সহকারী শিক্ষক
০৬ জুলাই, ২০২৬ ০৬:১৩ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বিশ্বজুড়ে প্রায় সব দেশেই নারীদের গড় আয়ু পুরুষদের চেয়ে বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নারীরা সাধারণত পুরুষদের তুলনায় ৪ থেকে ৫ বছর বেশি বাঁচেন। পুরুষদের কম দিন বাঁচার পেছনে কেবল একটি একক কারণ নেই, বরং জীববিজ্ঞান, জীবনযাত্রা এবং মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ের একটি সম্মিলিত প্রভাব রয়েছে।
প্রধান কারণগুলোকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
প্রকৃতিগতভাবেই নারীরা কিছু শারীরিক সুবিধা নিয়ে জন্মায়, যা তাদের দীর্ঘায়ু হতে সাহায্য করে:
ক্রোমোজোমের প্রভাব: নারীদের শরীরে দুটি 'X' ক্রোমোজোম ($XX$) থাকে, পক্ষান্তরে পুরুষদের থাকে একটি 'X' ও একটি 'Y' ক্রোমোজোম ($XY$)। যদি নারীদের কোনো একটি X ক্রোমোজোমে কোনো জিনগত ত্রুটি বা রোগ থাকে, তবে অন্য X ক্রোমোজোমটি তা পূরণ করতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ থাকে না, ফলে তারা কিছু জন্মগত ও জিনগত রোগে সহজেই আক্রান্ত হয়।
হরমোনের ভূমিকা (এস্ট্রোজেন বনাম টেস্টোস্টেরন): নারীদের প্রধান হরমোন এস্ট্রোজেন (Estrogen) একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং রক্তনালীকে নমনীয় রাখে। এটি নারীদের হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় (অন্তত মেনোপজ বা ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার বয়স পর্যন্ত)। অন্যদিকে, পুরুষদের হরমোন টেস্টোস্টেরন (Testosterone) অনেক সময় আগ্রাসী মনোভাব বাড়ায় এবং শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
পুরুষদের কিছু প্রাত্যহিক অভ্যাস এবং কাজের ধরন তাদের আয়ু কমিয়ে দেয়:
ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা: টেস্টোস্টেরন হরমোনের প্রভাব এবং সামাজিক কাঠামোর কারণে পুরুষদের মধ্যে বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়ানোর প্রবণতা বেশি থাকে। সড়ক দুর্ঘটনা, মারামারি বা উগ্র খেলাধুলার কারণে পুরুষদের অকাল মৃত্যুর হার অনেক বেশি।
পেশাগত ঝুঁকি: যুদ্ধক্ষেত্র, খনি, নির্মাণকাজ, ভারী কলকারখানা বা অগ্নিনির্বাপণের মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পেশাগুলোতে এখনো বিশ্বজুড়ে পুরুষরাই বেশি কাজ করেন। ফলে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পুরুষরাই বেশি মারা যান।
অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস: পরিসংখ্যান বলে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে ধূমপান, মদ্যপান এবং অন্যান্য মাদক গ্রহণের হার অনেক বেশি। এই অভ্যাসগুলো লিভার সিরোসিস, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং হৃদরোগের মূল কারণ।
ডাক্তারের কাছে যাওয়া এবং মানসিক চাপ প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের মধ্যে এক ধরণের অনীহা দেখা যায়:
ডাক্তার দেখানোর অনীহা: পুরুষরা সাধারণত অসুস্থতা সহজে স্বীকার করতে চান না বা ডাক্তারের কাছে যেতে অলসতা করেন। রোগ যখন একদম শেষ পর্যায়ে চলে যায়, তখন তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ফলে অনেক রোগ প্রথম দিকে ধরা পড়ে না।
মানসিক চাপ চেপে রাখা: সমাজ পুরুষদের শেখায় "কান্না করা বা দুর্বলতা প্রকাশ করা যাবে না"। এই সামাজিক চাপের কারণে পুরুষরা তাদের মানসিক কষ্ট বা বিষণ্ণতা ভেতরে চেপে রাখেন। এর ফলে তাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক এবং আত্মহত্যার প্রবণতা নারীদের চেয়ে বেশি দেখা যায়।
সহজ কথায়: প্রকৃতি নারীদের শরীরকে রোগবালাই প্রতিরোধী করে গড়ে তুলেছে বেশি, আর অন্যদিকে পুরুষদের জীবনযাত্রা, ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব তাদের গড় আয়ু কমিয়ে দেয়।
১৩
১৮ মন্তব্য