সহকারী অধ্যাপক
০৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:২০ পূর্বাহ্ণ
হিসাবের অতীত প্রতিদান -মোঃ মুজিবুর রহমান
হিসাবের অতীত প্রতিদান
(সূরা আয-যুমার : ১০-এর আলোকে)
"নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান পূর্ণভাবে দেওয়া হবে, কোনো হিসাব ছাড়াই।" যুমার :
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
ঝড় যদি নামে জীবনের পথে,
ভয় পেয়ো না বন্ধু, থেমো না রথে।
আকাশে মেঘের কালো অন্ধকার,
পেরোলেই জ্বলে নতুন ভোরের পার।
কাঁটারই বুকে ফোটে গোলাপ,
অশ্রুরই শেষে হাসির আলাপ।
বিপদের ভেতর লুকিয়ে থাকে
রহমতের আলো নীরব ডাকে।
ধৈর্য মানে নীরব থাকা নয়,
অন্যায় দেখে নিশ্চুপ হওয়াও নয়।
ধৈর্য মানে সত্যে অটল থাকা,
ন্যায়ের পথেই জীবনটা রাখা।
ধৈর্য মানে ভাঙা বুক নিয়েও
বিশ্বাসটুকু না ফেলা হারিয়ে।
ধৈর্য মানে রবের আদেশে
আশা বোনা প্রতিটি নিশ্বাসে।
যে মানুষ কাঁদে সিজদার তলে,
তবু অভিযোগ রাখে না বলে—
সে জানে, প্রভু শুনছেন সবই,
নীরব কান্নাও হারায় না কভু।
যখনই চারদিক আঁধারে ঢাকে,
একটি আয়াত হৃদয়ে ডাকে—
"সবর করো, নিরাশ হয়ো না,
রহমতের দুয়ার বন্ধ নয় তা।"
মানুষ দেখে আজকের ক্ষতি,
রব দেখেন আগামী গতি।
আমরা দেখি ক্ষণিকের ছবি,
তিনি দেখেন চিরদিন সবই।
একটি বীজ যে মাটিতে মেশে,
অদৃশ্য থাকে দিনের পর শেষে।
তবু সে বীজ হারিয়ে যায় না,
একদিন বটের ছায়া হয় না?
তেমনি ধৈর্য—নীরব সাধনা,
অন্তরে লেখা মহান প্রার্থনা।
আজ যার ফল চোখে না ধরা,
কাল সে হবে আশীর্বাদ ভরা।
শিশির নামে নিঃশব্দ রাতে,
কেউ তো দেখে না তার যাত্রাপথে।
ভোরের আলো ফুটতেই পরে
মুক্তা হয়ে ঝলমল করে।
সৎ মানুষের পথটি কঠিন,
তবু সে পথেই থাকে শান্তি।
মিথ্যার হাসি ক্ষণিকের আলো,
সত্যের দীপ জ্বলে নিরন্তর ভালো।
যে কৃষক ঘামে ভিজিয়ে মাঠ,
জানে না কখন আসবে ফসলের ঘাট।
তবু সে থামে না শ্রমের মাঝে,
বিশ্বাস রাখে ঋতুর সাজে।
যে নাবিক ঝড়ে ধরে হাল,
সে-ই তো পৌঁছে নিরাপদ কাল।
যে মাঝপথে ভয়ে ফিরে যায়,
সফলতার তীর সে কোথায় পায়?
