Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ জুলাই, ২০২৬ ০৭:২৮ পূর্বাহ্ণ

রবের অনুগ্রহের গান - মোঃ মুজিবুর রহমান


রবের অনুগ্রহের গান

(সূরা আদ-দুহা-এর আলোকে একটি কাব্য)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

যে ঘরে ভোর নামে করুণার আলো,
সেখানে থাকে না অন্ধকারের কালো।
রব যখন দেন তাঁর সীমাহীন দান,
শুকরিয়ায় ভরে ওঠে বিশ্বাসীর প্রাণ।

বললেন তিনি
"
ইয়াতীমের হৃদয়ে দিও না আঘাত,
ভাঙা বুকের উপর বোঝা রেখো না আর।
যে শিশুর মাথায় নেই বাবার হাত,
তার চোখে যেন না নামে অবহেলার রাত।

তার হাসির ভেতরে লুকিয়ে আছে ব্যথা,
তার নীরবতায় বাজে হারানোর কথা।
একটুখানি স্নেহ, একটুখানি ছায়া,
তার জীবন জুড়ে ফুটিয়ে তোলে মায়া।

যে নিজে পেয়েছে মমতার পরশ,
সে কেন করবে কঠোরতার স্পর্শ?
যে একদিন ছিল অসহায় পথিক,
সে- হোক আজ সবার আপন সাথিক।

ভিক্ষুক যদি আসে দ্বারে নতশিরে,
তিক্ত বাক্য রেখো না তার ভাগ্যলিপিতে।
ধমক দিয়ে ফিরিও না শূন্য হাতে,
সম্মান রেখো তার মানুষের প্রাপ্যতে।

সবাই যে চায় না প্রসারিত হাত,
অভাবই কখনো করে তাকে নত।
কত অশ্রু লুকায় শুকনো হাসির তলে,
কত দীর্ঘশ্বাস ঝরে নীরব ছলে।

যদি দিতে না পারো ধনের উপহার,
দাও না অন্তত মধুর আচরণ আর।
একটি কোমল বাক্য, একটি হাসিমুখ
অনেক ক্ষুধার মাঝেও এনে দেয় সুখ।

মানুষের মর্যাদা অমূল্য ধন,
তাই রেখো অটুট তার সম্মান-মন।
দানের আগে ভালোবাসা দিও,
অহংকারের বিষ কখনো না ঢালো।

তারপর এল অনুপম আহ্বান
"
রবের অনুগ্রহ করো বর্ণন।"

নয় গর্বভরা আত্মপ্রশংসার গান,
নয় অহমিকার অলংকারে প্রাণ;
বরং বিনম্র হৃদয় নত করে বলো
সবই তো আমার রবের দেওয়া আলো।

তিনি দিয়েছেন জ্ঞান, দিয়েছেন হিদায়াত,
দিয়েছেন সত্যের অনন্ত বারতা।
দিয়েছেন ঈমান, কুরআনের আলো,
অন্ধকার ভেঙে জীবন করেছেন ভালো।

তিনি দিয়েছেন ভাষা, দিয়েছেন বাণী,
কলমের ডগায় লিখিয়েছেন জ্ঞানই।
দিয়েছেন দৃষ্টি, দিয়েছেন শ্রবণ,
প্রতিটি নিঃশ্বাস তাঁরই অনুগ্রহ-ধন।

যে জল তৃষ্ণা মেটায় মরুর বুকে,
যে বৃষ্টি নামে শুকনো ধুলোর সুখে,
যে রুটি আসে শ্রমিকের ঘরে,
সবই তাঁর দয়া নীরবে ঝরে।

সূর্যের কিরণ, চাঁদের হাসি,
ফুলের সুবাস, নদীর বাঁশি
সবখানে জাগে তাঁরই দান,
অশেষ রহমতের জয়গান।

শিশুর প্রথম ডাক,
মায়ের স্নেহমাখা মুখ,
বৃদ্ধ বাবার কাঁপা হাত,
বন্ধুর অকৃত্রিম সুখ

