Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ

মনুষ্যত্বের জয়গান - মোঃ মুজিবুর রহমান


মনুষ্যত্বের জয়গান

(মনুষ্যত্ব পাশবিকতার উপর প্রাধান্য হোক)

মোঃ মুজিবুর রহমান

সহকারী অধ্যাপক

মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

মানুষ তুমি মানুষ হও, - হোক আজ গান,
মানবতার দীপ জ্বালো, আলোকিত হোক প্রাণ।
লোভের আগুন নিভে যাক সব, ঘৃণার হোক অবসান,
প্রেমের ছোঁয়ায় ফুটুক ধরা, জাগুক শুভ জ্ঞান।

পৃথিবীতে মানুষ এল মহৎ এক পরিচয়ে,
বিবেক, বুদ্ধি, সত্যের আলো দিলেন প্রভু হৃদয়ে।
করুণা দিয়ে গড়লেন তাঁকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ রূপ,
মানবতার মর্যাদা তাই আকাশছোঁয়া সুদূর।

কিন্তু যখন লোভের নেশায় ঢেকে যায় মনপ্রাণ,
অহংকারে হারায় মানুষ নিজের সঠিক জ্ঞান।
হিংসা, বিদ্বেষ, নিষ্ঠুরতা তখন করে বাস,
মানুষ হয় পাশবিকতায়, নিভে যায় বিশ্বাস।

শক্তি যদি ন্যায়ের পথে মানুষের কল্যাণে,
তবেই সে শক্তি সৌন্দর্য আনে জীবনের গানে।
ক্ষমতা যদি অত্যাচারে দুর্বলের অশ্রু ঝরায়,
ইতিহাস তার নিষ্ঠুরতাকে কখনো ক্ষমা না করে যায়।

সিংহ বনে শক্তির গর্বে জয় করে আপন স্থান,
মানুষ জেতে দয়া, মমতা, সত্য আর সম্মানে প্রাণ।
পশুর মাঝে নেই তো কোনো নৈতিকতার ডাক,
মানুষ তাই বিবেক নিয়ে চলার পেয়েছে হাক।

শিক্ষা শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয় তো কভু ভাই,
শিক্ষা মানে সত্যকে জানা, সত্যের পথে ঠাঁই।
শিক্ষা মানুষ গড়ে তোলে চরিত্রেরই ধন,
শিক্ষায় জাগে মানবতার উজ্জ্বল স্পন্দন।

শিশুর মনে বপন করো ভালোবাসার বীজ,
সততারই রঙে রাঙাও আগামী দিনের বীজ।
শিখাও তাকে সম্মান দিতে প্রতিটি প্রাণের তরে,
মানুষ যেন মানুষ থাকে জীবনভর ভরে।

মায়ের স্নেহ, বাবার শিক্ষা, শিক্ষকের আহ্বান,
গড়ে তোলে আলোকিত এক সুন্দর মানবপ্রাণ।
পরিবার আর সমাজ মিলে হাতে হাত রেখে,
মানবতার বাগান গড়ুক ভালোবাসা মেখে।

ধনসম্পদে বড় যে নয়, বড় যার মন,
দুঃখীর চোখের অশ্রু মুছে সেই তো মহাজন।
ক্ষুধার্ত মুখে অন্ন তুলে, ভাঙা হৃদয় জোড়ে,
মানবতার অমৃতধারা তারই জীবন ঘিরে।

ক্ষমা যার অলংকার হয়, নম্রতা যার বল,
অন্যায় দেখে সত্য বলে, ভয়কে করে ছল।
নিজের সুখের আগে রাখে মানুষেরই সুখ,
তারই মুখে ফুটে ওঠে প্রশান্তিরই মুখ।

ধর্ম শেখায় সত্যের পথে অবিচল চলা,
অন্যায়, জুলুম, প্রতারণা হতে দূরে থাকা।
প্রভুর ভয়ে অন্যায় ত্যাগ, ন্যায়ের পথে মন,
এই শিক্ষাতেই প্রস্ফুটিত হয় মানবজীবন।

মানুষ যদি মানুষকে আর তুচ্ছ না করে কভু,
ভ্রাতৃত্বে যদি গড়ে ওঠে প্রতিটি ঘর রবু,
তবে ধরায় শান্তির ফুল ফুটবে দিগন্তজুড়ে,
হাসবে শিশু, হাসবে পৃথিবী আনন্দস্রোত বয়ে।