জীবন শুধু হাসির নাম নয়,
দুঃখেরও আছে গভীর পরিচয়।
কষ্ট মানুষকে শেখায় নীরবে,
কেমন করে দাঁড়াতে হয় দৃঢ়ভাবে।
পরীক্ষা আসে ঈমান দেখে,
কে থাকে অবিচল সত্য রেখে।
যে হৃদয় প্রভুর ভরসায় ভরা,
তার জীবন আলোয় ঘেরা।
কখনো ক্ষুধা, কখনো অভাব,
কখনো নেমে আসে দুঃখের চাপ।
তবু যে বলে, "রবই যথেষ্ট",
তার হৃদয় হয় অমল-স্বচ্ছ।
অভিমান নয়, প্রার্থনা হোক,
অন্ধকারে আলোর শপথ হোক।
হতাশার ভাষা নয় মুখে,
আশার ফুল ফুটুক সুখে।
সবর মানে কর্ম থামানো নয়,
কল্যাণের পথে অবিরাম জয়।
শ্রমের ঘামে ভিজুক প্রাণ,
সত্য থাকুক জীবনের গান।
মায়ের ধৈর্য সন্তানের তরে,
শিক্ষকের ধৈর্য জ্ঞানের ঘরে।
চিকিৎসকের ধৈর্য সেবার প্রাণ,
শ্রমিকের ধৈর্য গড়ে অবদান।
বিচারকের ধৈর্য ন্যায়ের আলো,
নেতার ধৈর্য জনকল্যাণ ভালো।
ব্যবসায়ীর সততা-ভরা মন,
ধৈর্যে পায় বরকতের পণ।
ক্ষমা যার হৃদয়ের ভাষা,
তারই জীবনে শান্তির আশা।
রাগের আগুন নেভায় যে জন,
ধৈর্য তার শ্রেষ্ঠ অলংকরণ।
যে অপমানে প্রতিশোধ চায় না,
ন্যায়ের সীমানা ছেড়ে যায় না।
আল্লাহর বিচারে রাখে ভরসা,
তারই অন্তর পায় প্রশান্তি-ভরা ভাসা।
সময় বদলায়, ঋতু বদলায়,
অন্ধকার শেষে আলোই জ্বলে যায়।
আজকের কান্না আগামী হাসি,
রবের প্রতিশ্রুতি চিরবিশ্বাসী।
হিসাবের খাতায় মানুষ গোনে,
প্রভুর দানে সীমা কি শোনে?
তিনি দেন এমন অফুরান দান,
যার নেই কোনো সংখ্যা-প্রমাণ।
সাগরের ঢেউ কি গোনা যায়?
আকাশের তারা ধরা কি চায়?
রহমতের দান তেমনি মহান,
অসীম, অপার, অফুরান।
ধৈর্যের প্রতিটি নীরব ক্ষণ,
রবের কাছে অমূল্য ধন।
প্রতিটি অশ্রু, প্রতিটি ব্যথা,
তিনি জানেন অন্তরের কথা।
যে মানুষ সত্য আঁকড়ে ধরে,
লোভের কাছে মাথা না নোয়ায় কভু রে।
তার জীবন হয় দৃষ্টান্তখানি,
মানবতার জাগ্রত বাণী।
হে তরুণ, হার মানো না আর,
স্বপ্ন গড়ো সত্যের দ্বার।
হে প্রবীণ, দাও আশার বাণী,
ধৈর্যে জয়ী মানবজীবনখানি।
হে শিশু, শিখো সুন্দর পথ,
সত্যের চেয়ে নেই কোনো রথ।
হে মানব, রাখো মনে সার—
সবরই মুমিনের মহা অলংকার।
একদিন সব পর্দা খুলবে,
সত্যের সূর্য পূর্ণতা পাবে।
সেদিন রবের দরবারে গিয়ে,
ক্লান্ত প্রাণ হাসবে নীরব হিয়ায়।
সেদিন বলা হবে স্নেহভরে—
"তুমি ছিলে ধৈর্যে অবিচল করে।
আজ নাও তোমার অফুরন্ত দান,
হিসাবের অতীত সম্মান।"
এই তো কুরআনের চির আহ্বান,
সবরেই লুকায় জয়ের গান।
দুঃখের রাত যত দীর্ঘ হোক,
আশার প্রদীপ নিভতে দিও না লোক।
বিশ্বাস রাখো মহান রবের বাণী,
তিনি নন কখনো প্রতিশ্রুতি-ভ্রষ্ট জানি।
ধৈর্যের শেষে ফুটবেই ফুল,
এ সত্য চিরন্তন, অটল, অকূল।
তাই চলি আমরা সত্যের পথে,
সততার দীপ হাতে হাতে।