এসবও তাঁর অমূল্য দান,
ভুলে যেও না কোনো প্রাণ।

কৃতজ্ঞতা শুধু মুখের বুলি নয়,
সৎকর্মেই তার প্রকৃত পরিচয়।
যে নিয়ামত পায়, সে যদি ভাগ করে,
রব তার জীবন ভরিয়ে দেন আরও ভরে।

জ্ঞান পেলে শেখাও,
ধন পেলে বিলাও,
ক্ষমতা পেলে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করো,
সম্মান পেলে বিনয়েই মাথা ধরো।

এভাবেই নিয়ামতের শোকর হয়,
এভাবেই আল্লাহ সন্তুষ্ট রয়।
কারণ কৃতজ্ঞ হৃদয় কখনো শূন্য নয়,
তার অন্তরে বরকতের স্রোত বই।

ভুলে যেও না
তুমিও ছিলে একদিন দুর্বল,
রবই করেছেন তোমায় সম্বল।
তুমিও ছিলে পথের সন্ধানহারা,
তিনিই খুলেছেন সত্যের দ্বার।

তুমিও ছিলে অভাবের ভেলায়,
তিনি তুলেছেন আশার খেলায়।
তাই আজ যদি আলো পাও,
অন্যের জীবনেও সে আলো ছড়াও।

মানুষের মুখে ফুটুক আশার ফুল,
মুছে যাক দুঃখ, ভাঙুক সব ভুল।
করুণা হোক হৃদয়ের ভাষা,
মানবতা হোক জীবনের আশা।

ইয়াতীমের চোখে যেন হাসি ফোটে,
অভাবীর প্রাণে সাহস জাগে।
মানুষ মানুষকে ভালোবেসে
রবের সন্তোষ লাভ করুক শেষে।

চল সবাই মিলি কৃতজ্ঞতার পথে,
অহংকার রাখি দূরে চিরতরে।
প্রতিটি নিয়ামতে বলি বিনম্র প্রাণ
"
হে রব, সবই তোমার দান।"

যতদিন আকাশে সূর্য ওঠে,
যতদিন নদী সাগরে ছোটে,
ততদিন ধ্বনিত হোক বিশ্বময়
করুণা, কৃতজ্ঞতা আর মানবতার জয়।

ইয়াতীমের অশ্রু মুছে যাক,
ভিক্ষুকের অপমান থেমে থাক।
রবের অনুগ্রহে ভরে উঠুক প্রাণ,
মানবতার হোক চিরজয়গান।

হে পরম দয়াময়,
আমাদের হৃদয় করো কোমল,
আমাদের জিহ্বা করো সত্যময়,
আমাদের কর্ম করো কল্যাণময়।

তোমার দেওয়া প্রতিটি নিয়ামত
হোক ইবাদতের অনন্ত প্রেরণা;
তোমার দয়া স্মরণে কাটুক জীবন,
আর তোমার সন্তুষ্টিই হোক
আমাদের সকল প্রাপ্তির শ্রেষ্ঠ অর্জন।

***

রবের অনুগ্রহের জয়গান

মানুষের বুকে যত আলো জ্বলে,
তোমারই দয়ার প্রদীপ সে জ্বলে।
সাগরের ঢেউয়ে, গিরির চূড়ায়,
নক্ষত্রলোকের অনন্ত ছোঁয়ায়,
তোমারই করুণা লিখেছে নীরবে
সৃষ্টির প্রতিটি বিস্ময়ের রবে।

প্রথম যে সূর্য উঠেছিল ভোরে,
প্রথম যে শিশির ঝরেছিল ঘাসে,
প্রথম যে পাখি ডেকেছিল গানে,
প্রথম যে মানুষ নত হয়েছিল প্রাণে
সবই তোমার অনন্ত নির্দেশ,
সবই তোমার মহিমার আবেশ।

হে দয়াময়!
তোমার দানের নেই তো শেষ,
গণনা করতে হারায় পরিবেশ।
আকাশের তারার চেয়েও বেশি,
সমুদ্রের বালুর চেয়েও রাশি,
পাতার শিরায়, ফুলের ঘ্রাণে,
তোমার অনুগ্রহ গোপনে টানে।

