Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৬ জুলাই, ২০২৬ ০৬:০৬ পূর্বাহ্ণ

অন্ত্রের জটিল রোগের চিকিৎসায় বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর নতুন গবেষণা

আমাদের পাকস্থলী ও অন্ত্রের ভেতর কোটি কোটি স্নায়ুকোষের বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় এন্টারিক নার্ভাস সিস্টেম। বিজ্ঞানীরা একে মানুষের দ্বিতীয় মস্তিষ্কও বলেন। এই জটিল স্নায়ুতন্ত্র আমাদের পরিপাকতন্ত্রের চলাচল, খাবার থেকে পুষ্টি শোষণ ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে জন্মগত কারণে বা অন্য কোনো সমস্যায় এই স্নায়ুতন্ত্র ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে মারাত্মক সব রোগ দেখা দেয়। বিশেষ করে হির্শস্প্রুং নামে রোগে শিশুদের অন্ত্রের স্নায়ু অকেজো হয়ে যায়। এর একমাত্র চিকিৎসা এখন পর্যন্ত শুধু অপারেশন। এই অপারেশনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে ফেলা হয়। কিন্তু এতে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হন না। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা থেকেই যায়।

এই সমস্যার এক অভিনব সমাধান খুঁজে পেয়েছেন যুক্তরাষ্টের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ও বাংলাদেশি বিজ্ঞানী আহমেদ আয়েদুর রহমান। তাঁর নতুন গবেষণা অটোলোগাস এন্টারিক নিউরাল স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অন্ত্রের স্নায়ুতন্ত্র পুনর্গঠনের সম্ভাবনা দেখিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অন্ত্রের স্বাভাবিক গতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। প্রচলিত অস্ত্রোপচারনির্ভর চিকিৎসার বাইরে একটি জৈবিক সমাধানের ধারণা চিকিৎসাবিজ্ঞানে বড় অগ্রগতি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

আহমেদ আয়েদুর রহমান অপটোজেনেটিকস প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্ত্রের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের একটি অভিনব পদ্ধতিও দেখিয়েছেন। সেলুলার অ্যান্ড মলিকুলার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজি জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কোলিনার্জিক নিউরনকে নীল আলো দিয়ে উদ্দীপিত করলে কোলাইটিসের প্রদাহ কমে। এটি ওষুধনির্ভর চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ভবিষ্যতে বায়োইলেকট্রনিক থেরাপির পথ তৈরি করতে পারে

মন্তব্য করুন