সহকারী অধ্যাপক
০৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:৫২ পূর্বাহ্ণ
হে আল্লাহ! মাজলুমের হক ফিরিয়ে দাও -মোঃ মুজিবুর রহমান
হে আল্লাহ! মাজলুমের হক ফিরিয়ে দাও
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
হে দয়াময়!হে পরম রব,
তুমি নও কারো কাছে পরাভব।
তোমার ইশারায় সূর্য ওঠে,
চাঁদও ভাসে নীল আকাশপথে।
তুমি মহান, তুমি অশেষ,
তোমারই হাতে জীবনের রেশ।
তুমি ন্যায়ের চির অধিপতি,
তুমিই সকল শক্তির গতি।
জালিম যতই শক্তি দেখাক,
অন্যায়ের প্রাসাদ গড়ে থাক;
তোমার সামনে সে তো ক্ষুদ্র,
তোমার বিচার সত্য, সুদৃঢ়।
হে আল্লাহ!
মাজলুমের অশ্রু তুমি দেখো,
নীরব কান্না হৃদয়ে লেখো।
দুঃখের রাত যতই দীর্ঘ,
তোমার রহমত থাকে নির্ভয় দীপ্ত।
তুমি বলেছ—
ধৈর্যশীলদের পুরস্কার অগণিত,
সত্যপথিক কখনো নয় পরাজিত।
তোমার ওয়াদা চিরসত্য,
তোমার বিচার অনন্ত ন্যায্য।
হে রব!
হারানো হক ফিরিয়ে দাও,
ভাঙা হৃদয়ে সান্ত্বনা দাও।
অন্যায়ের আঁধার সরিয়ে দিয়ে
ন্যায়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে দাও।
যে করেছে আমানতের খেয়ানত,
তার অন্তরে জাগাও হিদায়াত।
যদি সে ফিরে আসে সত্যের পথে,
রহমতের দরজা খোলো তার তরে।
আর যদি অহংকারে অটল থাকে,
মানুষের অধিকার লুটে মাখে,
তবে তোমার ন্যায়বিচার
পৃথিবীজুড়ে হোক সুস্পষ্ট প্রকাশ।
হে প্রতিপালক!
আমাদের মুখে দাও সত্যের বাণী,
হৃদয়ে দাও ঈমানের পানি।
লোভের আগুন নিভিয়ে দাও,
তাকওয়ার ফুল ফুটিয়ে দাও।
বন্ধুত্ব হোক বিশ্বস্ততায়,
লেনদেন হোক সততায়।
আমানত হোক নিরাপদ হাতে,
বিশ্বাস ফুটুক জীবনের প্রাতে।
কোনো চোখ যেন না কাঁদে
প্রতারণার দহন-বাদে।
কোনো পরিবার না হারায়
অন্যায়ের নির্মম আঘাতে।
হে আল্লাহ!
তুমি তো জানো সবই,
গোপন-প্রকাশ্য রবে না কিছুই।
কোন হৃদয়ে কতটা ক্ষত,
সবই তোমার জানা অবিরত।
তুমি ন্যায়ের মহান মালিক,
তোমার আদালত সর্বশ্রেষ্ঠ ঠিক।
সেখানে নেই পক্ষপাত,
নেই কোনো মিথ্যা সাক্ষ্যপ্রমাণের জাল।
তুমি বললেই রাত হয় দিন,
মরুভূমি পায় সবুজ রঙিন।
তোমার কুদরতের নেই যে সীমা,
তুমিই দাও শান্তির মহিমা।
আমরা চাই না কারো অকল্যাণ,
চাই না অন্যায়ের সম্মান।
চাই শুধু সত্যের জয়,
মানুষের অধিকার অক্ষয়।
যেখানে জুলুম মাথা তোলে,
সেখানে ন্যায় দাঁড়াক বলে।
যেখানে দুর্বল কাঁদে নীরব,
সেখানে পৌঁছাক রহমতের রব।
হে দয়াময়!