তাই বলেছ
ইয়াতীম যেন না কাঁদে কারও তিরস্কারে,
অভাবী যেন না ফেরে অপমানে।
কারণ তাদের অশ্রুতে আছে
অদেখা আরশের আহ্বান;
তাদের দীর্ঘশ্বাসে কেঁপে ওঠে
করুণাময়ের অশেষ দান।

যে শিশুর কপালে নেই পিতার চুম্বন,
তার হাসিটুকু ফিরিয়ে দাও।
যে চোখ হারিয়েছে আপনজন,
তার চোখে আশার দীপ জ্বালাও।

তোমার হাত হোক তার মাথার ছায়া,
তোমার মুখ হোক স্নেহের মায়া।
তোমার ঘর হোক তার আপন ঠিকানা,
তোমার হৃদয় হোক নিরাপদ খানা।

মনে রেখো
রাস্তার ধারে যে হাতটি ওঠে,
সে হাত লোভের নয় সবখানে;
কখনো সে ক্ষুধার, কখনো অসুখের,
কখনো জীবনের হারানো গানের।

যদি কিছু না থাকে দেওয়ার,
একটি সালাম দাও।
একটি মিষ্টি বাক্য দাও।
একটি সহানুভূতির দৃষ্টি দাও।
কারণ কোমল আচরণের মূল্য
সোনার পাহাড়ের চেয়েও মহৎ

হৃদয়ের দানই
সর্বশ্রেষ্ঠ দান।
সম্মানের দানই
সর্বোচ্চ সম্মান।

তারপর রব বলেন
"
আমার অনুগ্রহের কথা বলো।"

বলব কীভাবে?
ভাষা তো সীমিত,
আর তোমার দয়া অসীম।
কলম তো ক্ষুদ্র,
আর তোমার মহিমা অপরিমেয়।

তবু বলি
তুমি না চাইতেই দিয়েছ জীবন,
চাইবার আগেই দিয়েছ বাতাস।
অন্ধকারের আগে দিয়েছ আলো,
ক্ষুধার আগে দিয়েছ শস্য,
তৃষ্ণার আগে দিয়েছ নদী,
একাকীত্বের আগে দিয়েছ পরিবার,
অজ্ঞতার আগে পাঠিয়েছ ওহীর নূর।

তুমি দিয়েছ কুরআনের আলো,
যা যুগে যুগে হৃদয় জাগায়।
দিয়েছ ঈমানের মশাল,
যা মৃত্যুকেও ভয় পায় না।

দিয়েছ বিবেক,
যা সত্যকে চিনতে শেখায়।
দিয়েছ অন্তর,
যেখানে ভালোবাসা জন্মায়।
দিয়েছ অশ্রু,
যাতে তাওবার নদী বয়ে যায়।
দিয়েছ হাসি,
যাতে পৃথিবী আশায় ভরে ওঠে।

হে পালনকর্তা!
তুমি যদি এক মুহূর্ত
রহমতের দরজা বন্ধ করে দাও,
তবে সূর্য আলো দিতে পারে না,
বৃষ্টি ঝরতে পারে না,
বীজ অঙ্কুরিত হতে পারে না,
মানুষ বাঁচতে পারে না।

তাই তো প্রতিটি নিঃশ্বাস বলে
আলহামদুলিল্লাহ।

প্রতিটি প্রভাত বলে
আলহামদুলিল্লাহ।

প্রতিটি সন্ধ্যা বলে
আলহামদুলিল্লাহ।

প্রতিটি সফলতা বলে
আলহামদুলিল্লাহ।

প্রতিটি পরীক্ষাও বলে
আলহামদুলিল্লাহ।
কারণ পরীক্ষার ভেতরেও
লুকিয়ে থাকে রহমতের বীজ।

শুকরিয়া কেবল উচ্চারিত শব্দ নয়,
এক জীবনদর্শন।
এক বিনয়ের বিদ্যালয়।
এক আত্মার পরিশুদ্ধি।
এক ঈমানের দীপ্ত শিখা।

