সহকারী শিক্ষক
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ: রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা—সহজে জানুন, গভীরভাবে বুঝুন ( অষ্টম শ্রেণী)
বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা
প্রতিটি পাঠের বিস্তারিত সারাংশ ও বিশ্লেষণ
📘 পাঠ-১: সরকারের শ্রেণিবিভাগ
সরকার কী এবং কেন দরকার?
সরকার হলো রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি ইঞ্জিন ছাড়া গাড়ি চলে না, ঠিক তেমনি সরকার ছাড়া রাষ্ট্র চলে না। নাগরিকদের খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা সবই সরকারের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়।
সরকারের ৪টি শ্রেণিবিভাগ (পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ):
সার্বভৌম ক্ষমতার অবস্থান
গণতন্ত্র
বাংলাদেশ, ভারত
সার্বভৌম ক্ষমতার অবস্থান
একনায়কতন্ত্র
উত্তর কোরিয়া
রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতার উৎস
রাজতন্ত্র (নিয়মতান্ত্রিক)
গ্রেট ব্রিটেন
রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতার উৎস
প্রজাতন্ত্র
বাংলাদেশ
ক্ষমতা বণ্টনের নীতি
এককেন্দ্রিক
বাংলাদেশ
ক্ষমতা বণ্টনের নীতি
যুক্তরাষ্ট্রীয়
ভারত, যুক্তরাষ্ট্র
আইন ও শাসনবিভাগের সম্পর্ক
সংসদীয়
বাংলাদেশ
আইন ও শাসনবিভাগের সম্পর্ক
রাষ্ট্রপতিশাসিত
যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্লেষণ: গণতন্ত্রে জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক তারা ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচন করে। একনায়কতন্ত্রে জনগণের মতের কোনো মূল্য নেই একজন বা একটি দল ইচ্ছামতো রাষ্ট্র পরিচালনা করে। তাই গণতন্ত্রকে সর্বোত্তম শাসনব্যবস্থা বলা হয়।
📝 পাঠের কাজ
কাজ-১: সরকার পদ্ধতির ধরনগুলো একটি পোস্টার/পেপারে চার্ট আকারে উপস্থাপন করে শ্রেণিকক্ষে দেয়ালে ঝুলিয়ে দাও।
পরামর্শ: একটি বড় কাগজে মাঝে "সরকার" লিখে তীর চিহ্ন দিয়ে গণতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র; তারপর রাজতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র; এককেন্দ্রিক, যুক্তরাষ্ট্রীয়; সংসদীয়, রাষ্ট্রপতিশাসিত এভাবে ভাগ করে রঙিন মার্কার দিয়ে সুন্দর চার্ট তৈরি করো।
📘 পাঠ-২: বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক কোনো প্রদেশ নেই, একটি কেন্দ্র থেকেই সব শাসনকার্য পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য:
• সংসদীয় পদ্ধতি: মন্ত্রিপরিষদ শাসিত প্রকৃত শাসন ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে
• এককেন্দ্রিক: একটি মাত্র কেন্দ্র থেকে সব পরিচালিত হয়
• প্রজাতান্ত্রিক: রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত বংশ পরম্পরায় নয়
• গণতান্ত্রিক: জনগণের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন
বিশ্লেষণ: সংসদীয় সরকারে প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে ক্ষমতাশালী। মন্ত্রিপরিষদ রাষ্ট্রের যেকোনো নির্বাহী কার্য সম্পাদনের জন্য আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকে। রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার (যেমন যুক্তরাষ্ট্র) থেকে এটি আলাদা সেখানে রাষ্ট্রপতি নিজেই প্রধান শাসক এবং আইনসভার কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ নন।
📝 পাঠের কাজ
কাজ-১: "বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র" দুটি উদাহরণের সাহায্যে প্রমাণ করো।
ক্ষেতের জন্য পরামর্শ: উদাহরণ দুটি হতে পারে (১) জনগণ ভোট দিয়ে সরকার নির্বাচন করে এবং (২) সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের অধিকার আছে। প্রতিটি উদাহরণ ২-৩ বাক্যে বিস্তারিত লেখো।
📘 পাঠ-৩: বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি
১৯৭২ সালের মূল সংবিধান ও পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ৪টি মূলনীতি:
১. জাতীয়তাবাদ
একই ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বাঙালি জাতির মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য সৃষ্টি করেছে। সংবিধানে বলা হয়েছে — একই ভাষা ও সংস্কৃতিতে আবদ্ধ বাঙালি জাতি যে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সেই ঐক্যই বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।