"রাব্বি নাজ্জিনী মিনাল কাওমিজ-জালিমীন"—
এই হোক প্রাণের প্রতিদিন।
জালিমের কবল হতে রক্ষা করো,
সত্যপথে আমাদের দৃঢ় করো।
"হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকীল"—
এই হোক জীবনের সম্বল।
তুমিই যথেষ্ট, তুমিই ভরসা,
তুমিই হৃদয়ের একমাত্র আশা।
যখন চারদিক অন্ধকার হয়,
তোমারই নূর পথের পরিচয়।
যখন মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়,
তোমার রহমত সঙ্গী হয়ে রয়।
হে প্রভু!
মিথ্যার উপর সত্যের জয় দাও,
অন্যায়ের উপর ন্যায়ের জয় দাও।
অহংকার ভেঙে বিনয় দাও,
লোভের বদলে সন্তোষ দাও।
যে কাঁদছে হকের আশায়,
তাকে ফিরিয়ে দাও হাসির ভাষায়।
যে হারিয়েছে ন্যায্য প্রাপ্য,
তার জীবনে আনো শুভ প্রভাত।
আমাদের অন্তর করো পবিত্র,
চরিত্র করো সুমহান, উজ্জ্বল।
সত্যবাদী মানুষের কাতারে
রাখো আমাদের জীবনভর।
আমানত রক্ষার শক্তি দাও,
ওয়াদা রাখার তাওফিক দাও।
মানুষ যেন মানুষকে ভালোবাসে,
সততা যেন হৃদয়ে বাসে।
কিয়ামতের কঠিন ময়দানে
হক যেন না থাকে বাকি।
আজই আমাদের শোধরাও,
ন্যায়ের পথে রাখো আঁকড়ে।
হে আরশের মহান অধিপতি!
তুমি সর্বশক্তিমান,
তুমি সর্ববিচারক,
তুমি সীমাহীন দয়ালু।
জালিমকে দাও হিদায়াত,
অথবা প্রতিষ্ঠা করো তোমার ন্যায়বিচার।
মাজলুমকে দাও ধৈর্য,
আর ফিরিয়ে দাও তার ন্যায্য অধিকার।
এই হোক পৃথিবীর গান,
এই হোক মানবতার প্রাণ।
সত্য, ন্যায় আর ঈমানের আলো
ছড়িয়ে পড়ুক ঘরে ঘরে ভালো।
শেষ প্রার্থনা শুধু এই—
হে আল্লাহ!
তুমি ক্ষমতাবান,
তুমি পরম দয়ালু,
তুমি ন্যায়ের চিরন্তন বিচারক।
জালিম থেকে মাজলুমের হক ফিরিয়ে দাও।
সত্যকে বিজয়ী করো।
অন্যায়কে রুখে দাও।
মানবতাকে সম্মান দাও।
আর আমাদের সবাইকে
তোমার সন্তুষ্টির পথে অবিচল রাখো।
আমিন।
***
হে আল্লাহ! মাজলুমের হক ফিরিয়ে দাও
নিভৃত রাতে নীরব কক্ষে,
ঝরে কত অশ্রু গোপন বক্ষে।
হাসিমুখে যে চলে দিনে,
রাত্রে কাঁদে আপন ঋণে।
কত যে বুকে জমে আর্তি,
কেউ তো দেখে না তার ভারটি।
লোকের চোখে সুখের ছবি,
অন্তর ভরা কান্না সবই।
হে দয়াময়, হে পরওয়ার,
তুমি জানো হৃদয়ের ভার।
অকথিত সব দীর্ঘশ্বাস,
তোমার কাছেই পায় তো বাস।
কত আমানত হলো নষ্ট,
কত বিশ্বাস হলো কষ্ট।
কত প্রতিশ্রুতি ভাঙল শেষে,
লোভের আগুন জ্বলল দেশে।
যে হাত ছিল বন্ধুর মতো,
সেই হাত দিল ব্যথা যত।
যে মুখ বলত ভালোবাসা,
সেই মুখ দিল বিষের ভাষা।
তবু মুমিন প্রতিশোধ চায় না,
অন্যায়ের পথ কখনো ধায় না।
সে তো চায় কেবল এই,
ন্যায়ের আলো ফুটুক সবারই।
হে মহান রব!