লোভের কাছে বিকিও না গো বিবেকখানি আর,
মিথ্যার কাছে নত হয়ো না, থাকো সত্যধার।
অন্যের অধিকারে কভু দিও না আঘাত,
ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকাই মানুষেরই প্রভাত।

কথায় হোক কোমলতা, কাজে থাকুক দান,
হৃদয় ভরা সহমর্মিতা হোক জীবনের প্রাণ।
অভিমানের দেয়াল ভেঙে মিলুক সবার হাত,
মানুষ যেন মানুষকে দেয় আপন হৃদয়পাত।

শত্রুকেও ঘৃণা নয়, ন্যায়ের সাথে আচরণ,
ভুলের পরে সংশোধনের খুলে দাও দুয়ার।
প্রতিশোধের আগুন নেভে ক্ষমার জলের ছোঁয়ায়,
মানবতার বৃক্ষ তখন ফুলে ফলে ছায়ায়।

যে সমাজে দুর্বল মানুষ নিরাপদে রয়,
সেই সমাজেই মানবতার সত্যিকারের জয়।
যেখানে নারী, শিশু, বৃদ্ধ পায় মর্যাদার স্থান,
সেই সমাজেই প্রস্ফুটিত হয় মানবতার গান।

জ্ঞান হোক দীপ, কর্ম হোক ন্যায়ের দৃঢ় সেতু,
সত্য হোক প্রতিটি প্রাণের পথচলারই রীতি।
ভালোবাসার রঙে রাঙুক প্রতিটি দিনের ভোর,
পাশবিকতার অন্ধকারে না জ্বলে আর শোর।

চল সবাই প্রতিজ্ঞা করি অন্তর খুলে আজ,
মানুষ হবএই হোক মোদের জীবনেরই সাজ।
অন্যায়, লোভ, নিষ্ঠুরতা করব দূরে নিক্ষেপ,
সততা আর মানবতায় গড়ব নতুন রূপ।

হে পরম দয়াময় আল্লাহ!
আমাদের অন্তরে সত্যের আলো জাগিয়ে দিন।
লোভের অন্ধকার থেকে রক্ষা করুন।
হিংসা, বিদ্বেষ নিষ্ঠুরতা থেকে আমাদের দূরে রাখুন।
বিবেককে জাগ্রত রাখুন, চরিত্রকে পবিত্র করুন।
মানুষের কল্যাণে কাজ করার শক্তি দিন।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দিন।
দুর্বলকে রক্ষা করার হৃদয় দিন।
ক্ষমা করার মহত্ত্ব দিন।
ন্যায়কে ভালোবাসার তাওফিক দিন।
মানুষকে ভালোবাসার তাওফিক দিন।
পাশবিকতার উপর মনুষ্যত্বের বিজয় প্রতিষ্ঠার তাওফিক দিন।

হে আল্লাহ!
আমাদের পরিবারে, সমাজে, দেশে এবং সমগ্র পৃথিবীতে
মানবতা, ন্যায়, দয়া, সততা শান্তির সুবাতাস প্রবাহিত করুন।
আমাদের এমন মানুষ বানান,
যাদের দ্বারা কেউ কষ্ট পায় না,
বরং সবাই নিরাপত্তা, সম্মান ভালোবাসা লাভ করে।

আমীন।

***

মনুষ্যত্বের মহিমা

পাশবিকতার উপর মনুষ্যত্বের প্রাধান্যের জয়গান

মানুষ তুমি মানুষ হওএই হোক জীবনের ডাক,
বিবেকের আলো হাতে নিয়ে সত্যের পথে থাক।
লোভের আগুন নিভে যাক, হিংসা যাক হারিয়ে,
প্রেমের সুধা ছড়িয়ে দাও হৃদয় হতে হৃদয়ে।

মানুষকে যে মানুষ করে, সে তো কেবল দেহ নয়,
সত্য, ন্যায়, দয়া আর প্রেমএসবেই মানুষের জয়।
বুদ্ধি দিয়ে জ্ঞানকে গড়ো, বিবেক হোক পথের দীপ,
করুণা হোক হৃদয়ের ভাষা, সৎকর্ম হোক নিত্য সঙ্গী।

পশুত্ব থাকে প্রবৃত্তির মাঝে, টানে নিচের পানে,
মনুষ্যত্ব ডাকে প্রতিদিন মহৎ জীবনের গানে।
যে জয় করে নিজের লোভ, ক্রোধ, অহংকার,
সত্যিকার সেই মানুষই শ্রেষ্ঠ পৃথিবীর পার।