যে শুকরিয়া জানে,
সে অহংকার জানে না।
যে কৃতজ্ঞ,
সে হিংসা জানে না।
যে রবকে স্মরণ করে,
সে মানুষকে অবহেলা করে না।

তাই এসো
আমরা অনুগ্রহের ভাষা শিখি।
করুণার বর্ণমালা শিখি।
মানবতার ছন্দ শিখি।
দয়ার কবিতা লিখি।

এমন এক সমাজ গড়ি,
যেখানে ইয়াতীম হাসবে।
অভাবী সম্মান পাবে।
ধনী হবে বিনয়ী।
জ্ঞানী হবে নম্র।
ক্ষমতাবান হবে ন্যায়বান।
আর প্রতিটি ঘরে প্রতিধ্বনিত হবে

"সব প্রশংসা সেই মহান রবের,
যাঁর অনুগ্রহে পৃথিবী প্রস্ফুটিত,
যাঁর রহমতে আকাশ আলোকিত,
যাঁর দয়ায় মানুষের হৃদয় সজীব,
যাঁর হিদায়াতে জীবন অর্থময়।

তাঁরই অনুগ্রহ আমাদের শক্তি,
তাঁরই অনুগ্রহ আমাদের আশ্রয়,
তাঁরই অনুগ্রহ আমাদের সম্মান,
তাঁরই অনুগ্রহ আমাদের মুক্তি,
তাঁরই অনুগ্রহ আমাদের চিরন্তন সফলতা।

যতদিন সূর্য পূর্বাকাশে উদিত হবে,
যতদিন চাঁদ রাত্রির বুকে হাসবে,
যতদিন মানুষের হৃদয়ে বিবেক জাগ্রত থাকবে,
ততদিন ধ্বনিত হোক এক অমর আহ্বান

ইয়াতীমকে ভালোবাসো।
অভাবীকে সম্মান দাও।
রবের অনুগ্রহ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করো।
আর সমস্ত প্রশংসা একমাত্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহরই।


***

 

রবের অনুগ্রহ

নিশীথ শেষে পূর্বাকাশে
অরুণরেখা হাসে,
ঘুমভাঙা সেই আলোর ছোঁয়ায়
জাগে ধরার ঘাসে।
পাখির কণ্ঠে ভোরের বন্দনা,
নদীর বুকে ঢেউ,
মলয়বায়ু বলে যায়
"
দয়ার শেষ নেই কেউ।"

সূর্য ওঠে সোনার রথে,
দিনের দ্বার খোলে;
রাত্রিভেজা শিশিরবিন্দু
মুক্তা হয়ে দোলে।
অদৃশ্য এক স্নেহের পরশ
ভরে আকাশ-বাতাস,
সৃষ্টিজগৎ গেয়ে ওঠে
অসীম কৃতজ্ঞতার সুবাস।

কে দিল আলো?
কে দিল প্রাণ?
কে দিল চোখে দেখা?
কে দিল ভাষা,
ভালোবাসা,
হৃদয় ভরা লেখা?

কে দিল মায়ের কোমল কোলে
নিরাপদের ঘুম?
কে দিল বাবার কাঁধের উপর
স্বপ্ন-ছোঁয়া ঝুম?

কে দিল নদী,
কে দিল সাগর,
কে দিল নীল গগন?
কে দিল বুকে বিবেকের দীপ,
ঈমানের স্পন্দন?

তিনিবিশ্বজগতের রব,
অনন্ত দয়ার স্রষ্টা;
অশেষ অনুগ্রহের সাগর,
করুণাধারার উৎস।

তাঁরই দানে শস্য ফলে,
তাঁরই দানে ফুল;
তাঁরই নামে ভাঙে আঁধার,
মুছে হৃদয়ের ভুল।

তিনি যখন বলেন
"
ইয়াতীমকে কষ্ট দিও না",
তখন শুধু একটি শিশুর কথা নয়,
মানবতার ভবিষ্যৎ
আমাদের হাতে অর্পিত হয়।

যে শিশু হারিয়েছে
পিতার ছায়া,
সে যেন না হারায়
মানুষের মায়া।
যে চোখ দেখেছে
বেদনার রাত,
সে যেন দেখে
ভালোবাসার প্রভাত।