তুমি তো বলেছ সত্য বাণী—
মাজলুমের ডাকে নেই কোনো পর্দা,
তোমার রহমত থাকে তার সঙ্গী।
যখন দুনিয়ার সব দুয়ার
এক এক করে হয় যে বন্ধ,
তখন তোমার রহমতের দুয়ার
থাকে অনন্ত উন্মুক্ত।
তাই তো বলি—
حَسْبُنَا اللّٰهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
তুমিই যথেষ্ট,
তুমিই শ্রেষ্ঠ অভিভাবক।
হে আল্লাহ!
আমাদের অন্তরে দাও ধৈর্য,
ঠোঁটে দাও শুকরিয়ার বাণী।
দুঃখকে করো ইবাদতের সোপান,
চোখের জলকে করো দোয়ার পানি।
অন্যায় দেখে যেন
আমরা অন্যায়ে না জড়াই।
প্রতারণা পেয়ে যেন
আমরা প্রতারক না হই।
সত্যকে ভালোবাসি,
ন্যায়কে আঁকড়ে ধরি,
আমানত রক্ষা করি,
ওয়াদা পূরণ করি।
হে ন্যায়ের মালিক!
যে হক হারিয়েছে,
তাকে ফিরিয়ে দাও।
যে নিরাশ হয়েছে,
তার হৃদয়ে আশা জাগাও।
জালিমের অন্তরে যদি
কল্যাণের কোনো প্রদীপ থাকে,
তবে তাকে সত্যের পথে ফিরিয়ে আনো,
তাওবার অশ্রুতে তাকে পবিত্র করো।
আর যদি সে
অহংকারেই অটল থাকে,
তবে তোমার অবিচল ন্যায়বিচার
সত্যকে বিজয়ী করুক।
হে রব্বুল আলামীন!
এই পৃথিবী হোক
সততার বিদ্যালয়,
আমানতের উদ্যান,
ন্যায়ের রাজপথ,
মানবতার মিলনমেলা।
শিশুরা শিখুক সত্য,
যুবকেরা শিখুক চরিত্র,
শাসকেরা শিখুক ন্যায়,
ব্যবসায়ীরা শিখুক আমানত,
বিচারকেরা শিখুক নিরপেক্ষতা।
তখন পৃথিবী ভরে উঠবে
শান্তির সুবাসে,
মানুষ মানুষকে
ভালোবাসবে বিশ্বাসে।
হে আল্লাহ!
আমাদের দোয়া কবুল করো।
আমাদের ঈমান অটুট রাখো।
জালিম থেকে মাজলুমের
ন্যায্য হক ফিরিয়ে দাও।
কারণ—
তুমিই সর্বশক্তিমান,
তুমিই সর্ববিচারক,
তুমিই সর্বাধিক দয়ালু।
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামীন।
***
হে আল্লাহ! মাজলুমের হক ফিরিয়ে দাও
ঝড়ের পরে নির্মল আকাশ,
অন্ধকার শেষে ভোরের প্রকাশ।
কাঁটার পরে ফুটে যে ফুল,
ধৈর্যের পথেই মেটে সব ভুল।
হে আল্লাহ!
তুমি শেখালে ধৈর্যের গান,
বিপদে রেখো অবিচল প্রাণ।
অশ্রুর ভেতর আশার আলো,
তোমার রহমত চিরদিন ভালো।
মুমিন জানে—কষ্ট ক্ষণিক,
তোমার অনুগ্রহ চিরঅম্লান ঠিক।
যে তোমারই দ্বারে মাথা নত করে,
তাকে তুমি ভোল না কোনো ভোরে।
কখনো সম্পদ হয় পরীক্ষা,
কখনো অভাব কঠিন শিক্ষা।
কখনো বন্ধু দূরে সরে যায়,
কখনো আপনজনও ভুলে যায়।
তবু যে বলে—
حَسْبِيَ اللّٰهُ
আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট;
তার হৃদয়ে তুমি ঢেলে দাও
অটল সাহস, নির্মল প্রশান্তি।
হে রব!
