Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:৩১ পূর্বাহ্ণ

পরিবার - মোঃ মুজিবুর রহমান


পরিবার

(মানবতার প্রথম বিদ্যালয়)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

ভোরের প্রথম আলোর মতো
জেগে ওঠে যে ঘর,
সেই ঘরেই শেখে মানুষ
জীবনের অক্ষর।

মায়ের স্নেহের কোমল ছোঁয়ায়
হাসে শিশুর প্রাণ,
বাবার দৃঢ় আশীর্বাদে
জাগে নতুন জ্ঞান।

পরিবার শুধু চারটি দেয়াল,
ইট-পাথরের ঘর নয়;
ভালোবাসার নির্মল নদী,
আস্থার গভীর পরিচয়।

এখানেই মানুষ প্রথম শেখে
হাসতে আর কাঁদতে,
আপনজনের হাতটি ধরে
পথ চলতে হাঁটতে।

এখানেই শেখে সত্যের ভাষা,
ন্যায়ের পবিত্র গান,
শ্রদ্ধা, মায়া, ক্ষমার বাণী,
সুন্দর মানবপ্রাণ।

সমাজ নামে যে বিশাল বৃক্ষ,
শিকড় তার এই ঘর;
পরিবার যদি দৃঢ় থাকে,
সবল হয় অন্তর।

সভ্যতার সব উজ্জ্বল পথে
যে আলো করে দান,
তারই প্রথম প্রদীপ জ্বলে
পরিবারের প্রাণ।

বিবাহসূত্র, রক্তের বাঁধন,
দত্তকেরও টান
সবাই মিলে গড়ে তোলে
একটি সুখের প্রাণ।

আত্মীয়তার কোমল সুরে
বাঁধা থাকে মন,
একই ছাদের নিচে ফুটে
অগণিত স্বপন।

দুঃখ এলে সবাই মিলে
ধরে পরস্পর হাত,
সুখের দিনে ভাগ করে নেয়
হাসির রঙিন প্রভাত।

বৃদ্ধ দাদার অভিজ্ঞ বাণী,
দিদার মধুর গল্প,
শিশুর মুখের নিষ্পাপ হাসি
সবই জীবনের সম্পদ।

পরিবার তাই শান্ত আকাশ,
অশেষ স্নেহধারা;
ঝড়ের মাঝেও আশার প্রদীপ,
ভরসার সবুজ তারা।

একক পরিবারের কথা

ছোট্ট ঘর, ছোট্ট সংসার,
তবু কত যে সুখ!
পিতা-মাতা, সন্তান মিলে
ভরে ভালোবাসার মুখ।

অল্প সদস্য, সহজ জীবন,
স্বপ্ন গাঁথে দিন,
পারস্পরিক যত্নে গড়ে
মধুর সম্পর্ক ঋণ।

শিশুর মনে জাগে ধীরে
আত্মবিশ্বাস দীপ,
পরিশ্রম আর শৃঙ্খলার
রচিত হয় নীতিরূপ।

যৌথ পরিবারের কথা

বড় উঠোন, অনেক মানুষ,
হাসির মেলা ঘিরে;
একই হাঁড়ির ভাতের গন্ধ
ভেসে আসে নীরে।

দাদা আছেন, দাদি আছেন,
চাচা-চাচির দল,
ভাই-বোনেরা খেলায় মাতে
রঙিন সকাল-বিকেল।

বিপদ এলে সবাই মিলে
হয়ে ওঠে ঢাল,
সুখের দিনে উৎসব নামে
আনন্দেরই জাল।

বয়োজ্যেষ্ঠের স্নেহমাখা
উপদেশের বাণী,
ছোটদের মন গড়ে তোলে
মানবতার খনি।

সম্মান, ধৈর্য, সহমর্মিতা,
সহযোগিতার রীতি
যৌথ পরিবারের জীবনগানে
এসব চিরপ্রীতি।

পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের কথা

কোথাও কোথাও পরিবারের
নেতৃত্ব থাকে পিতায়,
পরিশ্রমে গড়ে সংসার
দায়িত্ব নিজের কাঁধায়।

সন্তান শেখে অধ্যবসায়,
শৃঙ্খলারই মান,
সততা আর কর্মনিষ্ঠা
হয় জীবনের গান।

মাতৃতান্ত্রিক পরিবারের কথা

আবার কোথাও মাতৃনামে
পরিচয়ের ডালি,
মায়ের স্নেহে বংশের ধারা
চলে নিরবধি খালি।

নারীর মর্যাদা, নেতৃত্ব,
সম্মানেরই রূপ,
সমতার সে আলোকধারা
জ্বালে আশার দীপ।

যে ব্যবস্থাই হোক না কেন,
মূল কথা একটাই
ভালোবাসা, ন্যায় আর মমতা
ঘরকে স্বর্গ বানায়।