বিশ্লেষণ: আমরা বাঙালি — এই পরিচয়ই আমাদের এক করে। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত এই জাতীয় ঐক্যই আমাদের স্বাধীনতার শক্তি ছিল।
২. সমাজতন্ত্র
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমতা আনার মাধ্যমে সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এটি রাষ্ট্রের মূলনীতি।
বিশ্লেষণ: এখানে সমাজতন্ত্র মানে সোভিয়েত ধাঁচের কমিউনিজম নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার — অর্থাৎ ধনী-গরিবের বৈষম্য কমিয়ে সবার মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা।
৩. গণতন্ত্র
রাষ্ট্রের সকল কাজে নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে; মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।
৪. ধর্মনিরপেক্ষতা
রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে এবং ধর্ম পালনে কেউ কাউকে বাধা দেবে না।
বিশ্লেষণ: ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ ধর্মহীনতা নয়, বরং রাষ্ট্র কোনো বিশেষ ধর্মকে প্রশ্রয় দেবে না — সব ধর্মকে সমান মর্যাদা দেবে।
📝 পাঠের কাজ
কাজ: গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা — এ দুটি মূলনীতি আমরা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে কীভাবে অনুসরণ করতে পারি তার দুটি করে উদাহরণ দাও।
গণতন্ত্র: শ্রেণির ক্যাপ্টেন নির্বাচনে সবার মতামত নেওয়া; দলীয় কাজে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত মানা
ধর্মনিরপেক্ষতা: ভিন্ন ধর্মের বন্ধুর উৎসবে সম্মান দেওয়া; ধর্মীয় পরিচয়ে বৈষম্য না করা
📘 পাঠ-৪: বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য
সংবিধান কী? সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দলিল ঠিক যেমন একটি ভবন তৈরিতে নকশা দরকার, তেমনি সরকার পরিচালনায় সংবিধান দরকার।
বাংলাদেশের সংবিধান রচনার ইতিহাস:
• ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন
• ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন
• ৬ মাসে খসড়া প্রণয়ন; ৩০ অক্টোবর গণপরিষদে আলোচনা
• ৪ নভেম্বর ১৯৭২ চূড়ান্ত অনুমোদন
• এ পর্যন্ত ১৭ বার সংশোধিত হয়েছে (সর্বশেষ ৮ই জুলাই ২০১৮)
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪টি প্রধান বৈশিষ্ট্য (পরীক্ষায় অতি গুরুত্বপূর্ণ):
ক্রম
বৈশিষ্ট্য
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
১.।গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার
স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র
২. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার
প্রকৃত ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে
৩. লিখিত সংবিধান
১১ ভাগে বিভক্ত, ১৫৩টি অনুচ্ছেদ
৪. রাষ্ট্রীয় মূলনীতি
জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা
৫.রাষ্ট্রধর্ম
ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্মের সমান মর্যাদা
৬. জাতি ও জাতীয়তা
বাঙালি জাতি; পরিচয় বাংলাদেশি
৭. এককেন্দ্রিক সরকার
কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা
৮. এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা
৩০০ নির্বাচিত + ৫০ সংরক্ষিত মহিলা আসন
৯. মৌলিক অধিকার
সংবিধানে নিশ্চয়তা দেওয়া অধিকার
১০. জনগণের সার্বভৌমত্ব
জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক
১১. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা
১২. সর্বজনীন ভোটাধিকার, ১৮ বছরের সকল নাগরিক ভোট দিতে পারে
১৩. নির্বাচন অনুষ্ঠান
মেয়াদ শেষে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন
১৪. সংবিধান সংশোধন
দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সংশোধন সম্ভব
📘 পাঠ-৫: বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও কাজ
সরকারের ৩টি বিভাগ (অঙ্গ):
বাংলাদেশ সরকার
├── আইনবিভাগ (জাতীয় সংসদ)
├── শাসনবিভাগ (সচিবালয়/মন্ত্রিপরিষদ)
