Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ জুলাই, ২০২৬ ০২:২৭ অপরাহ্ণ

বই পড়ার আনন্দ ও প্রযুক্তির আসক্তি-২

​"বই মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু"— যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই প্রবাদটি কেবল কথার কথা নয়, বরং এক পরম সত্য। বই মানুষের মনের চোখ খুলে দেয়, চিন্তাভাবনাকে প্রসারিত করে এবং মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যায়। একটি ভালো বই অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মধ্যে এক অদৃশ্য সেতু বন্ধন তৈরি করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগে এসে আমাদের এই পরম বন্ধুর স্থানটি দখল করে নিয়েছে ডিজিটাল স্ক্রিন। বর্তমান শিক্ষার্থীরা বইয়ের পাতা ওল্টানোর চেয়ে স্মার্টফোন বা ট্যাবের স্ক্রিন স্ক্রোল করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এই ডিভাইস-আসক্তি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক চরম মেধা ও মননশীলতার সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

যখন একজন শিক্ষার্থী বই পড়ে, তখন সে শব্দগুলোকে নিজের মনের মতো করে দৃশ্যপটে রূপ দেয়। এতে তার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে।

​নিয়মিত বই পড়লে শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়, যা সুন্দর ও শুদ্ধভাবে কথা বলা ও লেখার ক্ষেত্রে দারুণ ভূমিকা রাখে।

​বাস্তব জীবনের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ দূর করার জন্য বই হলো এক চমৎকার ও সুস্থ বিনোদন। 

বিভিন্ন চরিত্রের জীবনসংগ্রাম ও দর্শন পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ এবং অন্যের প্রতি সহমর্মিতা জাগ্রত হয়।

​আজকের তরুণ ও কিশোর সমাজের দিকে তাকালে এক হতাশাজনক চিত্র চোখে পড়ে। লাইব্রেরিগুলো আজ পাঠকশূন্য, পাড়ার মোড়ের ছোট বুকস্টলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অথচ প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে শোভা পাচ্ছে একেকটি আধুনিক স্মার্টফোন। বর্তমান শিক্ষার্থীরা বিনোদন, পড়াশোনা কিংবা অবসর কাটানোর একমাত্র মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস।

​সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক) এবং অনলাইন গেমসের (পাবজি, ফ্রি ফায়ার) মায়াজালে আটকা পড়েছে তাদের শৈশব ও কৈশোর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তারা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দিচ্ছে, অথচ ১৫ মিনিটের জন্য একটি বই হাতে নিয়ে বসার ধৈর্য তাদের নেই। রিলস বা শর্টস-এর মতো অতি দ্রুত পরিবর্তনশীল কনটেন্ট দেখতে দেখতে তাদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

প্রযুক্তির অগ্রগতিকে অস্বীকার করার উপায় নেই, ডিভাইস আমাদের জীবনেরই অংশ। কিন্তু প্রযুক্তি যেন আমাদের মননকে গ্রাস করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। একটি ডিভাইস হয়তো তথ্য দিতে পারে, কিন্তু জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিতে পারে কেবল বই। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যান্ত্রিক রোবট হওয়া থেকে বাঁচাতে এবং তাদের মানবিক গুণসম্পন্ন আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে, তাদের হাতে আবার বই তুলে দেওয়া আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

মন্তব্য করুন