পরিবার মানে কেবল নয়
রক্তের সম্পর্ক;
হৃদয় যদি হৃদয় ছোঁয়,
সেখানেই আপন লোক।

ক্ষমা শেখায়, ভাগাভাগি,
সহনশীলতার পাঠ;
মানবতার মহাগ্রন্থের
প্রথম খোলা পাত।

অসুস্থ হলে সেবা মেলে,
ক্লান্ত হলে ছায়া,
পরিবারের স্নেহধারায়
মুছে যায় সব হায়।

বৃদ্ধ বয়সে আশ্রয় দেয়
সন্তানেরই হাত,
শৈশব থেকে বার্ধক্য অবধি
এক অবিরাম সাথ।

পরিবারে জন্ম নেয় যে
নৈতিকতার ফুল,
সেই সুবাসে সমাজ ভরে,
মুছে যায় সব ভুল।

দেশের শক্তি, জাতির গৌরব,
মানবতার জয়
সুন্দর পরিবারের উপরেই
অনেকখানি নির্ভর হয়।

যে ঘরে থাকে পারস্পরিক
সম্মান আর বিশ্বাস,
সেই ঘরেরই প্রতিটি মানুষ
হয় আলোর সুবাস।

ভালোবাসা যদি থাকে,
ঘুচে যায় বিভেদ;
ঐক্যের সুর বাজতে থাকে
প্রতিটি হৃদয়ভেদ।

পরিবার তাই অনন্ত আশ্রয়,
মানবজীবনের গান;
সভ্যতার এই প্রথম সোপান,
কল্যাণের সম্মান।

চল সবাই মিলে গড়ি
স্নেহে ভরা ঘর,
যেখানে থাকবে সত্যের দীপ,
অহংকার হবে পর।

যেখানে শিশু মানুষ হবে
আদর্শেরই ছায়ায়,
বৃদ্ধজনের মুখে ফুটবে
প্রশান্তিরই মায়ায়।

যেখানে নারী-পুরুষ উভয়েই
সম্মানের অধিকারী,
ভালোবাসার সমান আলোয়
জ্বলবে ঘর-বাড়ি।

পরিবার হোক শান্তির নীড়,
মানবতার জয়,
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়াক
সৌন্দর্যের পরিচয়।

এই পৃথিবীর প্রতিটি ঘরে
ফুটুক শুভ প্রভাত,
পরিবার হোক সুখের বীণা,
ভালোবাসার মাত।

মানুষ গড়ার প্রথম বিদ্যালয়,
চরিত্র গড়ার দ্বার
পরিবারই সমাজজীবনের
চিরন্তন অঙ্গীকার।

তাই পরিবার রক্ষা করা
সবার পবিত্র কাজ,
সুশিক্ষা, নীতি, সহমর্মিতায়
উজ্জ্বল হোক সমাজ।

ভালোবাসা হোক মূলমন্ত্র,
সত্য হোক পথচলা,
পরিবারের আলোকরেখায়
উজ্জ্বল হোক ধরা।

***

নদী যেমন সাগর পানে
অবিরতই ধায়,
পরিবারও ভালোবাসার
মিলনস্রোতে যায়।

শিকড় যেমন মাটির বুকে
আঁকড়ে রাখে প্রাণ,
তেমনি ঘরেই মানুষ পায়
জীবনজয়ের জ্ঞান।

ঘরই প্রথম আশ্রয়সুধা,
ঘরই প্রথম গান,
ঘরই প্রথম চোখের ভাষা,
হৃদয়ভরা টান।

মায়ের কোলে শিশুর হাসি
স্বর্গেরই উপহার,
বাবার কাঁধে ভরসা রেখে
জয় করে সংসার।

ভাইয়ের সাথে ভাগাভাগি,
বোনের মধুর স্নেহ,
দুঃখ এলেও একসঙ্গে সব
মুছে দেয় অবশেষ।

দাদার মুখে ইতিহাসের
অমূল্য যত কথা,
দাদির স্নেহ আশীর্বাদে
ভরে ওঠে ব্যথা।

চাচা শেখান কর্মের মর্যাদা,
চাচি মমতার রূপ,
ফুফুর হাসি, মামার স্নেহ
আলোকিত প্রতিরূপ।

