাধীনতার ডাক উপেক্ষা করতে পারেননি তিনি। ২৯ এপ্রিল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মলয় যুব শি/বিরে যোগ দেন। পরে তাঁকে পাঠানো হয় পানিঘাট প্রশিক্ষণ শি/বিরে। প্রশিক্ষণ শেষে অ//স্ত্র হাতে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে এবং অংশ নেন একের পর এক অপা/রেশনে।

১০ নভেম্বর জাবরহাট হাইডআউটে অবস্থানকালে তিনি খবর পান, পা/কিস্তা/নি সৈ/ন্যরা তাঁর বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। সেদিন রাতেই তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। প্রায় সাত মাস পর বাড়িতে ফিরে দেখলেন, বাবা-মা দুজনই সুস্থ আছেন। তখনই বুঝলেন, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা খবর দিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, দিনটা আত্মগোপনে থেকে রাত হলে আবার হাইডআউটে ফিরে যাবেন। কিন্তু তিনি জানতেন না, রা/জা/কাররা তাঁকে দেখে ফেলেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পা/কি/স্তানি সৈ/ন্য ও কয়েকজন রা/জা/কার তাঁদের বাড়ি ঘেরাও করে। গ্রেপ্তা/র হন সালাহউদ্দিন।

সালাউদ্দিনের মায়ের অসহায় আ/র্তনাদ তখন আকাশ ভারী করে তুলেছিল। নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও তিনি ছেলের প্রা/ণ ভিক্ষা চাইলেন। যখন কোনো অনুনয়-বিনয় কাজ হলো না, তখন তিনি ঘর থেকে পবিত্র কো/রআন শরিফ এনে পা/কি/স্তানি ক্যা/প্টেনের হাতে তুলে দিয়ে বললেন,

“আমার বাবাকে মা/রবে না, শুধু এটুকু কথা বলে যাও।”

কো/রআন স্পর্শ করে ক্যাপ্টেন বলল,

“নেহি মা/রুঙ্গা উনকো।”

এরপর বেঁ/ধে সালাহউদ্দিনকে নিয়ে যাওয়া হলো ঠাকুরগাঁও সদর সেনাছাউনিতে।

শুরু হলো অক/থ্য নির্যা/তন।

বু/টের লা//থি, চা/বু/কের আ/ঘা/ত, চ/ড়, কি/ল, ঘু/ষি…। হাত ও পা/য়ের প্রতিটি আ/ঙুলে পে/রেক ঠু/কে দেওয়া হলো। একের পর এক নির্/যা/তন চলতেই থাকল।

কিন্তু একটি কথাও বের করতে পারল না পা/কিস্তানি সৈ/ন্যরা।

তিনি তাঁর সহযোদ্ধাদের অবস্থান, পরিকল্পনা কিংবা কোনো গোপন তথ্যই প্রকাশ করলেন না।

অবশেষে তারা আরও ভ/য়ঙ্কর এক সিদ্ধান্ত নিল।

মাইকিং করে শহরে ঘোষণা দেওয়া হলো, বিকেলে সেনাছাউনিতে একটি “আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান” হবে। কৌতূহলী মানুষকে সেখানে ডেকে আনা হলো।

সেই সেনাছাউনিতে সার্কাস দল থেকে নিয়ে আসা দুটি চি/তাবা/ঘ ও দুটি শা/বক রাখা ছিল।

বিকেলের দিকে রক্তা/ক্ত, ক্ষু/ধার্ত, তৃ/ষ্ণার্ত সালাহউদ্দিনকে হাত পিছমো/ড়া করে দ/ড়ি দিয়ে বেঁ/ধে দাঁ/ড় করানো হলো বা/ঘের খাঁ/চার সামনে। পরনে শুধু একটি লুঙ্গি। নি/র্মম নির্/যা/তনে তাঁর শরীর ক্ষ/তবিক্ষ/ত।

তবুও তিনি মাথা নিচু করেননি।

তাঁর চোখেমুখে তখনও ছিল অদম্য সাহস আর অবিচল দৃঢ়তা।

ঠিক তখনই বেরিয়ে এল পা/কি/স্তানি সে/নাবা/হিনীর মেজর মাহমুদ হাসান বেগ।

উর্দুতে সে বলল,

“তোমার সামনে দুটি পথ খোলা। মুক্তিবা/হিনীর সব গোপন তথ্য বলে দাও, নইলে ক্ষু/ধার্ত বা/ঘের খাবার হও।”

সালাহউদ্দিন কোনো উত্তর দিলেন না।

তাঁর নীরব দৃষ্টি যেন সব উত্তর দিয়ে দিয়েছিল। পা/কিস্তানি সৈ/ন্যরা বুঝে গেল, এই তরুণকে ভা/ঙা সম্ভব নয়। মৃ/ত্যু তাঁকে ভয় দেখাতে পারবে, কিন্তু মাতৃভূমির সঙ্গে বিশ্বাসঘা/তকতা করাতে পারবে না।

মুহূর্তের মধ্যেই তাঁকে ছুঁ/ড়ে ফে/লা হলো ক্ষু/ধার্ত চি/তাবা/ঘের খাঁ/চায়।

একটি চি/তাবা/ঘ গরগর শব্দ করতে করতে তাঁর চারপাশে ঘুরতে লাগল। খাঁ/চার গ্রি/ল ধরে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন সালাহউদ্দিন।

কিন্তু তার আগেই ক্ষু/ধা/ র্ত দুটি চি/তাবা/ঘ ঝাঁ/পি/য়ে পড়ল তাঁর ওপর।

ধা/রা/লো থা/বা আর ভ/য়ংকর কা/ম/ড়ে মুহূর্তেই ক্ষ/তবি/ক্ষ/ত হয়ে গেল তাঁর শরীর।

একসময় নি/থর দে/হটি লু/টি/য়ে প/ড়ল খাঁ/চা/র মাটিতে।

মুক্তিযুদ্ধের এমন অসংখ্য আত্মত্যাগের একটি ঘটনা এটি । যে মাটিতে হাটছেন, চলছেন, দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সেই মাটির চেয়ে পবিত্র ভূখন্ড এই পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই।

শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সালাহউদ্দিনের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।


মন্তব্য করুন