অহংকারে মাথা তুলে মানুষ যতই বড় হয়,
বিবেকহীন সেই জীবন শেষ পর্যন্ত শূন্য রয়।
অন্যের অশ্রু ফেলে যারা গড়ে সুখের ঘর,
ইতিহাসের পাতায় তাদের লেখা থাকে পরাজয় ভর।

যে হৃদয়ে দয়া জাগে, সে হৃদয়ই ধন্য,
সেখানে ফুটে মানবতার চিরসবুজ অরণ্য।
ক্ষমা যার অলংকার হয়, নম্রতা যার বল,
সেই মানুষই পৃথিবীজুড়ে ছড়ায় শান্তির ফল।

শিক্ষা যদি চরিত্র গড়ে, তবে শিক্ষা সত্য,
শিক্ষা যদি মানুষ গড়ে, তবেই তার মহত্ত্ব।
পুঁথির পাতায় সীমাবদ্ধ নয় শিক্ষার পরিচয়,
সৎকর্মে যার প্রকাশ ঘটে, সেই বিদ্যার জয়।

শিশুর হাতে তুলে দাও সততারই ফুল,
মিথ্যার পথে যেন না যায় কোমল হৃদয় কূল।
ভালোবাসার বীজ বপন করো প্রতিটি প্রাণে আজ,
আগামী দিনের পৃথিবী হবে শান্তির সবুজ সাজ।

পরিবারে শুরু হোক মানবতার পাঠ,
মায়ের মুখে স্নেহের বাণী, বাবার নীতির হাত।
শিক্ষকেরা গড়ুন মানুষ জ্ঞানে, চরিত্রে, মনে,
দেশের ভবিষ্যৎ ফুটুক নৈতিকতার বনে।

দুর্বলের পাশে দাঁড়াও গিয়ে, শক্তির - মান,
ক্ষমতাকে করো না কখনো অত্যাচারের যান।
যে শক্তি রক্ষা করে মানুষ, সে শক্তিই মহান,
অন্যায়ের সব প্রাচীর ভাঙে ন্যায়ের দীপ্ত গান।

ধনসম্পদ ক্ষণিক সাথী, চরিত্র চিরস্থায়ী,
সততারই সৌরভ থাকে যুগে যুগে অম্লান তাই।
মানুষ রেখে যায় না কেবল প্রাসাদ, ধন, মান,
রেখে যায় সে কর্মের গন্ধ, ভালোবাসার দান।

ভাষা হোক মধুর সুধা, আচরণে শিষ্টতা,
পরের দুঃখ নিজের ভেবে জাগুক সহমর্মিতা।
হৃদয় যেন পাথর না হয় স্বার্থের কঠিন ছোঁয়ায়,
মানুষ যেন মানুষ থাকে ভালোবাসার ছায়ায়।

যেখানে ন্যায়, সেখানেই সুখ; যেখানে প্রেম, সেথায় জয়,
যেখানে সত্য, সেখানেই আলো; মিথ্যা কভু টেকে না কয়।
মানুষ যদি মানুষকে দেয় সম্মানেরই স্থান,
স্বর্গসম সমাজ গড়ে ওঠে, হাসে বিশ্বপ্রাণ।

এসো তবে শপথ করি আজ অন্তরের গভীরে,
মানুষ হব, মানুষ গড়ব জীবনভর ধীরে ধীরে।
লোভের কাছে মাথা নত নয়, অন্যায়ে নয় সায়,
মনুষ্যত্বের পতাকাটি উঁচু হয়ে উড়ে যাক সদায়।

হে পরম করুণাময় আল্লাহ!
আমাদের অন্তরকে ঈমানের আলোয় উদ্ভাসিত করুন।
লোভ, হিংসা, ক্রোধ, অহংকার নিষ্ঠুরতা থেকে আমাদের রক্ষা করুন।
আমাদের হৃদয়ে দয়া, মমতা, সততা, ন্যায়পরায়ণতা সহমর্মিতা দান করুন।
সত্যকে ভালোবাসার, অন্যায়কে বর্জনের এবং সৎকর্মে অগ্রসর হওয়ার তাওফিক দিন।
আমাদের এমন মানুষ বানান, যাদের দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়;
বরং সবাই নিরাপত্তা, সম্মান, ন্যায় ভালোবাসা লাভ করে।