হৃদয়ে রাখি ঈমানের আলো,
মানুষ হই—কল্যাণে ভালো।
ধৈর্যের মহিমা হোক জীবনের রাগ,
সততার সুরে উঠুক অনুরাগ।
রবের প্রতিশ্রুতি চিরঅমল,
হিসাবের অতীত তাঁর প্রতিফল।
***
হিসাবের অতীত প্রতিদান
বিসমিল্লাহ বলে শুরু করি,
আলোর পথে জীবন গড়ি।
যিনি দিলেন আসমান-জমিন,
তাঁরই নামে হৃদয় ঋণ।
ঝড়ের বুকে যিনি হাসেন,
অশ্রু মুছে বুকে ভাসেন,
তিনি শেখান—"ভয় কোরো না,
সত্যপথে থেমো না।"
দুঃখ যখন দুয়ার ধরে,
রাত নামে নীরব ঘরে,
আশার প্রদীপ নিভতে দিও না,
রবের রহমত ভুলো না।
আকাশজুড়ে কালো মেঘ,
বুকে জমে দীর্ঘ বেদনা,
তবু জানো, প্রতিটি রাত
ভোরের কাছেই দেয় ঠিকানা।
শুকনো নদী বৃষ্টি পেলে
আবার গায় জীবনের গান,
ভাঙা হৃদয় রবের ডাকে
পায় নতুন এক সম্মান।
কাঁটার পরে গোলাপ ফোটে,
শীতের পরে বসন্ত আসে,
অশ্রুর পরে হাসি নামে,
প্রভুর দয়া হৃদয় ভাসে।
সবর শুধু নীরবতা নয়,
অলস বসে থাকা নয়;
সবর মানে সত্য আঁকড়ে
অটল থাকা নির্ভয়।
সবর মানে অন্যায় দেখে
বিবেক যেন না হয় ক্ষয়,
সবর মানে ন্যায়ের পথে
সকল ত্যাগেও থাকে জয়।
সবর মানে কর্মে অবিচল,
আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা,
সবর মানে ক্লান্ত প্রাণে
তাওয়াক্কুলের অপার ভাষা।
মানুষ ভাবে—শেষ সব হলো,
দিগন্ত বুঝি ঢেকে গেল;
রব বলেন—"অপেক্ষা করো,
রহমতেরই সময় এল।"
শিশির নামে অগোচরে,
ভোরে মুক্তা হয়ে হাসে;
সৎকর্মও তেমনি নীরব,
আল্লাহর কাছে রয়ে ভাসে।
একটি বীজ মাটির নিচে
অন্ধকারে থাকে ঢাকা,
বছর শেষে মহীরুহ হয়ে
ছায়া দেয় পথের ফাঁকে।
তেমনি সবর, তেমনি আশা,
তেমনি ঈমান, তেমনি প্রাণ,
অদেখা ফল সঞ্চয় করে
রবের অশেষ দান।
তিনি জানেন অন্তরভাষা,
চোখের নীরব অশ্রুধারা,
অপ্রকাশিত দীর্ঘশ্বাসও
পৌঁছে যায় তাঁরই দ্বারে।
তাই হে মানুষ, হতাশ হয়ো না,
অভিমানেও ডুবো না;
রবের দেওয়া প্রতিশ্রুতি
কখনো ব্যর্থ হয় না।
তিনি বলেছেন—ধৈর্যধারী
পাবে পূর্ণ প্রতিদান,
হিসাব ছাড়াই দিবেন তিনি
রহমতের অফুরান দান।
এই বাণীই হৃদয় জুড়ে
হোক আমাদের জীবনের গান,
সবর, সত্য, ঈমান, আমল—
এই হোক পথের পরিচয় মহান।
***
হিসাবের অতীত প্রতিদান
প্রভাত ফোটে নীরব আলোয়,
দিনটি নামে কর্মের ঢেউ।
জীবন যেন পথের যাত্রী,
সঙ্গে সুখ আর দুঃখ বয়ে।
কেউ পায় প্রাচুর্য অগাধ,
কেউ বা খোঁজে অন্নের দান।
কারও ঘরে উৎসব নেমে,
কারও বুকে দীর্ঘ হাহাকার।
তবু সবার জীবনপথে
একই সত্য জাগে অবিরাম—
পরীক্ষা ছাড়া পূর্ণ হয় না
মানুষের ঈমানের দাম।
স্বর্ণ যেমন আগুন পেরিয়ে
খাঁটি রূপে দীপ্তি পায়,
তেমনি মুমিন দুঃখ সয়ে
বিশ্বাসে আরও দৃঢ় হয়।
বাতাস যত প্রবল বয়,