সবরকে করো জীবনের অলংকার,
তাওয়াক্কুলকে করো হৃদয়ের হার।
অভিমান নয়, অভিযোগ নয়,
তোমারই ফয়সালায় থাকুক জয়।
মাজলুম যদি নীরবে কাঁদে,
তুমি তো তার কান্না শোনো।
শুকিয়ে যাওয়া চোখের জলে
রহমতের নদী বইয়ে দাও।
যে হারিয়েছে আপন প্রাপ্য,
তার মনে দাও দৃঢ় প্রত্যয়—
হক কখনো চিরদিন
হারিয়ে থাকে না;
তোমার বিচারে
প্রত্যেক আমানত
ফিরে পায় তার প্রকৃত ঠিকানা।
হে ন্যায়ের অধিপতি!
ক্ষমতার অহংকার
ক্ষণস্থায়ী ছায়া মাত্র।
অন্যায়ের প্রাসাদ
একদিন ধূলায় মিশে যায়,
কিন্তু সত্যের ভিত্তি
অটল থাকে যুগের পর যুগ।
আমরা চাই না বিদ্বেষ,
চাই না প্রতিহিংসার আগুন।
আমরা চাই
অন্যায়ের অবসান,
সত্যের প্রতিষ্ঠা,
মানবতার জয়গান।
যে লোভে অন্ধ,
তাকে দাও সন্তুষ্টির আলো।
যে ক্রোধে জ্বলে,
তাকে দাও ক্ষমার মহিমা।
যে প্রতারণায় লিপ্ত,
তাকে দাও তাওবার সৌভাগ্য।
হে আল্লাহ!
আমাদের রিজিক হোক হালাল,
আমাদের কথা হোক সত্য,
আমাদের আমল হোক বিশুদ্ধ,
আমাদের চরিত্র হোক বিশ্বস্ত।
যখন পৃথিবী ভরে উঠবে
সত্যবাদী মানুষের পদধ্বনিতে,
তখন প্রতারণা লজ্জা পাবে,
মিথ্যা হারাবে তার শক্তি।
শিশুরা শিখবে সততা,
যুবকেরা শিখবে আমানত,
পরিবার হবে ভালোবাসার,
সমাজ হবে ন্যায়ের বাগান।
হে পরম করুণাময়!
আমরা তোমারই মুখাপেক্ষী।
তুমিই দুঃখের অবসানকারী,
তুমিই হৃদয়ের প্রশান্তিদাতা।
তাই আজ আবার
দুটি হাত তুলে বলি—
হে আল্লাহ!
জালিমকে সত্যের পথে ফিরিয়ে আনো,
মাজলুমকে ধৈর্যের শক্তি দাও,
হারানো হক ফিরিয়ে দাও,
অন্যায়ের অন্ধকার দূর করো,
ন্যায়ের সূর্য উদিত করো।
তোমার রহমতের ছায়ায়
আমাদের জীবন কাটুক।
তোমার সন্তুষ্টির পথেই
আমাদের শেষ নিঃশ্বাস হোক।
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামীন।
***
হে আল্লাহ! মাজলুমের হক ফিরিয়ে দাও
হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক!
তোমারই নামে করি সূচনা,
তোমারই ভয়ে রাখি হৃদয়,
তোমারই ন্যায়ে জাগে চেতনা।
তুমি যে দাও আমানতের শিক্ষা,
সত্যের পথে চলার দীক্ষা।
মানুষ যেন মানুষকে ঠকায় না,
বিশ্বাস ভেঙে সুখ খোঁজে না।
অর্পিত ধন, অর্পিত দায়,
অর্পিত কথা, অর্পিত মায়—
সবই তো এক আমানত,
সবই তোমারই দেওয়া নিয়ামত।
যে আমানত রাখে অটুট,
তার জীবন হয় পবিত্র, সুমিষ্ট।
যে বিশ্বাস ভেঙে লোভে মাতে,
সে হারায় শান্তি নিজেরই হাতে।
হে আল্লাহ!