হে আল্লাহ!
আমাদের পরিবার, সমাজ, দেশ এবং সমগ্র পৃথিবীতে
মানবতার আলো ছড়িয়ে দিন।
পাশবিকতার অন্ধকার দূর করুন।
মনুষ্যত্বের বিজয় প্রতিষ্ঠা করুন।
ন্যায়ের পতাকা সমুন্নত রাখুন।
আপনার সন্তুষ্টির পথে অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন।

আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন।

***

মনুষ্যত্বের মহাকাব্য

পাশবিকতার নয়, মনুষ্যত্বের জয় হোক

ভোরের শিশির বলে যায়জাগো মানবপ্রাণ,
সত্যের আলো জ্বেলে তোলো জীবনেরই গান।
লোভের কালো মেঘ সরিয়ে প্রেমের সূর্য ওঠে,
দয়ার নদী বয়ে চলে নীরব হৃদয়পথে।

মানুষ নামে জন্ম নিলেই মানুষ হওয়া নয়,
মানুষ তখনই মানুষ হয়, মানবতার জয়।
বিবেক যখন জেগে থাকে সত্যের অগ্নিশিখায়,
অন্ধকারও পথ হারিয়ে আলোর দিশা পায়।

পাশবিকতা টানে নিচে স্বার্থের গভীর খাদে,
মনুষ্যত্ব ডাকে সদা ন্যায়ের মহাসড়কে।
একটি হৃদয় করুণায় যে আলো জ্বালতে জানে,
সে- তো গড়ে শান্তিধাম এই পৃথিবীর প্রাণে।

হিংসার আগুন জ্বলে ওঠে অহংকারের বনে,
ভালোবাসার এক ফোঁটা জল নিভিয়ে দেয় ক্ষণে।
ক্রোধের ঝড়ে ভাঙে ঘর, ভাঙে মানুষের মন,
ক্ষমার বৃষ্টি ফিরিয়ে আনে শান্তির সম্ভাবন।

শক্তি যদি দুর্বলেরই আশ্রয় হয়ে রয়,
সেই শক্তির চূড়ায় গেয়ে ওঠে মানবজয়।
ক্ষমতা যদি ন্যায়ের পথে রাখে দৃঢ় পা,
ইতিহাস তার সম্মানগাথা যুগে যুগে গায়।

শিক্ষা কেবল অক্ষর শেখায় কথা সত্য নয়,
শিক্ষা মানুষ গড়ে তোলে, চরিত্রে আনে জয়।
শিক্ষা শেখায় সত্য বলা, অন্যায়কে রুখে,
মানুষ যেন মানুষ থাকে দুঃসময়ের মুখে।

মায়ের কোলে দয়ার বীজ, বাবার মুখে নীতি,
শিক্ষকের হাতে জেগে ওঠে জ্ঞানের অমর স্মৃতি।
এই তিন স্রোত মিলেমিশে গড়ে মহামানব,
যার জীবন আলোকিত হয় সেবার শুভ রব।

শিশুর চোখে স্বপ্ন রাখো, হৃদয়ে রাখো প্রেম,
সত্য, দয়া, বিনয় দিয়ে রচনা করো হেম।
আগামী দিনের পৃথিবী হবে শান্তির নীলিমা,
যদি শিশুর অন্তরে জাগে মানবতার সীমা।

অর্থ যদি মানুষ গড়ে, তবে সে ধন ধন্য,
অর্থ যদি মানুষ ভাঙে, তবে সে অভিশাপ অনন্য।
চরিত্র যার অটল থাকে ঝড়-তুফানের মাঝেও,
তার নাম থাকে চিরদিন মানুষেরই সাজেও।

অপরের সুখে হাসতে শেখো, দুঃখে দিও হাত,
ভেঙে দাও সব বিভেদেরই অমানবিক ঘাট।
ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, জাতিযত ভিন্ন রূপ,
মানবতার ছায়াতলে সবার সমান সুখ।

অন্যায় দেখে নীরব থাকা কাপুরুষের কাজ,
সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোই বীরের শ্রেষ্ঠ সাজ।
ন্যায়ের পথে কণ্টক যত, ততই গৌরবময়,
সত্যের জন্য ত্যাগই আনে মহিমান্বিত জয়।

কোমল ভাষা হৃদয় জয় করে অনায়াসে,
রূঢ় বাক্য ক্ষত রেখে যায় অশ্রুর ইতিহাসে।
তাই কথাতে ফুটুক সদা সৌজন্যের ফুল,
মানুষ যেন মানুষকে না করে প্রতিকূল।

