সহকারী অধ্যাপক
০৮ জুলাই, ২০২৬ ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ণ
চিরস্থায়ী জান্নাতের আহ্বান - মোঃ মুজিবুর রহমান
চিরস্থায়ী জান্নাতের আহ্বান
"বলুন, এটাই শ্রেয়, না স্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে মুত্তাকীদেরকে?"
— সূরা আল-ফুরকান : ১৫
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
জীবনের পথে কত যে ডাকে
রঙিন সুখের মেলা,
ক্ষণিক হাসির ঝলমল আলো,
ভেতরটা কত ফাঁকা।
আজ যে প্রাসাদ আকাশ ছোঁয়,
কালই হবে ধূলি;
ক্ষমতার মুকুট ঝরে পড়ে,
থাকে না কোনো বুলি।
ধন-সম্পদের অহংকারও
সময় করে ক্ষয়,
যে হৃদয়ে নেই রবের ভয়,
সেখানে শান্তি নয়।
মানুষ ছুটে মরীচিকার পিছে,
ভেবে পাবে সুখ;
শেষ বিকেলে ফিরে দেখে,
শূন্য দু'হাত বুক।
তখন আসে প্রশ্ন নীরব—
কী ছিল জীবনের জয়?
যা ছিল শুধু চোখের মোহ,
তা কি সত্যময়?
কুরআনের সেই চিরন্তন ডাক
জাগায় অন্তর প্রাণ,
"বলো তো তবে, কোনটি শ্রেয়—
ক্ষণিক আগুন, না জান্নাতের স্থান?"
মুত্তাকীর পথ কণ্টকভরা,
তবু সে হাসিমুখে চলে;
কারণ তার বিশ্বাস গাঁথা
রবের অটল বলে।
তাকওয়া মানে শুধু ভয় নয়,
প্রেমে ভেজা মন;
গোপন ঘরে, জনসমক্ষে
একই থাকে জীবন।
সত্যের ডাকে সাড়া দেওয়া,
মিথ্যাকে বলা "না";
অন্যায়ের কাছে মাথা নত
না করা কোনো দিন আর।
ক্ষমা যার শক্তি হয়ে ওঠে,
রাগ নয় পরিচয়;
অসহায়ের চোখের জলে
সে খুঁজে পায় দায়।
এতিম শিশুর মুখের হাসি
যার হৃদয়ের ধন,
প্রতিবেশীর কষ্ট দেখলে
কেঁপে ওঠে মন।
যে শ্রমিকের ঘামে ভিজে
গড়ে সভ্যতার ঘর,
তার প্রাপ্য দিতে দেরি করে না—
এটাই ঈমানের স্বর।
বৃদ্ধ মায়ের কাঁপা হাতে
ধরে ভালোবাসা,
বাবার দোয়ায় খুঁজে নেয় সে
জীবনেরই ভাষা।
অহংকারের উঁচু মিনার
ভেঙে দেয় যে প্রাণ,
বিনয়ের ছোট্ট কুঁড়েঘরেই
নেমে আসে রহমান।
মুত্তাকীরা জানে ভালো
পৃথিবী ক্ষণিক পথ,
চিরস্থায়ী গন্তব্য তাদের
রবের দয়ার রথ।
জান্নাত কোনো কল্পকথা নয়,
নয় কোনো উপাখ্যান;
এ আল্লাহর অটল ওয়াদা,
বিশ্বাসীর সম্মান।
সেখানে নেই বিদ্বেষ কোনো,
নেই হিংসার ছায়া;
শান্তির নদী বয়ে চলে
রহমতেরই মায়া।
সেখানে ক্লান্তি ছুঁতে পারে না,
নেই মৃত্যুর ভয়;
চির বসন্তের সুবাস বয়ে
অনন্ত সুখময়।
যেখানে কথা হবে সালাম,
মুখে থাকবে নূর,
আনন্দ ভাসবে হৃদয় জুড়ে,
শেষ হবে না সুর।
জাহান্নামের আগুন ডাকে
অবাধ্যতার পথ,
জান্নাত ডাকে আনুগত্যে,
সত্যের পবিত্র রথ।
তাই হে মানুষ, ভাবো একবার,
কোনটি সত্যি শ্রেয়?
ক্ষণিক সুখের মরুভূমি,
নাকি জান্নাত চিরঅক্ষয়?
আজও সময় আছে হাতে,
ফিরে এসো রবের পানে;
তওবা, আমল, তাকওয়া নিয়ে
চলো নূরের টানে।
যে হৃদয়ে কুরআনের আলো,
সে হৃদয় হারায় না;
রবের প্রতিশ্রুত জান্নাতের পথ
কখনো অন্ধকার হয় না।
চল সবাই সেই পথ ধরি,
সত্যকে করি সাথী;
মুত্তাকীদের কাতারে যেন
লেখা হয় আমাদের গাথা।
শেষ বিচারে একটাই প্রশ্ন—
কী নিয়ে ফিরব ঘরে?