কেউ দেখে না ভেবে মানুষ
গোপনে করে কত অপরাধ।
কিন্তু তুমি তো সর্বদ্রষ্টা,
তোমার দৃষ্টি সদা অবিরাম।
অন্ধকার রাত, নির্জন ঘর,
বন্ধ দরজার অন্তরাল—
কোথাও লুকায় না কোনো কাজ,
সবই লেখা তোমারই কাছে।
আজ যে শক্তির গর্বে মাতে,
অন্যের হক কেড়ে নেয় হাতে,
সে কি ভেবেছে—
একদিন সব হিসাব হবে,
একদিন সব পর্দা উঠবে?
যেদিন ধন থাকবে না সঙ্গে,
থাকবে না পদ, প্রভাব, ক্ষমতা;
থাকবে শুধু কর্মের খাতা,
আর ন্যায়বিচারের ফয়সালা।
সেদিন কোনো মিথ্যা কথা
সত্যকে ঢাকতে পারবে না।
কোনো সাক্ষী গোপন হবে না,
কোনো আমানত হারাবে না।
হে ন্যায়বিচারের মালিক!
সেদিনের ভয়
আজই আমাদের জাগিয়ে দিক।
আমাদের হাত হোক পবিত্র,
আমাদের উপার্জন হোক হালাল,
আমাদের লেনদেন হোক স্বচ্ছ,
আমাদের বিবেক থাকুক জাগ্রত।
যদি কারও প্রাপ্য
আমাদের কাছে থেকে থাকে,
তবে তা ফিরিয়ে দেওয়ার
তাওফিক দাও।
যদি কারও মনে
আমাদের কারণে কষ্ট থাকে,
তবে ক্ষমা চাওয়ার
সাহস দাও।
হে দয়াময়!
আমাদের এমন করো না,
যে নিজের সুখের জন্য
অন্যের অশ্রু ডেকে আনে।
আমাদের এমন বানাও,
যে নিজের প্রয়োজনের আগে
অন্যের হককে সম্মান করে।
সন্তান শিখুক আমানত,
শিক্ষক শিখান সততা,
ব্যবসায়ী শিখুক ন্যায্যতা,
বিচারক শিখুক নিরপেক্ষতা,
শাসক শিখুক জবাবদিহি।
সমাজ হোক বিশ্বাসের,
রাষ্ট্র হোক ন্যায়ের,
পরিবার হোক ভালোবাসার,
মানুষ হোক মানুষের আশ্রয়।
হে আল্লাহ!
যে জালিম আজও
অন্যের অধিকার গ্রাস করে,
তার হৃদয়ে সত্যের আলো দাও।
সে যেন অনুতপ্ত হয়ে
প্রত্যেক প্রাপ্য
প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দেয়।
আর যে মাজলুম
নীরবে সবর করছে,
তার বুকের ভার হালকা করো।
তার অশ্রুকে
রহমতের মুক্তো বানাও।
তার অপেক্ষাকে
সফলতার সুবাসে ভরিয়ে দাও।
হে মহান রব!
তুমি তো আল-'আদল—
পরম ন্যায়বিচারক।
তোমার বিচারে
কোনো পক্ষপাত নেই,
কোনো অবিচার নেই,
কোনো ভুল নেই।
তাই তোমারই দরবারে
দুই হাত তুলে মিনতি করি—
হে সর্বশক্তিমান!
জালিম থেকে মাজলুমের
হারানো হক ফিরিয়ে দাও।
অন্যায়ের শৃঙ্খল ভেঙে দাও।
সত্যের পতাকা উঁচু করো।
মানুষের অন্তরে
তাকওয়া ও সততার বীজ বপন করো।
আমাদের এমন জীবন দাও,
যাতে মৃত্যুর পরে
কোনো মানুষের হক
আমাদের ঘাড়ে না থাকে।
আর কিয়ামতের দিন
তোমার অসীম রহমতে
আমাদের মুখ উজ্জ্বল করো,
হিসাব সহজ করো,
ক্ষমা দিয়ে জান্নাতের
চিরশান্তির পথে ডেকে নাও।
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামীন।
২
৪ মন্তব্য