একটি স্নেহমাখা হাত
শত সম্পদের চেয়ে বড়;
একটি মধুর সম্বোধন
অসংখ্য উপহারেরও পর।

তাই হৃদয় খুলে দাও,
অহংকার দূরে সরাও;
যে কাঁদে নীরবে,
তার অশ্রু মুছে দাও।

আর যদি কোনো অভাবী
তোমার দুয়ারে আসে,
তার দারিদ্র্য নয়,
তার মর্যাদা দেখো আগে।

ধন দিতে না পারো,
সম্মান দাও;
অন্ন দিতে না পারো,
আশ্বাস দাও।
শব্দ হোক কোমল,
দৃষ্টি হোক নির্মল,
আচরণ হোক
রহমতের অবিরল জল।

মানুষের হৃদয়
কাঁচের চেয়েও ভঙ্গুর,
তিরস্কারের একটি শব্দ
কখনো হয়ে যায়
আজীবনের ক্ষতচিহ্ন।

তাই কথা বলো ফুলের মতো,
চলো নদীর স্রোতে;
স্নেহের ভাষা শিখে নাও
প্রতিটি দিনের প্রভাতে।

এরপর আসে
আকাশভরা সেই আহ্বান

"তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহের কথা ব্যক্ত করো।"

কিন্তু কীভাবে বলি,
হে আমার রব!
তোমার দানের হিসাব
কোন ভাষায় ধরি?

সমুদ্র যদি কালি হয়,
অরণ্য যদি কলম,
তবু কি লেখা শেষ হবে
তোমার দয়ার পরম?

একটি নিঃশ্বাস
তোমার দান।
একটি হৃদস্পন্দন
তোমার দান।
এক ফোঁটা অশ্রু,
এক চিলতে হাসি,
একটি তাওবার ডাক,
একটি ক্ষমার আশ্বাস
সবই তোমার অনুগ্রহ।

তাই আমি গর্ব করি না,
আমি কৃতজ্ঞ হই।
আমি অহংকারে মাথা তুলি না,
আমি সিজদায় নত হই।

আমার জ্ঞান তোমার দান,
আমার শক্তি তোমার দান,
আমার ভাষা তোমার দান,
আমার জীবন তোমার দান।

যা কিছু সুন্দর,
সব তোমার;
যা কিছু কল্যাণ,
সব তোমার;
যা কিছু সত্য,
সব তোমার;
যা কিছু পবিত্র,
সব তোমার।

এই বিশ্বাস নিয়েই
আমি পথ চলি,
এই কৃতজ্ঞতা নিয়েই
আমি জীবন গড়ি।

যতদিন প্রভাত জাগবে,
যতদিন সূর্য উঠবে,
যতদিন মানুষের হৃদয়ে
করুণার প্রদীপ জ্বলবে,
ততদিন ধ্বনিত হবে
এক অনন্ত জয়ধ্বনি

ইয়াতীমকে ভালোবাসো,
অভাবীকে সম্মান দাও,
রবের প্রতিটি নিয়ামতের
কৃতজ্ঞ স্মরণে জীবন সাজাও।

***

নিয়ামতের মহিমা

যে প্রাতে সূর্য ওঠে
রাঙা আলোর মালা পরে,
যে সন্ধ্যায় চাঁদ হাসে
নক্ষত্রভরা নীল ঘরে,
যে বৃষ্টিধারা নেমে আসে
শুষ্ক ধরার বুকে,
যে বাতাস প্রাণ জাগায়
ক্লান্ত জীবের সুখে

সবই তো তোমার দান,
হে বিশ্বপালনকর্তা মহান।
তোমার অনুগ্রহ ছাড়া
শূন্য বিশ্বপ্রাণ।

তুমি বলেছ
"
তোমার রবের অনুগ্রহের কথা ব্যক্ত করো।"

আমি তাই বলি,
গর্বের ভাষায় নয়,
অহংকারের উচ্চারণে নয়,
নত হৃদয়ের কৃতজ্ঞ সুরে,
অশ্রুসিক্ত বিনয়ভরা কণ্ঠে।