তাই আজ থেকেই গড়ি জীবন
রবের সন্তোষ ভরে।
দুনিয়ার সব অর্জনের চেয়ে
বড় যে একটি দান—
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ,
আর চিরস্থায়ী জান্নাতের সম্মান।
***
চিরস্থায়ী জান্নাতের আহ্বান
﴿قُلْ أَذٰلِكَ خَيْرٌ أَمْ جَنَّةُ الْخُلْدِ﴾
বলো তবে, মানুষ সকল,
কীসে জীবনের জয়?
ক্ষণিক সুখের মোহের মাঝে,
নাকি অনন্তময়?
যে ফুল ফোটে ভোরের বেলা,
সাঁঝে ঝরে যায়;
দুনিয়ার সুখ তেমনি ক্ষণিক,
চোখের জলে ভাসায়।
আজ যে ধনী, কাল সে গরিব,
আজ যে রাজা, কাল;
সময়ের ঢেউ মুছে দেয় সব,
থাকে না কোনো জাল।
ক্ষমতারও শেষ আছে,
শেষ হয় প্রতাপ;
মৃত্যুর পরে খুলে যায় যে
অমর হিসাবের বই।
কোথায় যাবে মানুষের মন,
কোথায় শেষ ঠিকানা?
রবের বাণী ডেকে বলে—
"জান্নাতই চির ঠিকানা।"
মুত্তাকী সে—যে গোপনে
রবকে ভালোবাসে,
লোকদেখানো আমল নয়,
সত্যের পথে ভাসে।
নিভৃত রাতে অশ্রু ঝরায়,
তওবার ভাষা কয়;
রবের রহম চাইতে চাইতে
হৃদয় ভরে রয়।
হারাম দেখে চোখ ফিরিয়ে
হালাল পথে চলে;
অন্যের হক আদায় করে,
ভালোবাসা তোলে।
মিথ্যা কথা মুখে আনে না,
ভাঙে না অঙ্গীকার;
অন্যায় দেখে নীরব থাকে না,
জাগে সত্যের ধার।
ক্রোধ এলে সে ধৈর্য ধরে,
ক্ষমায় জয় খোঁজে;
অহংকারের কালো মেঘকে
বিনয়ে দূরে ঠেলে।
শিশুর হাসি, বৃদ্ধের দোয়া,
এতিমের অশ্রুধারা—
সবই যেন জান্নাতমুখী
জীবনেরই সারা।
যে শিক্ষক দেন জ্ঞানের আলো,
নিজে থাকেন সৎ;
তাঁর প্রতিটি সৎ উপদেশ
হয়ে ওঠে ইবাদত।
যে কৃষকের ঘামে ফলে
সোনার ধানের শিষ,
সততা যদি থাকে সাথে,
তাও জান্নাতের দিশ।
যে শ্রমিকের ক্লান্ত হাতে
সভ্যতার নির্মাণ,
আল্লাহ দেখেন তার পরিশ্রম,
দেন মহাসম্মান।
মায়ের সেবায় যে নত হয়,
বাবার রাখে মান;
তারই পথে রহমতের
খুলে যায় দোরগোড়ায়।
জান্নাত শুধু বাগান নয়,
শুধু নদীর গান নয়;
এটি রবের সন্তুষ্টির
চিরন্তন পরিচয়।
সেখানে নেই বিদ্বেষ কোনো,
নেই বিচ্ছেদের ব্যথা;
সেখানে শুধু শান্তির সুর,
অশেষ সুখের কথা।
সেখানে নেই রোগের যন্ত্রণা,
নেই বার্ধক্যের ক্ষয়;
চিরযৌবন, চিরআনন্দ,
চিরকল্যাণময়।
সেখানে থাকবে সালামের ধ্বনি,
রহমতেরই ছায়া;
আল্লাহর দয়ায় ভরে উঠবে
প্রতিটি সুখের মায়া।
আর যারা সত্যকে ছেড়ে
অহংকারে চলে,
তাদের জন্য সতর্কবাণী
কুরআন উচ্চারিত বলে।
অবাধ্যতার পথটি সহজ,
শেষে কঠিন দাহ;
তাকওয়ার পথ কষ্টের হলেও
শেষে জান্নাতের চাহ।
তাই হে মানুষ, জেগে ওঠো,
সময় এখনো আছে;
রবের ডাকে সাড়া দিয়ে
এসো সত্যের কাছে।
কুরআন হোক জীবনের আলো,
সুন্নাহ হোক পথ;
ঈমান হোক হৃদয়ের দীপ,
তাকওয়া হোক রথ।
প্রতিটি সকাল আমল দিয়ে
করো নতুন শুরু;
শেষ নিশ্বাস যেন ভরে ওঠে
ঈমানেরই নূর।
যেদিন হবে শেষের ডাকে