শিকড় তত মাটিতে নামে;
ধৈর্যধারী হৃদয় তেমনি
রবের স্মরণ আঁকড়ে থামে।
অভাব এলে কেঁদো না ভাই,
প্রাচুর্য এলেও ভুলো না।
দুই অবস্থাই পরীক্ষা,
এ সত্য হৃদয় ছাড়ো না।
ক্ষুধা এলে কৃতজ্ঞ থেকো,
রিজিকদাতা এক আল্লাহ।
প্রাচুর্য এলে দান করো,
এটাই নবীদের শিক্ষা।
রোগে শয্যা দীর্ঘ হলে
হতাশ হয়ো না কোনোদিন;
কষ্ট জানে যিনি অন্তরে,
তাঁরই হাতে মুক্তিদিন।
অন্যায় যদি ঘিরে ধরে,
ক্রোধে যেন মন না জ্বলে।
ন্যায়ের পথে অটল থাকো,
সত্যই জয়ী শেষ অবধি চলে।
অপমানের বিষ পান করে
যে ক্ষমাকে করে বরণ,
তার হৃদয়ে শান্তির নদী,
তারই মুখে আলোর বচন।
মানুষ দেখে বাহিরখানি,
রব দেখেন অন্তরলোক।
সৎ নিয়তের ক্ষুদ্র আমলও
তাঁরই কাছে মহামূল্য শোক।
এক ফোঁটা অশ্রু ঝরে যদি
তাঁরই ভয়ে গভীর রাতে,
সে অশ্রু হয় মুক্তার মতো
রহমতেরই অমূল্য প্রাতে।
শিশুর হাসি, মায়ের দোয়া,
বৃদ্ধ পিতার নীরব চাহনি,
সবই যেন শেখায় মানুষ—
ভালোবাসাই জীবনের বাণী।
যে শিক্ষক জ্ঞান বিলিয়ে দেন,
ফল না চেয়ে করেন দান,
ধৈর্যের সেই অক্ষরগুলি
গড়ে তোলে সোনার প্রাণ।
যে কৃষকটি বীজ বুনে যায়,
বৃষ্টি হবে—এই বিশ্বাসে,
সে-ও শেখায় সবরের শিক্ষা
মাটির বুকের ইতিহাসে।
নদী যেমন সাগর পানে
থামে না কোনো বাঁধা পেয়ে,
মুমিন তেমনি রবের ডাকে
চলে সদা আশা বুকে নিয়ে।
হিসাব মানুষ যতই কষুক,
রবের দান অগণন;
তিনি দেন যে রহমতের ঢেউ,
ছাপিয়ে যায় সব গণন।
সবর মানে হার মানা নয়,
সবর মানে জেগে থাকা;
সবর মানে সত্যের দীপ
ঝড়ের মাঝেও জ্বালিয়ে রাখা।
সবর মানে প্রার্থনার মাঝে
আশার কুঁড়ি বাঁচিয়ে রাখা,
সবর মানে সৎকর্ম দিয়ে
অন্ধকারকে আলোয় ঢাকা।
যে হৃদয়ে কুরআনের বাণী,
সে হৃদয় কখনো শূন্য নয়।
আল্লাহর স্মরণ যার সম্বল,
তার জীবনে প্রকৃত জয়।
তাই চলি আমরা হাতে হাত,
কল্যাণ হোক সকল প্রাণে।
ধৈর্যের আলো ছড়িয়ে পড়ুক
মানবতার প্রতিটি টানে।
রবের প্রতিশ্রুতি অমোঘ—
মিথ্যা হবে না কোনোদিন।
ধৈর্যধারীর প্রতিদান তিনি
দেবেন অফুরন্ত, অগণন, অমলিন।
***
হিসাবের অতীত প্রতিদান
যুগে যুগে যত নবী এলেন,
আলোর বাণী হাতে;
ঝড়ের বুকে সত্য রোপে
চললেন দৃঢ় প্রাতে।
পথ ছিল না ফুলে বিছানো,
ছিল না সুখের গান;
তবু তাঁদের অন্তরে জ্বলেছে
ঈমানের দীপমান।
কেউ হারালেন আপন স্বজন,
কেউ হারালেন দেশ;
তবু তাঁরা বলেননি কভু—
"শেষ হয়ে গেছে শেষ।"
প্রভুর প্রতি পূর্ণ ভরসা
ছিল তাঁদের প্রাণ,
সেই ভরসায় অটল থেকে
পেয়েছেন সম্মান।
ধৈর্যের প্রথম মহাগান
শোনা যায় আদিম কালে,
আদম যখন তওবার অশ্রু
ঝরালেন নির্জন তলে।
ভুলের পরে ফিরলেন যিনি
রবেরই দয়ার দ্বার,
শিখিয়ে গেলেন—ফেরার পথ
রয়েছে সবার।