যেখানে নারী সম্মান পায়, শিশু পায় অধিকার,
বৃদ্ধ পায় যত্নের ছায়া, নিরাপদের দ্বার;
সেই সমাজে মানবতার সূর্য ওঠে নিত্য,
সেই সমাজেই শান্তি থাকে সত্যের অমৃত।

লোভের কাছে বিকোবে না বিবেকেরই মান,
মিথ্যার কাছে হার মানিও না কোনোদিন প্রাণ।
সততারই দীপ্ত মুকুট পরো মাথার পরে,
জীবন তখন আলোকিত হয় যুগে যুগে ঘরে।

এসো সবাই শপথ করি, করব সৎকর্ম,
মানুষ গড়ার ব্রতে হব অবিচল দৃঢ়।
বিদ্বেষ, হিংসা, স্বার্থপরতা দূরে যাবে সরে,
ভ্রাতৃত্বেরই বন্ধন গড়ব হৃদয় থেকে হৃদয়ে।

আমরা চাই এমন ভোর, যেখানে নেই হানাহানি,
যেখানে হাসে প্রতিটি মুখ, মুছে যায় সব গ্লানি।
যেখানে শক্তি রক্ষা করে দুর্বল মানবজন,
যেখানে ন্যায়ের সামনে নত হয় অন্যায় মন।

আমরা চাই এমন দেশ, এমন বিশ্বলোক,
যেখানে সত্যের দীপ জ্বলে প্রতিটি হৃদয়লোক।
যেখানে ভালোবাসা হয় সকল কর্মের মূল,
মানবতার সুবাস ভরে প্রতিটি ফুলের কূল।

হে সর্বশক্তিমান আল্লাহ!
আপনিই হৃদয়ের খবর জানেন, অন্তরের ভাষা বোঝেন।
আমাদের অন্তরকে ঈমান, তাকওয়া উত্তম চরিত্রে সমৃদ্ধ করুন।
লোভকে সংযমে, ক্রোধকে ধৈর্যে, বিদ্বেষকে ভালোবাসায় এবং অহংকারকে বিনয়ে রূপান্তর করার তাওফিক দান করুন।

হে দয়াময় রব!
আমাদেরকে সত্যভাষী, আমানতদার, ন্যায়পরায়ণ দয়ালু মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন।
অন্যের অধিকার রক্ষা করার শক্তি দিন, দুর্বলকে সাহায্য করার হৃদয় দিন,
ক্ষমা করার মহত্ত্ব দিন এবং কল্যাণে প্রতিযোগিতা করার আগ্রহ দিন।

হে আল্লাহ!
আমাদের পরিবারে, শিক্ষাঙ্গনে, সমাজে, রাষ্ট্রে এবং সমগ্র পৃথিবীতে
মনুষ্যত্বের বিজয় প্রতিষ্ঠা করুন।
পাশবিকতার অন্ধকার দূর করুন।
শান্তি, ন্যায়, দয়া, সততা ভ্রাতৃত্বের আলো সর্বত্র ছড়িয়ে দিন।

আমাদের এমন বান্দা বানান,
যাদের কথা মানুষের মনে আশা জাগায়,
যাদের আচরণ মানুষের হৃদয় জয় করে,
যাদের কর্ম মানবতার ইতিহাসে কল্যাণের দীপ জ্বালিয়ে যায়।

আমীন, ইয়া রব্বুল আলামীন।

***

মনুষ্যত্বের কবিতা

যেদিন প্রথম ভোরের আলো ছুঁয়েছিল ধরার বুকে,
সোনালি রবি জেগে উঠেছিল নীলিমারই সুখে;
সেদিন যেন আকাশ বলেছিল মৃদু সমীরণে
"
মানুষ হবে আলোর সন্তান, সত্যের অন্বেষণে।"

পাহাড় তখন মাথা তুলে মেঘের পানে চায়,
নদী গেয়ে যায় অনন্তের কলকল সুরধারায়।
বনানীর প্রতিটি পাতায় শিশিরমাখা বাণী
"
দয়া যার হৃদয়ের ভাষা, সেই তো সত্য জ্ঞানি।"

অসীম আকাশ নক্ষত্রভরা বিস্ময়েরই পাতা,
প্রকৃতির সব সৌন্দর্য যেন এক মহান বার্তা।
মানুষ, তুমি ভেবো একবারকেন জীবন দান?
কেনই বা তোমার বক্ষে জাগে বিবেকের আহ্বান?