└── বিচারবিভাগ (সুপ্রিমকোর্ট)
আইনবিভাগ (জাতীয় সংসদ):
• মোট সদস্য: ৩৫০ জন (৩০০ নির্বাচিত + ৫০ সংরক্ষিত মহিলা)
• স্পিকার পরিচালনা করেন; মেয়াদ ৫ বছর
• কাজ: আইন প্রণয়ন ও পরিবর্তন, জনমতকে প্রকাশ, সরকারের আয়-ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় বাজেট অনুমোদন
শাসনবিভাগ (সচিবালয়):
• গ্রামের চৌকিদার থেকে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যন্ত সকলেই শাসনবিভাগের অংশ
• আইনবিভাগের প্রণীত আইন বাস্তবায়ন করে
• দেশের অভ্যন্তরে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং বিদেশের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে
বিচারবিভাগ (সুপ্রিমকোর্ট):
• বিভিন্ন বিচারালয়ের বিচারকদের নিয়ে গঠিত
• সর্বোচ্চ স্তর: সুপ্রিমকোর্ট (প্রধানকে বলা হয় "বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি")
• দুটি বিভাগ: আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ
• কাজ: সংবিধান ও নাগরিক অধিকার রক্ষা, দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিচার
📝 পাঠের কাজ
কাজ-১: বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের রূপরেখার একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন তৈরি করো।
কাজ-২: নিচের ছকে সরকারের কয়েকটি কাজ উল্লেখ করা হয়েছে কোনটি কোন বিভাগের কাজ চিহ্নিত করে নিচে লেখো।
(কৃষির উন্নতির জন্য কাজ করে; মামলার মীমাংসামূলক রায় দেয়; আইন পরিবর্তন করে; দেশকে বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষা করে; অপরাধীকে শাস্তি দেয়; সংবিধান প্রণয়ন করে)
উপরের কাজগুলো থেকে আইন পরিবর্তন, সংবিধান প্রণয়ন → আইনবিভাগ; কৃষির উন্নতি, বহিঃশত্রু রক্ষা → শাসনবিভাগ; মামলার রায়, অপরাধীকে শাস্তি → বিচারবিভাগ।
পাঠ-৬: স্থানীয় সরকার কাঠামো ও কার্যাবলি
স্থানীয় সরকার কেন দরকার?
রাষ্ট্রের আয়তন বড় কেন্দ্র থেকে সব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় পর্যায়ে জননির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামো:
স্থানীয় সরকার
├── গ্রামাঞ্চল
│ ├── ইউনিয়ন পরিষদ (সর্বনিম্ন স্তর)
│ ├── উপজেলা পরিষদ
│ └── জেলা পরিষদ
└── শহরাঞ্চল
├── পৌরসভা
└── সিটি কর্পোরেশন
ইউনিয়ন পরিষদ:
• দেশে বর্তমানে ৪,৫৭৮টি ইউনিয়ন পরিষদ
• প্রতিটিতে: ১ চেয়ারম্যান + ৯ সদস্য + ৩ সংরক্ষিত মহিলা সদস্য = ১৩ জন
• কার্যকাল: ৫ বছর
উপজেলা পরিষদ:
• মোট উপজেলা পরিষদ: ৪৯৫টি
• কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত
জেলা পরিষদ:
• মোট ৬৪টি জেলা পরিষদ (কিছু মন্ত্রণালয়ের অধীনে)
• পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩ জেলা ভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে
পৌরসভা:
• বর্তমানে দেশে ৩৩১টি পৌরসভা
• ১ মেয়র + ওয়ার্ড কাউন্সিলর + সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর
সিটি কর্পোরেশন:
• বাংলাদেশে ১২টি সিটি কর্পোরেশন
• ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ
ইউনিয়ন পরিষদের কাজ:
• সার্বিক উন্নয়নের পরিকল্পনা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য, পরিবেশ পরিষ্কার, প্রাথমিক চিকিৎসা, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জমির খাজনা আদায়, অপরাধ সম্পর্কে পুলিশকে জানানো, জমির বিবাদ নিষ্পত্তি
পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের কাজ:
• বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, ভেজালমুক্ত খাদ্য বিক্রি, পরিবেশ রক্ষা, ঘরবাড়ি নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, পার্ক ও উদ্যান প্রতিষ্ঠা
📝 পাঠের কাজ
কাজ-১: তোমার নিজ ইউনিয়ন/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনের কাজের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি মূল্যায়ন করো কোন কোন ক্ষেত্রে কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে না তা চিহ্নিত করো এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নের সুপারিশ করো।
কাজ-২: তোমার এলাকার স্থানীয় সরকারের কাজ বাস্তবায়নে তুমি কীভাবে সহযোগিতা করতে পারো?