আত্মীয়তা কেবল নয়
রক্তের পরিচয়,
হৃদয় যখন হৃদয় ছোঁয়,
সেখানেই আপন হয়।

ক্ষমার মাঝে মহত্ত্ব জাগে,
ত্যাগে জাগে মান,
পরিবারের প্রতিটি মানুষ
একেকটি সম্মান।

  শেখার আগে
শেখে শিশুমন,
"
সত্য কথা বলবে সবে"
এই মহান বচন।

শেখে সে যে মিথ্যা কথা
কখনো নয় ভালো,
সততারই দীপ জ্বালালে
জীবন হবে আলো।

বৃদ্ধ যদি ধীরে হাঁটে,
ধরো তারই হাত,
মানবতার এই শিক্ষাটি
অমূল্য দিনরাত।

ক্ষুধার্ত যদি আসে কেহ
দ্বারে কোনো দিন,
অন্ন ভাগের মধ্যেই লুকায়
মানবধর্মের ঋণ।

ছোটকে স্নেহ, বড়কে শ্রদ্ধা,
বন্ধুকে সম্মান,
এই শিক্ষাতে মানুষ পায়
জীবনেরই জ্ঞান।

ধৈর্য যেমন মহীরুহের
গভীর শিকড়তল,
ক্ষমাশীলতা নদীর মতো
চিরপ্রবাহিত জল।

সহমর্মী যে মানুষ হয়,
ভাঙে বিভেদ-প্রাচীর,
তারই আলোয় সমাজ জাগে,
দূর হয় অন্ধকার।

ছোট্ট নীড়ে ছোট্ট আলো,
তবু সীমাহীন,
ভালোবাসার স্পর্শ পেলে
জীবন হয় রঙিন।

পিতা-মাতা সন্তানেরা
স্বপ্ন গাঁথে মিলে,
হাসির রেশে প্রতিটি সকাল
ফোটে নবরঙে।

অল্প মানুষ, সহজ আয়োজন,
অন্তর থাকে ভরা,
একটি টেবিল, একটি প্রার্থনা,
একটি সুখের ধরা।

পরস্পরের কথাগুলো
শোনে মন খুলে,
সুখ-দুঃখের প্রতিটি ক্ষণ
থাকে হৃদয় জুড়ে।

বিশাল উঠোন, শত সম্পর্ক,
একটি প্রাণের ঘর,
শত ব্যস্ততা পেরিয়ে তবু
সবার আপন পর।

একটি রান্নাঘরের ধোঁয়ায়
মিশে যায় যে মন,
একটি উৎসব হাসি ছড়ায়
সকলেরই প্রাণ।

বৃদ্ধজনের জ্ঞানভাণ্ডার,
শিশুর কৌতূহল,
যুবকের শ্রম, তরুণীর আশা
মিলেই জীবন সফল।

ঝগড়া এলেও সন্ধ্যাবেলায়
মিটে যায় সব ক্ষোভ,
একটি ডাকে সবাই আসে
এটাই ভালোবাসার রূপ।

কোথাও পিতা নেতৃত্ব দেন,
কোথাও মায়ের মান,
দুই ধারাতেই শ্রদ্ধা থাকুক
এই হোক অভিমান।

ক্ষমতা নয়, কর্তব্য হোক
পরিবারের মূল,
সমতারই পবিত্র আলো
মুছে দিক সব ভুল।

নারী-পুরুষ পাশাপাশি
হাঁটুক একই পথ,
পরস্পরের মর্যাদাতে
উজ্জ্বল হোক রথ।

যে ঘরে আছে সম্মানবোধ,
সেই ঘর সুখময়,
ভালোবাসার মন্দির হয়ে
থাকে চিরঅক্ষয়।

এসো গড়ি এমন পরিবার,
যেখানে হিংসা নেই,
সত্য, প্রেম আর সহমর্মিতায়
অন্ধকারও ক্ষয়।

যেখানে শিশু স্বপ্ন দেখে
জ্ঞান-আলোর দেশ,
যেখানে বৃদ্ধ শান্ত মনে
হাসেন শেষ অবশেষ।

যেখানে নারী নিরাপদ,
পুরুষ স্নেহবান,
যেখানে সকল সদস্য মিলে
রচনা করে গান।

যেখানে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা
ভেদ নয় কোনো দিন,
মানবতার মহাসমুদ্রে
সকলেই রত্নচিন।

