Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:২০ পূর্বাহ্ণ

পরিবেশের ধ্বংসলীলা থেকে উত্তরণ

★★★পরিবেশ ধ্বংসের মূল উৎসসমূহ

পরিবেশকে মুক্ত করার উপায় খোঁজার আগে এর ধ্বংসের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করা প্রয়োজন। অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়ন, অতিরিক্ত জীবাশ্ম জ্বালানির (কয়লা ও তেল) ব্যবহার এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তন তীব্র রূপ নিয়েছে। এর পাশাপাশি কৃত্রিম পলিমার বা প্লাস্টিকের যত্রতত্র ব্যবহার মাটি ও পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে। কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের প্রয়োগ মাটির উর্বরতা নষ্ট করার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যকে বিপন্ন করছে।

★★★​ধ্বংসলীলা থেকে মুক্তির উপায়

পরিবেশকে এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মুক্ত করতে হলে আমাদের জীবনযাত্রায় এবং রাষ্ট্রীয় নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি। নিচে প্রধান কিছু করণীয় আলোচনা করা হলো:

(১)বনায়ন ও সবুজায়ন বৃদ্ধি: পরিবেশ রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হলো গাছ। নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করার পাশাপাশি ব্যাপক হারে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। দেশের মোট ভূখণ্ডের অন্তত ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা আবশ্যক, যা প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও অক্সিজেনের জোগান নিশ্চিত করবে।

(২)নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার: কয়লা বা পেট্রোলিয়ামের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও জলবিদ্যুতের মতো পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এটি কার্বন নিঃসরণ বহুলাংশে কমিয়ে আনবে।

(৩)বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও থ্রি-আর (3R) নীতি: প্লাস্টিক ও অন্যান্য ক্ষতিকারক বর্জ্য পরিবেশ ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ। এই সংকট মোকাবিলায় 'Reduce' (ব্যবহার কমানো), 'Reuse' (পুনর্ব্যবহার) এবং 'Recycle' (পুনর্ব্যবহারোপযোগী করা) নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পলিথিনের পরিবর্তে পাটের ব্যাগ বা পচনশীল উপাদানের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা সময়ের দাবি।

(৪)পরিবেশবান্ধব কৃষি: রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে জৈব কৃষির (Organic Farming) ওপর জোর দিতে হবে। প্রাকৃতিক উপায়ে পোকামাকড় দমন এবং জৈব সার ব্যবহার করলে মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানির দূষণ রোধ করা সম্ভব।

(৫)আইনের কঠোর প্রয়োগ ও সচেতনতা: পরিবেশ রক্ষায় বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। জলাশয় ভরাট, পাহাড় কাটা এবং কলকারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা বন্ধে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। তবে কেবল আইন দিয়ে সব সম্ভব নয়; সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে হবে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