সিংহ পায় বল, ঈগল পায় আকাশভরা ডানা,
হরিণ পায় গতি, কোকিল পায় সুরের অপার খনি।
মানুষ পেল আরও মহান এক অমূল্য উপহার
সত্য-মিথ্যার বিচারশক্তি, বিবেকের দীপ্ত ধার।

এই বিবেকই আলোর প্রদীপ, অমৃতেরই সেতু,
অন্ধকারের বুক চিরে সে দেখায় মুক্তি-রীত।
যে বিবেককে জাগিয়ে রাখে ঈমান, প্রেম জ্ঞান,
তার জীবনেই প্রস্ফুটিত হয় মানবতার গান।

কিন্তু যখন লোভের ধোঁয়ায় ঢেকে যায় মনপ্রাণ,
স্বার্থ এসে গ্রাস করে সব পবিত্র অনুভবজ্ঞান;
হিংসা এসে বিষ ঢেলে দেয় ভালোবাসার বনে,
পাশবিকতার কালো ছায়া নামে মানুষের মনে।

তখন মানুষ ভুলে বসে মানুষেরই পরিচয়,
অন্যের অশ্রু দেখে হাসেসে কি সত্য জয়?
ক্ষমতার অহংকারে যখন হৃদয় হয় পাথর,
তখন সুখের প্রাসাদও হয় দুঃখের অন্ধ ঘর।

তবু আশা মরে না কোনোদিন, জাগে নতুন ভোর,
সত্যের সূর্য উঠবেই আবার ভেঙে রাতের ঘোর।
একটি ভালো কথা যেমন জাগায় সহস্র প্রাণ,
একটি সৎকর্ম বদলে দিতে পারে যুগের জ্ঞান।

একটি শিশুর কোমল হাতে যদি বই তুলে দাও,
সততারই প্রথম পাঠটি স্নেহভরে শেখাও;
একটি হৃদয় মানুষ হবে, জাগবে শত প্রাণ,
একটি প্রদীপ জ্বাললে যেমন আলোকিত হয় স্থান।

মায়ের মুখের মমতার বাণী, বাবার নীতির ডাক,
শিক্ষকের সেই আদর্শবাণী রাখুক জীবনে হাক।
পরিবারের ছোট্ট ঘরেই মানবতার বীজ,
সেই বীজ হতে একদিন গজায় মহাবৃক্ষ অদ্বিতীয়।

ধন নয়, মান নয়, কীর্তি নয়, অট্টালিকার সারি
মানুষ বাঁচে মানুষেরই ভালোবাসার ভারে।
অন্ন দিলে ক্ষুধা মেটে, স্নেহ দিলে প্রাণ,
ক্ষমা দিলে খুলে যায় হৃদয়েরই জান।

এসো তবে হাতে হাত রেখে গড়ি নতুন ভুবন,
যেখানে নেই হিংসা-বিদ্বেষ, নেই কোনো বিভাজন।
সত্য হবে পথের আলো, ন্যায় হবে ঢাল,
মানবতার সুবাসে ভরবে পৃথিবীর প্রতিটা কাল।

হে পরম করুণাময় আল্লাহ!
আমাদের অন্তরে এমন ঈমান দান করুন,
যাতে প্রবৃত্তির অন্ধকারকে বিবেকের আলো পরাজিত করে।
আমাদেরকে এমন চরিত্র দিন,
যেখানে দয়া শক্তির চেয়ে বড়,
ক্ষমা প্রতিশোধের চেয়ে মহান,
সত্য স্বার্থের চেয়ে প্রিয়,
আর মনুষ্যত্ব সকল পাশবিকতার উপর চিরবিজয়ী হয়।

আমাদের জ্ঞান দিন, কিন্তু সেই জ্ঞানের সঙ্গে বিনয়ও দিন।
আমাদের শক্তি দিন, কিন্তু সেই শক্তির সঙ্গে ন্যায়ও দিন।
আমাদের সম্পদ দিন, কিন্তু সেই সম্পদের সঙ্গে দানশীলতাও দিন।
আমাদের সম্মান দিন, কিন্তু সেই সম্মানের সঙ্গে তাকওয়াও দিন।

হে রব্বুল আলামীন!
আমাদের পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে এবং সমগ্র মানবসমাজে
শান্তি, ন্যায়, সততা, দয়া ভ্রাতৃত্বের সুবাস ছড়িয়ে দিন।
পাশবিকতার অন্ধকার দূর করে
মনুষ্যত্বের সূর্যকে চিরউজ্জ্বল করে দিন।

আমীন।

***


Top of FormBottom of Form

মন্তব্য করুন

ব্লগ