নীরব পৃথিবী থেমে,
সেদিন যেন ডাকা পড়ে—
"এসো, শান্তির ভুবনে।"
রবের ওয়াদা মিথ্যা নয়,
অটল তাঁর বাণী;
মুত্তাকীদের জন্য রইল
চিরসুখের টানি।
তাই তো আজও হৃদয় বলে—
"দুনিয়া ক্ষণিক ধূলি;
আখিরাতের জান্নাতই
সত্য, সুন্দর, মূলই।"
হে পরম দয়াময় আল্লাহ,
করো অন্তর পবিত্র;
তাকওয়ার পথে রাখো অটল,
করো জীবন চিত্র।
শেষ বিচারে দাও সে ডাকে—
"ভয় কোরো না আর;
আমার জান্নাত তোমার জন্য,
চলো শান্তির দ্বার।"
আমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস হোক
ইবাদতের গান,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক
জীবনের সর্বোচ্চ সম্মান।
***
চিরস্থায়ী জান্নাতের আহ্বান
"এটাই কি শ্রেয়, নাকি চিরস্থায়ী জান্নাত—
যার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে মুত্তাকীদের?"
ডেকে যায় কুরআনের বাণী,
জাগো মানবজাতি;
ক্ষণিক সুখের মোহ ছেড়ে
ধরো সত্যের সাথী।
তাকওয়া শুধু মুখের বুলি,
নয় কোনো পরিচয়;
কর্মে, কথায়, চরিত্র জুড়ে
যার আল্লাহভয়।
নিভৃত রাতে অশ্রু ঝরে,
দোয়ায় কাঁপে প্রাণ;
সিজদাতে সে খুঁজে ফিরে
রহমতের সন্ধান।
অন্যায় দেখে নীরব নয়,
সত্য বলে দৃঢ়;
লোভের কাছে বিকায় না সে,
ঈমান থাকে দৃঢ়।
মিথ্যার রঙ যতই হোক
চোখে লাগে ভালো,
সত্যের সূর্য উঠলে শেষে
মুছে যায় সব কালো।
তাকওয়ার মানুষ ক্ষমা করে,
প্রতিশোধে নয়;
ভালোবাসার ভাষায় গড়ে
মানবতার জয়।
এতিম শিশুর অশ্রুবিন্দু
মুছে দেয় যে হাত,
সেই হাতেই ফুটে ওঠে
জান্নাতেরই প্রভাত।
ক্ষুধার্ত মুখে অন্ন তুলে
যে হাসিতে ভরে,
রবের রহম নেমে আসে
তারই জীবনঘরে।
পিতা-মাতার সেবার মাঝে
রয় যে জান্নাতদ্বার,
শ্রদ্ধা, স্নেহ আর দোয়ার ছায়া
জীবনের অলংকার।
প্রতিবেশীর সুখে হাসে,
দুঃখে থাকে পাশে;
মানুষ গড়ার এই শিক্ষাটি
চিরকালই ভাসে।
অহংকারের প্রাসাদ ভেঙে
বিনয় গড়ে ঘর;
যে হৃদয়ে বিনয় থাকে,
সেখানে নূরের ঝর।
জ্ঞান যার দীপ, আমল যার ফুল,
চরিত্র যার ফল;
সে-ই তো সত্য মুত্তাকীদের
সুন্দরতম দল।
দুনিয়াটা এক সফরপথ,
স্থায়ী নয় ঠিকানা;
চলতে চলতে শেষেই খুলবে
চিরশান্তির জান্নাতখানা।
তাই হে মানব, আজই গড়ো
পবিত্র অন্তরখানি;
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক
জীবনের শেষ বাণী।
যেদিন ডাকা হবে সবাইকে
হিসাবেরই মাঠে,
মুত্তাকীরা হাসিমুখে
দাঁড়াবে রবের সাথে।
সেদিন শোনা যাবে স্নিগ্ধ ডাক—
"এসো, আমার বান্দা;
তোমার ধৈর্য, তোমার ঈমান
আজ পেল মহাসাধা।
চিরস্থায়ী জান্নাত আজ
তোমারই প্রতিদান;
আমার রহম, আমার সন্তোষ—
এটাই সর্বোচ্চ সম্মান।"
হে পরম করুণাময়,
আমাদেরও করো দান—
তাকওয়াভরা নির্মল হৃদয়,
আর চিরস্থায়ী জান্নাতের স্থান।
১
১ মন্তব্য