নূহের চোখে শত বর্ষজুড়ে
ডেকেছে সত্যের ডাক,
অল্প কজন সাড়া দিলেও
থামেনি তাঁর পায়ের হাঁক।
ঝড় উঠেছে, ঢেউ গর্জেছে,
ভেঙেছে অহংকার;
সবরের নৌকা ভাসিয়ে দিল
মুক্তিরই দুয়ার।
ইবরাহীমের অগ্নিকুণ্ডে
জ্বলেছিল আগুন লাল,
ঈমান ছিল শীতল শিশির,
ভয় করেনি কাল।
ত্যাগের শিখর দেখিয়েছেন
প্রিয়কে দিতে চেয়ে,
আল্লাহর হুকুম সর্বোচ্চ জেনে
হৃদয় রেখেছেন নত হয়ে।
ইসমাঈলের শান্ত কণ্ঠে
আনুগত্যের সুর,
সবর যেন কুরবানির
চিরন্তন নূর।
ইয়াকূবের দুই নয়নে
অশ্রুর নদী বইল,
তবু তাঁর মুখে নিরাশার
একটিও শব্দ রইল না কই।
বললেন তিনি—সুন্দর সবর,
আমার আশ্রয় এক;
যাঁর হাতে সব রহমতের
অসীম আলোকরেখ।
ইউসুফ ছিলেন কূপের অন্ধকার,
কারাগারের রাত;
তবু সত্যের দীপ জ্বালিয়ে
অতিক্রম করলেন ঘাত।
ক্ষমার ভাষায় জয় করলেন
অন্যায়ের প্রতিশোধ,
মহত্ত্ব শেখায় সেই ইতিহাস,
ক্ষমাই শ্রেষ্ঠ বোধ।
আইয়ূবের দীর্ঘ ব্যথা
শরীর জুড়ে ক্ষত,
তবু তাঁর মুখে কৃতজ্ঞতার
সুর ছিল অবিরত।
বিপদ যত দীর্ঘ হলো,
ততই দীপ্ত প্রাণ;
সবরের শেষে ফুটল আবার
রহমতেরই ভোরের গান।
মূসা চলেন সাগরপথে,
সামনে উত্তাল ঢেউ;
পিছনে অত্যাচারের ছায়া,
তবু ছিল না ভয়।
প্রভুর আদেশ মানলে শেষে
অসম্ভবও হয় সহজ,
ধৈর্যের ভোরে খুলে যায়
মুক্তির নতুন পথ।
ঈসার বাণী মমতার,
ক্ষমার অমৃতধারা;
সত্যের ডাকে অবিচল
তাঁরই জীবন সারা।
আর সকল নবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক,
রহমতের নবী মহান—
অপমান, অবরোধ, বঞ্চনা সয়ে
ছড়িয়েছেন শান্তির গান।
তায়েফের সেই রক্তমাখা
পাথরের পথ ধরে,
অভিশাপ নয়, দোয়া ছিল
তাঁরই কণ্ঠভরে।
তিনি শিখালেন—সবর মানে
প্রতিহিংসা নয়;
সবর মানে আল্লাহর পথে
অটল থাকার জয়।
নবীদের এই জীবনখানি
কালের শ্রেষ্ঠ পাঠ,
দুঃখের পরে রহমত নামে,
এটাই সত্যমাঠ।
আজও যদি ঝড় আসে,
আজও যদি কান্না ঝরে,
মনে রেখো সেই প্রতিশ্রুতি—
রব আছেন অন্তরে।
তিনি দেখেন প্রতিটি অশ্রু,
শোনেন নীরব আর্তনাদ;
সবরধারীর প্রতিদান তাঁর
অগণিত, অপরিমিত, অবারিত।
হে পথিক, ক্লান্ত হয়ো না,
আশা রেখো প্রাণে;
হিসাবের অতীত পুরস্কার
অপেক্ষায় রয়েছে তোমার টানে।
চল এগিয়ে সত্যের পথে,
সৎকর্ম হোক সাথি;
সবর, শোকর, তাওয়াক্কুলে
ফুটুক জীবনের জ্যোতিপাঠী।
যেদিন খুলবে বিচারসভা,
নিস্তব্ধ হবে ধরণী,
সেদিন ধৈর্যের প্রতিটি ক্ষণ
হবে চিরঅম্লান ধনই।
রব বলবেন স্নেহভরে—
"ভয় কোরো না, এসো আজ;
ধৈর্যের বিনিময়ে তোমাদের জন্য
রয়েছে অনন্ত পুরস্কার।"
সেদিন বুঝবে—পৃথিবীর সব
অশ্রু বৃথা যায়নি;
সবরের প্রতিটি নীরব প্রহর
রহমতে রূপ নিয়েই রইল ধ্রুবজ্যোতিষ্মান।
২
৪ মন্তব্য