তুমি দিয়েছ
জন্মের আলো,
মায়ের স্নেহ,
বাবার ছায়া,
পরিবারের মমতা,
বন্ধুত্বের বিশ্বাস,
জীবনের প্রত্যেকটি
আশার প্রদীপ।

তুমি দিয়েছ
চোখ
যাতে দেখি তোমার সৃষ্টি।
কান
যাতে শুনি সত্যের আহ্বান।
জিহ্বা
যাতে উচ্চারণ করি
তোমারই পবিত্র নাম।
হৃদয়
যাতে ভালোবাসি
তোমার বান্দাদের।

তুমি দিয়েছ
পৃথিবীর শস্য,
আকাশের বৃষ্টি,
নদীর কলতান,
সমুদ্রের গর্জন,
পাহাড়ের স্থিরতা,
বনের সবুজ,
ফুলের সুবাস,
ফলের মাধুর্য,
পাখির কূজন,
ভোরের আলো,
রাত্রির প্রশান্তি।

এসবের কোনোটিই
আমার কৃতিত্ব নয়;
সবই তোমার
অপরিসীম অনুগ্রহ।

হে রব!
আমি যখন পথ হারাই,
তুমি পথ দেখাও।
আমি যখন দুর্বল হই,
তুমি শক্তি দাও।
আমি যখন দুঃখে ভেঙে পড়ি,
তুমি আশার দুয়ার খোলো।
আমি যখন ভুল করি,
তুমি ক্ষমার বারিধারা বর্ষাও।

তোমার রহমত
মায়ের স্নেহকেও ছাড়িয়ে যায়।
তোমার ক্ষমা
সমুদ্রের গভীরতাকেও অতিক্রম করে।
তোমার দয়া
আকাশের বিস্তারেরও অতীত।

তাই আমার কণ্ঠে
একটাই গান
আলহামদুলিল্লাহ।

সুখে
আলহামদুলিল্লাহ।
দুঃখে
আলহামদুলিল্লাহ।
প্রাচুর্যে
আলহামদুলিল্লাহ।
অভাবে
আলহামদুলিল্লাহ।
স্বাস্থ্যে
আলহামদুলিল্লাহ।
পরীক্ষাতেও
আলহামদুলিল্লাহ।

কারণ আমি জানি,
প্রতিটি অবস্থার আড়ালে
তোমারই প্রজ্ঞা,
তোমারই মঙ্গল,
তোমারই অশেষ কল্যাণ।

যে মানুষ
নিয়ামতের শোকর করে,
তার হৃদয়ে
অহংকার জন্মায় না।
যে মানুষ
তোমার দান স্মরণ করে,
সে অন্যের প্রাপ্য
কখনো হরণ করে না।

সে ইয়াতীমকে
বুকে টেনে নেয়।
সে অভাবীকে
অপমান করে না।
সে দুর্বলকে
অবহেলা করে না।
সে ক্ষমতাকে
অত্যাচারে নয়,
ন্যায়ে ব্যবহার করে।

এমন মানুষই
তোমার প্রিয় বান্দা।

হে দয়াময়!
আমাদের জীবনকে
কৃতজ্ঞতার বাগানে রূপ দাও।
আমাদের হৃদয়কে
বিনয়ের সাগরে ভাসাও।
আমাদের কর্মকে
সত্যের দীপশিখায় আলোকিত করো।
আমাদের জিহ্বাকে
শুকরিয়ার সুবাসে ভরিয়ে দাও।

যাতে পৃথিবীর প্রতিটি দিন
তোমার প্রশংসায় শুরু হয়,
তোমার স্মরণে শেষ হয়,
আর প্রতিটি নিঃশ্বাস
সাক্ষ্য দেয়

তুমি ছাড়া কোনো দাতা নেই,
তুমি ছাড়া কোনো আশ্রয় নেই,
তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই,
সব প্রশংসা,
সব কৃতজ্ঞতা,
সব মহিমা
একমাত্র তোমারই।

মন্তব্য করুন

ব্লগ