কাজ-১ এ নিজের এলাকার কথা ভাবো রাস্তার অবস্থা কেমন? পানির ব্যবস্থা আছে কি? বাজারে ভেজাল খাবার বিক্রি হয় কি? এগুলো পর্যবেক্ষণ করে লেখো। কাজ-২ তে নিজের করণীয় ঠিক করো যেমন: এলাকা পরিষ্কার রাখা, ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, স্থানীয় সমস্যা চেয়ারম্যানকে জানানো ইত্যাদি।
📘 পাঠ-৭: সরকার পরিচালনায় সুশাসন
সুশাসন কী?
সুশাসন হলো দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র বা সরকার ব্যবস্থা, যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজে দায়বদ্ধতা আছে এবং বিভিন্ন কাজ সম্পাদনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন বিদ্যমান।
সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা:
• দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত স্বার্থপরতা বন্ধ করতে
• মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে
• দারিদ্র্য দূরীকরণ ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে
• ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায়
• দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে
সুশাসনের প্রতিবন্ধকতা:
দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, জবাবদিহিতার অভাব, দায়িত্বহীনতা এগুলো সুশাসনের পথে বাধা।
বিশ্লেষণ: সুশাসন মানে শুধু ভালো সরকার নয়, ভালো নাগরিকও দরকার। আমরা যদি নিজেরা দুর্নীতি না করি, নিয়ম মেনে চলি, সৎভাবে কাজ করি তাহলেই সুশাসন সম্ভব। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে সমৃদ্ধশালী ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসাবে গড়তে আমাদের দায়িত্বশীল হতে হবে।
📝 পাঠের কাজ
কাজ: বাংলাদেশের সরকার পরিচালনায় সুশাসনের গুরুত্ব চিহ্নিত করো।
ক্ষেতের জন্য পরামর্শ: কমপক্ষে ৫টি গুরুত্ব উল্লেখ করো যেমন: দুর্নীতি কমে, মানুষের আস্থা বাড়ে, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, বিদেশি বিনিয়োগ আসে, নাগরিকদের জীবনমান উন্নত হয়। প্রতিটি পয়েন্ট ১-২ বাক্যে ব্যাখ্যা করো।
সামগ্রিক পরিচ্ছেদ-ভিত্তিক মূল পয়েন্ট সারণি
পাঠের মূল বিষয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
পাঠ-১
সরকারের শ্রেণিবিভাগ
৪ ভিত্তিতে ৮ ধরনের সরকার
পাঠ-২
বাংলাদেশের সরকার
সংসদীয়, গণতান্ত্রিক, এককেন্দ্রিক
পাঠ-৩
রাষ্ট্রীয় মূলনীতি
জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা
পাঠ-৪
সংবিধানের বৈশিষ্ট্য
১৪টি বৈশিষ্ট্য; ১৭ বার সংশোধিত
পাঠ-৫
সরকারের ৩ অঙ্গ
আইন, শাসন, বিচারবিভাগ
পাঠ-৬
স্থানীয় সরকার
ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন
পাঠ-৭
সুশাসন
দুর্নীতিমুক্ত ও দায়বদ্ধ শাসন
সাগর কর্মকার
সহকারী শিক্ষক
বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল, হবিগঞ্জ।
১
১ মন্তব্য