পরিবার যদি দীপ জ্বালে,
আলোকিত সমাজ,
সমাজ যদি ন্যায়ে ভরে,
উজ্জ্বল হবে আজ।

দেশ গড়ার প্রথম ইট
রাখা হয় যে ঘরে,
সেই পরিবার অটুট থাকুক
শত দুর্যোগ ঘিরে।

প্রজন্ম হতে প্রজন্মে যাক
সুন্দরতার বাণী,
পরিবারের এই মহিমা
চিরদিন অম্লানই।

শেষে করি প্রার্থনা এক,
হে সৃষ্টিকর্তা মহান,
প্রতিটি ঘরে দাও তুমি
শান্তি, প্রেমের দান।

স্নেহের ছায়া অটুট থাকুক,
মুছে যাক সব ক্ষয়,
পরিবার হোক মানবতার
চিরন্তন পরিচয়।

***

যুগের পরে যুগ গড়িয়ে
বদলেছে সংসার,
তবু পরিবারের আলোটুকু
রয়েছে অম্লান আর।

দোলনাতে যে শিশু হাসে,
আগামীর সে ভোর,
তারই হাতে লিখবে একদিন
দেশের গৌরবঘোর।

বৃদ্ধ পিতার কপালজুড়ে
অভিজ্ঞতার রেখা,
সেই রেখাতেই সময় লিখে
জীবন-জয়ের দেখা।

মায়ের চোখের স্নেহজল
অমৃতধারার ঢেউ,
ক্লান্ত প্রাণে সাহস জাগায়
তেমন আপন কেউ?

দাদার কণ্ঠে ইতিহাসের
সময়েরই গান,
দিদার মুখে রূপকথারা
জাগায় বিস্ময়প্রাণ।

একটি প্রজন্ম অন্যটিকে
হাতটি ধরে টানে,
জ্ঞান আর প্রেম, ত্যাগের দীপ
জ্বলে প্রাণে প্রাণে।

শিশু শেখে ভাষার মাধুর্য,
শেখে নম্রতা, লাজ,
যুবক শেখে দায়িত্ববোধ,
কর্মমুখর সাজ।

মধ্যবয়স সংসার গড়ে
শ্রমের সোনার ইটে,
বৃদ্ধ বয়স আশীর্বাদ হয়ে
থাকে ঘরের নীড়েতে।

সময়ের এই চক্রধারা
অবিরত বহমান,
পরিবারের শিকড় ধরে
টিকে থাকে প্রাণ।

যে ঘরে আছে প্রজন্মজোড়া
শ্রদ্ধার সেতুবন্ধ,
সে ঘর যেন ফুলে-ফসলে
ভরা পুণ্য আনন্দ।

পুরোনো দিনের অভিজ্ঞতা
নতুন দিনের স্বপ্ন,
দুইয়ের মাঝে গড়ে ওঠে
সভ্যতারই যজ্ঞ।

ঐতিহ্যের দীপশিখাটি
নিভতে যেন না দেয়,
নতুনেরা সে আলোর শিখা
আরও দূরে বয়ে নেয়।

সংস্কৃতির সব সোনালি রাগ,
লোকগানের সুর,
পরিবারের উঠোন জুড়ে
ছড়ায় ভোরের নূর।

ভাষা, ভদ্রতা, কৃষ্টি, রীতি,
আচার আর মান
প্রজন্ম হতে প্রজন্মে যায়
অমল উত্তরাধিকার।

যে সন্তান আজ শিক্ষা পায়
মায়ের কোমল কোলে,
আগামীতে সেই মানুষই
দেশের হালটা তোলে।

তাই তো ঘরের প্রতিটি ক্ষণ
অমূল্য রতনখানি,
পরিবারের প্রতিটি মানুষ
জীবনগাঁথার বাণী।

ভেঙে গেলে এই সেতুবন্ধন
নিঃস্ব হবে প্রাণ,
শুকিয়ে যাবে ভালোবাসার
চিরসবুজ গান।

এসো তবে শপথ করি
রাখব আপন ঘর,
স্নেহ, মমতা, সত্য, ত্যাগে
হবে জীবন ভর।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যাক
আলোর উত্তরাধিকার,
পরিবার হোক মানবসভ্যতার
চিরসবুজ অঙ্গার নয়চিরজাগ্রত অমৃতাধার।

সকল ঘরে ফুটুক আবার
বিশ্বাসেরই ফুল,
ভালোবাসার বীজ বুনে
মুছে যাক সব ভুল।

মানুষ যদি মানুষ গড়ে
পরিবারের ছায়ায়,
তবে পৃথিবী ভরে উঠবে
শান্তির স্নিগ্ধ মায়ায়।

পরিবার তাই কালের বুকে
অমর এক মহাগান,
যেখানে মিলায় মানবধর্ম,
সভ্যতা আর প্রাণ।

মন্তব্য করুন